Showing posts with label অন্যান্য. Show all posts
Showing posts with label অন্যান্য. Show all posts

31 July 2017

ঘুরে আসুন কুমিল্লা ঢুলিপাড়ার ফানটাউনে

ঘুরে আসুন কুমিল্লা ঢুলিপাড়ার ফানটাউনে


মাত্র এক বছরে কুমিল্লার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে ভার্চুয়াল ফান টাউন। গত পহেলা বৈশাখে নগরীর ঢুলিপাড়া এলাকায় এ বিনোদন কেন্দ্রটি যাত্রা শুরু করে। যাত্রা শুরুর পর থেকে আধুনিক মানের সর্ববৃহৎ এ বিনোদন কেন্দ্রে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার দর্শনার্থী।
কুমিল্লা নগরীর মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় একটু অবসরেরই সকলে সপরিবারে বিনোদনের জন্য ছুটছেন ফান টাউনে। চমকপ্রদ সব রাইড আর মনমুগ্ধকর পরিবেশ সব বয়সী মানুষকে আকৃষ্ট করে।
ফান টাউনে রয়েছে 15D সিনেমা থিয়েটার। নাগরদোলা, ট্রেন, বাম্পার কার, প্যাডেল বোট, সুইংচেয়ার, মেরিগো রাউন্ড, সেল্ফ কন্ট্রোল এরোপ্লেন ছাড়াও রয়েছে অন্যান্য ইনডোর ও আউটডোর রাইড যা কুমিল্লার আর কোন বিনোদন কেন্দ্রে নেই।
এছাড়া বিশেষ বিশেষ দিবসে ফান টাউনে থাকে আকর্ষণীয় সব আয়োজন। কোন প্রতিষ্ঠান অথবা যেকেউ চাইলে ফান টাউনে আয়োজন করতে পারে কনসার্ট, ডিজে কিংবা যে কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এদিকে প্রথম বর্ষপূর্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ৮ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ভার্চুয়াল ফান টাউন। ১৩ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এ উৎসবে প্রতিদিনই থাকবে নানা ধরনের ব্যাতিক্রমি আয়োজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ভার্চুয়াল ফান টাউনের ব্যবস্থাপক নুরে আলম জিকো জানান, আগামী পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রথম বর্ষপূর্তি। বর্ষপূর্তি আমরা বিশেষ সব আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালন করব। এছাড়া অন্যান্য দিবসের মত বাংলা নববর্ষ উপলক্ষেও থাকবে বিশেষ আয়োজন। ১৩ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ৮ দিনিরে “বাঙ্গালী সংস্কৃতির মহা উৎসব ১৪২৪” পালন করব আমরা।
ভার্চুয়াল ফান টাউনের স্বত্বাধিকারী পারভেজ আহমেদ জানান, কুমিল্লাসহ আশেপাশের জেলার মানুষের বিনোদনের জন্য আমি এ বিনোদন কেন্দ্রটি করেছে। ইতিমধ্যে গত একবছরে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। প্রথম বর্ষপূর্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে সবাইকে আমন্ত্রন জানাচ্ছি।

17 June 2017

কুমিল্লার তরিকুল বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম

কুমিল্লার তরিকুল বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম


দুবাই কোরআন অ্যাওয়ার্ড জিতল বাংলাদেশি বালক হাফেজ কুমিল্লার সন্তান মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুবাইয়ের কালচারাল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শাইখ আহমাদ বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম।
২১ তম দুবাই ইন্টারন্যাশনাল হলি কোরআন অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার হিসেবে তরিকুলকে আড়াই লাখ দিরহাম দেয়া হয়। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫৩ লাখ টাকা। তরিকুল কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার মালিগাঁও গ্রামের মো. আবু বকর সিদ্দিক ও তহুরা বেগম দম্পতির সন্তান। তরিকুলের বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক।
প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১০৩ জন প্রতিযোগীকে পিছনে পেলে প্রথম স্থান অর্জন করে ১৩ বছর বয়সী তরিকুল ইসলাম।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধর্ম ও আওকাফ মন্ত্রণালয় ‘শায়খা হিন্দ কিনতে মাককতুম কোরআন প্রতিযোগিতা’ শিরোনামে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
কুমিল্লার সন্তান হাফেজ তরিকুল ইসলাম যাত্রাবাড়ীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার ছাত্র।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ২১তম আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১০৩ জন প্রতিযোগীকে পিছনে পেলে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ১৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি হাফেজ মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
আল-কোরআন পুরস্কার সংস্থার প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম বু মুলহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, দুবাই ও উত্তর আমিরাত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল এস বদিরুজ্জামান, কনস্যুলেটের লেবার কাউন্সিলর এএসএম জাকির হোসেন, আমিরাতের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন দেশে থেকে আগত অতিথি।
অন্যান্য বিজয়ীয়া হলেন, যথাক্রমে হুজাইফ সিদ্দিকী (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), মাদুর জোবে (গাম্বিয়া), আহমেদ বিন আব্দুল আজিজ ইব্রাহিম ওবাইদাহ (সৌদি আরব), রশিদ ইবনে আবদুল রহমান আলানি (তিউনিশিয়া), মোহনা আহমেদ (বাহরাইন), মোহাম্মদ হাদি আল-বশির (লিবিয়া), ওমর মাহমুদ সায়েদ আলী সৈয়দ আহমেদ রিফাই (কুয়েত), মোহামমু আবেকা (মৌরিতানিয়া), হাবিনানা মিকিনি (রওয়ানা) এবং মোহামেদ ইসমাইল মোহাম্মদ নাগিব তাহা (মিশর)।

সূত্রঃ যুগান্তর

31 March 2017

কুমিল্লার নাম বললে শুধু মোশতাককেই চিনেন ?

কুমিল্লার নাম বললে শুধু মোশতাককেই চিনেন ?



হ্যাঁ ভাই, আমার বাড়ি কুমিল্লা, আমি খন্দকার মোশতাকের এলাকার লোক। আপনারা কুমিল্লার নাম বললে শুধু মোশতাককেই চিনেন! কিন্তু আপনারা কি জানেন, তৎকালীন পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জোরালো দাবি যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উত্থাপন করেছিলেন তার বাড়ি এই কুমিল্লায়। এমনকি পরবর্তীতে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি এনে দিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে কুমিল্লারই দুইজন সন্তান। কুমিল্লার লোকেরা কুকর্ম করে কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন, যে জাতীয় পতাকাকে আমরা দাঁড়িয়ে সম্মান করি আমাদের অতি প্রিয় এই লাল-সবুজ পতাকার ডিজাইনার শিব নারায়ণ দাসের বাড়িও এই কুমিল্লায় ।
কুমিল্লার মানুষ বেঈমান তাই মহান মুক্তিযুদ্ধে সারা বাংলাদেশে মোট ১১ টি সেক্টর থাকলেও শুধু কুমিল্লাতেই ছিলো ২ টি সেক্টর! রক্তে বেইমানী ছিলো বলেই কি কুমিল্লা জিলা স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র আবু জাহিদ মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছিল! এরকম আরো সহস্রাধিক শহীদ শায়িত রয়েছেন কুমিল্লার মাটিতে যারা হয়তো আপনাদের কাছ থেকে 'বিশ্বাসঘাতক' উপাধি পাওয়ার জন্যই শহীদ হয়েছিলেন।
একটি নির্বাচন আর দুই-তিনটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য কুমিল্লার সবাই আপনাদের কাছে খারাপ হয়ে যায়! কুসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হারার কারণ আপনারা অনেকেই জানেন এবং বুঝেন। শহরের বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই নৌকা প্রতীকে ভোট বেশি পরেছে কারণ শহরের শিক্ষিত সচেতন লোকেরা আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত আর তারা তাই নৌকাকেই সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু অপেক্ষাকৃত প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে অশিক্ষিত লোকের আধিক্য বেশি তাই তারা অতি সহজে আবেগিত হয়। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের জনৈক মন্ত্রীর সংসদীয় এলাকার ওয়ার্ডগুলোতে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। এর মূলে একদিকে যেমন দলীয় অন্তরকোন্দল আছে তেমনি কুমিল্লা নামে বিভাগ না করার পরিকল্পনায় সাধারণ মানুষও কিছুটা ক্ষুদ্ধ। তাই এর প্রভাব এই নির্বাচনেও পরেছে। ফলাফল যাই হোক, আমরা একতাবদ্ধ হতে পারিনি, দলের চেয়ে গ্রুপিং বড় এটা আমাদের সমস্যা। আর এই সমস্যা বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই রয়েছে, তাই দয়া করে শুধু কুমিল্লাকে গালিগালাজ করবেন না।
এই কুমিল্লা সুর সম্রাট শচীন দেব বর্মণ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, আখতার হামিদ খান প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের স্মৃতিধন্য। যদি আপনারা এভাবে গালিগালাজ করেন তাহলে তাদেরকেও অসম্মান করা হয়। এরপরেও যদি কারো কুমিল্লার প্রতি বিরূপ মনোভাব থাকে তাহলে দয়া করে আপনার ফেসবুকের বন্ধু তালিকা থেকে আমাকে রিমুভ করে দেন।
আমি কুমিল্লার ছেলে, আমি বাঙালি, বাংলাদেশ আমার দেশ; এটাই আমার শিকড়, এটাই আমার গর্ব, এটাই আমার পরিচয়।

সুত্রঃ ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

28 March 2017

কুমিল্লায় বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি

কুমিল্লায় বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি


কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে এ এলাকায় বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে এ এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যদি বর্ণিত তারিখে কোনো পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় তাহলে পরীক্ষার কেন্দ্রসমূহ ও পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারী সাধারণ ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে।

06 July 2016

কুমিল্লার ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির ঈদ স্মৃতি

কুমিল্লার ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির ঈদ স্মৃতি


ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদ-উল ফিতর। দেশ জাতি ভেদে ঈদ উদযাপনে রয়েছে ভিন্নতা। কালের বির্বতনে আমাদের দেশেও ঈদ উদযাপনে পুরনো অনেক সংস্কৃতি এখন নেই বললেই চলে। ঈদ উদযাপনে অতীত ঐতিহ্য ভুলে গা ভাসিয়েছেন পাড়া-মহল্লার মুরুব্বিরা। তবে বুকে জমা নিজের শৈশব কৈশোরের ঈদ উদযাপনের স্মৃতি ভুলে যাননি। কথায় কথায় অতীত বর্তমানের পার্থক্য খুঁজে নেন তারা। স্মৃতির ডায়রি হাতড়িয়ে খুঁজে নেন সেই পৃষ্ঠা। যেখানে লেখা রয়েছে নিজের অতীতের ঈদ উদযাপনের নানান স্মৃতি কথা। কুমিল্লার ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির ঈদ স্মৃতি তুলে ধরেছেন মাহফুজ নান্টু
কুমিল্লার উন্নয়নে নিজের ভিতরে ঈদের আনন্দ অনুভব করি
মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে হাজারো শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি আমাদেরকে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার তৌফিক দান করেছেন। সামনে আসছে ঈদ। ঈদ-শ্বাশত আনন্দের। প্রতি বছরে ঈদ আসে অনেক স্বপ্ন নিয়ে। যখন শৈশবে মানে ছোটবেলায় ঈদ উদযাপন করতাম তখন শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবতাম। ঈদের আনন্দটা নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। নিজের নতুন জামা, নতুন জুতো, সালামী আর কত কি। অনেক আনন্দ করতাম।  কিন্তু যখন থেকে রাজনীতি শুরু করেছি তখন থেকে ঈদ উদযাপন আর নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখন এই কুমিল্লার মানুষের সুখই আমার ঈদ। আনুষ্ঠানিক কিংবা রুটিন বাঁধা জীবনের বাইরে গিয়ে ঈদ-গাহে ঈদের নামাজ শেষে সবার সাথে কোলাকুলি করার মাঝে স্বর্গীয় অনুভূতি কাজ করে। তবে সত্যিকার অর্থে মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যে কি যে আনন্দ আর ভাল লাগা কাজ করে তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। যখন কুমিল্লার উন্নয়নে কোন স্থাপনার ভিত্তি উদ্বোধন করতে পারি তখনই নিজের ভিতরে ঈদের আনন্দ অনুভব করি। আমার স্বপ্ন আপনাদের নিয়ে। আপনারা আমার পাশে থাকবেন। আপনার-আমার আশা আকাংখার প্রিয় কুমিল্লাকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। কুমিল্লা এগিয়ে গেলে এগিয়ে যাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ। সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। সবাইকে পবিত্রঈদুল-ফিতরের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।
হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার
সংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৬।
ঈদগাহে কোলাকুলির দৃশ্যটি স্বর্গীয়
শৈশবের ঈদের অনুভূতিটা খুবই আনন্দের। তবে এ বছর আমার ঈদের আনন্দের পাশাপাশি হারানোর বেদনাও থাকবে। কারণ প্রতিটা ঈদের নতুর পাঞ্জাবি পাজামা পরে আম্মা ও আব্বাকে ছালাম করে ঈদের নামাজ পড়তে যেতাম। কিন্তু এ বছর আমার আম্মাকে সালাম করতে পারবো না, কারণ তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আম্মাকে সালাম না করে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া কতটা কষ্টের হবে তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। আমি ছোট-বেলার সবচেয়ে বেশী ঈদ উদযাপন করেছি চাঁদপুর। সে সময় পাড়া প্রতিবেশী বড় ছোট সবার সাথে একটা নিবিড় সর্ম্পক ছিল। এতে ঈদের একটা অন্যরকম আমেজ পাওয়া যেত।  শৈশবের একটা স্মৃতি আমাকে এখন অনেক আনন্দ দেয়। ঈদে আমরা বন্ধুরা যে যার  বাবা-চাচাদেরকে সালাম করতাম। উনারা যে সালামি দিত তা দিয়ে সকল বন্ধুরা মিলে ফানটা কিনে খাওয়ার মজাই অন্যরকম ছিল। তবে অনেক মুরুব্বি সালামি হিসেবে চকলেট দিত। এছাড়া ঈদ আসলে সেই স্কুল জীবন থেকে আমার একটা অভ্যাস, যা এখনো আছে। তা হল ঈদ সংখ্যা সংগ্রহ করা। এ ঈদে দু’টি জাতীয় পত্রিকার ঈদ সংখ্যায় আমার লেখা থাকবে।
ঈদগাহে সব সময় যে বিষয়টা অনেক ভালবাসার, ভাললাগার তা হল ঈদের নামাজ শেষে শ্রেণী বৈষম্য ভুলে সবাই যখন বুকে বুক মিলিয়ে কোলাকুলি করে সে দৃশ্যটি স্বর্গীয়। আমি যখন নামাজ শেষ করে কোলাকুলি করি তখন এক ধরনের পুলক অনুভব করি। নিরেট এক ভাললাগা ছেয়ে যায় দেহ মন। কুমিল্লাতে গত যে কয়টি ঈদ করেছি ঈদের নামায পড়েছি, সেখানে মাননীয় সংসদ সদস্যসহ ঈদগাহে নামাজ পড়তে আসা মুসুল্লিদের সাথে কোলাকুলি করে আত্মার শান্তি পেয়েছি। সবাই ভাল থাকবেন। সুস্থ্য থাকবেন। আমার বাবা-মা যেন জান্নাতবাসী হয় সবাই দোয়া করবেন। সবাইকে পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের নিরন্তর শুভেচ্ছা।
মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল
জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা।
ঈদ আনন্দ একাত্ম হয়ে যায় মানুষের আনন্দানুভূতিতে
শৈশব ও কৈশোরের দুরন্তপনা, স্বপ্নের সাথে বসবাস, মুক্ত বিহঙ্গের মতো উম্মুক্ত আকাশে ঘুড়ি উড়ানো, কাঁদামাখা মাটিতে কিংবা হাঁটুজলে খেলার সাথীদের সংগে দুষ্টুমী, নদীতে, খালে বিলে, পুকুরে সাঁতার, জাল টেনে মাছ ধরা, ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন বাঙালি ঐতিহ্যপনায় দলবদ্ধ অংশগ্রহণ সবই সোনালী অতীত। তবে ঈদ উদযাপনের আড়ম্বরতার অন্যরকম বিশেষত্ব ছিলো। যৌথ পরিবারে সবার স্বল্পতেই সন্তুষ্টি ছিলো। একটি ঈদের জামা কখনো বা সংগে এক জোড়া জুতো পেলেই মনে হতো এক বিশাল প্রাপ্তি! নতুন সাবান দিয়ে স্নান সেরে ভোর বেলাতেই দলবদ্ধভাবে ঈদগাহে জামাতে চলে যাওয়া, নামাজ শেষে সবাইকে সালাম ও সালামী গ্রহণ। পিঠা, সেমাই ও আতিথেয়তায় প্রতিবেশীদের সংগে একাত্মতা, বিকালে বন্ধুদের সাথে সিনেমা দেখা, সিনেমা শেষে হৈ হুল্লোড় ও মিষ্টির দোকানে ভীড় করাৃ. এ সবই যেন অন্যরকম সুখ স্মৃতি হিসেবে আজো তাড়িত করে আমাকে।
এই মধ্যবয়সে এসে গুরুত্বপূর্ণ সেবাধর্মী পেশায় নিয়োজিত থেকে ঈদের আনন্দের অনুভূতিটা ভিন্নতর। জনগণ নিরাপদে, নির্বিঘ্নে, নিশ্চিন্তে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ আনন্দ যেন উদযাপন করতে পারি সে লক্ষ্যে আমার প্রিয় সহকর্মীদের নিয়ে সকলের কল্যাণে নিজেদের ঈদ আনন্দ একাত্ম হয়ে যায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর হাসি ও আনন্দানুভূতিতে।
আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার পাশাপাশি মানবিক চেতনার উন্মেষে আনন্দ, কল্যাণ, শান্তি, সহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বিশ্বজনীন মমতার হৃদয়ানুভূতির প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হলেই আমি ঈদ আনন্দের পূর্ণতা খুঁজে পাবো। সবাইকে ঈদের নিরন্তর শুভেচ্ছা।
মো.শাহ আবিদ হোসেন
পুলিশ সুপার, কুমিল্লা।
কুমিল্লার মানুষ যেন সুখে ঈদ উদ্যাপন করতে পারে
আজ বাদে কাল অথবা পরশু উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদ-ফিতর। মহান রাব্বুল আলামিন মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার জন্য মুসলিম সম্প্রদায়কে পুরস্কার হিসেবে  ঈদ বা আনন্দময় একটি দিন উপহার দিয়েছেন। সেই ছোট বেলা থেকে এখন পর্যন্ত কত ঈদ পার করেছি। কালের বির্বতনে ঈদ উদযাপন এসেছে নতুনত্ব। আমাদের দল বেঁধে শৈশবে ঈদ-উল-ফিতরের চাঁদ দেখা কত আনন্দের ছিল। ঈদের আগের রাতে মেহেদী দেয়া। সকালে সবার সাথে হাতে বানানো সেমাই-পায়েশ খাওয়া। বিকেলে দলবেঁধে পাড়া মহল্লায় ঘুরতে যাওয়া, বড়দের কাছ থেকে সালামি পাওয়া, সেই সালামির টাকা দিয়ে চকলেট আইসক্রীম কিনে খাওয়া। সে সব এখন শুধুই স্মৃতি। কত ঈদ জীবন থেকে গত হয়ে গেছে, সাথে কত প্রিয়জন চলে গেছে পরপারে। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতি করছি। এখন আমার প্রাণের কুমিল্লার মানুষ যেন সুখে ঈদ উদ্যাপন করতে পারে। যদিও দেশের মানুষ খুব একটা সুখে নেই। তবুও মহান আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করি তিনি যেন সবাইকে সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপনের তৌফিক দান করেন। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।
বেগম রাবেয়া চৌধুরী
সভাপতি, দক্ষিণ জেলা বিএনপি।
এটা ফুল না হাফ প্যান্ট !
শৈশবে ঈদের আনন্দ অনুভবে টান পড়ে বুকের গভীরে। স্মৃতি রোমন্থন করলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে আমার বাবার কথা। বাবার হাত ধরে ঈদ-গাহে যাওয়া ছিল অন্যরকম একটা অনুভূতি। শৈশবে মা-চাচিরা ঈদের দিন বিভিন্ন বাড়ি থেকে আসা পাড়া প্রতিবেশী আর দূরের আত্মীয় স্বজনদের আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে যেতেন । মোরগ পোলাউ, শিন্নি পায়েশের সুস্বাদু গন্ধে আমোদিত হয়ে যেত পুরো বাড়ি। এখনো হয় তবে সেই স্বাদ গন্ধ পাই না। শৈশবের একটা মজার স্মৃতি এখনো মনে পড়লে নিজের অজান্তেই হেসে ওঠি। একবার ঈদে আমার একটা ফুল প্যান্ট  বড় হয়ে যাওয়ায় তা কেটে সমান করার জন্য আমার খালাম্মাকে বলেছিলাম। উনি প্যান্ট কাটলেন। সেলাই করলেন। যখন পরেছি তখন প্যান্টের অবস্থা দেখে আৎকে উঠলাম। এটা ফুল না হাফ প্যান্ট কোনটাই হয়নি। সে কথা মনে পড়লে এখনো হাসি পায়। সবাই ভাল থাকবেন। কুমিল্লাসহ দেশবাসীকে জানাই পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।
শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান
সাবেক সভাপতি, কুমিল্লা সচেতন নাগরিক কমিটি।
এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের জন্য অনেক মায়া হয়
আমরা যখন ছোট ছিলাম মানে আমাদের শৈশব, কৈশোরের ঈদ ছিল শুধুই আনন্দময়। মায়ের হাতের সেলাই করা ঈদের জামা আমাদের সে আনন্দ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতো। আমাদের নানু ঈদের জামায় কুশী কাটার লেইচ কেটে দিয়ে আমাদের মনটা খুশীতে ভরিয়ে দিতেন,চোখ বুজলে এখনো সেই নতুন জামার গন্ধ অনুভব করি, পুরো রোজায় কোরআন পড়ার ফাঁকে ফাঁকে হাতে কেটে চুটকি সেমাই বানাতাম ভাইবোনরা মিলে,ঈদের দিন সে সেমাইয়ের জর্দা তৈরি হতো, দুধ সেমাই, মুরগীর কোর্মা আর পোলাওয়ের মৌ মৌ গন্ধে সারা বাড়ি মাতোয়ারা থাকতো। রাত ভর জেগে ঘুড়ির রঙ্গিন কাগজ কেটে ঘর সাজাতাম। আম্মাকে ঘিরে আমাদের সাত ভাইবোনের সেকালের ঈদ অনেক আনন্দের ছিল। এই প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের জন্য অনেক মায়া হয়,কত কিছুই না ওরা মিস করছে জীবনে।  বটগাছের তলায় বসা মেলার সেই বাঁশির সূর আজো আনমনা করে গ্রামের ঈদের মিলন মেলার কথা ভেবে। আজকালের ঈদের আনন্দ নিরানন্দ ছাড়া কিছুই নয়, শহুরে জীবন আমাদের অনেক আবেগ কেড়ে নিয়েছে, বেগের ঘূর্ণি চাকায় ঈদ এখন আমাদের জন্য শুধুই পণ্য দাসত্ব। ভোগ বিলাসের সামগ্রী মাত্র। রাত ভর ফেইসবুক আর স্ক্যাইপির হুড়াহুড়ি,দিনভর সেলফি আর ছুটাছুটি। মধ্যে দিয়ে পরিবারের বন্ধন আর বাঙালিয়ানাটা হারিয়ে যেতে বসেছে। জীবনের চাকা এতো ঘুরেছে কিন্তু আজও মনের মধ্যে দাগ কেটে আছে কৈশোরের ঈদের আনন্দছটা।
রাশেদা আক্তার
ভাইস চেয়ারম্যান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পরিষদ।
সবাইকে নিয়ে ঈদ উদযাপনের মাঝে আনন্দ খুঁজি
একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান যখন মাসব্যাপী সঠিকভাবে সিয়াম সাধনা করে থাকেন, মূলত ঈদের আনন্দ তাদের কাছে সবচেয়ে বেশী হয়। জনপ্রতিনিধির বাইরে বলতে গেলে আমি একজন মানুষ। আমাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন উনার আদেশ পালন করা আমার জন্য ফরজ। সে হিসেবে আমি মহান আল্লাহ পাকের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি মহান আল্লাহপাক  ভালভাবে সিয়াম পালন করার তৌফিক দান করেছেন। আর পুরস্কার হিসেবে রেখেছেন ঈদ। সামনে এখন ঈদ উদযাপনের সময়। তবে সময়ের বিবর্তনে ঈদের আনন্দে অনেক পরিবর্তন এসেছে। মনে পড়ে শৈশবে ঈদে কত মজা করতাম। নতুন পোষাক পরে বাবার সাথে ঈদ-গাহে যাওয়া, নামাজ পড়া। নামাজ শেষে সব ভাই বোনেরা মিলে খাবার খাওয়া। পরে  বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া। একটা নিরেট ভালবাসা ভাল লাগা কাজ করতো তখন। এখন সে স্মৃতি মনে পড়লে নিজের অজান্তেই চোখের কোনে পানি জমে যায়। বাবা-চাচাদের কাছ থেকে ঈদের সালামি নেয়া। সালামির টাকায় বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়াতাম। ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা নিয়ে যে কৌতূহল কাজ করতো তা এ প্রজন্মের কারোর মধ্যে তেমন দেখি না। আমাদেও সময়ে আকাশে মেঘ থাকলেও ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে কৌতূহলের কমতি ছিলো না। এখন আকাশে মেঘ জমে থাকলেও সমস্যা নেই। কারণ মেঘবৃষ্টিহীন গুগলের আকাশে ইন্টারনেটে নামক দূরবীনে চোখ রেখে চাঁদ দেখে ফেলে। অথবা  হাতের র্স্মাট ফোনে চলে আসে ঈদের চাঁদের খবর। আমাদের সময় ঈদের চাঁদ দেখলে ফটকা ফোটানো একটা রেয়াজে পরিণত হয়েছিল। এখন ঈদ আসে ঈদ যায়। কিন্তু আমার ছোট বেলার ঈদের স্মৃতি ভুলতে পারি না। তবে ব্যক্তিগত ভাল লাগার অনুভূতির চেয়ে এখন সবাইকে নিয়ে ঈদ উদযাপনের মাঝে আনন্দ খোঁজার চেষ্টা করি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সুখ দেখলেই ঈদ আনন্দ অনুভূত হয়। সবাই যেন ভালভাবে ঈদ করতে পারে সে প্রচেষ্টা সব সময়ের। সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
মোঃ মনিরুল হক সাক্কু
মেয়র, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন।
সুখ-শান্তিতে ভরে উঠবে কুমিল্লা
কুমিল্লা ঠাকুরপাড়া হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা হলেও ছোট বেলায় ঈদ-উল ফিতরে অনেক মজা হত। পারিবারিক অনুশাসনে বেড়ে ওঠেছি। তাই দুষ্টমি করলেও তা যেন সীমা অতিক্রম না করে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতাম। ছোট বেলায় ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে হাতে বানানোর সেমাইয়ের কত চাহিদা ছিল। কালক্রমে ঈদ উদযাপনে পরিবর্তনের  ছোয়া লেগেছে। আমাদের সময়ে রেডিমেট শার্ট প্যান্ট ছিল না। বাবা আমাদেরকে নিয়ে রাজগঞ্জ থেকে কাপড় কিনে দিতেন। পরে রামঘাট এলাকায় দর্জির দোকানে গিয়ে মাপ দিয়ে আসতাম। দর্জি লোকটিকে খালু বলে সম্বোধন করতাম।  তারপর থেকে নতুন পোষাকটি পেতে ক্ষণ গণনা শুরু হতো। বাড়ি থেকে বের হলে বাবা বকা দিবেন সে ভয়ে লুকিয়ে এসে দর্জি দোকানের খালুর কাছে জানতে চাইতাম খালু আমার পোষাকটা কি বানানো হইছে। খালু বলত না,দু’এক দিন পরে হবে। তারপর আবার যেতাম দর্জি খালুর কাছে। কখনো নতুন তৈরি করা জামাটি ঈদের আগে কাউকে দেখাতাম না। কত স্মৃতি শৈশবের। ছোট বেলায় বাবার হাত ধরে ঈদগাহে নামাজ পড়তে যাওয়া কতই না আনন্দের ছিল। সেই শৈশবের  ঈদ উদযাপনের মজার স্মৃতি আজও মনে পড়ে। তবে বিশেষ করে এবছর অনেক বেশি শূন্যতা অনুভব করব কুমিল্লার অভিভাবক আমাদের সবার প্রিয় সদর উপজেলার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুর রউফ ভাইকে । দোয়া করি আল্লাহ যেন রউফ ভাইকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন।
এখন স্বপ্ন দেখি । একটি সুন্দর স্বপ্ন। ঈদ আসলে কোথাও কোন মানুষ বিশেষ করে আমার জেলা আমার প্রাণের শহর কুমিল্লাতে যেন কোন মানুষ অন্য কারো কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে নিয়ে ঈদ করতে না হয়। সবাই যেন স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। হাসি-খুশি আর সুখ-শান্তিতে ভরে উঠবে কুমিল্লা। সবাই ভাল থাকবেন,সুস্থ থাকবেন। সবাইকে জানাই ঈদ মোবারক।
আলহাজ্ব ওমর ফারুক
প্রশাসক, জেলা পরিষদ, কুমিল্লা।
মিলেমিশে ঈদ উদযাপন করতে পারলেই সুখ অনুভব করি
ঈদ শ্বাশত সুখের। মহান সৃষ্টিকর্তা মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর ঈদকে আনন্দ উদযাপনের উপলক্ষ হিসেবে আমাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই যে শৈশব থেকে এখন পর্যন্ত আমার প্রিয় কুমিল্লায় আমি সবচেয়ে বেশীবার ঈদ উদযাপন করেছি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বেশ কয়েকবার ঈদ উদযাপনের সুযোগ হলেও কুমিল্লায় ঈদে যে আনন্দ পাই তা আর কোথাও পাই না। একান্নবতী  পরিবারের প্রতিটি ঈদে কত মজা হয় তা বলে বোঝানো যাবে না। ছোট বেলায় ঈদের নামাজ শেষে বড় চাচার বাসায় সব ভাই বোনেরা মিলে খাবার খাওয়া,তারপর জিলা স্কুলের সামনে বসে আড্ডা দেয়া। কত রঙ্গিন ছিল শৈশবের ঈদ। দিনভর হৈ-হুল্লুর। পাড়া মহল্লায় ঘুরে বেড়ানো। ঈদে সালামি যা পেতাম তা আম্মুর কাছে জমা রাখতাম। এখন সংসারি হয়েছি। বাবা হয়েছি। আমার শৈশবের আনন্দ এখন আমার সন্তানের চোখে উপলব্দি করতে চেষ্টা করি। শৈশবের অনেকে এখন আর নেই। শৈশবের কথা মনে হলে এখন বুকের ভিতর একটা হাহাকার অনুভব করি। এখন অনেক প্রসারিত হয়েছে ঈদ উদযাপন। রাজনীতি করি । সবার সাথে মিলেমিশে ঈদ উদযাপন করতে পারলেই হৃদয়ে পরম সুখ অনুভব করি। তবে কিছু প্রিয় মানুষ আজ নেই। খুব মনে পড়ে তাদের। ঈদের নামাজ শেষে তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে জিয়ারত করি। আল্লাহ যেন উনাদেরকে জান্নাত দান করেন। ভাল থাকবেন। সবাইকে পবিত্র ঈদুল-ফিতরের শুভেচ্ছা।
মাসুদ পারভেজ খান ইমরান
পরিচালক, এফবিসিসিআই।
আগে ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়ি যাওয়া হতো
সব কিছুতেই বিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। রোজা ও ঈদও এর বাইরে নয়। আমরা ছোটবেলায় দেখতাম রোজার প্রথম জুমায় মসজিদের বাইরে বিভিন্ন মাদ্রাসা এতিমখানার ছাত্ররা সেহেরি ইফতারের সময়সূচিসহ তাদের মাদ্রসা-এতিমখানায় যাকাত ফেৎরা দেয়ার আবেদনপত্র বিলি করতো। এখন দেখি রোজার সময় জুমার দিনে মসজিদগুলিতে বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টের ইফতারের ম্যানু ও প্যাকেজ সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। আগে মহল্লার মসজিদগুলিতে প্রতিদিন এলাকাবাসীর পাঠানো ইফতার দিয়ে মুসাফিররা ইফতার করতেন। সে রেওয়াজও এখন আর শহর নগর কোথাও দেখা যায় না।
আগে ছিল ঈদে নতুন পোষাক কেনা, পরা। এখন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরাও ঈদে শুধু পোষাক নয়, যার যার সাধ্য অনুযায়ী ঈদ উপহারও চায় এবং পায়।
আগে পেশাগত কারণে শহরে থাকা পরিবারের সদস্যদের ঈদ উপলক্ষে বেড়ানোর জায়গা বা উদ্দেশ্য ছিল গ্রামের বাড়ি যাওয়া। আর এখন ঈদ উপলক্ষে ট্যুারিজম কোম্পানীগুলি দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করে থাকে। জনগণও সাধ আর সাধ্যের মধ্যের প্যাকেজটি গ্রহণ করে, সাথে যদি থাকে  লম্বা ছুটি আর পকেট ভর্তি বোনাস।
বাকীন রাব্বী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সাপ্তাহিক আমোদ।
সীমান্তে বিজিবি স্বজন ছাড়াই পার করে দেয় ঈদ
প্রতি বছর ঈদ আসে অনাবিল আনন্দের বারতা নিয়ে। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর নির্দিষ্ট একটি দিন আর সন্ধ্যার মধ্যিখানে পশ্চিম আকাশে এক ফালি বাকা চাঁদ দেখার আনন্দ কি আর ভাষায় প্রকাশ করা যায়। ছোট বেলায় করা  ঈদ-উল ফিতর নিয়ে অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম ছিল। এখনো স্মৃতি রোমন্থন করি। আমাদের শৈশব,কৈশোরে ঈদে কতই না মজা হতো। একটি শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান আমি। আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী মো:শামসুল  হক একজন কলেজ শিক্ষক ছিলেন। আমরা ৯ ভাই। একজন মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। ঈদ ছাড়া আমরা অন্য কোন উপলক্ষ্যে একসাথে হতে পারতাম না বলে অন্যদের তুলনায় আমাদের ভাইদের আনন্দ একটু বেশী ছিল।  শৈশবে ঈদ উপলক্ষে যখন বড় ভাইরা বাড়িতে আসতেন এমন খবরে জামালপুরে গ্রামের বাড়ির পাশে নদী পাড়ে বসে থাকতাম। দূর থেকে ভাইয়াদের বহন করা নৌকা যখন দেখতাম সেই নৌকা নদীর পাড়ে আসা পর্যন্ত সেকি উত্তেজনা, কত কি ভাবনা দোলা দিত মনে। নৌকা তীরে ভীড়লে ভাইদেরকে জড়িয়ে ধরা,তাদের সাথে থাকা ব্যাগ কিংবা আমাদের জন্য কিছু নিয়ে আসার ব্যাগটা নিয়ে যাওয়ার জন্য মনের ভেতর কত আগ্রহ ছিল বলে বোঝানো সম্ভব নয়। প্রতি ঈদে গভীর শূন্যতা অনুভব করি আমার শহিদ ভাইয়ের জন্য। এখন পেশার কারণে, অর্পিত দায়িত্বের কারণে সব ভাইদের নিয়ে একসাথে ঈদ উদযাপন করা হয় না। এখন বাহিনীর সদস্যদের সাথে ঈদ করি। তাদের সাথে কেটে যায় আমার ঈদ। একটা  টান অনুভব করি বুকের গভীরে, বিজিবির সেসব সদস্যদের  জন্য।  যারা আমার সেক্টরের  অধীন কুমিল্লা, ব্রাক্ষণবাড়িয়া ও ফেনী জেলাসহ পুরো দেশের সীমান্তে স্বার্ভভৌমত্ব ও বহি:শত্রুর হাত থেকে নিজ দেশকে সুরক্ষায় পাহাড় জঙ্গল কিংবা খোলা প্রান্তরে নির্ভৃতে পায়ে হেটে,বাহনে চড়ে কিংবা দূরবীনে সীমান্তের ওপারে চোখ রেখে, অস্ত্র উচিয়ে বুকের ভিতর একরাশ কষ্ট চেপে রেখে বীর দর্পে স্বজন ছাড়াই পার করে দেয় ঈদ। মহান আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে সুস্থ রাখুন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ আজিজ আহমেদ, পিএসপি,জি. এর পক্ষ থেকে  স্বদেশ প্রেমে  বলিয়ান সকল জোয়ানসহ দেশবাসীর প্রতি রইল ঈদের শুভেচ্ছা।
কর্নেল গাজী মোঃ আহসানুজ্জামান, জি
সেক্টর কমান্ডার, বিজিবি কুমিল্লা।
ঈদ ছাড়া আড়ি ভাঙ্গার নিয়ম নেই!
ঈদ আনন্দের। ঈদ খুশির। তবে প্রতিটি বছরেই  পরিবর্তনের ধারায় পরিবর্তিত  হচ্ছে  ঈদ উদযাপন। এখন নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা নানান আয়োজনে ঈদ উদযাপন করে। তবে মনে পড়ে আমাদের শৈশবে আমরাও কত মজা করে ঈদ উদযাপন করেছি। বছরান্তে দু’টি উৎসবের মধ্যে ঈদ-উল ফিতরে আমরা যারা ছোট ছিলাম তারা একটু বেশী আনুষ্ঠানিকতা পালন করতাম। যেমন ঈদুল-ফিতর উপলক্ষে বন্ধুদের মধ্যে আড়ি ভাঙ্গা একটা বিষয় ছিল। কখনো কোন বন্ধুর সাথে ঝগড়া করে কিংবা অন্য কোন কারণে মনোমালিন্য হয়ে বন্ধুর সাথে দীর্ঘ দিন কথা না বলে থাকা মানেই আড়ি কাটা বলা হতো। আড়ি কাটার পদ্ধতি ছিল নিজেদের বানানো। যখন মান-অভিমানে কোন বন্ধুর সাথে কথা বলব না তখন তার ও নিজের হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল বাকা করে একটু জোরে স্পর্শ করে ছেড়ে দিলে আড়ি কাটা হয়ে যেত। তারপর থেকে ওই বন্ধুর সাথে আর কথা বলা হতো না। শুধুমাত্র ঈদ ছাড়া আড়ি ভাঙ্গার কোন নিয়ম নেই। তাই ঈদের জন্য অপেক্ষা।  ঈদ আসলে রাগ অভিমান ভুলে আড়ি কাটা বন্ধুর সাথে কথা বলতাম। এমন অনেক হয়েছে, যে বন্ধুর সাথে আড়ি ভেঙ্গে কথা বলতাম সে সবচেয় ভাল বন্ধুতে রুপান্তরিত হয়ে যেত। আরো কত শত স্মৃতি জমে রয়েছে মনের কোঠরে। ঈদুল-ফিতরে লোহার মেশিন দিয়ে সেমাই বানাতাম। ঈদের দিন খুব ভোরে মানে ফজরের আযানের আগেই ঘুম থেকে উঠে বন্ধুরা একসাথে হয়ে যেতাম। পাড়াগুলোতে ঘুরে ঘুরে গান গাওয়ার মাধ্যমে সবাইকে জাগিয়ে দিতাম। কি যে আনন্দ কি উত্তেজনায় কেটে যেত ঈদ বলে বোঝানো যাবে না। সবাই দল বেঁধে ঈদ গাহে যেতাম।  বড়দের কাছ থেকে সালামি হিসেবে যে পয়সা পেতাম ঘরের ভিতর বাঁশের পালায়  পরিমাণ মত ছিদ্র করে জমা করতাম। অনেকে আবার সালামি হিসেবে চকলেট দিত। কে কত টাকা সালামি পেতাম তা নিয়ে ভাই বোনদের সাথে প্রতিযোগিতা হত। শৈশবে আমার কাছে ঈদের আনন্দ মূলত ঈদের দু’একদি আগেই ভাল লাগতো। কারণ ঈদের আনন্দ উপভোগ করা উপলক্ষে অপেক্ষা করার মজাই ছিল অন্য রকম। কারণ ঈদের দিন শুরু হওয়া মানে সন্ধ্যায় শেষ হওয়া।  বিয়ের প্রথম কয়েক বছর ঈদের সময়ের কিছু স্মৃতি এখনো উজ্জ্বল হয়ে আছে। কম আয় বলে ঈদে সবার জন্য কেনাকাটা করতে একটি তালিকাকে কতবার যে কাটাকাটি করেছি। এমন অনেক হয়েছে যে নিজের জন্য বরাদ্দ করা টাকা বাদ দিয়ে অন্য কারো জন্য তালিকায় নাম যোগ দিতাম। এখন আর নিজ কেন্দ্রীক  ঈদ-উদযাপন করা হয় না। সবাইকে নিয়ে সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারলেই ভাল লাগে। সবাই ভাল থাকুন,সুস্থ  থাকুন। ঈদ মোবারক।
ডা. ইকবাল আনোয়ার
শিশু রোগ বিশেজ্ঞ।

25 October 2015

কুমিল্লা হতে পারে সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী

কুমিল্লা হতে পারে সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী


মোঃ শিহাব উদ্দিনঃ আমরা জানি সার্ক কালচারাল সেন্টার (শ্রীলঙ্কা) ২০১৬ সালে বাংলাদেশের একটি শহরকে সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষনা করবে। এই শহরটি হতে হবে রাজধানীর বাইরে কোন শহর। সেই শহরকে ঘিরে আয়োজন করা হবে বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠান। এতে যোগ দিবেন সার্কভুক্ত দেশের শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, গবেষক, বুদ্ধিজিবীরা। ইতিমধ্যে ২০১৫ সালের জন্য আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক নগরি বামিয়ানকে  সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে।  বাংলাদেশের একটি স্থানকে নির্বাচিত করা হলে বহি:বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি যেমন উজ্জ্বল হবে তেমনি আমাদের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্র তৈরী হবে। ইতিমধ্যে কুমিল্লা, কুষ্টিয়া ও বগুড়াকে সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষনার জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি শহরকে ২০১৬ সালের জন্য সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে বেছে নেওয়া হবে। সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষনার জন্য ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাংস্কৃতি ছাড়াও ঢাকা থেকে যাতায়াত, আবাসন, মিলনায়তন, আপ্যায়ন ইত্যাদি বিষয়ও বিবেচনা করা হবে।
সব কিছু বিবেচনায় নিলে কুমিল্লাই সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষনার জন্য যথার্থ হবে বলে আমরা মনে করি। কারণ তুলনামুলক বিচার করলে আমরা দেখতে পাই কুমিল্লায় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতির অনেক নিদর্শন রয়েছে যা বগুড়া ও কুষ্টিয়ায় নেই। তাছাড়া ঢাকা থেকে যাতায়াত, আবাসন, মিলনায়তন, আপ্যায়ন ইত্যাদি বিবেচনায় নিলেও কুমিল্লা এগিয়ে থাকে। ঢাকা থেকে দুরত্ব বিবেচনায় কুষ্টিয়া ও বগুড়ার তুলনায় কুমিল্লা অনেক কাছে। তাছাড়া বর্তমানে চারলেন রোড হওয়ার ফলে বিদেশি অতিথিদের যাতায়াতেও অনেক সুবিধা হবে। কুমিল্লায় বার্ড মিলনায়তনে ১৯৯৬ সালে সার্ক আইন মন্ত্রিদের একটি সম্মেলন এবং ২০০৫ সালে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের আরেকটি সম্মেলন হয়েছিল। তাই মিলনায়তনের জন্য বার্ডের গুরুত্ব অনেক বেশি। এছাড়া কুমিল্লায় রয়েছে নূরজাহান, অফবিট, হাইওয়ে ইন, মিয়ামির মত থ্রি স্টার হোটেল যেখানে রয়েছে আবাসন আপ্যায়ন সহ কোন আর্ন্তজাতিক মানের অনুষ্ঠান করার বিশাল স্পেস। এই রকম কোন কিছু বগুড়া বা কুষ্টিয়ায় নেই। আবাসনের জন্য কুমিল্লা সার্কিট হাউজকেও বিবেচনা করা যেতে পারে। 
ইতিহাস ও এতিহ্যের দিক থেকে বগুড়ায় মহাস্থানগড় ও কুষ্টিয়ায় লালনের আখড়া ছাড়া আর তেমন কিছু নাই। অপরদিকে ঐতিহাসিক স্থানের মধ্যে কুমিল্লায় রয়েছে ময়নামতি প্রত্ততাত্বিক নিদর্শন ও যাদুঘর, লালমাই বোদ্ধ বিহার, শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, লালমাই পাহাড়, ময়নামতি পাহাড়, রূপবান মুড়া, চন্ডীমুড়া, কুটিলামুড়া, ইটখোলা মুড়া, রানীর বাংলার পাহাড়, আনন্দ রাজার প্রাসাদ, ভোজ রাজদের প্রাসাদ প্রভৃতি। আরও আছে ত্রিপুরার রাজা মানিক্য রায় বাহাদুরের বাড়ি (রানির কুঠির), ধর্মসাগর দীঘি, বলেশ্বর দীঘি প্রভৃতি। এখানে উল্লেখ্য যে ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের পঁচিশ বছর পুর্তির অনুষ্ঠানে কুমিল্লার ময়নামতির একটি টেরাকোটা তৎকালিন মহাসচিব কফি আনানকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। 
ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতির আরও অনেক নিদর্শন কুমিল্লায় রয়েছে যা বগুড়া বা কুষ্টিয়ায় অনুপস্থিত। যেমন কুমিল্লায় আছে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজরিত স্থান ও নজরুল ইনষ্টিটিউট। বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), মুঘল শাসন আমলের শাহ সুজা মসজিদ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শহীদদের সমাধি, ঢুলিপাড়ায় মহত্ত্বাগান্ধির স্মৃতিময় অভয়আশ্রম, শতবর্ষ প্রাচীন ভিক্টোরিয়া কলেজ, ১৮ হোলের আর্ন্তজাতিক গল্ফ ক্লাব। আরও আছে রজশেপুর ইকোপার্ক, রুপসাগর পার্ক, ব্লু ওয়াটার পার্ক, ইব্রাহিমপুরের সিমান্তবর্তি শালবন টুরিষ্ট, বোটানিকাল গার্ডেন, মাটিয়ারায় নির্মনাধীন ফ্যানটাসি ওয়ার্ল্ড হিম পার্ক। এসমস্ত স্থান আগত বিদেশি অতিথিদের মুগ্ধ করবে ও তাদের জন্য অনেক আনন্দদায়ক হবে। প্রাচীন সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের মধ্যে আরও রয়েছে খাদি শিল্প, তাঁতশিল্প, কুটির শিল্প, মৃৎ ও কারুশিল্প, রসমলাই মিষ্টি, ময়নামতির শীতল পাটি ইত্যাদি।
এছাড়া কুমিল্লার বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ শাসন আমলে একমাত্র নওয়াব উপাধি প্রাপ্ত নওয়াব ফয়জুননেসা, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা মেজর এম এ গনি, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, সচিন দেব বর্মন, রায় বাহাদুর মোহিনি মোহন, আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষার প্রথম প্রস্তাবক রফিক। আরও আছেন বর্তমানে নরওয়ে পার্লামেন্টের লেবার পার্টির প্রভাবশালি সদস্য সায়রা খান।
এই সমস্ত ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ব্যাক্তিত্ব শুধু কুমিল্লাই নয় সমস্ত বাংলাদেশেকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে। তাই কুমিল্লাকে সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষনা করা হলে তাতে বাংলাদেশের এক সমৃদ্ধ শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি বিশ্ববাসির সামনে উপস্থাপন করা যাবে। অতএব আমরা ২০১৬ সালের জন্য কুমিল্লাকে সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষনা করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

12 October 2015

ফুটবল ঐতিহ্যের কুমিল্লা

ফুটবল ঐতিহ্যের কুমিল্লা


বিশেষ প্রতিবেদনঃ পাকিস্তান আমল বা স্বাধীনতার পর আশির দশক পর্যন্ত দেশের ফুটবলে এবং ক্রিকেটে কুমিল্লার ছিল প্রচণ্ড দাপট। কুমিল্লার ফুটবলার ছাড়া জাতীয় দল গড়া অসম্ভব হয়ে পড়ত। আর ক্রিকেট ইতিহাস বলছে ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় ক্রিকেট লিগের চ্যাম্পিয়ন দল ছিল কুমিল্লা। গত কয়েক দশকে কুমিল্লায় ক্রিকেট নিষ্প্রাণ হয়ে গেলেও বিপিএলের এই আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস্ নামে কুমিল্লার একটি দল হওয়ায় পুরনো গৌরব ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সবাই।
ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডানে সেরা একাদশে ঠাঁই পেতেন অধিকাংশ কুমিল্লার ফুটবলাররা। ফুটবলের ইতিহাস ঘটলে বের হয় এমন তথ্য। কুমিল্লার সূর্য চক্রবর্তী অল ইন্ডিয়া ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন।
আশরাফ চৌধুরীর মতো তুখোড় স্ট্রাইকার এখনো সৃষ্টি হয়নি। ষাট দশকে ঢাকা মোহামেডানের হয়ে প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে এক মৌসুমে ৫২ গোল করেন তিনি। এই রেকর্ড এখনো কারও পক্ষে ভাঙা সম্ভব হয়নি।
গোলাম সারোয়ার টিপু, কায়কোবাদ, বাদল রায়ের মতো মাঠ কাঁপানো ফুটবলার কুমিল্লারই ছেলে। এ তিনজনই ছিলেন ফুটবলে উজ্জ্বল নক্ষত্র। মোহামেডানে কুমিল্লার ফুটবলার বেশি ছিল বলেই অনেকে আবার ঐতিহ্যবাহী দলটির নাম দিয়েছিলেন ‘কুমিল্লা স্পোর্টিং ক্লাব।’
সত্তর দশকে মধ্যমাঠের সেরা খেলোয়াড় প্রণব কুমার দে ভানুও কুমিল্লার ছেলে। জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করা শফিকুল ইসলাম মানিক, রঞ্জিত সাহা, হরে কৃষ্ণ, নিজাম উদ্দিন মজুমদারতো আছেনই। দেশসেরা গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্যও কুমিল্লার গর্বিত সন্তান। জাতীয় দলের অধিনায়কও ছিলেন তিনি।
জাতীয় দলে খেলা এনামুল হক শরীফও কুমিল্লার ছেলে। এগুলোতো পরিচিত মুখ। এক সময় কুমিল্লায় ফুটবলারের অভাব ছিল না। শুধু কি ফুটবলার, অনেক খ্যাতনামা সংগঠকও ছিলেন কুমিল্লার।
যে জেলা ফুটবলের জন্য বিখ্যাত ছিল সেই কুমিল্লা এখন সেভাবে ফুটবলার দেখা মিলছে না। বলা যায় ফুটবলে ক্রান্তিকাল চলছে। কথা হচ্ছে কেন এ অবস্থা?
এ ব্যাপারে কুমিল্লা জেলা ক্রীড়াসংস্থার সহ-সভাপতি শিবলী নোমানী বলেন, দ্রুত নগরায়নের কারণে কুমিল্লার মাঠ শূন্য হয়ে পড়েছে। ছেলেরা খেলবে সে ধরনের উপযুক্ত মাঠ খুঁজে পাচ্ছে না। আগে লিগ ছাড়াও কুমিল্লায় ফুটবলে আরও টুর্র্নামেন্ট হতো। এখান থেকেই প্রতিভার সন্ধান মিলতো। বাদল, মানিক, বিপ্লবরা এভাবেই উঠে এসেছিল। কুমিল্লায় অনেক সুপরিচিত ক্লাবও ছিল। ঢাকার আগে ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। স্টেডিয়ামও চালু হয়েছিল ১৯৩৩ সালে। ছেলেরা খেলতে পারছে না বলে কুমিল্লায় যেমন প্রতিভাবান ফুটবলারের সন্ধান মিলছে না, তেমনিভাবে অনেক ক্লাব বিলুপ্তও হতে চলেছে।
সত্তর দশকে জাতীয় দলে খেলা প্রণব কুমার ভানু বলেন, আমরা পরিশ্রম করে ফুটবলার হিসেবে পরিচিত লাভ করেছি। কুমিল্লায় ফুটবলে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তা অবশ্যই কাটিয়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য স্কুল লেভেল থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। লিগ হতে হবে নিয়মিত। এ ব্যাপারে ক্রীড়া সংগঠকদের উদ্যোগ নিতে হবে। খেলাধূলার জন্য অভিভাবকদের উৎসাহ দিতে হবে।
শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, এখন শুধু কুমিল্লা কেন অধিকাংশ জেলাতেই ফুটবলের একই অবস্থা। তবে কুমিল্লার আলাদা একটা ঐতিহ্য ছিল। ঢাকা লিগে এ জেলার ফুটবলারদের দাপট ছিল তুঙ্গে। কথা হচ্ছে, এখন সে অবস্থা নেই কেন? দেখেন বলে সবাই লাথি মারতে পারে। কিন্তু প্রকৃত ফুটবলার হতে হলে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। আমরা এভাবেই ফুটবলার হয়েছি। খেলা থাকতে হবে মাঠে। কুমিল্লায় এসব সংকট প্রকট বলেই ফুটবলে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। সংগঠক উদ্যোগ নিলে আবার এ জেলার ফুটবলে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। জেলার ফুটবল উন্নয়নে ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্ব অনেক। প্রতিটি জেলায় নিয়মিত লিগ হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করা দরকার। আগে শেরেবাংলা কাপ জাতীয় ফুটবল হতো বলে নতুন নতুন খেলোয়াড়ের সন্ধান মিলতো। শুনেছি শেরেবাংলা কাপ আবার হবে। এটা হলে ফুটবল দারুণভাবে উপকৃত হবে। দেখা যাবে শুধু কুমিল্লা নয়, অনেক জেলাতেই প্রতিভাবান ফুটবলারের দেখা মিলবে। ফুটবলার তৈরির যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা কেটে যাবে।
সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

02 October 2015

চ্যানেল আইয়ের জন্মদিনে কুমিল্লায় বর্ণাঢ্য আয়োজন

চ্যানেল আইয়ের জন্মদিনে কুমিল্লায় বর্ণাঢ্য আয়োজন


হুমায়ূন কবির জীবনঃ বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। ৪১ সালের আগেই এ দেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। এ এগিয়ে যাওয়ার পিছনে মিডিয়ার একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকা-গুলো মিডিয়ায় প্রচার হওয়ার কারণে জনমনে উৎসাহ বেড়েছে। তারা দ্বিগুণ উৎসাহে কাজ করেছেন। এরই ফলশ্রুতিতে দেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে ধাবিত হয়েছে এবং প্রায় সকল ক্ষেত্রে সফলতার হার বেড়েছে। চ্যানেল আই কৃষি, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নমূলক কর্মকা- ফলাও করে প্রচার করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমালোচনাও করেছে। তবে যৌক্তিক সমালোচনা করেছে। এ চ্যানেল সারা দেশের মতো কুমিল্লাতেও একটি জনপ্রিয় চ্যানেল। এর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।
অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভির সালেহীন ইমন। তিনি বলেন, চ্যানেল আই হৃদয়ে বাংলাদেশকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশকে নিয়ে যারা ভাবেন তারা পিছিয়ে থাকতে পারেন না। দেশাত্মতা ঈমানেরই অংশ। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকার সম্মান রক্ষা করা এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের জাতীয় দায়িত্ব। চ্যানেল আই এ দেশের মাটি ও মানুষের কথা বলে। এ চ্যানেলের টক শো মুগ্ধ হওয়ার মতো। এ চ্যানেল আগামীতে আরো বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করবে বলে আমার বিশ্বাস।
র‌্যালি ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুজিব রাহমান, কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব শাহ মো: আলমগীর খান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট কুমিল্লা অঞ্চলের ট্রাস্টি নির্মল পাল, সিনিয়র তথ্য অফিসার মীর হোসেন আহসানুল কবীর, নজরুল গবেষক ড. আলী হোসেন চৌধুরী, কুমিল্লা বিএমএর সভাপতি ডা. গোলাম মহিউদ্দীন দিপু, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড মাহবুবুর রহমান, কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুর রউফ চৌধুরী ফারুক, কুমিল্লা প্রেস কাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল, তরুণ আওয়ামীলীগ নেতা নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মোস্তফা জামান, কবি ও সংগঠক ফখরুল হুদা হেলাল, দৈনিক শ্রমিকের সম্পাদক শহিদুল হক সেলিম, কুমিল্লা কালচারাল কমপ্লেক্সের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন সিদ্দিকী, নারীনেত্রী দিলনাশি মোহসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের জেলা সভাপতি আবদুল হাই বাবলু, রোটারী কাব লালমাইয়ের সভাপতি আবুল হোসেন ছোটন, সাবেক কাউন্সিলর কাইয়ুম খান বাবুল, নাট্য ব্যক্তিত্ব হাসিম আপ্পু, বিটিভি কুমিল্লা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম রতন, রোটারিয়ান চিত্তরঞ্জন ভৌমিক, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল বারী চৌধুরী হিরু, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম বাবু, বাখরাবাদ ঠিকাদার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম সরকার, সমাজসেবক বাবুল পাল, ধনুয়াখোলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো: শামীম হায়দার, সদর দক্ষিণ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কুমার ঘোষ, বিএনপি নেতা আতাউর রহমান ছুটি, সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি সাজ্জাদুল কবির সাজ্জাদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন আহমেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডা. জসিম উদ্দিন, মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি ওবায়দুল কবীর মোহন, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পিটার, মানবাধিকার কর্মী মিজানুর রহমান মিলন, ট্যুরিষ্ট ভিশনের সভাপতি বরুন চক্রবর্তী, মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, আওয়ামীলীগ নেতা বেল্লাল হোসেন, বৈশাখী সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত রসুল মুসু, অর্থ সম্পাদক জিয়াউল মোস্তফা রবিন, বাংলাভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ, আরটিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়া, বৈশাখী টিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন, মানবজমিনের কুমিল্লা প্রতিনিধি জাহিদ হাসান, ৭১টিভি কুমিল্লা প্রতিনিধি কাজী এনামুল হক ফারুক, কুমিল্লার কাগজের প্রধান প্রতিবেদক মোতাহার হোসেন মাহবুব, কবি সৈয়দ আহমদ তারেক, সাহিত্যিক কাজী আলমগীর, ছাত্রদল নেতা রোমান হাসান, ফাহিম আহমেদ, এনামুল হক সবুজ, বদরুল হাসান রাব্বু, নুরুল করিম, মাদকপুনর্বাসন কেন্দ্র আদরের পরিচালক রেজাউল আলম সেলিম, সাংবাদিক কাজী মো: আবু হানিফ, সমতট কাগজ ডট কমের সম্পাদক জামাল উদ্দিন দামাল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন একতাই শক্তির সাধারণ সম্পাদক সাগর, একাতাই শক্তির নেতা রনি, হাসান, ইভানসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো: আবিদ হোসেনের পক্ষে সহকারী পুলিশ সুপার সদর তানভির সালেহীন ইমন ও ডিআইওয়ান মো: মাহবুবুর রহমান চ্যানেল আইয়ের কুমিল্লা প্রতিনিধি আবুল কাশেম হৃদয়কে ফুল দিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান।
পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন দৈনিক কুমিল্লার কাগজের নির্বাহী সম্পাদক হুমায়ূন কবির জীবন।

01 October 2015

‘ওয়েলকাম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স’

‘ওয়েলকাম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স’


বিশেষ প্রতিবেদনঃ কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘ দিনের আকাঙ্খা পূরণে এবং কুমিল্লাকে ক্রিকেটাঙ্গনে আরো বেশি করে পরিচিত করতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের নেয়া ‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স’ টিমকে স্বাগত জানিয়েছে কুমিল্লার মানুষ। বলেছে ‘ওয়েলকাম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স’। বৃহস্পতিবার বিকালে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স’ টিমকে স্বাগত জানায় কুমিল্লা বিশিষ্টজনরা।
এ সময় কুমিল্লা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স’ টিমকে ‘ওয়েলকাম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স’ বলে স্বাগত জানায়।
উল্লেখ্য, রয়্যাল স্পোটিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিসা কামাল সিলেট রয়েলের পরিবর্তে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স নামে ফ্যাঞ্চাইজি নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠিত করেছেন কুমিল্লা লিজেন্ডস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানী। কুমিল্লা লিজেন্ডস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আইসিসির সাবেক সভাপতি ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এর মেয়ে কাশফি কামাল ।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স দলে দেখা যেতে পারে পাকিস্তানের ভুমভুম শহীদ আফ্রিদিকে। দলের সাথে থাকবেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরামও। এ দুটি নামের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা বেশি।
আগামী ২৪ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে এ টুর্নামেন্ট। ছয়টি দল নিয়েই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) তৃতীয় আসরটি অনুষ্ঠিত হবে।

23 September 2015

কুমিল্লার অধিনায়ক মাশরাফি!

কুমিল্লার অধিনায়ক মাশরাফি!

বিশেষ প্রতিবেদনঃ  অনেক জলঘোলার পর অবশেষে মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) তৃতীয় আসর। আর এই আসরে সবচেয়ে বড় চমক দিতে যাচ্ছে নতুন দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।এরই মধ্যে দলটির কর্ণধার নাফিসা কামাল জানিয়েছেন যে, তার ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট ক্রিস গেইল ও কাইরন পোলার্ড। আর এবার জানা গেলো দলের অধিনায়কের নাম। তিনি হলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।কোচের পদেও বড় ‘তারকা’ দেখা যাবে কুমিল্লায়। তিনি হলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। খেলোয়াড়দের মধ্যে শহীদ আফ্রিদি ও কেভিন পিটারসেনেও আগ্রহ আছে তাদের।

21 September 2015

হেলিকপ্টারে চলবে প্রচারণা, কুমিল্লায় আসবে পুরো দল - নাফিসা কামাল

হেলিকপ্টারে চলবে প্রচারণা, কুমিল্লায় আসবে পুরো দল - নাফিসা কামাল


বিশেষ প্রতিবেদনঃ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় আসর (বিপিএল)। এই মুহুর্তে দলের ঘর ঘোছাতে ব্যস্ত ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। কোচ থেকে শুরু করে উপদেষ্টা সব কিছুই এখন বেছে নেওয়ার সময়। বিশেষ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স দলের মালিক নাফিসা কামাল বেশ ভালোভাবেই তার ঘরের দিকে নজর দিয়েছেন।
কুমিল্লা লিজেন্ডস লিমিটেডের চেয়ারম্যান নাফিসা কামাল বলেন, কুমিল্লাকে এবং কুমিল্লার ক্রিকেটকে আমরা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নিয়ে যেতে চাই। আমার বাবা আইসিসির সাবেক সভাপতি ও পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং আমাদের পরিবারের কাছে কুমিল্লার মানুষের দাবি এটি। আমরা সে দাবি পূরণের চেষ্টা করবো।
নাফিসা কামাল জানান, আমরা কুমিল্লার মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা চাই। তাদের আনন্দ বিনোদনের সাথি হতে চাই।
তিনি আরো জানান, হেলিকপ্টারে করে কুমিল্লায় আমরা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের প্রচারণা চালাবো। টিমের সব দল আসবে কুমিল্লায়। হবে জমকালো অনুষ্ঠান ও কনসার্ট।
উল্লেখ্য কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স নামে ফ্যাঞ্চাইজি নেয়ার খবরে কুমিল্লায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রয়্যাল স্পোটিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিসা কামাল সিলেট রয়্যাল নামে বিপিএলের দুই আসরে দল পরিচালনা করেন। কিন্তু এবার সিলেট রয়্যালের পরিবর্তে কুমিল্লা নামে ফ্যাঞ্চাইজি পেতে কুমিল্লা লিজেন্ডস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানী খুলেন। আইসিসির সাবেক সভাপতি ও পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামালের ইচ্ছাতে ‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স’ নামটি রাখা হয়।
নাফিসা কামাল জানান, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাথে বাবার(লোটাস কামাল) অনেক স্মৃতি জড়িত। ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের ভিক্টোরিয়ান্স বলা হয়। সে কারনেই দলের নাম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
আগামী ২৪ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে এ টুর্নামেন্ট। ছয়টি দল নিয়েই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) তৃতীয় আসরটি অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র জানায়, কুমিল্লা লিজেন্ডস লিমিটেড এমন একটি দল গঠন করতে চাইছে যে দলে বিশ্ব সেরা খেলোয়াড়রা থাকবেন। দলটি হবে আকর্ষণীয়। লক্ষ্য থাকবে চ্যাম্পিয়ান হওয়া। আর দলটির সমর্থন পেতে আয়োজন করা হবে নানা অনুষ্ঠান মালা। অনুষ্ঠান হবে ঢাকা ও কুমিল্লায়।
জানা গেছে, নতুন এই দলটির জন্য কোচ হিসেবে চিন্তাভাবনা রয়েছে পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম ও ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। খেলোয়াড়দের তালিকায় যাদের নাম চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে তারা হচ্ছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদী, ইংল্যান্ডের কেভিন পিটারসন। শ্রীলংকার খেলোয়াড়ও রয়েছে পছন্দের তালিকায়।
এদিকে বিপিএলে কুমিল্লা নামে দল হওয়ার খবরে বৃহত্তর কুমিল্লা এলাকা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় পত্রিকায় যেমন এনিয়ে খবর প্রকাশিত হচ্ছে তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতেও এনিয়ে বেশ মাতামাতি রয়েছে।

20 September 2015

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে আসছেন গেইল-পোলার্ড

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে আসছেন গেইল-পোলার্ড


বিশেষ প্রতিবেদনঃ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় আসর (বিপিএল)। এই মুহুর্তে দলের ঘর ঘোছাতে ব্যস্ত ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। কোচ থেকে শুরু করে উপদেষ্টা সব কিছুই এখন বেছে নেওয়ার সময়। বিশেষ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স দলের মালিক নাফিসা কামাল বেশ ভালোভাবেই তার ঘরের দিকে নজর দিয়েছেন।
ক্রিকেটার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বড়কিছুর দিকে চোখ সাবেক আইসিসি সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামালের কন্যা নাফিসা কামালের।
সময় টেলিভিশন সুত্রে জানা যায়, বিপিএলের ৩য় আসরে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে মাঠ মাতাবেন ক্যারিবিয়ান হার্ডহিটার ক্রিস গেইল ও কাইরন পোলার্ড। পাকিস্তানী অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি, আহাম্মেদ শেহজাদ ও ওয়াব রিয়াজরা মাঠ মাতাবেন। আর লটারিতে মিলে গেলে অধিনায়ক হিসাবে দেখা যেতে পারে টাইগার ক্যাপটেন মাশরাফি বিন মুর্ত্তজা বা মুশফিকুর রহিমকে। তাছাড়া মেন্টর হিসাবে ওয়াসিম আকরামের আসাও নিশ্চিত এবং ব্যাটিং উপদেষ্টা হিসাবে সৌরভ গাঙ্গুলিরও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এবারের আসরের নবাগত দল লোটাস কামাল ও নাফিজা কামালের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অনেক বড় চমক হয়ে আসছে বিপিএলে।আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে মাঠে গড়াতে চলেছে বিপিএলের তৃতীয় আসর।
ভিডিওটি দেখুনঃ

18 September 2015

বিপিএল এর আলোচিত ও সমালোচিত দল "কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস"!

বিপিএল এর আলোচিত ও সমালোচিত দল "কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস"!


সৈয়দ মোঃ ইব্রাহীম খলিলঃ আগামী ২২ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) সবচাইতে আলোচিত ও সমালোচিত দল বলা চলে "কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস"কে। গত দুই আসরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) অংশ নেওয়া দলগুলো ছিল বিভাগীয় নামে কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে আসরে জায়গা করে নিল "কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস" সমালোচিত বলছি কারণ অনেকে বলছে খুলনা, রাজশাহী বিভাগ হয়েও দল পেল না অথচ কুমিল্লা সামান্য জেলা হয়ে দল পেল! দোষারোপ করছে বিসিবি কে। এক্ষেত্রে বিসিবির কিছুই করার ছিল না কারণ খুলনা রাজশাহীর নামে দল কিনতে কেউ রাজী হয় নি বা শর্ত পূরণ করতে পারে নি। বিসিবি বলছে, বিপিএল সিটি কর্পোরেশন ভিত্তিক করা হবে এবং ১০ দলে উন্নিত করা হবে। 
প্রিমিয়াম লিগে লিজেন্ডস অফ রুপগঞ্জের নাম আশা করি সবাই শুনেছেন সেটি তো একটি জেলাও না তাহলে দল পেল কিভাবে? তাছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল লীগে ফেনী সকার ক্লাব, মৌলভীবাজার ওয়ান্ডারস ক্লাব খেলছে অনেকদিন যাবত। তাছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে কয়েক হাজার জনসংখার ছোট শহর যেমন কারডিফ সিটি খেলছে। অনেক সময় একই শহরের নামে একাধিক দলও হয় যেমন ম্যান ইউ-ম্যান সিটি, রিয়েল মাদ্রিদ-এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। যেখানে অনেক বড় শহরের নামে কোন ক্লাবই নাই। পৃথিবীর কোথাও ফ্রাঞ্চাইসি ভিত্তিক টুর্নামেন্টে এমন কোন নিয়ম নেই যে বোর্ড দলের নাম ঠিক করে দিবে। আইপিএলের দিকে তাকালে দেখতে পাই শাহারুখ খান মুম্বাইয়ের মানুষ। মুম্বাই এর নামে আরও একজন আগেই টিম কিনে নিয়েছে তাই সে কলকাতার নামে টিম নিল। আর খুলনা রাজশাহীর ফ্রাঞ্চাইসি কেউ কিনতে রাজী হয় নি বা শর্ত পূরণ করতে পারে নি, তো বিসিবি কি করবে? 
ধরুন কামাল সাহেবকে বিসিবি বলল আপনি খুলনার নামে দল কিনেন তখন যদি কামাল সাহেব দল কিনতে রাজি না হত তখন বিপিএল হত ৫ দলের সেটা দেখতে আরও খারাপ লাগত। সবচাইতে বড় কথা বিপিএলে ৭টি বিভাগই রাখতে হবে, এমন কোন গঠনতন্ত্র নেই। ৭টি বিভাগের নাম রেখেই নামগুলো চুড়ান্ত করতে হবে, এমন কোন নিয়মও নেই। তাই যে প্রতিষ্ঠান দল কিনবে, তারাই নিজেদের মত করে নাম দিতে পারে। সবশেষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস দলের জন্য রইল শুভকামনা। 

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ হাতুরুসিংহে?

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ হাতুরুসিংহে?


বিশেষ প্রতিবেদনঃ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় আসর (বিপিএল)। বিপিএল নিয়ে বিসিবি আর ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে কম জল ঘোলা হয়নি। তাছাড়া ক্রিকেটারদের পুরানো পাওনা পরিশোধ, নতুন নিয়ম, বিদেশী ক্রিকেটারদের নিয়ম- এসব সমস্যা পার করেই শুরু হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্ট।
এই মুহুর্তে দলের ঘর ঘোছাতে ব্যস্ত ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। কোচ থেকে শুরু করে উপদেষ্টা সব কিছুই এখন বেছে নেওয়ার সময়। বিশেষ করে কুমিল্লা লিজেন্ড দলের মালিক নাফিসা কামাল বেশ ভালোভাবেই তার ঘরের দিকে নজর দিয়েছেন।
ইন্ডিপেন্ডেস টেলিভিশন সুত্রে জানা যায় , নাফিসা কামাল আশা করছেন কোচ হিসেবে বর্তমানের জাতীয় দলের প্রধান কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহেকে কুমিল্লা লিজেন্ডের কোচ হিসেবে পাবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের(বিসিবি) বাঁধা অতিক্রম করতে হবে তাকে।
অন্যদিকে, দলের জন্য উপদেষ্টা হিসেবে আশা করছেন পাকিস্তানি কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরামকে।
শুধু কোচই নয়, ক্রিকেটার কেনার ব্যাপারেও এগিয়ে রয়েছে তার দল। কদিন আগেই জানিয়েছেন, শহিদ আফ্রিদিসহ ক্রিস গেইল আর কেভিন পিটারসেনকে দলে টানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। অন্যদিকে, মাশরাফিকে নেওয়ার জন্যও মুখিয়ে রয়েছেন তারা।

17 September 2015

কুমিল্লা লিজেন্ডস নয়, নাম হচ্ছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স!

কুমিল্লা লিজেন্ডস নয়, নাম হচ্ছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স!


বিশেষ প্রতিবেদনঃ বিপিএলের ছয় দল চূড়ান্ত, বাকি ছিল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। সেই কাজটিও করে ফেলেছে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম।
এরমধ্যে একটি দল কুমিল্লা লিজেন্ডস। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকানা কিনেছে রয়্যাল স্পোর্টিং লিমিটেড। কুমিল্লা লিজেন্ডস নামেই বিপিএলের তৃতীয় আসরে নাম লেখানোর কথা ছিল তাদের।
কিন্তু কুমিল্লা লিজেন্ডস নামটা শেষপর্যন্ত থাকছে না। দলটার নাম দেয়া হচ্ছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির চেয়ারম্যান নাফিসা কামালই এমন তথ্য দিয়েছেন।
শুধু দলের নামই নয়, মালিকানাও বদলে গেছে। এ বিষয়ে নাফিসা কামাল বলেন, ‘আমাদের দলটার নাম হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এছাড়া দলের মালিকানাও রয়্যাল স্পোর্টিং লিমিটেডের কাছে থাকছে না। কোম্পানির নাম কুমিল্লা লিজেন্ডস লিমিটেড। এ সংক্রান্ত কাগজ পত্র বিসিবিতে পাঠানো হয়েছে।’
ছয় দলের অংশগ্রহণে আগামী ২৪ নভেম্বর মাঠে গড়াবে বিপিএলের তৃতীয় আসর। এরআগে ২২ নভেম্বর মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তবে টুর্নামেন্টের সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

কুমিল্লা দলের নতুন নাম ‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স’ নিয়ে নাফিসা কামালের ঘোষণা দেখুন ভিডিওতেঃ

16 September 2015

‘কুমিল্লা লিজেন্ডস’ বিপিএলে থাকছে! আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

‘কুমিল্লা লিজেন্ডস’ বিপিএলে থাকছে! আনুষ্ঠানিক ঘোষণা


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) তৃতীয় আসরের উদ্বোধন হবে আগামী ২২ নভেম্বর ২০১৫ছয়টি দলের অংশগ্রহণে এবার শুরু হচ্ছে ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টির এই আসর
কুমিল্লাবাসীর বহুল প্রতীক্ষিত ‘কুমিল্লা লিজেন্ডস’ নামে দল থকছে এ আসরে
বিপিএলের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৪ নভেম্বরখেলাটি দিবা-রাত্রির ম্যাচ হবেবুধবার মিরপুর শেরে-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের মিটিং শেষে সাংবাদিকদের এসব ব্যাপারে জানান, গভর্নি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহাএছাড়া এ সময় গভর্নি কাউন্সিলের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন
এবারের আসরে নতুন ও পুরোনো মিলে ছয়টি দল খেলবেকুমিল্লা লিজেন্ডসের মালিকানায় রয়েল স্পোর্টস, ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মালিকানা পেয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপ, বরিশাল বার্নার্সের মালিকানায় এক্সিওম গ্রুপ, চট্টগ্রাম কিংসের মালিকানায় থাকছে ডিবিএল গ্রুপ, সিলেট রয়েলসের মালিকানায় আলিফ গ্রপ ও রংপুর রাইডার্স মালিকানায় আই স্পোর্টস
এবারের আসরে টাইটেল স্পন্সরের দায়িত্ব পেয়েছে বিআরবি কেবলসআগের আসরে টাইটেল স্পন্সরের দায়িত্বে ছিল প্রাইম ব্যাংক
তৃতীয় আসরে আপাতত তিনটি ভেন্যু ঠিক করা হয়েছেএগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনাএছাড়া আরো ভেন্যু বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বিপিএল গভর্নি কাউন্সিল

এদিকে এবারের আসরে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের খেলার ব্যাপারে আশাবাদী বিপিএল কমিটিবিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানান, তাদের সঙ্গে আগের সব পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছেতাই আমরা আশাবাদী তারা এবারের আসরে খেলবে