23 July 2017

কুমিল্লা বোর্ডে ফল বিপর্যয়ের কারণ

কুমিল্লা বোর্ডে ফল বিপর্যয়ের কারণ


২০১৭ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ভয়াবহ ফল বিপর্যয়ে পড়েছে কুমিল্লা বোর্ড। গেল বছরে যেখানে পাসের হার ছিল ৮৪ শতাংশ। হঠাৎ করেই এ বছর প্রায় অর্ধেকে নেমে ৪৯.৫২ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৬৭৮ জন।
দেশের সব শিক্ষা বোডের্র মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডের অবস্থান একেবারেই তলানিতে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। শিক্ষকরাও হতবাক হয়ে গেছেন।
সূত্রমতে, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে পাসের হার কোনোভাবেই ৯০ থেখে ৮৪ শতাংশের নিচে আসেনি। ২০১৩ সালে এ হার ছিল ৯০.৪১ শতাংশ। পরের বছর ২০১৪ সালে পাস করে ৮৯.৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী। এরপর ২০১৫ সালে এসে পাসের হার দেখা গেছে ৮৪.২২ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থীরা পাস করে। 
গেল তিন বছরে পাসের হার নিম্নগামী দেখা গেলেও তা যে অর্ধেকে নেমে আসবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। রোববার (২৩ জুলাই) ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু শিক্ষক বলছেন, এইচএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় যার ফেল করে তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আর এটা হচ্ছে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের তদবিরে। এ কারণে পাসের হারে এমন বিপর্যয় দেখা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, যারা নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করছে তাদের প্রভাবশালী আত্মীয় স্বজন প্রভাব খাটিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অনুমোদন দিতে শিক্ষকদের বাধ্য করছেন। যার ফলে এমন পরিণতি দেখা গেছে। 
তবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমদ বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি মনে করছেন গণিত ও ইংরেজিতে ফলাফল খারাপ করছে পরীক্ষার্থীরা। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলাফলে। তবে তার দাবি, শহর কেন্দ্রিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো ফলাফল হয়েছে।

22 July 2017

কুমিল্লা বিভাগের নাম হবে ময়নামতি, কুমিল্লা অথবা লালমাই

কুমিল্লা বিভাগের নাম হবে ময়নামতি, কুমিল্লা অথবা লালমাই


বহুল আলোচিত কুমিল্লা বিভাগের নাম ময়নামতি, কুমিল্লা অথবা লালমাই – এ তিনটির যেকোন একটি হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে স্থানীয় সময় ১৯ জুলাই বুধবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘের হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরামে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ পরবর্তী এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ হয়ে গেছে। নামকরণের বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোন সময় এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
“দারিদ্র্য নির্মূল এবং পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক জাতিসংঘের ‘হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম (এইচএলপিএফ)’ এর কার্যক্রম শুরু হয় গত ১০ জুলাই থেকে। এটি শেষ হয় ১৯ জুলাই।
পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ সম্মেলনে যোগ দেয়। সম্মেলনে যোগদানের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতেই মূলত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহী মিনার সঞ্চালনায় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারি আবুল কালাম আজাদ, স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

16 July 2017

কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের বেহাল দশা

কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের বেহাল দশা


কয়েক মাস ধরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন এই সড়কে চলাচল করা হাজারো গাড়ির যাত্রীরা। ভাঙা সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে সময় নষ্ট, যানজট আর গাড়ি বিকল হওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকরা। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ৭২ কিলোমিটারের অধিকাংশই ভাঙা।
যাত্রী ও পরিবহন চালকরা জানান, কুমিল্লা পদুয়ার বাজারের পর থেকে ভাঙা শুরু। সেখানে কিছু ইট ফেলায় তা বিষফোঁড়ার মতো ফুলে উঠেছে। সেখানে গাড়ি চলছে হেলেদুলে। ধীর গতিতে গাড়ি চলায় সেখানে প্রায় যানজট লাগছে। বেশি ভয়াবহ অবস্থা বাগমারা বাজার ও লাকসাম জংশনের উত্তর দিকে। সেখানে গর্তে গাড়ির চাকা আটকে যাচ্ছে। ভাঙার কারণে বাগমারা বাজারে প্রতিনিয়ত যানজট লাগছে। এছাড়া লালমাই, হরিশ্চর, লাকসাম বাইপাস,খিলা, নাথেরপেটুয়া, বিপুলাসার, সোনাইমুড়ি, বেগমগঞ্জ থানা এলাকাসহ মাইজদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙা রয়েছে।  
লাকসামের পোলাইয়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান নামের একজন বাসযাত্রী জানান, ২-৩ মাস ধরে এ সড়কে স্বাভাবিক ভাবে যাতায়াত করা যায় না। বাস চলাচলের পর শরীরের গিটে গিটে ব্যথা হয়। মনে হয় চিকুনগুনিয়ার ব্যথা।
উপকূল বাস সার্ভিসের চালক মামুনুর রশিদ জানান, সড়ক ভাঙা হওয়ায় ঘন ঘন গাড়ি বিকল হচ্ছে। ভাঙা অংশ এলে যাত্রীরা ঝাঁকুনির ভয়ে বাস থেকে নেমে যেতে চান। দ্রুত সড়কটি মেরামত করা না হলে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
কুমিল্লা জেলা পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি অধ্যক্ষ কবির আহমেদ বলেন, কয়েক মাস ধরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল অবস্থা। আমাদের গাড়ি গুলো গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যাচ্ছে। যানজট লাগছে, যাত্রীরা কষ্ট পাচ্ছেন। সড়কটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।
সড়ক ও জনপদ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহম্মদ সাইফ উদ্দিন বলেন, আমরা কিছু অংশে ইট দিয়ে সংস্কার করেছি। এসড়কে ৫-৬মাসের মধ্যে ফোরলেনের কাজ শুরুর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে আমরা পদক্ষেপ নেবো।

29 June 2017

কুমিল্লার দর্শনীয় স্থানগুলোতে মানুষের ভীড়

কুমিল্লার দর্শনীয় স্থানগুলোতে মানুষের ভীড়


দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান কুমিল্লা ময়নামতি শালবন বিহার। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিতে দূর-দুরান্ত থেকে বেড়াতে আসা মানুষ ভীড় জমাচ্ছেন কুমিল্লার গর্বের এই দর্শনীয় স্থানে।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসবমুখর পরিবেশে গত সোমবার পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদ উল ফিতর। এই উৎসবকে ঘিরে বন্ধুবান্ধব আর পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে সাধারণ মানুষ ছুটে আসছেন কুমিল্লার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। কুমিল্লা ময়নামতি শালবন বিহার ও প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের সমাধিক্ষেত্র ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) শাহ সুজা মসজিদ, ধর্মসাগর, রূপসাগর, বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষ, রূপবানমুড়া কুটিলামুড়া, বার্ডসংলগ্ন জোড়কানন দীঘি, জগন্নাথ দীঘি, বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন, রামমালা পাঠাগার ও নাটমন্দির, লাকসাম রোড, নবাব ফয়জুন্নেছার বাড়ি, সঙ্গীতজ্ঞ শচীনদেব বর্মণের বাড়ি, রাজেশপুর বন বিভাগের পিকনিক স্পট, গোমতি নদী, কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী বেগম নার্গিসের বাড়ি, নবাব ফয়জুন্নেছার পৈতৃক বাড়ি ও কুমিল্লা চিড়িয়াখানাসহ অর্ধশতাধিক দর্শনীয় স্থান হাজার হাজার পর্যটকদের ভিড়ে হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
কুমিল্লার এইসব দর্শনীয় স্থনে শুধু দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নয় বিদেশি দর্শনার্থীদের দেখা মিলেছে অনেক বিদেশী দর্শনার্থীদেরও। তাইতো ঈদের ছুটিতে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে কুমিল্লা শালবন বিহারসহ জেলার বিভিন্ন বিনোদন স্থান গুলোতে। আবার কেউবা এসেছেন প্রিয়জনের সঙ্গে।
বাবা-মায়ের হাত ধরে ছেলে, ভাই বোন নিয়ে অনেকেই এসেছেন বিনোদনের জন্য।
ফেনী জেলা থেকে বেড়াতে আসা সুজন হোসেন বলেন, ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে সপরিবারে বেড়াতে এসেছি কুমিল্লা শালবন বিহারে। এসে দেখেছি শালবন বিহার শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি এখন বিশ্বের একটি ঐতিহাসিক স্থান। এই স্থানটিকে একনজর দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসে এখানে। সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি আলী আকবর মাসুম বলেন, ময়নামতি জাদুঘর, শালবন বিহারসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে মানুষের প্রচুর আগ্রহ রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় অন্য জেলার মানুষও কুমিল্লায় সহজে আসতে পারেন। তবে কোটবাড়ি এলাকায় আবাসিক ব্যবস্থা থাকলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।

23 June 2017

কুমিল্লায় খাদির পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে

কুমিল্লায় খাদির পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে

কুমিল্লায় খাদির পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে

কুমিল্লার ঈদবাজারে ঐতিহ্যবাহী খাদি কাপড়ের পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। এ ছাড়া দৃষ্টিনন্দন, আরামদায়ক এবং কম দাম হওয়ায় খাদি কাপড়ের থ্রি-পিস কিনছেন মহিলারা। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা খাদি কাপড় কিনছেন ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে। সাদা এবং রঙিন পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ৬শ থেকে ১২শ টাকা। থ্রি-পিসের দাম ৫শ থেকে ১০০০ টাকা। শার্ট ৪শ থেকে ৫শ টাকা। ফতুয়া ৪শ থেকে ৬শ টাকা। এছাড়া রয়েছে বিছানার চাদর, গায়ের চাদর, ছোটদের প্যান্ট-শার্টসহ বিভিন্ন পোশাক। কুমিল্লা মহানগরীর মনোহরপুর ও লাকসাম রোডে খাদিপণ্য বিক্রির পুরান দোকানগুলোর পাশাপাশি অনেক নতুন দোকান গড়ে উঠেছে। খাদি ব্যবসায়ীদের সূত্র জানায়, খাদির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতবর্ষের স্বাধিকার আন্দোলন ও বাঙালি ঐতিহ্য। এ কাপড় খাদে (গর্তে) বসে তৈরি করা হয় বলে এর নাম দেওয়া হয় ‘খাদি’। শতবর্ষের ঐতিহ্যের খাদি আলোচনায় আসে ১৯২১ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময়। তখন  মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে ভারতবর্ষে অসহযোগ আন্দোলনের সময় কুমিল্লায় খাদি শিল্প প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সেই সময় বিদেশি পণ্য বর্জন করার ডাক আসে। সর্বত্র এক আওয়াজ ‘মোটা কাপড়-মোটা ভাত’। সেই মোটা কাপড় এখন মিহি হয়েছে। কাপড়ে লেগেছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। কুমিল্লার খাদি এখন শৈল্পিকতার ছোঁয়ায় দেশ-বিদেশে সমাদৃত হয়ে আসছে। খাদির কাপড় যাচ্ছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। এ সুনাম অর্জিত হয়েছে বহু বছর ধরে অনেক কারিগর আর ব্যবসায়ীর অক্লান্ত পরিশ্রমে। খাদি কাপড়ের সঙ্গে এখন কয়েকটি দিক জড়িত রয়েছে। তা হচ্ছে তাঁতি, সুতা কাটুনী, ব্লক কাটার ও রঙের কারিগর। সবাই মিলে তৈরি করেন নান্দনিক খাদি কাপড়। বর্তমানে কুমিল্লা জেলায় দেড় হাজার পরিবার এই পেশায় জড়িত। মহানগরে খাদি কাপড়ের দোকান রয়েছে শতাধিক। খাদি শিল্পের প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন কুমিল্লা মহানগরের খাদি ঘরের তরুণী মোহন রাহা, খাদি কুটির শিল্পের শংকর সাহা, খাদি ভবনের দীনেশ দাশ, বিশুদ্ধ খদ্দরের মনমোহন দত্ত ও রাম নারায়ণ স্টোরের কৃষ্ণ সাহা।  
আমেরিকা প্রবাসী আকিলা রাব্বী জানান, তিনি প্রায় প্রতি বছর দেশে আসেন। দেশে এলে খাদির শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি ও থ্রি-পিস কেনেন। তিনি আমেরিকায় স্বজনদের জন্য কুমিল্লার ঐতিহ্যের খাদি কাপড় নিয়ে যান। কুমিল্লা মহানগরীর খাদি কাপড়ের প্রবীণ ব্যবসায়ী খাদিঘরের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার রাহা বলেন, কুমিল্লা খাদি শিল্পের একটা শক্ত ভিত আছে। বর্তমানে খাদি শিল্পে অনেক নতুন নতুন ডিজাইন এসেছে, কারণ ১৯২১ সালের প্রেক্ষাপট ও আজকের চাহিদা এক নয়। শতবর্ষের খাদিপণ্য তার গুণগত মান বজায় রেখে আধুনিকতার সংমিশ্রণে প্রতিযোগিতার বাজারে চাহিদা ধরে রেখেছে। পৃথিবীর যেখানে বাঙালি আছে সেখানে খাদি কাপড়ের প্রসার ঘটেছে। বাংলাদেশের বিদেশি দূতাবাসে খাদিসহ দেশি পণ্যের প্রদর্শনী করলে তা এ পণ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটাবে।
সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

19 June 2017

কুমিল্লা ধর্মসাগরের ইতিকথা

কুমিল্লা ধর্মসাগরের ইতিকথা


প্রাচীন আর সমৃদ্ধশালী জেলাগুলোর নাম বললে কুমিল্লার নামটা একদম উপরের দিকেই আসে, আর এ কারণে কুমিল্লা জেলাকে নিয়ে দেশের মানুষের একটা আলাদা আগ্রহ আছে কুমিল্লা জেলাতে ঘুরে দেখার কি আছে এ নিয়ে হরহামেশাই প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয় ,কিভাবে আসবো কুমিল্লা ? ঘুরে দেখার জায়গাগুলোতে কিভাবে যাবো ? খাবো কোথায় ?
প্রথমেই আসি কুমিল্লাতে দেখার মতো কি আছে যার টানে আপনি কুমিল্লা আসবেন ? অনেক জায়গা আছে যা দেখার জন্য আপনি রসমলাই এর জন্য বিখ্যাত কুমিল্লা জেলায় ঘুরে আসতে পারেন তাহলে শুরু করা যাক ? আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করব কুমিল্লা ধর্মসাগর নিয়ে

ইতিহাসঃ ত্রিপুরা রাজ্যের অধিপতি মহারাজ ধর্মমাণিক্য ১৪৫৮ সালে এই দীঘি খনন করেনজানা যায়, কুমিল্লা শহর ও তার আশেপাশের অঞ্চল সে সময় তাঁর রাজত্বের অধীন ছিল এবং এ অঞ্চলের জনগণের পানীয় জলের সুবিধার জন্য তিনি দীঘিটি খনন করেন ১৯৬৪ সালে দীঘিটির পশ্চিম ও উত্তর পাড়টি তদানিন্তন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের উদ্যোগে পাকা করা হয়এই অঞ্চলের মানুষের জলের কষ্ট নিবারণ করাই ছিল রাজার মূল উদ্দেশ্য রাজমালাগ্রন্থ আনুসারে মহারাজা সুদীর্ঘ ৩২ বৎসর রাজত্ব করেন (১৪৩১-৬২ খ্রি:) মহারাজা ধর্মমাণিক্যের নামানুসারে এর নাম রাখা হয় ধর্মসাগর ধর্মসাগর নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে বহু উপাখ্যান ও উপকথা

বিবরণঃ বর্তমানে ধর্মসাগরের আয়তন ২৩:১৮ একর এটির পূর্বে কুমিল্লা স্টেডিয়াম ও কুমিল্লা জিলা স্কুল, উত্তরাংশে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যান ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অবস্থিত কুমিল্লার শহরবাসীর নিকট এই দীঘিটি একটি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে এখানে অবকাশ উদযাপনের নিমিত্ত প্রতিদিন বিপুল জন সমাগম হয়ে থাকে এছাড়া সারাদেশেই ধর্মসাগরের প্রসিদ্ধি রয়েছে
ধর্মসাগরের উত্তর কোণে রয়েছে রাণীর কুঠির, পৌরপার্ক পূর্ব দিকে  কুমিল্লা স্টেডিয়াম আর পশ্চিম পাড়ে বসার ব্যবস্থা আছে স্থানীয় অধিবাসী ছাড়াও পর্যটকের আগমন ঘটে দিঘিপাড়ের সবুজ বড় বড় গাছের সারি ধর্মসাগরকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা তাছাড়াও শীতকালে ধর্মসাগরে প্রচুর অতিথি পাখির আগমন ঘটে

যেভাবে যেতে হবেঃ ধর্মসাগর কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিধায় শহরের যে কোন স্থান থেকে এখানে সহজে যাতায়াত করা যায়

কোথায় থাকবেনঃ কুমিল্লা শহরে অনেকগুলো ভাল মানের হোটেল আছে সেখানে থাকতে পারেন বার্ড খুব কাছে বার্ডে যোগাযোগ করলে সেখানেও থাকতে পারেন