Showing posts with label শিক্ষাঙ্গন. Show all posts
Showing posts with label শিক্ষাঙ্গন. Show all posts

23 July 2017

কুমিল্লা বোর্ডে ফল বিপর্যয়ের কারণ

কুমিল্লা বোর্ডে ফল বিপর্যয়ের কারণ


২০১৭ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ভয়াবহ ফল বিপর্যয়ে পড়েছে কুমিল্লা বোর্ড। গেল বছরে যেখানে পাসের হার ছিল ৮৪ শতাংশ। হঠাৎ করেই এ বছর প্রায় অর্ধেকে নেমে ৪৯.৫২ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৬৭৮ জন।
দেশের সব শিক্ষা বোডের্র মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডের অবস্থান একেবারেই তলানিতে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। শিক্ষকরাও হতবাক হয়ে গেছেন।
সূত্রমতে, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে পাসের হার কোনোভাবেই ৯০ থেখে ৮৪ শতাংশের নিচে আসেনি। ২০১৩ সালে এ হার ছিল ৯০.৪১ শতাংশ। পরের বছর ২০১৪ সালে পাস করে ৮৯.৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী। এরপর ২০১৫ সালে এসে পাসের হার দেখা গেছে ৮৪.২২ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থীরা পাস করে। 
গেল তিন বছরে পাসের হার নিম্নগামী দেখা গেলেও তা যে অর্ধেকে নেমে আসবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। রোববার (২৩ জুলাই) ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু শিক্ষক বলছেন, এইচএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় যার ফেল করে তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আর এটা হচ্ছে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের তদবিরে। এ কারণে পাসের হারে এমন বিপর্যয় দেখা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, যারা নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করছে তাদের প্রভাবশালী আত্মীয় স্বজন প্রভাব খাটিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অনুমোদন দিতে শিক্ষকদের বাধ্য করছেন। যার ফলে এমন পরিণতি দেখা গেছে। 
তবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমদ বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি মনে করছেন গণিত ও ইংরেজিতে ফলাফল খারাপ করছে পরীক্ষার্থীরা। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলাফলে। তবে তার দাবি, শহর কেন্দ্রিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো ফলাফল হয়েছে।

29 May 2017

শুভ জন্মদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শুভ জন্মদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়


আজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) দিবস। কুমিল্লা শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কোটবাড়ী শালবন বিহার এবং ময়নামতি জাদুঘর সংলগ্ন কুমিল্লার বিখ্যাত লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে ২০০৬ সালের ২৮ মে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের ২৬তম এ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি। ঠিক এক বছর পরেই (২৮ মে ২০০৭) মাত্র সাতটি বিভাগ নিয়ে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম। এ বছর ২৮ মে রমজানের মধ্যে পড়ায় দিবসটি উদযাপনে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। মধ্য-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ এ বিদ্যাপীঠে বর্তমানে ১৯টি বিভাগে প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিভাগের পাঁচটি ব্যাচ বেরিয়েছে। তবে ১১ বছর পরও নানা সমস্যা আর অপূর্ণতার বেড়াজালে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। পর্যাপ্ত ভূমি না থাকা, আবাসিক ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা, চিকিৎসাসেবার দুর্বলতা, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়নের অভাব, অপ্রতুল গ্রন্থাগার, সেশন জট, বিভিন্ন সময় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠাসহ নানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বার বারই ব্যাহত হচ্ছে।


এদিকে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ১১তম বছরটি শেষ করল।
গত বছরের ১ আগস্ট প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রলীগ নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ২৬ দিন পরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও এখন পর্যন্ত দোষীদের কোনো প্রকার শাস্তির আওতায় আনেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মনে করেন, আপরাধের জন্য শাস্তি না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হচ্ছে। গেল ১৭ জানুয়ারি মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বাসায় হামলার ঘটনার পরপরই শিক্ষক সমিতির লাগাতার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিতে বেশ কয়েক দিন অচল থাকে বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি এক শিক্ষার্থীর হাতে লোক প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষক লাঞ্ছিত হলে প্রক্টরিয়াল বডির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই শিক্ষার্থীকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হলেও তদন্ত কার্যক্রম ছাড়াই ২০ মার্চ উপাচার্য ওই ছাত্রের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন।


এর আগে ১৬ ডিসেম্বর ইংরেজি বিভাগের ইভিনিং মাস্টার্স (ইএমএ) প্রোগ্রামের প্রশ্ন মডারেশনকে কেন্দ্র করে ইংরেজি বিভাগের সভাপতি এম এম শরীফুল করীম একই বিভাগের শিক্ষক অবুল হায়াতকে লাঞ্ছিত করেন ও মারতে উদ্ধত হন। ১৮ ডিসেম্বর লাঞ্ছনার উপযুক্ত বিচারের জন্য উপাচার্যের কাছে আবেদন করেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক। তবে সে ঘটনারও কোনো বিচার হয়নি। চলতি বছরের ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের হাতে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ লাঞ্ছিত হয়েছেন-এমন অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন শিক্ষক সমিতির দুই নেতা। সেই ঘটনারও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। সম্প্রতি ১৩ মে ছাত্রলীগের সম্মেলন শেষে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে কয়েকজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হন। বিষয়টির বিচারের জন্য সাংবাদিক সমিতি উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। সাংবাদিক সমিতির আবেদনের বিষয়েও প্রশাসন ছিল নিশ্চুপ।


এ ছাড়াও অবৈধ নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ এনে চলতি বছরের ৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত করে শিক্ষক সমিতি। পরে ২০ মার্চ ছাত্রলীগ পেশিশক্তি প্রয়োগ করে উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষক সমিতির দেওয়া তালা ভাঙলে উপাচার্য তখন বীরের বেশে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ছাত্রলীগের সহায়তায় উপাচার্য কার্যলয়ে প্রবেশের ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে তখন সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সর্বশেষ অপরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি ছাত্র হলের লাগোয়া একটি ছাত্রী হল নির্মাণ করছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রী হল নির্মাণ বন্ধ করেনি। এ ছাড়াও ভর্তি পরীক্ষার টাকা বণ্টনে অনিয়ম, নিয়োগ-বিজ্ঞপ্তি নিয়ে নানা অসংগতিসহ বেশ কিছু ইস্যুতে আলোচনায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির ১১তম বছরটি।
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফ বলেন, ‘সীমাবদ্ধতা থাকবেই। আমরা তো পিছিয়ে নেই। ছাত্র-শিক্ষক সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করে আমারা আরও এগিয়ে যাব।’
সূত্রঃ thereport24

05 May 2017

কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ

কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ

কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ

‘প্রধান পরীক্ষকের কঠোর নির্দেশে দুই বার শিক্ষার্থীদের খাতার নম্বর কমাতে গিয়ে হাত কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল আমি একজন অভিভাবক। চোখে ভাসছিল দশম শ্রেণিতে পড়া ছেলের মুখটি। আমি কি করছি, কিন্ত চাকরি রক্ষায় কিছুই করার ছিল না।’
এভাবে এসএসসি পরীক্ষায় একাধিকবার শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন ও নম্বর কমানোর ক্ষোভ জানান নগরীর একজন গণিত পরীক্ষক।
এ বছর দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা বোর্ডের স্থান একেবারেই তলানিতে। ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কঠিন সৃজনশীল প্রশ্নপত্র ও অদক্ষ শিক্ষক এবং খাতা মূল্যায়নে মডেল উত্তর সরবরাহ করে পরীক্ষকদের কঠোর হুঁশিয়ারিসহ একাধিকবার উত্তরপত্রে নম্বর কমিয়ে আনার কারণে কুমিল্লা বোর্ডে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে বলে একাধিক পরীক্ষক দাবি করেছেন।

এস এস সি পরীক্ষার ফলাফল পেতে এখানে ক্লিক করুন

পরীক্ষকদের দাবি- বোর্ড কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই এ ফল বিপর্যয়। ইংরেজি ও গণিত পরীক্ষায় ফেল করেছে ৬০ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্র্থী এবং ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাই অস্বাভাবিক এ ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানসহ পুনরায় খাতা মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তিনটি বিভাগে এক লাখ ৮২ হাজার ৯৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৮ হাজার ১১ জন। তিনটি বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে চার হাজার ৪৫০ জন। এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ বছর এক হাজার ৬৯৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ১৪টি এবং দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করতে পারেনি। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও এ বছর পিছিয়ে কুমিল্লা বোর্ড।
২০১৬ সালে এ বোর্ডে মোট ছয় হাজার ৯৫৪ জন, ২০১৫ সালে ১০ হাজার ১৯৫ জন, ২০১৪ সালে মোট ১০ হাজার ৯৪৫ জন এবং ২০১৩ সালে মোট সাত হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এ বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্তির মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে চার হাজার ৩৩৮ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় মাত্র ৮২ জন এবং মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩০ জন।
ফল বিপর্যয়ের কারণ
ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ বছর ইংরেজিতে ফেল করেছে ২৫ হাজার ৬০৬ জন এবং গণিতে ফেল করেছে ৩৪ হাজার ৬৮৯ জন। ইংরেজি ও গণিতে বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ফেল করার কারণেই সকল বোর্ডের চেয়ে কুমিল্লা বোর্ডের ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে বলে দাবি করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর একটি বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক জানান, ‘এ বছরের খাতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টিম দেখবে’ এই ভয় দেখিয়ে বোর্ড থেকে সরবরাহ করা উত্তরপত্রের সঙ্গে পুরোপুরি মিলিয়ে খাতা মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রধান পরীক্ষকের নির্দেশে একাধিকবার খাতার নম্বর কমিয়ে ফেলতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রধান পরীক্ষদের একটি প্যানেল বোর্ডের অদক্ষ কতিপয় কর্মকর্তার সহায়তায় খাতা দেখার নির্দেশিকা ও কথিত মডেল উত্তরপত্র প্রণয়ন করে খাতা মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকদের নিকট সরবরাহ করে। পরবর্তীতে দেয়া হয় কঠোর নির্দেশনা, তাই অনিবার্য কারণে কুমিল্লা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য বিপর্যয় নেমে আসে, ফেলের তালিকায় স্থান পায় প্রায় ৪০ শতাংশ হতভাগ্য পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর।
এ বিষয়ে নগরীর খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার জানান, কঠিন সৃজনশীল প্রশ্নপত্র, সৃজনশীল বিষয়ে দক্ষ শিক্ষকের অভাব এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিষয়ে মেধা কম থাকায় ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।
নগরীর পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তফাজ্জল হোসেন জানান, বোর্ড কর্তৃপক্ষ প্রশ্নপত্র তৈরি কিংবা মাঠ পর্যায়ে সৃজনশীল বিষয়ে সমস্যা নিয়ে শিক্ষকদের মতামত নেয় না, তাই বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিজের পছন্দের স্কুলের শিক্ষকদের নিকট থেকে প্রশ্ন নিয়ে ইচ্ছেমতো প্রশ্ন প্রণয়ন করে, এছাড়াও বোর্ড থেকে এ বছর মডেল উত্তরপত্র পরীক্ষকদের নিকট সরবরাহ করায় মাঠ পর্যায়ে খাতা মূল্যায়নে জটিলতা সৃষ্টি হয়ে এ বছর ফল বিপর্যয় হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরীক্ষক বলেন, খাতা মূল্যায়নে আমাদের নিকট যে ধরনের উত্তরপত্র নির্দেশিকা সরবরাহ করা হয় তাতে সমস্যায় পড়তে হয়। বোর্ড থেকে সরবরাহ করা উত্তরপত্র অনুসারে খাতা দেখতে কঠোর হুঁশিয়ারিসহ কোনো কোনো পরীক্ষকের নিকট খাতা প্রধান পরীক্ষকরা খাতা ফেরত এনে নম্বর কমিয়ে ফেলতে বাধ্য করায় ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটে।
এ ফল বিপর্যয়কে অস্বাভাবিক মন্তব্য করে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লা শাখার সভাপতি আলী আকবর মাসুম জানান, এ নিয়ে তদন্ত করে দেখা উচিত। খাতা মূল্যায়নের নির্দেশিকা, প্রধান পরীক্ষক ও বোর্ড কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং মাঠ পর্যায়ে খাতা মূল্যায়নকারী সৃজনশীল বিষয়ে অদক্ষ পরীক্ষকের কারণে শিক্ষার্থীরা কেন খেসারত দেবে, এটা এখনই অনুসন্ধান করে পুনরায় ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ করে ফলাফল প্রকাশ করা উচিত। কারণ উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের আরও বড় খেসারত দিতে হবে। এছাড়াও বোর্ড কর্তৃপক্ষের এ উদাসীনতার কারণে ফেল করা প্রায় ৪০ শতাংশ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মো. আবদুস সালাম জানান, বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করলেও মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফলাফল খারাপ হয়েছে। শুধুমাত্র গণিত ও ইংরেজি বিষয়েই ৬০ হাজরের বেশি পরীক্ষার্থী ফেল করায় গড় ফলাফলে কুমিল্লা বোর্ড পিছিয়ে পড়েছে। পরীক্ষকদের নিকট উত্তরপত্র সরবরাহ করায় খাতা মূল্যায়নে কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলেও তিনি জানান।
সুত্রঃ জাগোনিউজ

04 May 2017

কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়! পাশের হার ৫৯.০৩

কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়! পাশের হার ৫৯.০৩

কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়! পাশের হার ৫৯.০৩

কুমিল্লা বোর্ডে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪৫০ জন।
গতবার কুমিল্লা বোর্ডে পাশের হার ছিল ৮৪ দশমিক ০০ শতাংশ। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৯৫৪ জন। সব সমীকরণে গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে শিক্ষার্থীরা।

এস এস সি পরীক্ষার ফলাফল পেতে এখানে ক্লিক করুন

এ বোর্ডে সবথেকে কম পাস করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগ থেকে মোট পাসের হার ৪১.১৪ শতাংশ। ৮৪.১৬ শতাংশ পাস করে ভালো ফলাফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস করেছে ৫৬. ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ জানান, কুমিল্লা বোর্ডে এবারের সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে গণিত বিষয়ে। গণিতে অকৃতকার্য হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬৯ জন ও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছে ২৫ হাজার ৬০৬ জন পরীক্ষার্থী।  মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মাঝে পাশ করেছে ১ লাখ ৮ হাজার ১১১ জন।
শতভাগ পাশ করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৪টি আর কোন শিক্ষার্থী পাশ কারেনি এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২টি।

08 April 2017

কুবি ক্যাম্পাসসংলগ্ন খাবার-পরিবেশ নোংরা, তবু দাম চড়া

কুবি ক্যাম্পাসসংলগ্ন খাবার-পরিবেশ নোংরা, তবু দাম চড়া


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিভিন্ন দোকানে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এসব খাবার চড়া দামে কিনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।  

একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, ক্যাম্পাসসংলগ্ন খাবারের দোকানগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সকালের নাশতাসহ দুপুর ও রাতের খাবার। নোংরা পরিবেশে সরবরাহ করা এসব খাবারের দাম প্রতিনিয়তই বাড়ছে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও পার্শ্ববর্তী মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করা খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। 
কুবি ক্যাম্পাসের ভেতরে খাবারের কোনো দোকান নেই। শিক্ষার্থীরা বাইরে থাকা খাবারের দোকানেই নাশতাসহ অন্য খাবার খেয়ে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে আল-মদিনা, বিএফজি, মামা হোটেল ও দুলু মিয়ার হোটেল ঘুরে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে রান্না করা হচ্ছে ভাতসহ অন্য খাবার। তিনটি হোটেলের পাশ দিয়েই গেছে ময়লার নর্দমা। খাবারের ওপর বসছে মশা-মাছি।  
দোকানি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যাম্পাসের খাবারের দোকানগুলোতে সিন্ডিকেট করে সকালের নাশতার সঙ্গে ভাজি ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা, গরুর মাংস দুই টুকরা (সিঙ্গেল) ৩৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির মাংস প্রতি পিস ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ৪০ টাকা। এ ছাড়া মাংসবিহীন তেহারি রাখা হচ্ছে ৩০ টাকা। 
কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, অনেক সময় বাসি তেহারি গরম করে বিক্রি করেন দোকানিরা। আর মাসের শেষের কয়েকদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ডাইনিং বন্ধ থাকলে দোকানগুলোতে খাবারের দাম দ্বিগুণ রাখা হয়।
ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থিত হোটেলে নিয়মিত খাবার খান বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মুনিম হাসান ভূঁইয়া অনিক। তিনি বলেন, ‘খাবার হোটেলগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা হয়। দামও রাখা হয় অনেক বেশি। কিন্তু বাধ্য হয়ে আমাদের সেখানে খাবার খেতে হয়।’  
স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দোকানগুলোতে খাবারের দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসের ভেতর নতুন করে খাবারের দোকান স্থাপনেরও দাবি জানান তিনি।   
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুমিল্লার সহকারী পরিচালক আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সরবরাহ বা দাম বেশি রাখার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমরা শিগগিরই ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করব। প্রয়োজন হলে জরিমানা ও দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
  
এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপালী মণ্ডল বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর খাবার ন্যায্যমূল্যে পাওয়া ভোক্তাদের অধিকার। আমরা এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এর ব্যত্যয় হলে অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

03 April 2017

লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় : আলোকিত এক বিদ্যাপীঠ

লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় : আলোকিত এক বিদ্যাপীঠ


লাকসাম পৌর শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রতিষ্ঠিত লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে তত্কালীন জমিদার অতুল কৃষ্ণ রায় চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেন। তখনই এটি অতুল হাই স্কুল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পৌর শহর পশ্চিমগাঁও নবাব ফয়জুন্নেসা ও বদরুন্নেছা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভের পর তত্কালীন জমিদার অতুল কৃষ্ণ রায় চৌধুরী এলাকার শিক্ষার প্রসারে লাকসাম অতুল হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভের কারণে এলাকায় শিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পরবর্তীকালে সরকারের পাইলট স্কিমের আওতায় ১৯৮২ সালে এক কালের অতুল হাই স্কুলের নাম পরিবর্তন হয়ে লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় নামকরণ হয়।

আগের তুলনায় লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে অনেক পরিবর্তন এসেছে। উন্নয়নের পাশাপাশি লেখাপড়ার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সর্বমোট শিক্ষক ২৭ জন, কর্মচারী ৬ জন ও অফিস সহকারী ২ জনসহ রয়েছে শক্তিশালী ম্যানেজিং কমিটি। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে ৩টি বিজ্ঞানাগার, ১টি পাঠাগার। কম্পিউটার ও কারিগরি শাখায় ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগ চালু  রয়েছে।

SSC, HSC and Other Exam Result Archive


বিদ্যালয়টিতে ড্রামসেট নিয়ে রয়েছে স্কাউট দল। স্কাউট কার্যক্রম বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে ভূমিকা রাখে।
বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও লেখাপড়ার মান উন্নয়নে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় ব্যতিক্রমধর্মী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়। বিদ্যালয়টিতে (১) লেখাপড়ার মান উন্নয়ন, নিয়ম-শৃঙ্খলা, অবাঠামোগত সুবিধা-সুসজ্জিত করা হয়েছে। (২) ছাত্রদের জন্য ব্যাচ, টাই নির্ধারিত পোশাক (৩) অভিভাবকরা তার সন্তান সম্পর্কে দৈনন্দিন লেখাপড়ার বিষয়ে জানার জন্য আকর্ষণীয় ও উন্নতমানের ডাইরির ব্যবস্থা। (৪) ছাত্রদের লেখাপড়ার তদারকি দেখতে শিক্ষকদের রাতে ছাত্রদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া। (৫) প্রতিদিন সকাল বেলায় নিয়মিত কোচিংয়ের ব্যবস্থাকরণ। (৬) এক বিষয়ের ওপর যেসব ছাত্র ফেল করছে এই রকম ৩শছাত্রকে বের করে দেয়া। (৭) বিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্র ভর্তি করানো। (৮) প্রতি বিষয়ে সাপ্তাহিক শ্রেণী পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। (৯) প্রতি বিষয়ে পাস নম্বর ৪০ এবং সব বিষয়ে উত্তীর্ণ না হলে উপরের শ্রেণীতে প্রমোশন পাবে না। (১০) বিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৩য় শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী অর্থাত্ প্রাথমিক শাখা চালু। (১১) বিদ্যালয়ে সপ্তাহে বিতর্ক ক্লাস ও অন্যান্য পাঠক্রমিক কার্যবলীসহ পূর্ণ ৮ ঘণ্টা ক্লাস চালু।
এছাড়া বার্ষিক সিলেবাস প্রদানসহ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজনসহ মেধাবী ও কৃতিত্বপূর্ণ স্থান অধিকারীদের বিশেষভাবে পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা।

লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ে অনার্স বোর্ড, অনার্স বোর্ডে মেধাবী ও কৃতিত্বের অধিকারীরা স্থান পায়। জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় প্রতি বছর ৮/১০ জন ছাত্র মেধার স্বাক্ষর রাখে। যা দক্ষিণ কুমিল্লার আর কোনো বিদ্যালয়ে নেই। আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় পাসের হার ভালো। এলাকার গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী ছাত্রদের লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে মোঃ শাহজাহান মোল্লা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতি ও লেখাপড়ার মান উন্নয়নের দিক থেকে লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এগিয়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সুনাম, সুখ্যাতি ও ঐতিহ্যের স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে যাবেএটি সবার কামনা।

02 April 2017

কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু


কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের (উচ্চ মাধ্যমিক) পরীক্ষা শুরু হয়েছে রবিবার সকাল ১০টায়। এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৮ হাজার ৮শ’ ৯৩ জন।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৬টি জেলায় (কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর) ২শ’ ৯৫টি সরকারী ও বেসরকারী কলেজের ১শ’ ৪৬টি কেন্দ্রে ৭৮ হাজার ৮শ’ ৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে ৬২ হাজার ৭’শ ৬৪ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী।  এছাড়া মোট পরীক্ষার্থীর ৩৯ হাজার ৪শ’ ১১ জন ছাত্র, ৩৯ হাজার ৪শ’ ৮২ জন ছাত্রী রয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগে ১১ হাজার ২’শ ৪ জন, মানবিক বিভাগে ২৭ হাজার ৯’শ ২২ জন এবং ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ৩৯ হাজার ৭’শ৬৭ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। কুমিল্লা ১৬টি উপজেলায় ৯৪টি কেন্দ্রে ২৫ হাজার ৩১৪ জন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।
প্রথম দিন সকালে এইচএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র, সহজ বাংলা প্রথমপত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথমপত্র, বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্রের (ডিআইবিএস) পরীক্ষা হচ্ছে। আলিমে কুরআন মাজিদের পরীক্ষা হচ্ছে। কারিগরিতে সকালে বাংলা-২ (১১২১) বিষয়ের পরীক্ষা হচ্ছে ও বিকেলে বাংলা-১ (১১১১) বিষয়ের পরীক্ষা হবে।

SSC, HSC and Other Exam Result Archive


পরীক্ষা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। বিকেলের পরীক্ষা হবে ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। তত্ত্বীয় (লিখিত) পরীক্ষা শেষ হবে ১৫ মে। ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৬ মে শুরু হয়ে শেষ হবে ২৫ মে।
এবার পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করতে হয়েছে। প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরে রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা হচ্ছে। উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোন বিরতি নেই।
এবারও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পলসিজনিত প্রতিবন্ধী ও যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ ধরণের পরীক্ষার্থী ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাচ্ছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিস্টিক ও ডাউন সিনড্রোম বা সেরিব্রাল পলসি আক্রান্ত) পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় ও পরীক্ষার কক্ষে অভিভাবক বা শিক্ষক বা সাহায্যকারী নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পেরেছে।
সুত্রঃ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড

09 August 2016

কুমিল্লা ভার্সিটির একটি পোস্টমর্টেম

কুমিল্লা ভার্সিটির একটি পোস্টমর্টেম


কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ পোস্ট করা তিনটি ছবির ছেলেই কু.বি’র বিবিএ’র ছাত্র। যথেষ্ট মেধাবী না হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে চান্স পাওয়া কষ্টসাধ্য। ছেলেগুলো যেমন ছিল মেধাবী তেমন ছিল শাররিক গঠনের দিকদিয়ে সুঠাম। এদের প্রথমজন (যিনি ওপারে চলে গেছেন) স্কুল শিক্ষকের সন্তান। দ্বিতীয় জন ক্যাডেট কলেজের সুইপারের সন্তান, তৃতীয় জন চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের পিয়নের সন্তান। প্রথম জন কবরে।
দ্বিতীয় আর তৃতীয় জন খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে জেলে। শেষের দুইজন নিয়েই কিছু বলাঃ
সুইপারের ছেলে সুইপারই হয়। এটাই এ দেশে প্রচলন। অথচ, বিপ্লবের পিতা বাবুল দাস তার আদরের সন্তানের হাতে ঝাড়ুর পরিবর্তে কলম তুলে দিয়েছিলেন। ঠিকভাবেই চলছিল সব। কিন্তু মেধাবী ছাত্র বিপ্লব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে ভর্তি হয়ে অসৎ সঙ্গে পড়ে কলমের পরিবর্তে হাতে অস্ত্র তুলে নেয় এবং মার্ডারে জড়িয়ে পড়ে। বিপ্লবের শাস্তি হবে নিশ্চিত। কিন্তু তার দরিদ্র পিতার কি হবে? তার পিতা এখন হয়তো আফসোস করে বলছে, আমি সুইপার/ঝাড়ুদার হয়েও কেন আমার ছেলের হাতে ঝাঁড়ু তুলে না দিয়ে কলম তুলে দিলাম! এ কি ছিল আমার অপরাধ? হায়রে নিয়তি।
সরকারি কলেজের পিয়ন পরেশ বাবু কত টাকাই বেতন পান? ঘর-সংসার সামলে ছেলেকে দিয়েছেন কুমিল্লার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে। অথচ, আজ আদরের সন্তান জেলে। পরেশ বাবুর এক আত্মীয় বলল ছেলেকে জেলে দেখতে আসতে ভাড়া যোগায় করতেও নাকি তার কষ্ট হয়। পরেশ দেবনাথের স্বপ্ন ছিল আমি পিয়ন কিন্তু আমার ছেলেটা পড়ালেখা শেষ করে যেন অফিসার হতে পারে তাই সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। ভাগ্যর কি নির্মম পরিহাস, আমার মেধাবী ছেলে আজ জেলে।
আরেকটু বলি, স্কুল-কলেজের ঝাড়ুদার আর পিয়নের সন্তান মিলে খুন করল ভার্সিটির ছাত্রকে। আবার ঐ ভার্সিটির ছাত্র একজন স্কুল শিক্ষকের সন্তান। কোথায় যাচ্ছি আমরা? এ দেশের ক্ষেত্রে রাজনীতিকে বলা হয় রাজার নীতি। অর্থাৎ রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা সব কিছুই এ দেশের উঁচু শ্রেণীর জন্য। তাহলে আমি পিয়ন, দারোয়ান, সুইপার ও দরিদ্র কৃষকের সন্তান হয়ে কেন পেশীশক্তি নির্ভর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছি? আমি কেন আরেক ধনকুবের সন্তানের ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যাবহার হচ্ছি? আমি কেন পড়া-লেখার সুযোগ পেয়েও আমার দরিদ্র পিতার স্বপ্ন-স্বাদ ভেঙ্গে চুরমার করে দিচ্ছি? এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে উভয়ের জন্য মঙ্গলজনক হবে। আমরা আর কোন খালিদ-রুপম-বিপ্লবের পিতার বুকফাটা আর্তনাদ শুনতে চাই না।

Amra Comillabashi এর ফেইস বুক থেকে ।

11 July 2016

সরকারি হচ্ছে কুমিল্লার ৫টি কলেজ

সরকারি হচ্ছে কুমিল্লার ৫টি কলেজ


কুমিল্লার ৫টি সহ সারা দেশের মোট ১৯৯টি বেসরকারি কলেজ সরকারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতিও দিয়েছেন।
কুমিল্লার যেসব কলেজ সরকারি হচ্ছে সেগুলো হলো—জেলার মনোহরগঞ্জের নীলকান্ত ডিগ্রি কলেজ, চান্দিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজ, ব্রাহ্মণপাড়ার বঙ্গবন্ধু কলেজ, বুড়িচংয়ের কালিকাপুর আবদুল মতিন খসরু ডিগ্রি কলেজ ও মেঘনার মানিকারচর বঙ্গবন্ধু কলেজ।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে এসব কলেজে নিয়োগ বন্ধ করে পৃথক পৃথক পরিদর্শন প্রতিবেদন দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ঈদের ছুটির আগের দিন ৩০ জুন মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা দিলেও রোববার সেটি মাউশিতে যায়।
জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এসব কলেজ সরকারি করার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। এখন আনুষ্ঠানিকতাগুলো শেষ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই, সেগুলোতে একটি করে কলেজ সরকারি করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব কলেজের আত্তীকৃত হওয়া শিক্ষকেরা আপাতত অন্য কলেজে বদলি হতে পারবেন না।
জানতে চাইলে মাউশির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, তাঁরা দ্রুত পরিদর্শন করে প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেবেন।
মাউশির একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সারা দেশে ৩৩৫টি সরকারি কলেজ আছে।

SSC, HSC and Other Exam Result Archive

কুমিল্লার ছাড়াও অন্য যেসব কলেজ সরকারি হচ্ছে : সাভার কলেজ, মানিকগঞ্জের শিবালয়ের মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজ, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ডিগ্রি কলেজ, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ, ময়মনসিংহের ভালুকা ডিগ্রি কলেজ, ধোবাউড়া আদর্শ কলেজ, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ মহাবিদ্যালয়, তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, নেত্রকোনার তেলিগাতি ডিগ্রি কলেজ, দুর্গাপুর সুসং মহাবিদ্যালয়, টাঙ্গাইলের কালিহাতীর শামছুল হক মহাবিদ্যালয়, দেলদুয়ার সৈয়দ মহব্বত আলী ডিগ্রি কলেজ, চট্টগ্রামের লোহাগড়া চুনতি মহিলা (ডিগ্রি) কলেজ, সীতাকুণ্ড মহিলা কলেজ, কক্সবাজারের উখিয়ার বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, রামু ডিগ্রি কলেজ, সিলেটের গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজ, জৈন্তাপুরের ইমরান আহমেদ মহিলা কলেজ, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহীর মোহনপুর ডিগ্রি কলেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের রহনপুর ইউসুফ আলী কলেজ, রহনপুর মহিলা কলেজ, ভোলাহাট মহিলা কলেজ, নাটোরের বড়াইগ্রাম অনার্স কলেজ, নলডাঙ্গার শহীদ নজমুল হক ডিগ্রি কলেজ, পাবনার সাঁথিয়া ডিগ্রি কলেজ, সিরাজগঞ্জের তাড়াশের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আইডিয়াল কলেজ, রংপুরের পীরগঞ্জের শাহ আব্দুর রউফ কলেজ, নীলফামারীর জলঢাকা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, গাইবান্ধার ফুলছড়ি ডিগ্রি কলেজ, সাঘাটার বোনারপাড়া ডিগ্রি কলেজ, কুড়িগ্রামের রাজিবপুর ডিগ্রি কলেজ, চিলমারী ডিগ্রি কলেজ, নাগেশ্বরী কলেজ, দিনাজপুরের বিরামপুর কলেজ, আফতাবগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, খুলনার ডুমুরিয়ার শাহপুর মধুগ্রাম কলেজ, যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া মহাবিদ্যালয়, চৌগাছা ডিগ্রি কলেজ, ঝিকরগাছার শহীদ মশিয়ুর রহমান ডিগ্রি কলেজ, বাগেরহাটের কচুয়া শহীদ শেখ আবু নাসের মহিলা ডিগ্রি কলেজ, ফকিরহাট ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, রামপাল ডিগ্রি কলেজ, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ।
জাতীয়করণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া অন্য কলেজগুলোর মধ্যে রয়েছে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর ডিগ্রি কলেজ, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কদম রসুল কলেজ, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের বিক্রমপুরের কে বি ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুরের কাপাসিয়ার শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজ, শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী কলেজ, নরসিংদীর বেলাবোর হোসেন আলী কলেজ, রায়পুরা কলেজ, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির মীর মশাররফ হোসেন কলেজ, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের এম এ রেজা ডিগ্রি কলেজ, গোসাইরহাটের শামসুর রহমান ডিগ্রি কলেজ, টাঙ্গাইলের বাসাইলের জোবেদা রুবেয়া মহিলা কলেজ, গোপালপুরের মেহেরুন্নেছা মহিলা কলেজ, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর কলেজ, হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজ, ময়মনসিংহের ত্রিশালের নজরুল কলেজ, হালুয়াঘাট শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ, ঈশ্বরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ। নেত্রকোনার বারহাট্টা কলেজ, খালিয়াজুড়ির কৃষ্ণপুর হাজী আলী আকবর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কলমাকান্দা ডিগ্রি কলেজ, কেন্দুয়া ডিগ্রি কলেজ ও পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজ, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের এ কে মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ, সরিষাবাড়ীর বঙ্গবন্ধু কলেজ, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বাঁশখালীর আলাওল ডিগ্রি কলেজ, মীরসরাইয়ের নিজামপুর কলেজ ও রাঙ্গুনিয়া কলেজ।
তালিকায় থাকা কলেজের মধ্যে আরও রয়েছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া কলেজ, চকরিয়া ডিগ্রি কলেজ, টেকনাফ ডিগ্রি কলেজ, মহেশখালীর বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ, রাঙামাটির বাঘাইছড়ির কাচালং ডিগ্রি কলেজ, নানিয়াচর কলেজ, কর্ণফুলী ডিগ্রি কলেজ, কাউখালী ডিগ্রি কলেজ, বাঙ্গালহালিয়া কলেজ, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ডিগ্রি কলেজ, পানছড়ি ডিগ্রি কলেজ, মহালছড়ি কলেজ, মাটিরাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ, মানিকছড়ি গিরি মৈত্রী ডিগ্রি কলেজ, গুইমারা কলেজ, বান্দরবানের মাতামুহুরি কলেজ, নাইক্ষ্যংছড়ির হাজি এম এ কালাম ডিগ্রি কলেজ, রুমা সাঙ্গু কলেজ, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী কলেজ, চর জব্বার ডিগ্রি কলেজ, ফেনীর দাগনভূঞার ইকবাল মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ, লক্ষ্মীপুরের হাজিরহাট উপকূল কলেজ।
তালিকায় আরও আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ, নাসিরনগর (ডিগ্রি) মহাবিদ্যালয়, বাঞ্ছারামপুর ডিগ্রি কলেজ, সরাইল ডিগ্রি কলেজ, চাঁদপুরের কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ, ছেংগারচর ডিগ্রি কলেজ, মতলব ডিগ্রি কলেজ, হাইমচর মহাবিদ্যালয়, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণ ডিগ্রি কলেজ, কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজ, দক্ষিণ সুরমা কলেজ, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, মাধবপুর শাহজালাল কলেজ, বানিয়াচংয়ের জনাব আলী ডিগ্রি কলেজ, মৌলভীবাজারের বড়লেখার নারীশিক্ষা একাডেমি ডিগ্রি কলেজ, কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজ, রাজনগর ডিগ্রি কলেজ, কমলগঞ্জ গণমহাবিদ্যালয়, জুড়ির তৈয়বুন্নেছা খানম একাডেমি ডিগ্রি কলেজ, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের দিগেন্দ্র বর্মণ ডিগ্রি কলেজ, ছাতক ডিগ্রি কলেজ, দিরাই ডিগ্রি কলেজ, ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজ, দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজ, জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজ, জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, শাল্লা ডিগ্রি কলেজ, পাগলা মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজশাহীর বাঘা শাহদৌলা ডিগ্রি কলেজ, পুঠিয়ার লস্করপুর ডিগ্রি মহাবিদ্যানিকেতন, নওহাটা মহিলা ডিগ্রি কলেজ, ভবানীগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সরদাহ মহাবিদ্যালয়। কলেজের মধ্যে আরও আছে নাটোরের বাগাতিপাড়া ডিগ্রি কলেজ, গোপালপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ, নওগাঁর ধামুইরহাট এম এম ডিগ্রি কলেজ, পোরশা ডিগ্রি কলেজ, রানীনগরের শের-এ-বাংলা (ডিগ্রি) মহাবিদ্যালয়, পাবনার চাটমোহর ডিগ্রি কলেজ, বেড়া কলেজ, ভাঙ্গুরার হাজি জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, সুজানগরের নিজাম উদ্দিন আজগর আলী ডিগ্রি কলেজ, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি কলেজ, রায়গঞ্জের বেগম নুরুণ নাহার তর্কবাগীশ অনার্স কলেজ, চৌহালী এস বি এম কলেজ, বগুড়ার ধুনট ডিগ্রি কলেজ, কাহালু ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, সারিয়াকান্দি আব্দুল মান্নান মহিলা কলেজ, জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের ছাঈদ-আলতাফুন্নেছা কলেজ, রংপুরের গঙ্গাচড়া ডিগ্রি কলেজ, হারাগাছ ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, পীরগাছা কলেজ, নীলফামারীর ডিমলা মহিলা মহাবিদ্যালয়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ কলেজ, সাদুল্যাপুর ডিগ্রি কলেজ, সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ ডিগ্রি কলেজ, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর সাইফুর রহমান মহাবিদ্যালয়, ভূরুঙ্গামারী ডিগ্রি কলেজ, রাজারহাট মহিলা ডিগ্রি কলেজ, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, সেতাবগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, কাহারোলের জয়নন্দ ডিগ্রি কলেজ, পার্বতীপুর ডিগ্রি কলেজ।
তালিকায় আরও রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর সমির উদ্দিন স্মৃতি মহাবিদ্যালয়, রানীশংকৈল মহিলা ডিগ্রি কলেজ, হরিপুরের মোসলেম উদ্দিন মহাবিদ্যালয়, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ, বোদা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, আটোয়ারীর বঙ্গবন্ধু ডাংগীরহাট আদর্শ মহাবিদ্যালয়, খুলনার ফুলতলা মহিলা কলেজ, বাগেরহাটের চিতলমারী বঙ্গবন্ধু মহিলা ডিগ্রি কলেজ, মোল্লাহাটের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মহিলা মহাবিদ্যালয়, সাতক্ষীরার দেবহাটার খান বাহাদুর আহছান উল্লাহ কলেজ, মাগুরার মহাম্মদপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান কলেজ, নড়াইলের কালিয়ার হাবিবুল আলম বীর প্রতীক মহাবিদ্যালয়, বরিশালের আগৈলঝাড়ার শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রি কলেজ, বাবুগঞ্জের আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ, উজিরপুরের শেরেবাংলা ডিগ্রি কলেজ, ভোলার তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, দৌলতখান আবু আবদুল্লাহ কলেজ, বোরহানউদ্দিনের আব্দুল জব্বার কলেজ, মনপুরা ডিগ্রি কলেজ। এ ছাড়া রয়েছে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার তফাজ্জল হোসেন (মানিক মিয়া) ডিগ্রি কলেজ, নলছিটি ডিগ্রি কলেজ, রাজাপুর ডিগ্রি কলেজ, পিরোজপুরে কাউখালী মহাবিদ্যালয়, নাজিরপুরের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালীর দশমিনার আবদুর রসিদ তালুকদার ডিগ্রি কলেজ, গলাচিপা ডিগ্রি কলেজ, মির্জাগঞ্জের সুবিদখালী ডিগ্রি কলেজ, দুমকির জনতা কলেজ, রাঙ্গাবালি কলেজ, বরগুনার তালতলী ডিগ্রি কলেজ, হাজি জালাল উদ্দিন মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও বামনা ডিগ্রি কলেজ।

30 June 2016

ছাত্রীদের স্বপ্নের শিক্ষাঙ্গন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ

ছাত্রীদের স্বপ্নের শিক্ষাঙ্গন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ


বিশেষ প্রতিবেদনঃ কুমিল্লা শহরে নারী শিক্ষা প্রসারে অভাবনীয় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ। অর্ধশত বছর ধরে শিক্ষা বিস্তারে এগিয়ে চলা কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ এখন মেয়েদের স্বপ্নের শিক্ষাঙ্গন।

প্রতিবছরই বিপুল সংখ্যক ছাত্র ভর্তি হচ্ছে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে। রাজনীতিমুক্ত পরিবেশে কলেজের লেখাপড়ার মান নিয়ে ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের কোন অভিযোগ নেই। সময়ের পরিক্রমায় আজ হাজারো ছাত্রীর স্বপ্নের শিক্ষাঙ্গনে রূপ নিয়েছে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ। বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর এ এসএম আবদুল ওহাবের দিক নির্দেশনায় কলেজের অতীতের সুনাম, সাফল্য ধরে রাখার লক্ষ্যে শ্রম দিচ্ছেন শিক্ষকরা। ছাত্রীরা যাতে কোচিং নির্ভর না হয়ে কাশমুখি হয় এজন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে উচ্চ মাধ্যমিকে মনোবিজ্ঞান, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিসংখ্যানসহ চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। যা কুমিল্লার অন্য কোন সরকারি কলেজে এ ৪টি বিষয় নেই। প্রফেসর এএসএম আবদুল ওহাব এ কলেজে যোগদানের পর যুগোপযোগী ওই ৪টি বিষয় উচ্চ মাধ্যমিকে চালু করেন। মনোবিজ্ঞান ও গার্হস্থ বিজ্ঞানে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করলে পরবর্তী সময়ে এসব বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে চিকিৎসায় মনোবিজ্ঞানী ও পুষ্টিবিদ হয়ে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। যার ফলে সচেতন অভিভাবক মহল ও মেধাবী ছাত্রীরা কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে অধিকতর উৎসাহী।
এছাড়াও বর্তমানে কলেজে বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, রসায়নবিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণীবিজ্ঞান, গণিতসহ ১২টি বিষয়ে অনার্স এবং সমাজকর্ম, বাংলা, দর্শন, রসায়ন, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণীবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, গণিতসহ ৮টি বিষয়ে মাস্টার্স, বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রিলিমিনারি, পাসকোর্সসহ বিএ, বিএসএস, বিএসসি ও উচ্চ মাধ্যমিক শাখা চালু রয়েছে। ১৯৭২ সাল থেকেই এ কলেজে চালু ছিল বাংলা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স কোর্স।
উইমেন্স কলেজ নামে পরিচিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা শহরের ঐতিহাসিক রাণীরদিঘি থেকে মাত্র দুইশ গজ দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে মনোহরপুর এলাকায় মনোরম পরিবেশে ৫ একবর জমির ওপর ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় সাড়ে সাত হাজার ছাত্রী কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে লেখাপড়া করছে। চট্টগ্রাম বিভাগে মেয়েদের কলেজের মধ্যে ছাত্রী সংখ্যা ও বিষয়ের দিক থেকে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ একটি অন্যতম শিক্ষাঙ্গন। কলেজ অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষক রয়েছেন ৬০জন। আবার অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন ১৬জন। ১৬তম বিসিএসে মেধা তালিকায় প্রথম ননী গোপাল সাহার মতো গণিতের শিক্ষকও রয়েছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে। মেধা ও যোগ্যতায় কলেজের অন্য শিক্ষকরাও কম নয়। অফিস ও অন্যান্য বিভাগে ৪০ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কলেজটি দেশব্যাপি ব্যাপক সুনাম অর্জন করে আসছে। ১৯৯১ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ অনুষ্ঠানে সারাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি সনদ অর্জন করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুমিল্লার ইতিহাস ঐতিহ্যকে যেমন লালন করছে তেমনি বিখ্যাত ব্যক্তিদেরও স্মরণে রাখছে। যা কলেজ হোষ্টেলের কক্ষগুলোর সামনে গেলেই দেখা যাবে।
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) ও নওয়াব হোচ্ছাম হায়াদার নামে দুটি হোস্টেল (ছাত্রীনিবাস) রয়েছে। কুমিল্লার ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধারণ করে হোস্টেলের বিভিন্ন কক্ষের নামকরণের মধ্যে রয়েছে সমতট, কমলাঙ্ক, রোহিতগিরি, কোটবাড়ি, মুন্সেফবাড়ি, নবাববাড়ি, আদালতপাড়া। আবার কুমিল্লার নদ-নদী ও খালের নামে রাখা হয়েছে গোমতি, সোনাইছড়ি, রোহিতা, কোদালিয়া, কাকড়ি, ডাকাতিয়া। বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে উপমহাদেশের প্রখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ এবং শূন্যের আবিষ্কারক আর্য ভট্টের লিখিত গ্রন্থের নামানুসারে আর্যভাটিয়া, পদার্থ ও রসায়নে দুইবার নোবেল বিজয়ী নারী মেরিকোরির সম্মানে মেরিকোরি, বিশ্বের প্রথম মহিলা নভোচারি রাশিয়ার ভালেস্তিনা তেরেশ কোভার নামানুসারে তেরেশকোভা এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত কুমিল্লার মহয়িসী নারী নবাব ফয়েজুন্নেসার রচিত গ্রন্থ রূপজালালের নামেও হোস্টেলে কক্ষ রয়েছে। তাছাড়া তথ্য প্রযুক্তিতে মেয়েরা যাতে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠে এজন্য একটি কক্ষের নাম দেয়া হয়েছে ডব্লিউডব্লিউডব্লিউডটকম। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগিয়ে রাখতে কলেজের একটি বর্ধিত ভবনের সাতটি কক্ষের নাম দেয়া হয়েছে তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


SSC, HSC and Other Exam Result Archive


এদিকে হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) ও নওয়াব হোচ্ছাম হায়দার হোস্টেল দু’টিতে প্রায় তিনশ ছাত্রীর আবাসন ব্যবস্থার বিপরীতে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে প্রায় ৮শ ছাত্রীকে। প্রতি বছরই দূর-দূরান্তের ছাত্রী সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু আসন অপ্রতুলতার কারণে অনেকের হোস্টেলে স্থান হচ্ছে না। ছাত্রীদের আবাসন সমস্যার বিষয়টি সমাধান করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ছাত্রীরা জানায়, ‘কলেজ থেকে প্রায় তিনশ গজ উত্তরে রানীরদিঘির পূর্বপাড়ে ফুলার নামে যে হোস্টেলটি রয়েছে এটি একসময় সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবন ও ছাত্রীনিবাস ছিল। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ফুলার হোস্টেলটি সংস্কার করে কলেজের অধীনে এখানে ছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করা হলে আবাসন সংকট অনেকটা কমে আসবে।
ইতিমধ্যে কলেজের পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙ্গে বর্তমান একাডেমিক ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। তবে ধীরগতিতে চলছে কাজ। কলেজ কর্তৃপক্ষ মনে করেছেন কাজের গতি বাড়লে দ্রুত আলোর মুখ দেখবে কলেজ অডিটরিয়াম, একাডেমিক ভবন ও শ্রেণিকক্ষ।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর এএসএম আবদুল ওহাব বলেন, ‘অর্ধশত বছর আগে মিটমিট করে জ্বলে থাকা জ্ঞানের প্রদীপ শিখা নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের। কালের পরিক্রমায় আজকের সময়ে এ কলেজ শিখাচিরন্তন রূপ নিয়ে আলোর ব্যপ্তি ছড়িয়েছে কুমিল্লা অঞ্চলে। তাই নি:সন্দেহে বলা যায় মেধা ও প্রতিভা বিকাশের এই কলেজ নিরাপদ ও রাজনৈতিক গোলযোগমুক্ত মনোরম পরিবেশে ছাত্রীদের পড়ালেখার অন্যতম প্রতিষ্ঠান। বিগত বছরগুলোতে কুমিল্লার ছাত্রীরা রাজধানীর বিভিন্ন নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পর তাদের একটা অংশ পুনরায় ছাড়পত্র নিয়ে এসে আমাদের কলেজে ভর্তি হচ্ছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবাই কলেজের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আন্তরিক। শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকদের প্রতি বেশ বিনয়ী। পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ছাত্রীরা কলেজের সম্মান বয়ে আনছে। এক প্রশ্নের জবাবে কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, ‘হোস্টেলের আসন কম থাকায় ছাত্রীদের আবাসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যা আমরা উপলব্ধি করছি। নতুন হোস্টেল এবং শহরের বাইরের এলাকার ছাত্রীদের যাতায়াত সুবিধার্থে কলেজের নিজস্ব পরিবহন খুবই প্রয়োজন। আশাকরি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো খুব আন্তরিকতার সাথে সমাধান করবে। 

29 May 2016

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। শনিবার সকাল ১১টায় বর্ণাঢ্য এক শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পার্কিং মাঠে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মঞ্চের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আলী আশরাফ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন এবং পায়রা ওড়ান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর কুণ্ডু গোপীদাস, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্ত-কর্মচারীবৃন্দ। এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি। এছাড়াও দুপুরের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

25 March 2016

তনুর ঘটনায় অসাধারণ কেউ জড়িত-ইমরান

তনুর ঘটনায় অসাধারণ কেউ জড়িত-ইমরান


bdnews24.com: সেনানিবাস এলাকায় ধর্ষণের পর কলেজ ছাত্রীকে হত্যায় ‘অসাধারণ’ কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।শাহবাগে বুধবার এক সমাবেশে তিনি বলেন, “তনুকে খুন করার স্থানটি অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি জায়গা, সেনানিবাস। সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত।“সেখানে কীভাবে অপরাধীরা ধর্ষণ ও খুন করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পারল সেটি একটি বড় প্রশ্ন? তবে কী এই ঘটনার সাথে অসাধারণ কেউ জড়িত।”কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যার প্রতিবাদ জানাতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।বিকালে এই প্রতিবাদ সমাবেশের পর মশাল মিছিল বের করে সংগঠনটি।কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুর এলাকায় রোববার রাতে একটি কালভার্টের কাছ থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ, যিনি ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের (ভিসিটি) সদস্য ছিলেন।ইমরান বলেন, “দেশব্যাপী গুম, খুন, ধর্ষণ, লুটপাটসহ সকল অপরাধের মহোৎসব চলছে। খুব সুকৌশলে আমাদেরকে এমন একটি পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে যেন আমরা প্রতিবাদ, প্রতিরোধের উৎসাহ হারিয়ে ফেলি।”“গত ২০ মার্চ সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এরপর তিন দিন সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা দেখিনি।”রিজার্ভের অর্থ হ্যাকিংয়ের ঘটনা ধাপাচাপা দেওয়ার সঙ্গে তনুহত্যার সম্পর্ক থাকার বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন ইমরান।“আমাদের মনে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে, শক্তিশালী কারও মদদে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লুটপাটের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই কি তনুকে ধর্ষণ ও হত্যা? আমাদের এই আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণের দায়িত্ব প্রশাসনের।”দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নারীর প্রতি সহিংসতাকে ‘আস্কারা’ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।ইমরান বলেন, “আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কেউ কেউ নারীর প্রতি সহিংসতাকে আস্কারা দিয়ে থাকেন।“তাদের বক্তব্য বিবৃতি যেমন মূল অপরাধের ঘটনা থেকে মানুষের মনযোগ অন্য দিকে সরিয়ে নেয়, তেমনি তাদের অব্যাহত গাফিলতি নতুন আরেকটি অপরাধকে আস্কারা দেয়।”সকলকে জোটবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ধর্ষক ও খুনিদের বিচারের মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, নতুবা ধ্বংসই হবে আমাদের নিয়তি।”একই দাবিতে শুক্রবার বিকাল ৪টায় শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে গণসমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে মঞ্চ।
কত পুরস্কার পেয়েছে তনু….

কত পুরস্কার পেয়েছে তনু….


সাইফুল্লাহ খালিদ : সেই তনু এখানে ঘুমিয়ে আছে। বাড়ি থেকে প্রায় ২০ মিনিট পায়ে হেটে যেতে হয় তার কবরপ্রাঙ্গণে। রাস্তারে পাশে একটি বিল তার মাঝে একটি উচুঁ ডিবিতে শুয়ে আছে ইয়ার হোসেনের বুকের ধন সোহাগী জাহান তনু। আকাশে চাঁদের আলোয় সবুজ মাঠগুলো নরম বিছানার মতো দেখতে। গ্রামের সবার সাথে হাটছিলাম। কবর জেয়ারত করতে যাচ্ছেন সবাই। ফুরফুরে বাতাস বইছে। হয়তো সোহাগী এখানে শুয়ে আছে তাই।হাটতে হাটতে কাঁপা কন্ঠে ইয়ার হোসেন বলছেন, বাবা আমার জেঠি আদর করে আমার মেয়ের নাম রেখেছিল সোহাগী। ছোটবেলা থেকেই সবাই তাকে আদর করতো। আমি আমার মাকে বলতাম মা তোরে আমি বুকের মধ্যে আটকে রাখতে চাই। মেয়েটাকে বুকে টেনে নিতাম। সে বলতো বাবা, আমি তো বড় হয়েছি। তুমি কি পারবে আমাকে সবসময় বুকে রাখতে।সত্তোর্ধ এক বৃদ্ধ বললেন, ইয়ার হোসেন শহরে চাকুরী করে। মেয়েটা সবার ছোট। গ্রামে আসতো বছরে একবার। সবাই বলতাম এই মেয়ে একদিন অনেক বড় অফিসার হবে। …বলতে বলতে বৃদ্ধ মানুষটির গলা বসে গেল বোবাকান্নায়। চোখ মুছতে মুছতে বলছেন… আল্লাহ তুমি এর বিচার করো।প্রতিদিন মির্জানগরের পথ ধরে যারা হেটে যাবেন তারা হয়তো ক’দিন পরই ভুলে যাবেন বিলের পরে ওই কবরখানায় শুয়ে আছে নেকড়ের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত এক কিশোরী। বোন তনু তোর চোখের দিকে তাকালে আমার চোখ ছল ছল করে ওঠে। আমার বোনটির বাসায় ফিরতে দেরি হলে আব্বা আমাকে বলতেন যাওতো -ও এখনওতো এলো না। তোর বাবা যখন বলছিলেন তখন আমার চোখে ভেসে উঠে আমার আদরের বোনটির চেহারা। যে এখন দূর বিলেতে। সেদিন সন্ধ্যায় টিউশনি করিয়ে তুই আর বাসায় ফিরিসনি। এরপর থেকে তোর বাবা মা পাগলের মতো ছুটছে। তোর মা এখন প্রতিরাতে তোকে স্বপ্নে দেখে। তুই পুরস্কার আনার জন্য যে দুটো নতুন জামা আনতে বলেছিলি মা সেগুলো নিয়ে এসেছে রূপসাগরের টেইলার দোকান থেকে।তনু, ফেলানীরা শকুনের ছোবলে ক্ষত বিক্ষত হয়। জাগিয়ে দিয়ে যায় আমাদের অন্তরাত্মাকে। কতক্ষণ– কতদিন…।বিকেলে ওই বাড়িতে পৌছেই দেখি কান্নায় কথা বলতে পারছিলেন না তনুর মা। শুধুই বিলাপ করছেন… জননীগো… আমি বাসায় গেলে কে থাকবে আমার পাশে। তুই কই গেলিরে মা…। এই মা’কে শান্তনা দেবে কে? কেউ কি পারবে তার প্রিয় সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে।রুবেল এগিয়ে এসে মা’কে থামাতে চাইলো। মাকে জড়িয়ে নিজেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লো ছেলেটি। রুবেল বললো, এইতো ক’দিন আগে আমি আপু আম্মু একসাথে ছবি তুলেছি। আপুর বার্থ ডে ছিল। আমরা কত মজা করতাম। আপু খুব আদর করতো আমাকে।রুবেল যখন কথা বলছিল। পাশে দাড়িয়ে কথাগুলো শুনছিল গ্রামেরই কিছু মহিলা। বলা নেই কওয়া নেই.. তাদের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রুজল। আসলে তনু চলে গিয়ে সবার আপন হয়ে রয়ে গেল।কিছুটা শান্ত হয়ে এলে মা জানালেন, সেই ছোটবেলা থেকে ভিক্টোরিয়ায় অনার্স পড়া পর্যন্ত কত পুরস্কার যে পেয়েছে তনু! ভালো গান গায় তাই সব অনুষ্ঠানে তাকে ডাকতো। কত স্টুডেন্ট ছিল তার।মাগরেবের পর গ্রামের মানুষগুলো দলবেধে গেলো কবর জেয়ারত করতে। তারপর সেখান থেকে ফিরতে ফিরতে নানা জনের নানা কথা শুনলাম। কারো কারো আক্ষেপ এই গ্রামকে আলোকিত করতো মেয়েটি। সবার ভাষায় ক্ষোভ ধিক্কার। কেউ বলছেন অনেক বড় হবে সে- আমরা তাই ভেবেছিলাম। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল। একটি দরিদ্র পরিবার গ্রাম থেকে শহরে এসেছে। নিরাপত্তার চাঁদরে বেড়ে উঠা শহুরে সভ্যতায় সে কি অসভ্যতা– তা কি জানতো ইয়ার হোসেন। গ্রামের মেয়েরা ক’জনই বা অনার্স পড়তে পারে। তার মাঝে একটি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রদীপ হিসেবে জ্বলে উঠছিল তনু। শুধু লেখাপড়াই নয়, মেধা মননে মেলে ধরেছিল সুপ্ত প্রতিভা। কিন্তু থেমে গেছে সব। জীবন সবারই থেমে যায়। কিন্তু কিছু থেমে যাওয়া রয়ে যায় দু:স্বপ্নের মতো। তনুর বাবা বলছিলেন, মেয়েটা একা একা কলেজে যায়। আমি ভয় পেতাম। তনু আমাকে সাহস দিতো। আজ সেই মেয়ে আমার বাসার পাশেই….।ফেসবুকে বসলেই দেখি হিজাবে ঢাকা তনুর মুখাবয়বের মিষ্ঠি আভা যেন সৌরভ ছড়াচ্ছে। সবাই সবাই সবাই –এ ঘৃণ্য হত্যার বিচার চায়। আসলেই কি সবাই চায়। না এটা আমার আবেগের কথা। সবাই চায় না বলেই তনুরা ক্ষতবিক্ষত হয়ে জমিনের পড়ে পরে থাকে। ঘাতকেরা সবার মাঝেই থাকে। ছদ্মবেশে।তনু ক’দিন আগে ফেসবুকে লিখেছিল- আমাকে আমার মতো থাকতো দাও… / আমি নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নিয়েছি। সত্যিই যেন তাই। বিলের ধারে শুয়ে আছে মেয়েটি। চিরনিদ্রায় ঘুমোবে তনু।এদিকে ঝড় বইছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।এ যেন শুস্ক মরুতে লু হাওয়া। মুনাজাত শেষে রাতের চাঁদের আলোয় মানুষের সারি চলছিল বাড়ির দিকে। কবরটির পাশে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কতক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। সত্যিই কি আমরা আমাদের প্রতিটি বোনকে এ সমাজে নিরাপদ চলতে দিচ্ছি। হয়তো এরপর আর আসা হবে না এখানে। তবু প্রার্থনা আল্লাহ ন্যায় বিচার করবেন।কেউ কেউ ঘটনা ঘোলা করে ফায়দা নিতে চাচ্ছেন। কোথায় খুন হয়েছে তনু, সেটার চাইতে বড় কথা হলো পুরুষত্ব জাহির করতে আসা কোন নেকড়ের সামনে পড়েছিল হরিনীটি। নেকড়েরা সব জায়গায় বাস করে। শুধু শিকার পেলেই রক্তাক্ত করে নখড়াঘাতে।মৃত্যুর চারদিন আগে তনু লিখেছিল মান্না’দের গানের দুটি কলি… ‘সবাই তো সুখী হতে চায়/.. তবে কেউ সুখী হয় কেউ হয় না।’… হ্যা এটাই সত্যি।লেখক : স্টাফ রিপোর্টার, যমুনা টিভি।

24 March 2016

তনু হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ

তনু হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ


বিবিসিঃ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একজন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ তুলে কুমিল্লা এবং রাজধানী ঢাকায় বুধবারও বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ করেছে। তাঁর পরিবারও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার দাবি করেছে।গত রোববার কুমিল্লা সেনানিবাসেরই বাসিন্দা সোহাগী জাহান তনু নামের ঐ শিক্ষার্থীর মৃতদেহ পাওয়া যায় ।নারী অধিকার আন্দোলনকারীরা বলেছেন, আগে ধর্ষণের জন্য নারীদের পোশাক-আশাককে দায়ী করা হতো। এখন এই ঘটনার পর পোশাকের শালীনতার সঙ্গে ধর্ষণের যোগাযোগ কতটা সম্পর্কিত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সোহাগী জাহান তনুর বাবা কুমিল্লা সেনানিবাসে বোর্ডে একজন বেসামরিক কর্মচারী। সেই সুবাদে সেনানিবাসে কোয়াটারে তাদের বসবাস। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট সোহাগী জাহান তনু কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ইতিহাস বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ তুলে তাঁর কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বুধবার কুমিল্লায় বিক্ষোভ করেছে। ঢাকাতেও শাহবাগ এলাকায় গণজাগরণ মঞ্চ এবং ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ করেছে।সোহাগী জাহান তনু লেখাপড়ার পাশাপাশি তাঁর কলেজে নাটকসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িত ছিলেন।টানাটানির সংসারে তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসের ভিতরেই টিউশনি করে নিজের খরচের কিছুটা যোগাতেন। তাঁর বড় ভাই নাজমুল হোসেন বলেছেন, গত রোববার ২০শে মার্চ বিকেলে তাঁর বোন টিউশনি করতে গিয়েছিল। কিন্তু রাত আটটাতেও না ফিরলে তাদের মা খুঁজতে রাস্তায় খুঁজতে যান।মি: হোসেন আরও জানিয়েছেন, তাঁর বোন যে বাসায় পড়াতে যেতেন, সেই বাসায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সন্ধ্যা সাতটাতেই তনু চলে গেছে। রাত দশটার দিকে তাদের বাবা বাসায় ফিরলে তখন আবার তারা খুঁজতে বের হন। যে পথ দিয়ে টিউশনির বাসায় যেতেন, সেই পথেই সেনানিবাসের ভিতরে একটি কালভার্টের নীচে মৃতদেহ পাওয়া যায়।ঢাকায় বিক্ষোভ থেকে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেয়া কয়েকজন বলছিলেন, ঘটনার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার করে কিছু বলছে না, সেজন্য তাদের সন্দেহ হচ্ছে।কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন বলেছেন, ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হতে পারে, পুলিশ প্রাথমিকভাবে এমন ধারণা করছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তিনি বিস্তারিত বলতে রাজি নন।সোহাগী জাহান তনু হিজাব পড়তেন। এ ধরণের ছবি সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রকাশ হয়েছে।নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো বলছে, এর আগে কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হলে তার পোশাক নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলতেন। এখন সেই প্রশ্ন অবান্তর বলে মনে করেন নারী আন্দোলনের অন্যতম একজন নেত্রী ফরিদা আকতার।তিনি বলেছেন, “যারা নারীদের ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ করে, পোশাক বা বয়স কোন কিছুই তাদের কাছে বিষয় নয়। এটা বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে”।ফরিদা আকতার আরও বলেছেন, “ধর্ষণের শিকার নারীর পোশাককে যারা দায়ী করতে চায়, তারা আসলে ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে দোষী বানাতে চায়।তারা নারীর বিরুদ্ধেই কথা বলে”। ঘটনাটিকে ঘিরে সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেসবুকে কিছু তৎপরতা দেখা যায়। মুল ধারার সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে সেভাবে খবর চোখে পড়েনি।


23 March 2016

তনুর পুরস্কার পাওয়া হলো না

তনুর পুরস্কার পাওয়া হলো না


এম. বিল্লাল হোসেন: ছোট্ট বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল অভিনয় শিল্পী হবার। সমাজের নানা অসংগঙ্গি অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরে মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলাই ছিল অভিনয়ের ধরণ। তাঁর অভিনয়ের দৃপ্ত ভাষায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ফুটে উঠত।এইতো সে দিন তনুর আবেদনময়ী কণ্ঠে ভেসে আসলো জিয়া অডিটোয়াম থেকে বাংলার গান। তনু কলেজের বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা -২০১৬, তিনটি বিভাগে অংশনিয়ে তিনটিতেই বিজয়ী হয়। একক নৃত্যে প্রথম, দৈত নৃত্যে ২য় ও সংঙ্গীতে ২য় স্থান অর্জন করে। বার্ষিক প্রতিযোগীতার পুরস্কার দেবার কথা ছিল কয়েক দিন পর। কিন্তু পুরস্কার পাওয়া হল না তনুর। সেরা বাচাই প্রতিযোগীতায় জেলা পর্যায়ে প্রথম হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিযোগীতায় অংশ নেয় তনু। তার চোখে-মুখে ছিল বড় শিল্পী হবার ছাপ।মঙ্গলবার সকাল ১০ টা। আমরা সবাই তনুর ভাই, তনু হত্যার বিচার চাই। সে তো আমাদের তনু, সে তো আমাদের সবার তনু । আমরা তনু হত্যার বিচার চাই। এটা কোন ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে অন্য ছাত্র সংগঠনের মিছিল নয়। এটা ছিল প্রতিবাদী অভনয় শিল্পী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ শিক্ষার্থী নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে (১৯) গত রোববার ধর্ষণ পর গলাকেটে হত্যা করার প্রতিবাদ মিছিল।আর সবার ফেসবুক ছিল তনু হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ। ফেসবুকে বেশ কয়েকটি ফেইজ খোলা হয় । এদের মধ্যে, ‘আমরা সবাই তনুর ভাই, তনু হত্যার বিচার চাই’, ‘তনু হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’। এদিকে তনু হত্যার প্রতিবাদে ঢাকার শাহবাগে মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা শ্যামল শিশির।ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রশীদ ক্যাম্পাস টাইমসকে বলেন, ‘তনু বার্ষিক প্রতিযোগীতায় তিনটি বিভাগে বিজয়ী হয়েছে। ক’দিন পর বিজয়ীদের পুরস্কার দেবার কথা ছিল। আমরা সবাই এই মেধাবী শিক্ষার্থী হত্যার বিচার চাই। ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারি বলেন, তনুর মেধাবী শিল্পী ছিল। ‘নৈতিক জায়গা থেকেই এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি। এই হত্যার প্রতিবাদ করতে হবে সবাইকে।’ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সাবেক সভাপতি আল আমিন বলেন, তনু কলেজের সবচেয়ে মেধাবী সংস্কৃতিকর্মী। কারণ সে মাত্র বছর হল থিয়েটারের সদস্য হয় এ অল্প সময়ে সে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়। খুন হওয়ার দুই দিন আগে ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের বার্ষিক বনভোজনে শ্রীমঙ্গল গিয়েছিলাম আমরা। সে এমন নৃসংশভাবে খুন হয় তা মানতে পারছি না।উল্লেখ্য, গত রবিবার (২০ মার্চ) রাত ১০টায় কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুর এলাকায় একটি কালভার্টের কাছ থেকে পুলিশ নিহত তনুর লাশ উদ্ধার করে। সে কুভিকের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের (ভিসিটি) সহ কলেজের কয়েকটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ছিলেন। সে ময়নামতি সেনানিবাস এলাকার অলিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইয়ার হোসেনের মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি তিতাস উপজেলায়। তারা অলিপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সোহাগী মেজ।’