Showing posts with label কুমিল্লার ঐতিহ্য. Show all posts
Showing posts with label কুমিল্লার ঐতিহ্য. Show all posts

19 June 2017

কুমিল্লা ধর্মসাগরের ইতিকথা

কুমিল্লা ধর্মসাগরের ইতিকথা


প্রাচীন আর সমৃদ্ধশালী জেলাগুলোর নাম বললে কুমিল্লার নামটা একদম উপরের দিকেই আসে, আর এ কারণে কুমিল্লা জেলাকে নিয়ে দেশের মানুষের একটা আলাদা আগ্রহ আছে কুমিল্লা জেলাতে ঘুরে দেখার কি আছে এ নিয়ে হরহামেশাই প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয় ,কিভাবে আসবো কুমিল্লা ? ঘুরে দেখার জায়গাগুলোতে কিভাবে যাবো ? খাবো কোথায় ?
প্রথমেই আসি কুমিল্লাতে দেখার মতো কি আছে যার টানে আপনি কুমিল্লা আসবেন ? অনেক জায়গা আছে যা দেখার জন্য আপনি রসমলাই এর জন্য বিখ্যাত কুমিল্লা জেলায় ঘুরে আসতে পারেন তাহলে শুরু করা যাক ? আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করব কুমিল্লা ধর্মসাগর নিয়ে

ইতিহাসঃ ত্রিপুরা রাজ্যের অধিপতি মহারাজ ধর্মমাণিক্য ১৪৫৮ সালে এই দীঘি খনন করেনজানা যায়, কুমিল্লা শহর ও তার আশেপাশের অঞ্চল সে সময় তাঁর রাজত্বের অধীন ছিল এবং এ অঞ্চলের জনগণের পানীয় জলের সুবিধার জন্য তিনি দীঘিটি খনন করেন ১৯৬৪ সালে দীঘিটির পশ্চিম ও উত্তর পাড়টি তদানিন্তন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের উদ্যোগে পাকা করা হয়এই অঞ্চলের মানুষের জলের কষ্ট নিবারণ করাই ছিল রাজার মূল উদ্দেশ্য রাজমালাগ্রন্থ আনুসারে মহারাজা সুদীর্ঘ ৩২ বৎসর রাজত্ব করেন (১৪৩১-৬২ খ্রি:) মহারাজা ধর্মমাণিক্যের নামানুসারে এর নাম রাখা হয় ধর্মসাগর ধর্মসাগর নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে বহু উপাখ্যান ও উপকথা

বিবরণঃ বর্তমানে ধর্মসাগরের আয়তন ২৩:১৮ একর এটির পূর্বে কুমিল্লা স্টেডিয়াম ও কুমিল্লা জিলা স্কুল, উত্তরাংশে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যান ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অবস্থিত কুমিল্লার শহরবাসীর নিকট এই দীঘিটি একটি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে এখানে অবকাশ উদযাপনের নিমিত্ত প্রতিদিন বিপুল জন সমাগম হয়ে থাকে এছাড়া সারাদেশেই ধর্মসাগরের প্রসিদ্ধি রয়েছে
ধর্মসাগরের উত্তর কোণে রয়েছে রাণীর কুঠির, পৌরপার্ক পূর্ব দিকে  কুমিল্লা স্টেডিয়াম আর পশ্চিম পাড়ে বসার ব্যবস্থা আছে স্থানীয় অধিবাসী ছাড়াও পর্যটকের আগমন ঘটে দিঘিপাড়ের সবুজ বড় বড় গাছের সারি ধর্মসাগরকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা তাছাড়াও শীতকালে ধর্মসাগরে প্রচুর অতিথি পাখির আগমন ঘটে

যেভাবে যেতে হবেঃ ধর্মসাগর কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিধায় শহরের যে কোন স্থান থেকে এখানে সহজে যাতায়াত করা যায়

কোথায় থাকবেনঃ কুমিল্লা শহরে অনেকগুলো ভাল মানের হোটেল আছে সেখানে থাকতে পারেন বার্ড খুব কাছে বার্ডে যোগাযোগ করলে সেখানেও থাকতে পারেন

16 June 2017

বেড়িয়ে আসুন লাকসামের দর্শনীয় স্থান ও জমিদারি রাজমহল

বেড়িয়ে আসুন লাকসামের দর্শনীয় স্থান ও জমিদারি রাজমহল


শতবর্ষের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনীতি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে লাকসাম পরিচিত। অতীতের হোমনাবাদ ও মেহেরকুল পরগনার স্মৃতিবিজড়িত অমর কাহিনী ও মহাপুরুষ আধ্যাত্মিক পীর-আউলিয়ার আগমন ও কিছু স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে লাকসাম। লাকসামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত দেশের অন্যতম ডাকাতিয়া নদী। এশিয়ার মহীয়সী নারী ও নারী শিক্ষার অগ্রদূত ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ কর্তৃক নবাব উপাধিতে ভূষিত নবাব ফয়জুন্নেছার জন্মস্থান ও জমিদার বাড়ি। অতীতে গৌরব করার মতো যা ছিল বর্তমানে লাকসামে তাই আছে।

লাকসাম যেভাবে নামকরণঃ
অতীতের হোমনাবাদ এলাকার একটি অংশ লক্ষ্যস্যাম। স্যাম মানে বন্ধু। এ এলাকায় এক সময় ছিল লক্ষবন্ধুর বসবাস। লাটসাব ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের জমিদারি ছিল বেশি। অতীতের লক্ষ্যস্যাম থেকেই লাকসাম নামকরণের উত্পত্তি হয় এবং বর্তমানে লাকসাম উপজেলা।

লাকসাম এসে যা দেখবেনঃ
কত লাকসাম কত বাত্তি নামে খ্যাত লাকসাম এসে দেখবেন, দেখার সার্থক হবে প্রথমেই শতবর্ষের নির্মিত ঐতিহ্যবাহী লাকসাম রেলওয়ে জংশন। এ রেলওয়ে জংশনে প্রতিদিন শত শত লোক ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, চাঁদপুর ও নোয়াখালী ট্রেনে করে উঠানামা করছে। লাকসাম রেলওয়ে জংশনে বিভিন্নমুখী ট্রেনগুলো এসে থেমেই মানুষের পদভারে মুখরিত হয়। সব দৃশ্য রেলওয়ে জংশনের ওভারব্রিজে দাঁড়িয়ে দেখার মতো। পৌর শহরের পশ্চিমগাঁওতে ঐতিহ্যবাহী দেশের অন্যতম ডাকাতিয়া নদীর তীর ঘেঁষে এশিয়ার মহীয়সী নারী বাংলাদেশের খ্যাতিমান মহিলা নওয়াব ফয়েজুন্নেছা জমিদার বাড়ি, খান বাহাদুর বাড়ি, বাগিছা বাড়ি, ১০ গম্বুজ মসজিদ, নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ, নওয়াব ফয়জুন্নেছা ও বদরুন্নেছা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়; এছাড়া আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ হজরত গাজীউল হক সাহেবের মাজার শরীফ। যে মাজারে প্রতিদিন লোকজন এসে ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রদান করছে। এ মাজারে কেউ মিলাদ পড়ায়। আবার কেউ পাশেই সুরম্য প্রাচীন কালে নির্মিত মসজিদে নামাজ আদায় করে। অতীত দিনের স্মৃতি দৌলতগঞ্জ জগন্নাথ মন্দির, এক সময়ে অতুল হাই বর্তমানে লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। লাকসামের শেষ প্রান্তে পশ্চিম চিতোষীতে নাটেশ্বরে বিরাট আকারের দীঘি ও প্রাচীন মসজিদ, লাকসামের বরইগাঁও আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহার কমপ্লেক্সসহ লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, উহার পাশেই কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেড ভবন, যা এখন পরিত্যক্ত, প্রথম শ্রেণীর লাকসাম পৌরসভা ভবন, গণপাঠাগার, গণমিলনায়তন, স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়, পূর্ব লাকসামে স্থাপিত আলতাফ অটোমেটিক রাইস মিল, নশরতপুরে ভাইয়া গ্রুপের অটোমেটিক রাইস মিল, থ্রি এ ও গোল্ড কিং সিগারেট ফ্যাক্টরি, মামুন বিড়ি, দিদার বিড়ি, রূপালী বিড়ি ফ্যাক্টরি, আজম খানের দেয়া লাকসাম স্টেডিয়াম, হিন্দু সমপ্রদায়ের পূজামণ্ডপের স্থান মুক্তকেশী কালীবাড়ী, ফতেপুরে আবুল খায়ের গ্রুপ নির্মিত আবুল বিড়ি ফ্যাক্টরি, রেলি ও সুপার কিং ফ্যাক্টরি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ ভাইয়া গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সোহাগ মত্স্য বীজ উত্পাদন ও প্রজনন খামার, গাজীমুড়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রমুখ।

ঐতিহ্যবাহী ডাকাতিয়া নদীঃ
লাকসামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে দেশের অন্যতম ডাকাতিয়া নদী। ডাকাতিয়া নদী ভারতের রঘুনন্দন পাহাড় থেকে উত্পত্তি হয়ে নিজ গতিতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উত্তর দিয়ে লাকসামে প্রবেশ করেছে। ডাকাতিয়া নদীর দৈর্ঘ্য ৭৫ কিমি, প্রস্থ ২৫০ ফুট। বর্তমান গড় গভীরতা ৪০ ফুট।

নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর নবাববাড়িঃ
এশিয়ার মহীয়সী নারী বাংলাদেশের গৌরব নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী। লাকসামের ডাকাতিয়া নদীর উত্তর তীরে খান বাহাদুর বাড়িতে নবাব ফয়জুন্নেছা জন্মগ্রহণ করেন। ফয়জুন্নেছার জন্ম ১৮৩৪ সালে। রূপজালাল নামক গ্রন্থ বাংলাভাষায় লিখিত মহিলাদের মধ্যে সর্বাগ্রে প্রকাশিত বই। মহিলা লেখিকাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন নবাব ফয়জুন্নেছা। সাহিত্যের ইতিহাসে এটি এক বিরল দৃষ্টান্ত। নবাব ফয়জুন্নেছার রূপজালাল কাব্যগ্রন্থ তার স্বামী গাজী চৌধুরীর নামে উত্সর্গ করেছেন। ফয়জুন্নেছার পিতার নাম সৈয়দ আহম্মদ আলী চৌধুরী। তার মাতার নাম আরফান্নেছা চৌধুরানী। ভাইবোনদের মধ্যে ফয়জুন্নেছাই জমিদারি পরিচালনার প্রশিক্ষণ পান। হোমনাবাদ পরগনার বিরাট জমিদারি তিনি পরিচালনা করেন। ফয়জুন্নেছার গৃহশিক্ষক ছিলেন তাজ উদ্দিন। ১৯০৩ সালের অক্টোবর মাসে ১৩১০ বাংলা ২০ আশ্বিন নবাব ফয়জুন্নেছা ইন্তেকাল করেন। তার জমিদারির ১১টি কাচারির মধ্যে প্রত্যেকটির পাশে বিশুদ্ধ পানির জন্য পুকুর কাটান এবং মক্তব ও প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তিনি ইসলামী কায়দায় বোরকা পরে পালকিতে করে প্রত্যেকের সুখ-দুঃখ দেখতে গ্রামে গ্রামে যান। বালিকা বিদ্যালয় কালের সাক্ষ্যবহন করেছে।
নবাব বাড়ির বালিকা বিদ্যালয়টি কালক্রমে লাকসাম পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে রূপ নিয়েছে। লাকসামের নবাব ফয়জুন্নেছা একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে বাংলাদেশ তথা সমগ্র এশিয়া অতঃপর বিশ্বে তার নাম ছড়িয়ে রয়েছে। তার নাম গুণকীর্তন করে দেশের মানুষ ধন্য হচ্ছে।
সাহিত্যচর্চায় নবাব ফয়জুন্নেছার প্রতিভা দুনিয়ার মানুষ স্বীকার করেছে। এক তথ্যে জানা যায়, গাজি চৌধুরী প্রথমে বিয়ে করেন বেগম নজমুন্নেছাকে। সতীন যাতনায় অতিষ্ঠ হয়ে ফয়জুন্নেছা বাকশার গ্রামে অল্প কিছুদিন থেকে পরে লাকসামের পশ্চিমগাঁওতে স্থায়ী বসবাস করেন। শেষ বয়সে গাজী চৌধুরী দারুণ ব্যথা-বেদনায় কুমিল্লা শহরের মীর বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলাদেশের গৌরব নবাব ফয়জুন্নেছার স্বামীর বাড়ি বরুড়া উপজেলার বাকশার গ্রামে। বর্তমানে ধ্বংসের প্রদীপ হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সৈয়দ এনায়েত উল হক চৌধুরী। নবাব ফয়জুন্নেছার দুই মেয়ের মধ্যে বদরুন্নেছা চৌধুরানীকে পশ্চিমগাঁওতে এবং সৈয়দা আসাদুন্নেছা চৌধুরানীকে বিয়ে দেন হবিগঞ্জ জেলার পইল জমিদার সৈয়দ ওয়াসেকুল হকের সঙ্গে। কুমিল্লা শহরে ১৮৭৩ সালে নবাব ফয়জুন্নেছা দুটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। শহরের পূর্ব প্রান্তে নাজুয়া দীঘির পাড়ে প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং দ্বিতীয়টি বাদুরতলাতে উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। নবাব ফয়জুন্নেছার বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের দুই বছর পর স্যার সৈয়দ আহম্মদ আলী গড়ে ১৮৭৫ সালে প্রথম মুসলিম কলেজ অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজ পরবর্তী সময়ে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় খ্যাত স্থাপন করেন।
নবাব ফয়জুন্নেছা ছিলেন নারী শিক্ষার অগ্রনায়িকা। অন্ধকার যুগের আলোর দিশারী মহীয়সী নারীর স্মৃতি এখন বহন করছে। নবাব ফয়জুন্নেছা মক্কা শরীফে মুসাফির খানা ও মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন এবং মাওলাতিয়া মাদ্রাসা স্থাপনে তিনি সাহায্য করেন। ১৮৯৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্নে নবাব ফয়েজুন্নেছা প্রচুর অর্থ সাহায্য করেন। নবাব ফয়েজুন্নেছা রচিত কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে। মিশ্র ভাষারীতির লেখিকা গদ্য ও পদ্যে তার গ্রন্থ রচনা করেন। রূপজালালের কাহিনী আদিভৌতি কথায় পরিপূর্ণ। লিখিকা ভাষা রীতিতে তত্সম শব্দের ওপর বিশেষভাবে দুর্বলতা প্রকাশ করেন। তার রচনায় মধ্যযুগীয় ও পুঁথি সাহিত্যের প্রভাব ফুটে ওঠে শীমাইল রাজপুত্র জালাল ও রাক্ষস পালিতা সাধুপুত্রী রূপভানুকে কেন্দ্র করে। লাকসামে নবাব ফয়জুন্নেছার বাড়ির পাশে ১০ গম্বুজ মসজিদের পাশে দক্ষিণ পারিবারিক কবরে স্থান নবাব ফয়জুন্নেছা আত্মার নশ্বরদেহ চিরদিনের জন্য সমাহিত রয়েছে। নবাব ফয়েজুন্নেছা আর নেই, আছে তার স্মৃতি, যে স্মৃতি দেখতে এখনও বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন প্রচুর দর্শনাথী। কিন্তু নবাববাড়ির নবাব ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে আজ ধ্বংস ও বিলীন হওয়ার পথে। দীর্ঘ বছর থেকে এর সংস্কার নেই। নবাব ফয়জুন্নেছার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ওয়াকেফ দান করা। বর্তমানে প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। নবাব বাড়ি ও সম্পত্তি দেখাশোনার জন্য বংশানুসারে খাদেমের দায়িত্বে রয়েছে সৈয়দ মাসুদুল হক চৌধুরী এবং সৈয়দ কামরুল হক চৌধুরী। বাংলাদেশের গৌরব নারী মহীয়সী নবাব ফয়জুন্নেছার নবাববাড়ি সংস্কার করে সরকারিভাবে হেফাজতে নেয়া প্রয়োজন।

পীর আউলিয়ার মাজারঃ
লাকসামে মহাপুরুষ আধ্যাত্মিক পীর আউলিয়ার আগমন ও স্মৃতি মাজার শরিফ মহাকালের সাক্ষ্য বহন করছে। স্মৃতি মাজার শরীফ আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ পৌরশহর গাজীমুড়া হজরত শাহ সৈয়দ করিম সাহেবের মাজার, পশ্চিমগাঁও হজরত সৈয়দ গাজীউল হক সাহেবের মাজার, কালীয়াপুর হজরত কাজীমুদ্দিন কালীয়াপুরী, দক্ষিণ চাঁদপুরে হজরত পীর আলী আশ্রাফ চাঁদপুরী, রাজাপুরে হজরত পীর শাহ ওয়ালী উল্যাহ রাজপুরী, শাকরা হজরত পীর রজ্জব আলী শাকরাপুরী, পুলইয়া হজরত আবুল বারাকাত, (নোয়াখালী হুজুর), ভোগই হজরত শাহ সুফি সৈয়দ আমির উল্যাহ, শরীফপুর হজরত শাহ শরীফ (রা.), পশ্চিমগাঁও মরহুম অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ, পোমগাঁও হাবীবউল্লা নূরী, পশ্চিমগাঁও মুড়ি দরগা নামক আধ্যাত্মিক মহাপুরুষের মাজার মাজার রয়েছে। লাকসামে স্মৃতি থাকা পীর আউলিয়ারা আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে সমগ্র দেশে তথা নিখিল ভারতেও বহু ভক্ত তৈরি করে প্রসিদ্ধ লাভ এবং ধর্ম প্রচারসহ লাকসাম অঞ্চলকে আলোকিত করেন। প্রত্যেক বছর এসব মাজারে বিরাট ওরস অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ জিকিরসহ নামাজ আদায় করতে আসে।

যোগাযোগঃ
লাকসাম দেশের বৃহত্ উপজেলা। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত রয়েছে। লাকসাম আসতে হলে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে সুপার ডিলাক্স বিরতিহীন তিশা বাসে বাইপাস লাকসাম আসতে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার পথ এবং সায়েদাবাদ থেকে আল বারাকা এক্সপ্রেস, ঢাকা এক্সপ্রেস, ইকোনো এক্সপ্রেস, শাহী এক্সপ্রেস, জননী এক্সপ্রেস, যাত্রীসেবা এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন বাস রয়েছে। রেল পথে ঢাকার কমলাপুর চট্টগ্রাম, সিলেট, চাঁদপুর, নোয়াখালী, থেকে আসা ট্রেনে আন্তনগর লাকসাম রেলওয়ে জংশন আসা সহজ। কুমিল্লা সদর থেকে, নোয়াখালী, মাইজদী, লক্ষ্মীপুর জেলা সদর থেকে ডিলাক্স বাস লাকসাম আসা-যাওয়া করে থাকে এবং সময় নেয় খুবই কম।

থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাঃ
লাকসামে দর্শনীয় স্পটগুলোর বেশির ভাগই পৌর এলাকায়। তাই থাকা ও খাওয়ার জন্য চিন্তা করতে হবে না। লাকসাম বাজার নিরালা হোটেল, আজমীর হোটেল, হোটেল নিউ আজমীর, হোটেল ক্যাফে নুর, হোটেল সোনার বাংলা, হোটেল হানিফ, হোটেল নুরজাহান, আরাফাত হোটেল, লাকসাম হোটেল, হোটেল নূরে-মদিনা, শেরাটন হোটেল, ভাই ভাই হোটেল, সোহাগ হোটেল, খাজা হোটেল এবং জংশন এলাকায় হোটেল গাউছিয়া, হোটেল ক্যাফে, হোটেল আজমীরসহ বেশ কয়েকটি উন্নতমানের খাবার হোটেল রয়েছে। এ ছাড়া থাকার জন্য জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, আবাসিক হোটেল লাকসাম প্লাজা, বন্ধু আবাসিক হোটেল, হোটেল ড্রিম আবাসিক, হোটেল নূর আবাসিক, জনতা আবাসিক হোটেল, সুমন রেস্ট হাউসসহ বেশ কয়েকটি থাকার হোটেল রয়েছে। থাকার ইচ্ছা না থাকলে রাতেই ফিরে যেতে পারেন। যাতায়াতের জন্য সারারাত বাস ও ট্রেন আছে।

11 May 2017

কুমিল্লা ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি বা কমনওয়েলথ সমাধি ক্ষেত্র

কুমিল্লা ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি বা কমনওয়েলথ সমাধি ক্ষেত্র


প্রাচীন আর সমৃদ্ধশালী জেলাগুলোর নাম বললে কুমিল্লার নামটা একদম উপরের দিকেই আসে , আর এ কারণে কুমিল্লা জেলাকে নিয়ে দেশের মানুষের একটা আলাদা আগ্রহ আছে । কুমিল্লা জেলাতে ঘুরে দেখার কি আছে এ নিয়ে হরহামেশাই প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয় ,কিভাবে আসবো কুমিল্লা ? ঘুরে দেখার জায়গাগুলোতে কিভাবে যাবো ? খাবো কোথায় ?

প্রথমেই আসি কুমিল্লাতে দেখার মতো কি আছে যার টানে আপনি কুমিল্লা আসবেন ? অনেক জায়গা আছে যা দেখার জন্য আপনি রসমলাই এর জন্য বিখ্যাত কুমিল্লা জেলায় ঘুরে আসতে পারেন। তাহলে শুরু করা যাক ? আজকে প্রথম পর্বে আপনাদের সাথে আলোচনা করব কুমিল্লা ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি বা কমনওয়েলথ সমাধি ক্ষেত্র নিয়ে।

স্থানীয় লোকদের কাছে এটা ইংরেজদের কবরস্থান হিসেবে পরিচিত। এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৭৩৭ সৈন্য।
এখানে সমাধির সংখ্যা ছিল ৭৩৮টি। ১৯৬২ সালে এ সমাধিস্থল থেকে একজন সৈনিকের আত্মীয়স্বজন তার দেহাবশেষ যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। বর্তমানে এ সমাধি সংখ্যা ৭৩৭টি। এরমধ্যে ১৪জন সৈনিকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এখানে যাদের সমাহিত করা হয়েছে তাদের লাশ আনা হয়েছে ঢাকা, ফরিদপুর, সৈয়দপুর ও সিরাজগঞ্জ থেকে। আর্মি গ্যারিসন ইঞ্জিনিয়ারগণ এ সমাধি ক্ষেত্রটি তৈরী করেন।
এ সমাধি ক্ষেত্রে রয়েছে- বৃটেনের ৩৫০ জন, কানাডার ১২ জন, অস্ট্রেলিয়ার ১২ জন, নিউজিল্যান্ডের ৪ জন, দক্ষিণ আফ্রিকার ১ জন, ভারতের ১৭২ জন, পূর্ব আাফ্রিকার ৫৬ জন, পশ্চিম আফ্রিকার ৮৬ জন, বার্মার ১ জন, দক্ষিণ রোডেশিয়ার ৩ জন, বেলজিয়ামের ১ জন, পোলান্ডের ১ জন এবং জাপানের ২৪ জনের কবর। 
কুমিল্লা কমনওয়েলথ সমাধির পাহাড়ের প্রথম ধাপে রয়েছে ইউরোপিয়ানদের কবর। উপরের ধাপে রয়েছে এ উপমহাদেশের যোদ্ধাদের কবর। সমাধিগুলো সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে। ১৪টি বাদে প্রত্যেক সমাধিতে লেখা আছে নিহত সৈনিকের নাম, বয়স, পদবী, নিহত হবার তারিখ ও ঠিকানা।
সমাধিক্ষেত্রের আগে সেখানে ছিল বৌদ্ধ বিহার মন্দির। সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে শ্বেত পাথরের একটি ক্রশ। বর্গাকার এ সমাধি ক্ষেত্রের প্রত্যেকটির দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াইশ ফুট। সমাধি ক্ষেত্রের মোট আয়তন সাড়ে ৪ একর। সমাধি ক্ষেত্রের চারদিক বাউন্ডারি দেওয়া।



যেভাবে যেতে হবেঃ কুমিল্লা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের টিপরা বাজার। টিপরা বাজার ও ময়নামতি সাহেবের বাজারের মাঝামাঝি কুমিল্লা-সিলেট সড়কের বাম পাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাড়ে চার একর পাহাড়ি ভূমি জুড়ে বাংলাদেশে অবস্থিত দ্বিতীয় এ কমনওয়েলথ সমাধি ক্ষেত্র। কুমিল্লা শহর হতে বাস অথবা সিএনজি যোগে যাওয়া যায়।
ঈদের দুদিন ছাড়া বছরের প্রতিদিনই সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা এবং দুপুর ১টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ যুদ্ধ সমাধিস্থল সর্ব সাধারণের জন্য উম্মুক্ত থাকে। এ সমাধি ক্ষেত্র দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের শত শত দর্শনার্থী ভিড় করে। প্রতিবছরের ৫ নভেম্বর কমনওয়েলথভুক্ত দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা এই সিমেট্রিতে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ দেশের পক্ষে স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন।
কোথায় থাকবেনঃ কুমিল্লা শহরে অনেকগুলো ভাল মানের হোটেল আছে। সেখানে থাকতে পারেন। বার্ড খুব কাছে। বার্ডে যোগাযোগ করলে সেখানেও থাকতে পারেন।

10 May 2017

কুমিল্লার ঐতিহাসিক স্থান রূপবান মুড়া ও ইটাখোলা মুড়া

কুমিল্লার ঐতিহাসিক স্থান রূপবান মুড়া ও ইটাখোলা মুড়া


প্রাচীন আর সমৃদ্ধশালী জেলাগুলোর নাম বললে কুমিল্লার নামটা একদম উপরের দিকেই আসে , আর এ কারণে কুমিল্লা জেলাকে নিয়ে দেশের মানুষের একটা আলাদা আগ্রহ আছে । কুমিল্লা জেলাতে ঘুরে দেখার কি আছে এ নিয়ে হরহামেশাই প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয় ,কিভাবে আসবো কুমিল্লা ? ঘুরে দেখার জায়গাগুলোতে কিভাবে যাবো ? খাবো কোথায় ?
প্রথমেই আসি কুমিল্লাতে দেখার মতো কি আছে যার টানে আপনি কুমিল্লা আসবেন ? অনেক জায়গা আছে যা দেখার জন্য আপনি রসমলাই এর জন্য বিখ্যাত কুমিল্লা জেলায় ঘুরে আসতে পারেন। তাহলে শুরু করা যাক ? আজকে ৩য় পর্বে আপনাদের সাথে আলোচনা করব রূপবান মুড়া ও ইটাখোলা মুড়া নিয়ে।


কুমিল্লার প্রাচীন উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থানসমূহের মধ্যে রূপবান মুড়া অন্যতম। এ স্থানটি দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা ভিড় করে এখানে। রূপবান মুড়াতে সর্বপ্রথম খননকার্য শুরু হয় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়। পরবর্তীতে ১৯৮৪, '৮৫ এবং '৮৬ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এখানে আরও তিন দফা খনন কাজ করে। এখানকার মন্দিরটিকে বিহারের বাইরে আলাদা স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে মন্দিরটি ঐতিহ্যগতভাবে চতুর্মুখী ও বর্গাকৃতি ভূমি নকশায় নির্মিত এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে একে ক্রুশাকৃতির রূপ দেয়া হয়। রূপবান মুড়ায় প্রত্নতাত্তি্বক খননের ফলে একটি বিহার, একটি মন্দির, একটি ৰুদ্র স্তুপ ও একটি উচ্চ মঞ্চের স্থাপত্য নিদর্শন উন্মোচিত হয়। এ নিদর্শনগুলোর মধ্যে তিন আমলের অস্তিত্ব রয়েছে। এর মূল নির্মাণসামগ্রী ছিল ইট ও কাদা। রূপবান মুড়ার প্রায় মাঝামাঝি অংশে একটি পূর্বমুখী প্রাচীরঘেরা চত্বরের পশ্চিম অংশজুড়ে মন্দিরটির অবস্থান। এর পিছনের অংশটি মূর্তি কোঠা এবং সামনের অংশটি ম-প। ম-পে বাতি জ্বালিয়ে রাখার জন্য খোপ ছিল। প্রতিটি মূর্তি কোঠায় একটি করে দেবীও ছিল। পূর্ব দিকের মূর্তি কোঠাটি পাশাপাশি তিনটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। একটি প্রকোষ্ঠে একটি বেলে পাথরের তৈরি দণ্ডায়মান বৌদ্ধমূর্তি ছিল। মন্দিরটির চারদিক প্রথমে প্রদক্ষিন পথ ও পরে প্রাচীর দিয়েও ঘেরা ছিল। রূপবান মুড়ায় পাওয়া পুরা বস্তুর মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলক, অলঙ্কৃত ইট, খাদ মিশ্রিত সোনায় তৈরি পাঁচটি গুপ্ত অনুকৃত মুদ্রা, একটি ব্রোঞ্জের হাতল, ত্রিশূল ও লিপিসহ তিনটি রৌপ্য মুদ্রা, একটি ধাতব শিতাতপত্র, একটি ধাতব অমিতাভ, লোহার পেরেক, ধাতব মুদ্রার টুকরা ইত্যাদি। এই ইমারত থেকে প্রায় ৫০ গজ দৰিণ-পূর্ব দিকে পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা প্রায় একটি ইমারতের ধ্বংসাবশেষ আছে। এই ইমারতের চারদিকে অসংখ্য ইষ্টক নির্মিত স্তম্ভ ছিল। এগুলোর নিচের অংশ এখনও টিকে আছে। রূপবান মুড়ায় এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ও তথ্য প্রমাণের বিচারে প্রথম যুগের মন্দির ও বিহার খ্রিস্টীয় ৮ম-শতাব্দীর পূর্বে নির্মিত হয় বলে ধারণা করা হয়। 





ইটাখোলা মুড়াটি প্রাচীনকাল হতে ইটপোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হতো বলে এই বিহারের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। এই বিহারে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে বড় বড় কিছু বৌদ্ধস্তূপ ও বৌদ্ধ মঠের সন্ধান পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয়, এই বিহারটি ৫টি সাংস্কৃতিক যুগ অতিক্রম করেছে। পূর্ববর্তী তিনটি সাংস্কৃতিক কাল পর্যায়ের নিদর্শনগুলো পরবর্তী কালের ধংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে।



যেভাবে যেতে হবেঃ কুমিল্লা-কালিরবাজার সড়কের দক্ষিন পার্শ্বের কোটবাড়ী এলাকায় ভূমি থেকে প্রায় ৪০ ফুট উঁচুতে এটি অবস্থিত। কুমিল্লা শহর থেকে বাস, ট্যাক্সি অটোরিকশা, মাইক্রো কিংবা রিকশা দিয়ে যাওয়া যায় এই রূপবান মুড়াতে। 

ইটাখোলা মুড়া অবস্থিত রূপবান মুড়ার উল্টোদিকে। 


কোথায় থাকবেনঃ কুমিল্লা শহরে অনেকগুলো ভাল মানের হোটেল আছে। সেখানে থাকতে পারেন। বার্ড খুব কাছে। বার্ডে যোগাযোগ করলে সেখানেও থাকতে পারেন।

02 May 2017

কুমিল্লা দেবীদ্বারের বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ

কুমিল্লা দেবীদ্বারের বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ

গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ

দেবীদ্বারের ঐতিহ্য 'গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ' এটি নির্মাণশৈলির দিক থেকে দেশের বিখ্যাত মসজিদগুলোর অন্যতম মসজিদ হিসাবে দাবী করা হচ্ছে 'গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ'টি কুমিল্লা জেলা সদর থেকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে উত্তর-পশ্চিম কোনে দেবীদ্বার পৌর এলাকায় এবং দেবীদ্বার সদর থেকে দু'কিলোমিটার পশ্চিম সামান্য দক্ষিণে গুনাইঘর গ্রামে অবস্থিত
নতুন এবং পুরাতন নির্মাণ পদ্ধতির সংমিশ্রণে অসংখ্য ক্যালিওগ্রাফিতে আঁকা ব্যাতিক্রমধর্মী নির্মাণ শৈলির সাত গম্বুজ মসজিদটি দেশব্যপী দৃষ্টি আকর্ষণ করছে শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত মসজিদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ক্যালিওগ্রাফি নির্মাণ কৌশল মসজিদের চার কোনায় চারটি মিনার রয়েছে চার মিনারের কোন মসজিদ বাংলাদেশে এটাই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে মিনারগুলোর উচ্চতা ৮০ফুট এতে গম্বুজ রয়েছে ৭টি মসজিদটি ৪৮ফুট দৈর্ঘ্য  ৩৬ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট  মসজিদের মূল অংশে শতাধিক মুসুলস্নী নামাজ পড়তে পারেন  ছাড়া মসজিদটির বারান্দায় অর্থাৎ সামনের টাইলস করা খালী জায়গায় মূল অংশের দ্বিগুণ মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন মসজিদের উপরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রয়েছে এতে বিভিন্ন রং' বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার করা হয়েছে মসজিদে লিখা 'আল্লাহু' শব্দটি রাতের অন্ধকারে তারকার মতো জ্বল জ্বল করে জ্বলতে থাকে অনেক দূর থেকে আলো দেখা যায় মসজিদটি' পশ্চিম পার্শ্বে দৃষ্টি নন্দিত একটি ফল ফুলের বাগান আছে এছাড়াও রয়েছে বিশাল আকৃতির জলধার এর পাড়সহ চার দিক শ্বেত পাথরে মোড়ানো
ক্যালিওগ্রাফির দিকে নজর দিলে অবাক হতে হয় এখানে বাংলা আরবিতে ক্যালিওগ্রাফি করা হয়েছে কারুকাজ  নকসা শিল্পী হিসাবে কাজ করেছেন শিল্পী আরিফুর রহমান মসজিদটির স্থপতি ছিলেন শাহিন মালিক আরবি অক্ষরে সুন্দর করে লিখা হয়েছে 'সুরা আর রহমান', 'আয়তুল কুরছি'  'চার কুল' মসজিদের ভেতরের মূল অংশে ৫টি গম্বুজ আছে একটিতে লিখা আয়তুল কুরসী অন্য চারটি গম্বুজের ভেতরে লিখা ৪টি কুল মসজিদটির বাহিরের আবরনে বহু চাঁদ তারা আঁকা রয়েছে মসজিদটিতে ইট, সিমেন্ট, বালির পাশাপাশি চিনামাটি টাইলস ব্যবহৃত হয়েছে কারুকার্য করা হয়েছে মোঘল তুর্কী পারস্যের সংমিশ্রণে এখানে ৩শত ৫০মন চিনামাটির টুকরো দু'শতটি গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে মসজিদটিতে ৬টি এসি একটি ঝারবাতি আছে একটি আধুনিক মসজিদে যা কিছু থাকার কথা সবই আছে
মসজিদটি তৈরী করেছেন দেবীদ্বারের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মূন্সী এটি তৈরী করতে কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে অর্থদাতাদের নাম পাথরের ফলকে লিখা আছে ২০০২সালের ১০ জুলাই মসজিদটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মূন্সী এবং ২৮ জন শ্রমিক টানা কাজ করে প্রায় আড়াই বছরে শেষ করেন ২০০৫সালের ১৪ জানুয়ারী মসজিটি প্রায় শতাধিক মুসুল্লী নিয়ে নামাজ আদায়ের মধ্যদিয়ে উদ্বোধন করেন তৎকালীন স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী . খন্দকার মোশাররফ হোসেন
মসজিদটি' প্রতিষ্ঠাতা কুমিল্লা- (দেবীদ্বার) নির্বাচনী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মূন্সী বলেন, বাংলাদেশের মানচিত্রে দেবীদ্বারের নামটি বিশেষ ভাবে স্থান দেয়ার জন্য মসজিদটি তিনি নির্মান করেন
মসজিদটির স্থপতি শাহিন মালিক।
ক্যালিওগ্রাফি, কারুকাজ নকশার শিল্পী বশির মেসবাহ।