Showing posts with label সর্বশেষ. Show all posts
Showing posts with label সর্বশেষ. Show all posts

18 August 2017

 ১০ কারণে কুমিল্লা নগরে জলাবদ্ধতা

১০ কারণে কুমিল্লা নগরে জলাবদ্ধতা


কুমিল্লা নগরে ১০টি কারণে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে শহরের সড়ক ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। গত কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে নাকাল হয়ে পড়েছে শহরের বেশির ভাগ মানুষ। পানি নামার সব পথ রুদ্ধ হওয়ায় এককালের সাজানো-গোছানো-পরিপাটি কুমিল্লা শহর এখন শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। আবাসিক শহরের এমন বিপর্যয় ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলছেন নগরবিদেরা।
কুমিল্লা শহরের আদি বাসিন্দা ও নগর ভবনের প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নগরের পানি নামার অন্তত ১০টি পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে কুমিল্লা নগরের টমছমব্রিজ মসজিদের নিচে কান্দিখালের প্রস্থ কমে যাওয়া ও খালের মধ্যে পিলার থাকা, বিসিক শিল্পনগরী লাগোয়া রেললাইনের পানি নামার পথ বন্ধ, বদরপুর রেলওয়ের অপ্রশস্ত কালভার্ট, দক্ষিণচর্থা ইপিজেড এলাকার নাসা স্পিনিং মিলের কারণে পানিপ্রবাহের পথ রুদ্ধ হওয়া, চাঁনপুর পুরাতন গোমতী নদীর স্তর ওপরে থাকা, কান্দিরপাড় সিটি হার্ট বিপণিবিতান এলাকার খালের প্রস্থ কমে যাওয়া, রেইসকোর্স রেলসেতুর সামনে খাল ভরাট, কাঠেরপুল খালের মধ্যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি, কান্দিরপাড় সিটি মার্কেট লাগোয়া নালার মধ্যে পিলার ও অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ।
গত বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পানি নামার রুদ্ধ জায়গাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, রেললাইনের কালভার্টের পানি নামার জায়গা ভরাট রয়েছে। সেখানে প্লট করা হয়েছে। দক্ষিণচর্থার যে পথ দিয়ে পানি নামত, সেখানে কুমিল্লা ইপিজেডের নাসা কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। কান্দিরপাড়ের টাউন হল লাগোয়া সিটি মার্কেট তৈরির সময় নালার মধ্যে পিলার বসানো আছে। এতে করে পানিপ্রবাহ এক প্রকার বন্ধই রয়েছে। একই অবস্থা কান্দিরপাড় সিটি হার্ট বিপণিবিতানের খালের। আগে ওই খাল ছয় ফুট প্রস্থ ছিল, এখন সেটি সাড়ে তিন ফুটে নেমে এসেছে। কাঠেরপুল খালের মধ্যে যত্রতত্র পিলার বসিয়ে ব্যক্তিগত কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
কুমিল্লার ইতিহাসবিদ গোলাম ফারুক বলেন, ‘১৯২১ সালে কুমিল্লা টাউন সার্ভে (জরিপ) হয়েছিল। তখন শহরের কোথায় 
কী হবে, তা উল্লেখ করা ছিল। কিন্তু সে জরিপের তোয়াক্কা না করে বাসাবাড়ি বানানো হচ্ছে। কুমিল্লা শহরের পানি নামার অন্তত ১০টি পথ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা ক্রমেই দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। আমাদের ছেলেবেলায় কুমিল্লা শহর অত্যন্ত সুন্দর ছিল। এখন সেই রূপ আর নেই। শহরকে সুন্দর রাখার জন্য কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ করতে হবে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের কারণে বাসাবাড়ির পানি নামতে পারছে না। যে যার মতো করে ইমারত নির্মাণ করছে। কেউ বিধিমালা মানছে না।
কুমিল্লার প্রকৌশলী আবুল বাশার বলেন, কুমিল্লা নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য ১৯৯৬ সালে বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলীদের নিয়ে একটি সভা হয়েছিল। ওই সভায় নানা ধরনের কর্মকৌশল ঠিক করা হয়। এরপর সেটি আর এগোয়নি।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. নুরুল্লাহ বলেন, পানি নামার সব উৎসমুখ ভরাট করা হয়েছে। নগরবাসী সচেতন না হলে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। এগুলোর দৈন্যের কারণে পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ কুমিল্লাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শহর হিসেবে তৈরি করতে মহাপরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী নগরের জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।
সূত্রঃ প্রথম আলো

31 July 2017

ঘুরে আসুন কুমিল্লা ঢুলিপাড়ার ফানটাউনে

ঘুরে আসুন কুমিল্লা ঢুলিপাড়ার ফানটাউনে


মাত্র এক বছরে কুমিল্লার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে ভার্চুয়াল ফান টাউন। গত পহেলা বৈশাখে নগরীর ঢুলিপাড়া এলাকায় এ বিনোদন কেন্দ্রটি যাত্রা শুরু করে। যাত্রা শুরুর পর থেকে আধুনিক মানের সর্ববৃহৎ এ বিনোদন কেন্দ্রে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার দর্শনার্থী।
কুমিল্লা নগরীর মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় একটু অবসরেরই সকলে সপরিবারে বিনোদনের জন্য ছুটছেন ফান টাউনে। চমকপ্রদ সব রাইড আর মনমুগ্ধকর পরিবেশ সব বয়সী মানুষকে আকৃষ্ট করে।
ফান টাউনে রয়েছে 15D সিনেমা থিয়েটার। নাগরদোলা, ট্রেন, বাম্পার কার, প্যাডেল বোট, সুইংচেয়ার, মেরিগো রাউন্ড, সেল্ফ কন্ট্রোল এরোপ্লেন ছাড়াও রয়েছে অন্যান্য ইনডোর ও আউটডোর রাইড যা কুমিল্লার আর কোন বিনোদন কেন্দ্রে নেই।
এছাড়া বিশেষ বিশেষ দিবসে ফান টাউনে থাকে আকর্ষণীয় সব আয়োজন। কোন প্রতিষ্ঠান অথবা যেকেউ চাইলে ফান টাউনে আয়োজন করতে পারে কনসার্ট, ডিজে কিংবা যে কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এদিকে প্রথম বর্ষপূর্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ৮ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ভার্চুয়াল ফান টাউন। ১৩ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এ উৎসবে প্রতিদিনই থাকবে নানা ধরনের ব্যাতিক্রমি আয়োজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ভার্চুয়াল ফান টাউনের ব্যবস্থাপক নুরে আলম জিকো জানান, আগামী পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রথম বর্ষপূর্তি। বর্ষপূর্তি আমরা বিশেষ সব আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালন করব। এছাড়া অন্যান্য দিবসের মত বাংলা নববর্ষ উপলক্ষেও থাকবে বিশেষ আয়োজন। ১৩ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ৮ দিনিরে “বাঙ্গালী সংস্কৃতির মহা উৎসব ১৪২৪” পালন করব আমরা।
ভার্চুয়াল ফান টাউনের স্বত্বাধিকারী পারভেজ আহমেদ জানান, কুমিল্লাসহ আশেপাশের জেলার মানুষের বিনোদনের জন্য আমি এ বিনোদন কেন্দ্রটি করেছে। ইতিমধ্যে গত একবছরে দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। প্রথম বর্ষপূর্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে সবাইকে আমন্ত্রন জানাচ্ছি।

23 July 2017

কুমিল্লা বোর্ডে ফল বিপর্যয়ের কারণ

কুমিল্লা বোর্ডে ফল বিপর্যয়ের কারণ


২০১৭ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ভয়াবহ ফল বিপর্যয়ে পড়েছে কুমিল্লা বোর্ড। গেল বছরে যেখানে পাসের হার ছিল ৮৪ শতাংশ। হঠাৎ করেই এ বছর প্রায় অর্ধেকে নেমে ৪৯.৫২ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৬৭৮ জন।
দেশের সব শিক্ষা বোডের্র মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডের অবস্থান একেবারেই তলানিতে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। শিক্ষকরাও হতবাক হয়ে গেছেন।
সূত্রমতে, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে পাসের হার কোনোভাবেই ৯০ থেখে ৮৪ শতাংশের নিচে আসেনি। ২০১৩ সালে এ হার ছিল ৯০.৪১ শতাংশ। পরের বছর ২০১৪ সালে পাস করে ৮৯.৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী। এরপর ২০১৫ সালে এসে পাসের হার দেখা গেছে ৮৪.২২ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থীরা পাস করে। 
গেল তিন বছরে পাসের হার নিম্নগামী দেখা গেলেও তা যে অর্ধেকে নেমে আসবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। রোববার (২৩ জুলাই) ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু শিক্ষক বলছেন, এইচএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় যার ফেল করে তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আর এটা হচ্ছে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের তদবিরে। এ কারণে পাসের হারে এমন বিপর্যয় দেখা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, যারা নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করছে তাদের প্রভাবশালী আত্মীয় স্বজন প্রভাব খাটিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অনুমোদন দিতে শিক্ষকদের বাধ্য করছেন। যার ফলে এমন পরিণতি দেখা গেছে। 
তবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমদ বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি মনে করছেন গণিত ও ইংরেজিতে ফলাফল খারাপ করছে পরীক্ষার্থীরা। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলাফলে। তবে তার দাবি, শহর কেন্দ্রিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো ফলাফল হয়েছে।

22 July 2017

কুমিল্লা বিভাগের নাম হবে ময়নামতি, কুমিল্লা অথবা লালমাই

কুমিল্লা বিভাগের নাম হবে ময়নামতি, কুমিল্লা অথবা লালমাই


বহুল আলোচিত কুমিল্লা বিভাগের নাম ময়নামতি, কুমিল্লা অথবা লালমাই – এ তিনটির যেকোন একটি হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে স্থানীয় সময় ১৯ জুলাই বুধবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘের হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরামে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ পরবর্তী এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ হয়ে গেছে। নামকরণের বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোন সময় এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
“দারিদ্র্য নির্মূল এবং পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক জাতিসংঘের ‘হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম (এইচএলপিএফ)’ এর কার্যক্রম শুরু হয় গত ১০ জুলাই থেকে। এটি শেষ হয় ১৯ জুলাই।
পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ সম্মেলনে যোগ দেয়। সম্মেলনে যোগদানের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতেই মূলত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহী মিনার সঞ্চালনায় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারি আবুল কালাম আজাদ, স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

16 July 2017

কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের বেহাল দশা

কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের বেহাল দশা


কয়েক মাস ধরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন এই সড়কে চলাচল করা হাজারো গাড়ির যাত্রীরা। ভাঙা সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে সময় নষ্ট, যানজট আর গাড়ি বিকল হওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকরা। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ৭২ কিলোমিটারের অধিকাংশই ভাঙা।
যাত্রী ও পরিবহন চালকরা জানান, কুমিল্লা পদুয়ার বাজারের পর থেকে ভাঙা শুরু। সেখানে কিছু ইট ফেলায় তা বিষফোঁড়ার মতো ফুলে উঠেছে। সেখানে গাড়ি চলছে হেলেদুলে। ধীর গতিতে গাড়ি চলায় সেখানে প্রায় যানজট লাগছে। বেশি ভয়াবহ অবস্থা বাগমারা বাজার ও লাকসাম জংশনের উত্তর দিকে। সেখানে গর্তে গাড়ির চাকা আটকে যাচ্ছে। ভাঙার কারণে বাগমারা বাজারে প্রতিনিয়ত যানজট লাগছে। এছাড়া লালমাই, হরিশ্চর, লাকসাম বাইপাস,খিলা, নাথেরপেটুয়া, বিপুলাসার, সোনাইমুড়ি, বেগমগঞ্জ থানা এলাকাসহ মাইজদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙা রয়েছে।  
লাকসামের পোলাইয়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান নামের একজন বাসযাত্রী জানান, ২-৩ মাস ধরে এ সড়কে স্বাভাবিক ভাবে যাতায়াত করা যায় না। বাস চলাচলের পর শরীরের গিটে গিটে ব্যথা হয়। মনে হয় চিকুনগুনিয়ার ব্যথা।
উপকূল বাস সার্ভিসের চালক মামুনুর রশিদ জানান, সড়ক ভাঙা হওয়ায় ঘন ঘন গাড়ি বিকল হচ্ছে। ভাঙা অংশ এলে যাত্রীরা ঝাঁকুনির ভয়ে বাস থেকে নেমে যেতে চান। দ্রুত সড়কটি মেরামত করা না হলে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
কুমিল্লা জেলা পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি অধ্যক্ষ কবির আহমেদ বলেন, কয়েক মাস ধরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল অবস্থা। আমাদের গাড়ি গুলো গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যাচ্ছে। যানজট লাগছে, যাত্রীরা কষ্ট পাচ্ছেন। সড়কটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।
সড়ক ও জনপদ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহম্মদ সাইফ উদ্দিন বলেন, আমরা কিছু অংশে ইট দিয়ে সংস্কার করেছি। এসড়কে ৫-৬মাসের মধ্যে ফোরলেনের কাজ শুরুর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে আমরা পদক্ষেপ নেবো।

29 June 2017

কুমিল্লার দর্শনীয় স্থানগুলোতে মানুষের ভীড়

কুমিল্লার দর্শনীয় স্থানগুলোতে মানুষের ভীড়


দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান কুমিল্লা ময়নামতি শালবন বিহার। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিতে দূর-দুরান্ত থেকে বেড়াতে আসা মানুষ ভীড় জমাচ্ছেন কুমিল্লার গর্বের এই দর্শনীয় স্থানে।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসবমুখর পরিবেশে গত সোমবার পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদ উল ফিতর। এই উৎসবকে ঘিরে বন্ধুবান্ধব আর পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে সাধারণ মানুষ ছুটে আসছেন কুমিল্লার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। কুমিল্লা ময়নামতি শালবন বিহার ও প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের সমাধিক্ষেত্র ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) শাহ সুজা মসজিদ, ধর্মসাগর, রূপসাগর, বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষ, রূপবানমুড়া কুটিলামুড়া, বার্ডসংলগ্ন জোড়কানন দীঘি, জগন্নাথ দীঘি, বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন, রামমালা পাঠাগার ও নাটমন্দির, লাকসাম রোড, নবাব ফয়জুন্নেছার বাড়ি, সঙ্গীতজ্ঞ শচীনদেব বর্মণের বাড়ি, রাজেশপুর বন বিভাগের পিকনিক স্পট, গোমতি নদী, কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী বেগম নার্গিসের বাড়ি, নবাব ফয়জুন্নেছার পৈতৃক বাড়ি ও কুমিল্লা চিড়িয়াখানাসহ অর্ধশতাধিক দর্শনীয় স্থান হাজার হাজার পর্যটকদের ভিড়ে হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
কুমিল্লার এইসব দর্শনীয় স্থনে শুধু দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নয় বিদেশি দর্শনার্থীদের দেখা মিলেছে অনেক বিদেশী দর্শনার্থীদেরও। তাইতো ঈদের ছুটিতে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে কুমিল্লা শালবন বিহারসহ জেলার বিভিন্ন বিনোদন স্থান গুলোতে। আবার কেউবা এসেছেন প্রিয়জনের সঙ্গে।
বাবা-মায়ের হাত ধরে ছেলে, ভাই বোন নিয়ে অনেকেই এসেছেন বিনোদনের জন্য।
ফেনী জেলা থেকে বেড়াতে আসা সুজন হোসেন বলেন, ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে সপরিবারে বেড়াতে এসেছি কুমিল্লা শালবন বিহারে। এসে দেখেছি শালবন বিহার শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি এখন বিশ্বের একটি ঐতিহাসিক স্থান। এই স্থানটিকে একনজর দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসে এখানে। সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি আলী আকবর মাসুম বলেন, ময়নামতি জাদুঘর, শালবন বিহারসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে মানুষের প্রচুর আগ্রহ রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় অন্য জেলার মানুষও কুমিল্লায় সহজে আসতে পারেন। তবে কোটবাড়ি এলাকায় আবাসিক ব্যবস্থা থাকলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।

23 June 2017

কুমিল্লায় খাদির পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে

কুমিল্লায় খাদির পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে

কুমিল্লায় খাদির পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে

কুমিল্লার ঈদবাজারে ঐতিহ্যবাহী খাদি কাপড়ের পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। এ ছাড়া দৃষ্টিনন্দন, আরামদায়ক এবং কম দাম হওয়ায় খাদি কাপড়ের থ্রি-পিস কিনছেন মহিলারা। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা খাদি কাপড় কিনছেন ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে। সাদা এবং রঙিন পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ৬শ থেকে ১২শ টাকা। থ্রি-পিসের দাম ৫শ থেকে ১০০০ টাকা। শার্ট ৪শ থেকে ৫শ টাকা। ফতুয়া ৪শ থেকে ৬শ টাকা। এছাড়া রয়েছে বিছানার চাদর, গায়ের চাদর, ছোটদের প্যান্ট-শার্টসহ বিভিন্ন পোশাক। কুমিল্লা মহানগরীর মনোহরপুর ও লাকসাম রোডে খাদিপণ্য বিক্রির পুরান দোকানগুলোর পাশাপাশি অনেক নতুন দোকান গড়ে উঠেছে। খাদি ব্যবসায়ীদের সূত্র জানায়, খাদির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতবর্ষের স্বাধিকার আন্দোলন ও বাঙালি ঐতিহ্য। এ কাপড় খাদে (গর্তে) বসে তৈরি করা হয় বলে এর নাম দেওয়া হয় ‘খাদি’। শতবর্ষের ঐতিহ্যের খাদি আলোচনায় আসে ১৯২১ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময়। তখন  মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে ভারতবর্ষে অসহযোগ আন্দোলনের সময় কুমিল্লায় খাদি শিল্প প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সেই সময় বিদেশি পণ্য বর্জন করার ডাক আসে। সর্বত্র এক আওয়াজ ‘মোটা কাপড়-মোটা ভাত’। সেই মোটা কাপড় এখন মিহি হয়েছে। কাপড়ে লেগেছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। কুমিল্লার খাদি এখন শৈল্পিকতার ছোঁয়ায় দেশ-বিদেশে সমাদৃত হয়ে আসছে। খাদির কাপড় যাচ্ছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। এ সুনাম অর্জিত হয়েছে বহু বছর ধরে অনেক কারিগর আর ব্যবসায়ীর অক্লান্ত পরিশ্রমে। খাদি কাপড়ের সঙ্গে এখন কয়েকটি দিক জড়িত রয়েছে। তা হচ্ছে তাঁতি, সুতা কাটুনী, ব্লক কাটার ও রঙের কারিগর। সবাই মিলে তৈরি করেন নান্দনিক খাদি কাপড়। বর্তমানে কুমিল্লা জেলায় দেড় হাজার পরিবার এই পেশায় জড়িত। মহানগরে খাদি কাপড়ের দোকান রয়েছে শতাধিক। খাদি শিল্পের প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন কুমিল্লা মহানগরের খাদি ঘরের তরুণী মোহন রাহা, খাদি কুটির শিল্পের শংকর সাহা, খাদি ভবনের দীনেশ দাশ, বিশুদ্ধ খদ্দরের মনমোহন দত্ত ও রাম নারায়ণ স্টোরের কৃষ্ণ সাহা।  
আমেরিকা প্রবাসী আকিলা রাব্বী জানান, তিনি প্রায় প্রতি বছর দেশে আসেন। দেশে এলে খাদির শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি ও থ্রি-পিস কেনেন। তিনি আমেরিকায় স্বজনদের জন্য কুমিল্লার ঐতিহ্যের খাদি কাপড় নিয়ে যান। কুমিল্লা মহানগরীর খাদি কাপড়ের প্রবীণ ব্যবসায়ী খাদিঘরের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার রাহা বলেন, কুমিল্লা খাদি শিল্পের একটা শক্ত ভিত আছে। বর্তমানে খাদি শিল্পে অনেক নতুন নতুন ডিজাইন এসেছে, কারণ ১৯২১ সালের প্রেক্ষাপট ও আজকের চাহিদা এক নয়। শতবর্ষের খাদিপণ্য তার গুণগত মান বজায় রেখে আধুনিকতার সংমিশ্রণে প্রতিযোগিতার বাজারে চাহিদা ধরে রেখেছে। পৃথিবীর যেখানে বাঙালি আছে সেখানে খাদি কাপড়ের প্রসার ঘটেছে। বাংলাদেশের বিদেশি দূতাবাসে খাদিসহ দেশি পণ্যের প্রদর্শনী করলে তা এ পণ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটাবে।
সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

19 June 2017

কুমিল্লা ধর্মসাগরের ইতিকথা

কুমিল্লা ধর্মসাগরের ইতিকথা


প্রাচীন আর সমৃদ্ধশালী জেলাগুলোর নাম বললে কুমিল্লার নামটা একদম উপরের দিকেই আসে, আর এ কারণে কুমিল্লা জেলাকে নিয়ে দেশের মানুষের একটা আলাদা আগ্রহ আছে ।কুমিল্লা জেলাতে ঘুরে দেখার কি আছে এ নিয়ে হরহামেশাই প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয় ,কিভাবে আসবো কুমিল্লা ? ঘুরে দেখার জায়গাগুলোতে কিভাবে যাবো ? খাবো কোথায় ?
প্রথমেই আসি কুমিল্লাতে দেখার মতো কি আছে যার টানে আপনি কুমিল্লা আসবেন ? অনেক জায়গা আছে যা দেখার জন্য আপনি রসমলাই এর জন্য বিখ্যাত কুমিল্লা জেলায় ঘুরে আসতে পারেন। তাহলে শুরু করা যাক ? আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করব কুমিল্লা ধর্মসাগর নিয়ে।

ইতিহাসঃ ত্রিপুরা রাজ্যের অধিপতি মহারাজ ধর্মমাণিক্য ১৪৫৮ সালে এই দীঘি খনন করেন।জানা যায়, কুমিল্লা শহর ও তার আশেপাশের অঞ্চল সে সময় তাঁর রাজত্বের অধীন ছিল এবং এ অঞ্চলের জনগণের পানীয় জলের সুবিধার জন্য তিনি দীঘিটি খনন করেন। ১৯৬৪ সালে দীঘিটির পশ্চিম ও উত্তর পাড়টি তদানিন্তন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের উদ্যোগে পাকা করা হয়। এই অঞ্চলের মানুষের জলের কষ্ট নিবারণ করাই ছিল রাজার মূল উদ্দেশ্য। “রাজমালা” গ্রন্থ আনুসারে মহারাজা সুদীর্ঘ ৩২ বৎসর রাজত্ব করেন (১৪৩১-৬২ খ্রি:)। মহারাজা ধর্মমাণিক্যের নামানুসারে এর নাম রাখা হয় ধর্মসাগর। ধর্মসাগর নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে বহু উপাখ্যান ও উপকথা।

বিবরণঃ বর্তমানে ধর্মসাগরের আয়তন ২৩:১৮ একর। এটির পূর্বে কুমিল্লা স্টেডিয়াম ও কুমিল্লা জিলা স্কুল, উত্তরাংশে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যান ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অবস্থিত। কুমিল্লার শহরবাসীর নিকট এই দীঘিটি একটি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এখানে অবকাশ উদযাপনের নিমিত্ত প্রতিদিন বিপুল জন সমাগম হয়ে থাকে। এছাড়া সারাদেশেই ধর্মসাগরের প্রসিদ্ধি রয়েছে।
ধর্মসাগরের উত্তর কোণে রয়েছে রাণীর কুঠির, পৌরপার্ক। পূর্ব দিকে  কুমিল্লা স্টেডিয়াম আর পশ্চিম পাড়ে বসার ব্যবস্থা আছে। স্থানীয় অধিবাসী ছাড়াও পর্যটকের আগমন ঘটে। দিঘিপাড়ের সবুজ বড় বড় গাছের সারি ধর্মসাগরকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। তাছাড়াও শীতকালে ধর্মসাগরে প্রচুর অতিথি পাখির আগমন ঘটে।

যেভাবে যেতে হবেঃ ধর্মসাগর কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিধায় শহরের যে কোন স্থান থেকে এখানে সহজে যাতায়াত করা যায়।

কোথায় থাকবেনঃ কুমিল্লা শহরে অনেকগুলো ভাল মানের হোটেল আছে। সেখানে থাকতে পারেন। বার্ড খুব কাছে। বার্ডে যোগাযোগ করলে সেখানেও থাকতে পারেন।

17 June 2017

কুমিল্লার তরিকুল বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম

কুমিল্লার তরিকুল বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম


দুবাই কোরআন অ্যাওয়ার্ড জিতল বাংলাদেশি বালক হাফেজ কুমিল্লার সন্তান মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুবাইয়ের কালচারাল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শাইখ আহমাদ বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম।
২১ তম দুবাই ইন্টারন্যাশনাল হলি কোরআন অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার হিসেবে তরিকুলকে আড়াই লাখ দিরহাম দেয়া হয়। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫৩ লাখ টাকা। তরিকুল কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার মালিগাঁও গ্রামের মো. আবু বকর সিদ্দিক ও তহুরা বেগম দম্পতির সন্তান। তরিকুলের বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক।
প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১০৩ জন প্রতিযোগীকে পিছনে পেলে প্রথম স্থান অর্জন করে ১৩ বছর বয়সী তরিকুল ইসলাম।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধর্ম ও আওকাফ মন্ত্রণালয় ‘শায়খা হিন্দ কিনতে মাককতুম কোরআন প্রতিযোগিতা’ শিরোনামে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
কুমিল্লার সন্তান হাফেজ তরিকুল ইসলাম যাত্রাবাড়ীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার ছাত্র।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ২১তম আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১০৩ জন প্রতিযোগীকে পিছনে পেলে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ১৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি হাফেজ মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
আল-কোরআন পুরস্কার সংস্থার প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম বু মুলহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, দুবাই ও উত্তর আমিরাত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল এস বদিরুজ্জামান, কনস্যুলেটের লেবার কাউন্সিলর এএসএম জাকির হোসেন, আমিরাতের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন দেশে থেকে আগত অতিথি।
অন্যান্য বিজয়ীয়া হলেন, যথাক্রমে হুজাইফ সিদ্দিকী (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), মাদুর জোবে (গাম্বিয়া), আহমেদ বিন আব্দুল আজিজ ইব্রাহিম ওবাইদাহ (সৌদি আরব), রশিদ ইবনে আবদুল রহমান আলানি (তিউনিশিয়া), মোহনা আহমেদ (বাহরাইন), মোহাম্মদ হাদি আল-বশির (লিবিয়া), ওমর মাহমুদ সায়েদ আলী সৈয়দ আহমেদ রিফাই (কুয়েত), মোহামমু আবেকা (মৌরিতানিয়া), হাবিনানা মিকিনি (রওয়ানা) এবং মোহামেদ ইসমাইল মোহাম্মদ নাগিব তাহা (মিশর)।

সূত্রঃ যুগান্তর

16 June 2017

বেড়িয়ে আসুন লাকসামের দর্শনীয় স্থান ও জমিদারি রাজমহল

বেড়িয়ে আসুন লাকসামের দর্শনীয় স্থান ও জমিদারি রাজমহল


শতবর্ষের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনীতি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে লাকসাম পরিচিত। অতীতের হোমনাবাদ ও মেহেরকুল পরগনার স্মৃতিবিজড়িত অমর কাহিনী ও মহাপুরুষ আধ্যাত্মিক পীর-আউলিয়ার আগমন ও কিছু স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে লাকসাম। লাকসামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত দেশের অন্যতম ডাকাতিয়া নদী। এশিয়ার মহীয়সী নারী ও নারী শিক্ষার অগ্রদূত ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ কর্তৃক নবাব উপাধিতে ভূষিত নবাব ফয়জুন্নেছার জন্মস্থান ও জমিদার বাড়ি। অতীতে গৌরব করার মতো যা ছিল বর্তমানে লাকসামে তাই আছে।

লাকসাম যেভাবে নামকরণঃ
অতীতের হোমনাবাদ এলাকার একটি অংশ লক্ষ্যস্যাম। স্যাম মানে বন্ধু। এ এলাকায় এক সময় ছিল লক্ষবন্ধুর বসবাস। লাটসাব ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের জমিদারি ছিল বেশি। অতীতের লক্ষ্যস্যাম থেকেই লাকসাম নামকরণের উত্পত্তি হয় এবং বর্তমানে লাকসাম উপজেলা।

লাকসাম এসে যা দেখবেনঃ
কত লাকসাম কত বাত্তি নামে খ্যাত লাকসাম এসে দেখবেন, দেখার সার্থক হবে প্রথমেই শতবর্ষের নির্মিত ঐতিহ্যবাহী লাকসাম রেলওয়ে জংশন। এ রেলওয়ে জংশনে প্রতিদিন শত শত লোক ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, চাঁদপুর ও নোয়াখালী ট্রেনে করে উঠানামা করছে। লাকসাম রেলওয়ে জংশনে বিভিন্নমুখী ট্রেনগুলো এসে থেমেই মানুষের পদভারে মুখরিত হয়। সব দৃশ্য রেলওয়ে জংশনের ওভারব্রিজে দাঁড়িয়ে দেখার মতো। পৌর শহরের পশ্চিমগাঁওতে ঐতিহ্যবাহী দেশের অন্যতম ডাকাতিয়া নদীর তীর ঘেঁষে এশিয়ার মহীয়সী নারী বাংলাদেশের খ্যাতিমান মহিলা নওয়াব ফয়েজুন্নেছা জমিদার বাড়ি, খান বাহাদুর বাড়ি, বাগিছা বাড়ি, ১০ গম্বুজ মসজিদ, নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ, নওয়াব ফয়জুন্নেছা ও বদরুন্নেছা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়; এছাড়া আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ হজরত গাজীউল হক সাহেবের মাজার শরীফ। যে মাজারে প্রতিদিন লোকজন এসে ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রদান করছে। এ মাজারে কেউ মিলাদ পড়ায়। আবার কেউ পাশেই সুরম্য প্রাচীন কালে নির্মিত মসজিদে নামাজ আদায় করে। অতীত দিনের স্মৃতি দৌলতগঞ্জ জগন্নাথ মন্দির, এক সময়ে অতুল হাই বর্তমানে লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। লাকসামের শেষ প্রান্তে পশ্চিম চিতোষীতে নাটেশ্বরে বিরাট আকারের দীঘি ও প্রাচীন মসজিদ, লাকসামের বরইগাঁও আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহার কমপ্লেক্সসহ লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, উহার পাশেই কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেড ভবন, যা এখন পরিত্যক্ত, প্রথম শ্রেণীর লাকসাম পৌরসভা ভবন, গণপাঠাগার, গণমিলনায়তন, স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়, পূর্ব লাকসামে স্থাপিত আলতাফ অটোমেটিক রাইস মিল, নশরতপুরে ভাইয়া গ্রুপের অটোমেটিক রাইস মিল, থ্রি এ ও গোল্ড কিং সিগারেট ফ্যাক্টরি, মামুন বিড়ি, দিদার বিড়ি, রূপালী বিড়ি ফ্যাক্টরি, আজম খানের দেয়া লাকসাম স্টেডিয়াম, হিন্দু সমপ্রদায়ের পূজামণ্ডপের স্থান মুক্তকেশী কালীবাড়ী, ফতেপুরে আবুল খায়ের গ্রুপ নির্মিত আবুল বিড়ি ফ্যাক্টরি, রেলি ও সুপার কিং ফ্যাক্টরি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ ভাইয়া গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সোহাগ মত্স্য বীজ উত্পাদন ও প্রজনন খামার, গাজীমুড়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রমুখ।

ঐতিহ্যবাহী ডাকাতিয়া নদীঃ
লাকসামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে দেশের অন্যতম ডাকাতিয়া নদী। ডাকাতিয়া নদী ভারতের রঘুনন্দন পাহাড় থেকে উত্পত্তি হয়ে নিজ গতিতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উত্তর দিয়ে লাকসামে প্রবেশ করেছে। ডাকাতিয়া নদীর দৈর্ঘ্য ৭৫ কিমি, প্রস্থ ২৫০ ফুট। বর্তমান গড় গভীরতা ৪০ ফুট।

নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর নবাববাড়িঃ
এশিয়ার মহীয়সী নারী বাংলাদেশের গৌরব নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী। লাকসামের ডাকাতিয়া নদীর উত্তর তীরে খান বাহাদুর বাড়িতে নবাব ফয়জুন্নেছা জন্মগ্রহণ করেন। ফয়জুন্নেছার জন্ম ১৮৩৪ সালে। রূপজালাল নামক গ্রন্থ বাংলাভাষায় লিখিত মহিলাদের মধ্যে সর্বাগ্রে প্রকাশিত বই। মহিলা লেখিকাদের পথপ্রদর্শক ছিলেন নবাব ফয়জুন্নেছা। সাহিত্যের ইতিহাসে এটি এক বিরল দৃষ্টান্ত। নবাব ফয়জুন্নেছার রূপজালাল কাব্যগ্রন্থ তার স্বামী গাজী চৌধুরীর নামে উত্সর্গ করেছেন। ফয়জুন্নেছার পিতার নাম সৈয়দ আহম্মদ আলী চৌধুরী। তার মাতার নাম আরফান্নেছা চৌধুরানী। ভাইবোনদের মধ্যে ফয়জুন্নেছাই জমিদারি পরিচালনার প্রশিক্ষণ পান। হোমনাবাদ পরগনার বিরাট জমিদারি তিনি পরিচালনা করেন। ফয়জুন্নেছার গৃহশিক্ষক ছিলেন তাজ উদ্দিন। ১৯০৩ সালের অক্টোবর মাসে ১৩১০ বাংলা ২০ আশ্বিন নবাব ফয়জুন্নেছা ইন্তেকাল করেন। তার জমিদারির ১১টি কাচারির মধ্যে প্রত্যেকটির পাশে বিশুদ্ধ পানির জন্য পুকুর কাটান এবং মক্তব ও প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তিনি ইসলামী কায়দায় বোরকা পরে পালকিতে করে প্রত্যেকের সুখ-দুঃখ দেখতে গ্রামে গ্রামে যান। বালিকা বিদ্যালয় কালের সাক্ষ্যবহন করেছে।
নবাব বাড়ির বালিকা বিদ্যালয়টি কালক্রমে লাকসাম পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে রূপ নিয়েছে। লাকসামের নবাব ফয়জুন্নেছা একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে বাংলাদেশ তথা সমগ্র এশিয়া অতঃপর বিশ্বে তার নাম ছড়িয়ে রয়েছে। তার নাম গুণকীর্তন করে দেশের মানুষ ধন্য হচ্ছে।
সাহিত্যচর্চায় নবাব ফয়জুন্নেছার প্রতিভা দুনিয়ার মানুষ স্বীকার করেছে। এক তথ্যে জানা যায়, গাজি চৌধুরী প্রথমে বিয়ে করেন বেগম নজমুন্নেছাকে। সতীন যাতনায় অতিষ্ঠ হয়ে ফয়জুন্নেছা বাকশার গ্রামে অল্প কিছুদিন থেকে পরে লাকসামের পশ্চিমগাঁওতে স্থায়ী বসবাস করেন। শেষ বয়সে গাজী চৌধুরী দারুণ ব্যথা-বেদনায় কুমিল্লা শহরের মীর বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলাদেশের গৌরব নবাব ফয়জুন্নেছার স্বামীর বাড়ি বরুড়া উপজেলার বাকশার গ্রামে। বর্তমানে ধ্বংসের প্রদীপ হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সৈয়দ এনায়েত উল হক চৌধুরী। নবাব ফয়জুন্নেছার দুই মেয়ের মধ্যে বদরুন্নেছা চৌধুরানীকে পশ্চিমগাঁওতে এবং সৈয়দা আসাদুন্নেছা চৌধুরানীকে বিয়ে দেন হবিগঞ্জ জেলার পইল জমিদার সৈয়দ ওয়াসেকুল হকের সঙ্গে। কুমিল্লা শহরে ১৮৭৩ সালে নবাব ফয়জুন্নেছা দুটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। শহরের পূর্ব প্রান্তে নাজুয়া দীঘির পাড়ে প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং দ্বিতীয়টি বাদুরতলাতে উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। নবাব ফয়জুন্নেছার বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের দুই বছর পর স্যার সৈয়দ আহম্মদ আলী গড়ে ১৮৭৫ সালে প্রথম মুসলিম কলেজ অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজ পরবর্তী সময়ে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় খ্যাত স্থাপন করেন।
নবাব ফয়জুন্নেছা ছিলেন নারী শিক্ষার অগ্রনায়িকা। অন্ধকার যুগের আলোর দিশারী মহীয়সী নারীর স্মৃতি এখন বহন করছে। নবাব ফয়জুন্নেছা মক্কা শরীফে মুসাফির খানা ও মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন এবং মাওলাতিয়া মাদ্রাসা স্থাপনে তিনি সাহায্য করেন। ১৮৯৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্নে নবাব ফয়েজুন্নেছা প্রচুর অর্থ সাহায্য করেন। নবাব ফয়েজুন্নেছা রচিত কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে। মিশ্র ভাষারীতির লেখিকা গদ্য ও পদ্যে তার গ্রন্থ রচনা করেন। রূপজালালের কাহিনী আদিভৌতি কথায় পরিপূর্ণ। লিখিকা ভাষা রীতিতে তত্সম শব্দের ওপর বিশেষভাবে দুর্বলতা প্রকাশ করেন। তার রচনায় মধ্যযুগীয় ও পুঁথি সাহিত্যের প্রভাব ফুটে ওঠে শীমাইল রাজপুত্র জালাল ও রাক্ষস পালিতা সাধুপুত্রী রূপভানুকে কেন্দ্র করে। লাকসামে নবাব ফয়জুন্নেছার বাড়ির পাশে ১০ গম্বুজ মসজিদের পাশে দক্ষিণ পারিবারিক কবরে স্থান নবাব ফয়জুন্নেছা আত্মার নশ্বরদেহ চিরদিনের জন্য সমাহিত রয়েছে। নবাব ফয়েজুন্নেছা আর নেই, আছে তার স্মৃতি, যে স্মৃতি দেখতে এখনও বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন প্রচুর দর্শনাথী। কিন্তু নবাববাড়ির নবাব ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে আজ ধ্বংস ও বিলীন হওয়ার পথে। দীর্ঘ বছর থেকে এর সংস্কার নেই। নবাব ফয়জুন্নেছার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ওয়াকেফ দান করা। বর্তমানে প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। নবাব বাড়ি ও সম্পত্তি দেখাশোনার জন্য বংশানুসারে খাদেমের দায়িত্বে রয়েছে সৈয়দ মাসুদুল হক চৌধুরী এবং সৈয়দ কামরুল হক চৌধুরী। বাংলাদেশের গৌরব নারী মহীয়সী নবাব ফয়জুন্নেছার নবাববাড়ি সংস্কার করে সরকারিভাবে হেফাজতে নেয়া প্রয়োজন।

পীর আউলিয়ার মাজারঃ
লাকসামে মহাপুরুষ আধ্যাত্মিক পীর আউলিয়ার আগমন ও স্মৃতি মাজার শরিফ মহাকালের সাক্ষ্য বহন করছে। স্মৃতি মাজার শরীফ আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ পৌরশহর গাজীমুড়া হজরত শাহ সৈয়দ করিম সাহেবের মাজার, পশ্চিমগাঁও হজরত সৈয়দ গাজীউল হক সাহেবের মাজার, কালীয়াপুর হজরত কাজীমুদ্দিন কালীয়াপুরী, দক্ষিণ চাঁদপুরে হজরত পীর আলী আশ্রাফ চাঁদপুরী, রাজাপুরে হজরত পীর শাহ ওয়ালী উল্যাহ রাজপুরী, শাকরা হজরত পীর রজ্জব আলী শাকরাপুরী, পুলইয়া হজরত আবুল বারাকাত, (নোয়াখালী হুজুর), ভোগই হজরত শাহ সুফি সৈয়দ আমির উল্যাহ, শরীফপুর হজরত শাহ শরীফ (রা.), পশ্চিমগাঁও মরহুম অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ, পোমগাঁও হাবীবউল্লা নূরী, পশ্চিমগাঁও মুড়ি দরগা নামক আধ্যাত্মিক মহাপুরুষের মাজার মাজার রয়েছে। লাকসামে স্মৃতি থাকা পীর আউলিয়ারা আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে সমগ্র দেশে তথা নিখিল ভারতেও বহু ভক্ত তৈরি করে প্রসিদ্ধ লাভ এবং ধর্ম প্রচারসহ লাকসাম অঞ্চলকে আলোকিত করেন। প্রত্যেক বছর এসব মাজারে বিরাট ওরস অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ জিকিরসহ নামাজ আদায় করতে আসে।

যোগাযোগঃ
লাকসাম দেশের বৃহত্ উপজেলা। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত রয়েছে। লাকসাম আসতে হলে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে সুপার ডিলাক্স বিরতিহীন তিশা বাসে বাইপাস লাকসাম আসতে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার পথ এবং সায়েদাবাদ থেকে আল বারাকা এক্সপ্রেস, ঢাকা এক্সপ্রেস, ইকোনো এক্সপ্রেস, শাহী এক্সপ্রেস, জননী এক্সপ্রেস, যাত্রীসেবা এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন বাস রয়েছে। রেল পথে ঢাকার কমলাপুর চট্টগ্রাম, সিলেট, চাঁদপুর, নোয়াখালী, থেকে আসা ট্রেনে আন্তনগর লাকসাম রেলওয়ে জংশন আসা সহজ। কুমিল্লা সদর থেকে, নোয়াখালী, মাইজদী, লক্ষ্মীপুর জেলা সদর থেকে ডিলাক্স বাস লাকসাম আসা-যাওয়া করে থাকে এবং সময় নেয় খুবই কম।

থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাঃ
লাকসামে দর্শনীয় স্পটগুলোর বেশির ভাগই পৌর এলাকায়। তাই থাকা ও খাওয়ার জন্য চিন্তা করতে হবে না। লাকসাম বাজার নিরালা হোটেল, আজমীর হোটেল, হোটেল নিউ আজমীর, হোটেল ক্যাফে নুর, হোটেল সোনার বাংলা, হোটেল হানিফ, হোটেল নুরজাহান, আরাফাত হোটেল, লাকসাম হোটেল, হোটেল নূরে-মদিনা, শেরাটন হোটেল, ভাই ভাই হোটেল, সোহাগ হোটেল, খাজা হোটেল এবং জংশন এলাকায় হোটেল গাউছিয়া, হোটেল ক্যাফে, হোটেল আজমীরসহ বেশ কয়েকটি উন্নতমানের খাবার হোটেল রয়েছে। এ ছাড়া থাকার জন্য জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, আবাসিক হোটেল লাকসাম প্লাজা, বন্ধু আবাসিক হোটেল, হোটেল ড্রিম আবাসিক, হোটেল নূর আবাসিক, জনতা আবাসিক হোটেল, সুমন রেস্ট হাউসসহ বেশ কয়েকটি থাকার হোটেল রয়েছে। থাকার ইচ্ছা না থাকলে রাতেই ফিরে যেতে পারেন। যাতায়াতের জন্য সারারাত বাস ও ট্রেন আছে।

08 June 2017

ক্রেতাশূন্য কুমিল্লার ঈদ বাজার জমবে দু’তিন দিন পর

ক্রেতাশূন্য কুমিল্লার ঈদ বাজার জমবে দু’তিন দিন পর


রোজার প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো জমে ওঠেনি কুমিল্লার শপিংমলগুলো। এমনকি স্বাভাবিকের তুলনায়ও কম বিক্রি হওয়ায় হতাশ বিক্রেতারা। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে খন্দকার হক টাওয়ার, সাত্তার খান কমপ্লেক্স, ইষ্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজা, ময়নামতি গোল্ডেন টাওয়ার, সমবায় মার্কেট, নিউ মার্কেট, মনোহরপুরসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটগুলোতে কাটা কাপড় ও দেশি-বিদেশি প্রচুর পরিমাণ রেডিমেইড পোশাক সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা। কিন্তু এখনও ক্রেতার অপেক্ষায় দিন গুণছেন ব্যবসায়ীরা। 

গত বছরের তুলনায় এবছর এখনও ঈদের বাজার জমে না উঠায় ব্যবসায়ীরা কিছুটা টেনশনে রয়েছেন। তবে অনেকে ধারণা করছেন দু’একদিন পরই কুমিল্লায় ঈদের বাজার জমে উঠবে। বর্তমানে যে সকল ক্রেতা আসছেন তারা এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেট ছুটে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনও কেনাকাটা করছেন না। অপেক্ষায় রয়েছেন নতুন কি চমক আসে। অন্যদিকে থান কাপড় দোকানগুলো জমে উঠেছে। কুমিল্লার বিভিন্ন শপিংমলে ভারতীয় থ্রি-পিস, শাড়ি, শার্ট, প্যান্ট ও দেশীয় বিভিন্ন পোশাক ওঠেছে। বিভিন্ন শপিংমলে ১শ’ ভাগের মধ্যে ৭০ ভাগ থ্রি-পিসই ভারতীয় পোশাক। যার মধ্যে রয়েছে- বাহুবলি, সারারা, লং ড্রেস, অরপিন্ডে, ইসকে দিওয়ানা, মাস্তানি, ফ্লোর টাইসসহ আরো অনেক। 
সাত্তার খান কমপ্লেক্সের অর্কিড প্লাস ফ্যাশনের সত্বাধিকারী মো: রাজু জানান, এখনও ঈদের বাজার জমে উঠেনি। তবে আশা করছি দু’একদিনের মধ্যে জমে উঠবে। বৃষ্টির কারণে দূরের ক্রেতারা এখনো আসেনি। গত ঈদের তুলনায় এখনও ভালো বিক্রি হয়নি। 
খন্দকার হক টাওয়ারের মোহনা অভিজাত বস্ত্র বিতানের সত্বাধিকারী মো: হারুনুর রশিদ জানান, থান কাপড় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও  তাদের পছন্দের কাটা কাপড় কেনার জন্য আসতে শুরু করেছেন। তবে গতবারের তুলনায় এবার বিক্রি একটু কম। বেশি নেটের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। লেহেঙ্গা ও রাউন্ড থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে। 
সাত্তার খান কমপ্লেক্সের ফেয়ার লেডির সত্বাধিকারী মো: কামরুল ইসলাম লিটন জানান, নতুন থ্রি-পিসের মধ্যে নতুন নতুন কিছু কালেকশন এসেছে। তবে তা এখনো আমরা দোকানে শো-করিনি। ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখে তা আমরা শো করবো। আশা করি দু’একদিনের মধ্যে ঈদের বাজার জমে উঠবে।

সূত্রঃ কুমিল্লার কাগজ

04 June 2017

কুমিল্লার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে দালালের আখড়া

কুমিল্লার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে দালালের আখড়া


চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ শরীফ ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে এসেছিলেন কুমিল্লার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে। দালালদের খপ্পরে পড়ে তিন দিনেও কাজটি করতে পারেননি। অথচ কাজটি একদিনের। শরীফ বলেন, এখানে তো টাকা না দিলে ভেতরেই ঢুকতে দেয় না।
জানা গেছে, কুমিল্লার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের কর্মকতা-কর্মচারীদের যোগসাজশেই এভাবে দালালদের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বিদেশে গমনেচ্ছুরা। আর প্রতিবাদ করলে মারধরসহ লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটছে।
এদিকে দালালদের দৌরাত্ম্যের কথা স্বীকার করলেও নিজেদের সীমাবদ্ধতা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের দায়ী করেছেন কুমিল্লার কর্মসংস্থান, জনশক্তি ও প্রশিক্ষণ কার্যালয়ের জেলা ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক ড্রাফট দেওয়া থেকে শুরু করে ফরম জমা দেওয়া পর্যন্ত দালালদের কাছে যেতে বাধ্য হচ্ছে লোকজন। আর বিদেশে গমনেচ্ছুদের ভিড়কে পুঁজি করে কর্মসংস্থান অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে সক্রিয় দালালরা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, বাইরের ফরম গ্রহণযোগ্য না হওয়ার পরও জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের প্রবেশ গেইটে জোরপূর্বক ফরম পূরণের জন্য আদায় করা হচ্ছে টাকা। হারাতে হচ্ছে হাতের মোবাইল এবং সঙ্গে থাকা কাগজপত্র।
প্রসঙ্গত, বিদেশে যেতে ইচ্ছুকরা রেজিস্ট্রেশনের জন্য চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লহ্মীপুরসহ ১৭টি উপজেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য লোকজন এখানে আসে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, রায়হান নামে এক যুবকসহ ২০-২৫ জন জনশক্তি কার্যালয়ে এসে রেজিস্ট্রেশনের জন্য লম্বা লাইনে থাকা লোকজনের কাছ থেকে টোকেন ছিনিয়ে নিচ্ছে। এরপর তাদের মনোনীত কিছু লোককে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।আর সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কোনো সহযোগীতা করতে রাজি না হলে রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ সময় বাধা দিলে এক কর্মকর্তাকে মারধরের হুমকিও দেয় তারা।
কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের দায়িত্বে থাকা পুলিশের এএসআই কবির আহম্মেদ বলেন, প্রতিদিন কিছু স্থানীয় উচ্ছৃঙ্খল তরুণ এবং দালাল চক্র বিদেশ গমনেচ্ছুকদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। লাইনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এমন অভিযোগ শুনেছি। রায়হানসহ ২০-২৫ জন তরুণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি চেষ্টা করে। আমরা তাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে সে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নাম বলে হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লার জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ কার্যালয়ের জেলা ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে আসা লোকজন দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ছে। প্রতারণার শিকার লোকজন আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। আমরা প্রতিরোধ করতে চাইলে তারা হুমকি দেয়। রায়হান নামের ওই যুবক আমাদের এক কর্মকর্তাকে মারধরেরও হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় থানায় অভিযোগ করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারপরও তাদের দৌরাত্ম্য থামছে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাইরের কোনও ফরম গ্রহণ করি না। তারপরও অফিস গেইটে দাঁড়িয়ে থাকা দালালদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ছে লোকজন। তবে অফিস সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা ঠিক নয় বলেও জানান তিনি।

29 May 2017

শুভ জন্মদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শুভ জন্মদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়


আজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) দিবস। কুমিল্লা শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কোটবাড়ী শালবন বিহার এবং ময়নামতি জাদুঘর সংলগ্ন কুমিল্লার বিখ্যাত লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে ২০০৬ সালের ২৮ মে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের ২৬তম এ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি। ঠিক এক বছর পরেই (২৮ মে ২০০৭) মাত্র সাতটি বিভাগ নিয়ে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম। এ বছর ২৮ মে রমজানের মধ্যে পড়ায় দিবসটি উদযাপনে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। মধ্য-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ এ বিদ্যাপীঠে বর্তমানে ১৯টি বিভাগে প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিভাগের পাঁচটি ব্যাচ বেরিয়েছে। তবে ১১ বছর পরও নানা সমস্যা আর অপূর্ণতার বেড়াজালে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। পর্যাপ্ত ভূমি না থাকা, আবাসিক ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা, চিকিৎসাসেবার দুর্বলতা, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়নের অভাব, অপ্রতুল গ্রন্থাগার, সেশন জট, বিভিন্ন সময় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠাসহ নানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বার বারই ব্যাহত হচ্ছে।


এদিকে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ১১তম বছরটি শেষ করল।
গত বছরের ১ আগস্ট প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রলীগ নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ২৬ দিন পরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও এখন পর্যন্ত দোষীদের কোনো প্রকার শাস্তির আওতায় আনেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মনে করেন, আপরাধের জন্য শাস্তি না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হচ্ছে। গেল ১৭ জানুয়ারি মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বাসায় হামলার ঘটনার পরপরই শিক্ষক সমিতির লাগাতার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিতে বেশ কয়েক দিন অচল থাকে বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি এক শিক্ষার্থীর হাতে লোক প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষক লাঞ্ছিত হলে প্রক্টরিয়াল বডির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই শিক্ষার্থীকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হলেও তদন্ত কার্যক্রম ছাড়াই ২০ মার্চ উপাচার্য ওই ছাত্রের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন।


এর আগে ১৬ ডিসেম্বর ইংরেজি বিভাগের ইভিনিং মাস্টার্স (ইএমএ) প্রোগ্রামের প্রশ্ন মডারেশনকে কেন্দ্র করে ইংরেজি বিভাগের সভাপতি এম এম শরীফুল করীম একই বিভাগের শিক্ষক অবুল হায়াতকে লাঞ্ছিত করেন ও মারতে উদ্ধত হন। ১৮ ডিসেম্বর লাঞ্ছনার উপযুক্ত বিচারের জন্য উপাচার্যের কাছে আবেদন করেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক। তবে সে ঘটনারও কোনো বিচার হয়নি। চলতি বছরের ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের হাতে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ লাঞ্ছিত হয়েছেন-এমন অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন শিক্ষক সমিতির দুই নেতা। সেই ঘটনারও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। সম্প্রতি ১৩ মে ছাত্রলীগের সম্মেলন শেষে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে কয়েকজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হন। বিষয়টির বিচারের জন্য সাংবাদিক সমিতি উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। সাংবাদিক সমিতির আবেদনের বিষয়েও প্রশাসন ছিল নিশ্চুপ।


এ ছাড়াও অবৈধ নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ এনে চলতি বছরের ৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত করে শিক্ষক সমিতি। পরে ২০ মার্চ ছাত্রলীগ পেশিশক্তি প্রয়োগ করে উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষক সমিতির দেওয়া তালা ভাঙলে উপাচার্য তখন বীরের বেশে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ছাত্রলীগের সহায়তায় উপাচার্য কার্যলয়ে প্রবেশের ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে তখন সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সর্বশেষ অপরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি ছাত্র হলের লাগোয়া একটি ছাত্রী হল নির্মাণ করছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রী হল নির্মাণ বন্ধ করেনি। এ ছাড়াও ভর্তি পরীক্ষার টাকা বণ্টনে অনিয়ম, নিয়োগ-বিজ্ঞপ্তি নিয়ে নানা অসংগতিসহ বেশ কিছু ইস্যুতে আলোচনায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির ১১তম বছরটি।
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফ বলেন, ‘সীমাবদ্ধতা থাকবেই। আমরা তো পিছিয়ে নেই। ছাত্র-শিক্ষক সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করে আমারা আরও এগিয়ে যাব।’
সূত্রঃ thereport24

25 May 2017

কুমিল্লায় ফেনসিডিল কারখানার সন্ধান

কুমিল্লায় ফেনসিডিল কারখানার সন্ধান


কুমিল্লার ভারত সীমান্তের একটি গ্রামে ফেনসিডিলসহ মাদক তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ওই কারখানা থেকে দুই হাজারেরও বেশি  ফেনসিডিলের বোতল ও সরঞ্জামাদিসহ বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তবর্তী গলিয়ারা গ্রামের রতন মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এ কারখানার সন্ধান পায় পুলিশ।
 

উক্ত ঘটনায় কারখানা মালিক রতনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন। জানা যায়, বুধবার সকালের দিকে নগরীর গর্জনখোলা এলাকায় একটি সিএনজিতে তল্লাশি চালিয়ে একশ' বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এসময় সিএনজি চালকসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
 
পুলিশ জানায়, তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আটককৃত রতন মিয়া গ্রামের বাড়িতে ফেনসিডিলসহ মাদক তৈরির কারখানা রয়েছে বলে জানায়। তাদের দেয়া তথ্যমতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রতন মিয়ার গলিয়ারা গ্রামের বাড়িতে বুধবার দুপুরের দিকে অভিযান চালায়।
 

সীমান্তবর্তী এলাকার ওই বাড়িটিতে গোয়াল ঘরের আড়ালে গড়ে তোলা হয় ফেনসিডিলসহ মাদক তৈরির বিশাল কারখানা। পুলিশ ওই কারখানা থেকে দুই হাজারেরও বেশি বোতল ফেনসিডিল, কয়েক হাজার খালি বোতল, বোতলের কর্ক, তরল ফেনসিডিল ভর্তি ড্রাম, ফেনসিডিল তৈরির নানান সরঞ্জাম এবং প্রায় একশ' কেজি গাঁজা উদ্ধার করে।
 
পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন জানান, সীমান্তের নির্জন এলাকার এই বাড়িতে গরু পালনের নামে গোয়াল ঘর তৈরি করে ওই ঘরে ফেনসিডিলের কারখানা গড়ে তোলা হয়। ওই কারখানায় প্রস্তুতকৃত ফেনসিডিল দেশের বিভিন্নস্থানে পাচার করা হতো।
 
সূত্রঃ ইত্তেফাক

23 May 2017

কুমিল্লায় ১১টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা

কুমিল্লায় ১১টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা


আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ-বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তারা নিজেদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি জানান দিচ্ছেন। অনেকে গণমাধ্যমেরও দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সরব হলেও বিএনপির প্রার্থীর এখন নিরব রয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে ১১টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম পাওয়া গেছে।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা):
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে বর্তমান এমপি সুবিদ আলী ভূইয়া, মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা ব্যারিস্টার নাঈম হাসান ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাদল রায়ের নাম শোনা যাচ্ছে। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস):
এখানে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হোমনা উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ ও তিতাস উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার। জাতীয় পর্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি আমির হোসেন।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোফজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক শিল্প বিষয়ক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া সরকার। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা সভাপতি আক্তার হোসেন।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি রাজী ফখরুল, সাবেক এমপি এবিএম গোলাম মোস্তফা, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ হুমায়ন মাহমুদ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রৌশন আলী মাস্টার। বিএনপির মনোনয় প্রত্যাশী সাবেক এমপি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু। ন্যাপের মনোনয়ন প্রত্যাশী আমেনা আহমেদ।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি আবদুল মতিন খসরু ও ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শওকত মাহমুদ, সাবেক এমপি প্রফেসর মোঃ ইউনুছ, বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন।
কুমিল্লা-৬ (সদর):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি আকম বাহউদ্দিন বাহার ও ব্যবসায়ী নেতা মাসুদ পরভেজ খান ইমরার। বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি অধ্যাপক আলী আশরাফ ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম। এলডিপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের কেন্দ্রীয় মহসচিব রেদোয়ান আহমেদ।
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি নাসিমুল আলম চৌধুরী নজরুল, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্ম সংস্থান বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া তাহের সুমন। জাতীয় পাটির বর্তমান এমপি অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ): 
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি তাজুল ইসলাম, ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম হেলাল, শাহজালাল মজুমদার ও নুরন্নবী চৌধুরী কামাল। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়রুল আজিম, সাবেক এমপি এটিএম আলমগীর, বিএনপি নেতা আবুল কালাম, সাবেক যুবদল নেতা ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী ও সফিকুর রহমান। জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম মোস্তফা।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-সদর দক্ষিণ):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভূইয়া ও মোবাশ্বের আলম ভূইয়া।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম):
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আহ্বায়ক কামরুল হুদা। জামায়াতের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মিয়া বলেন, নির্বাচন এলে অনেক নেতার নাম শোনা যায়। তবে যারা জনগণ ও দলের নেতাকর্মীদের নিকট গ্রহণযোগ্য তারাই মনোনয়ন পাবে বলে আমার বিশ্বাস।
কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. নিজামুল হক বলেন, দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এখানে সুষ্ঠু নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে। তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ আছে এবং স্বচ্ছতা রয়েছে এমন ব্যক্তিরা সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
রাস্তা বন্ধের ভোগান্তিতে কুমিল্লা সেনানিবাস সংলগ্ন চার গ্রামের মানুষ

রাস্তা বন্ধের ভোগান্তিতে কুমিল্লা সেনানিবাস সংলগ্ন চার গ্রামের মানুষ



কুমিল্লা কোটবাড়ি থেকে ময়নামতি চেকপোষ্ট পর্যন্ত সড়কটি প্রায় অর্ধশত বছর ধরে সেনানিবাসের পূর্বদিকের সাহেবনগর, গুনানন্দি, রাজেন্দ্রপুর, দক্ষিণ নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ব্যবহার করে আসছিলেন। এসব গ্রামে বেসামরিক লোকজন ছাড়াও সেনাবাহিনীতে চাকরি শেষে অবসরে এসে একখন্ড ভূমি কিনে বাড়ি করছেন এমন পরিবারের সংখ্যাও দুই শতাধিক রয়েছে। ওইসব গ্রামের লোকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সেনানিবাস এলাকার পূর্বদিকে বাংলাবাজার থেকে ময়নামতির নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত ২৪টি গেইট ছিল। কিন্তু পর্যায়ক্রমে ২১টি গেইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বর্তমানে খোলা থাকা তিনটি গেইট দিয়ে কিছু মানুষ চলাচলের সুযোগ পেলেও অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ ২১টি গেইট বন্ধ হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ ভোগান্তি লাঘবে চলাচলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন ও কুমিল্লা সেনানিবাসের জিওসির সহানুভুতি কামনা করে গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন গ্রামবাসী। সংবাদ সম্মেলন শেষে একই দাবীতে তারা কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। 
সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে গ্রামের ভুক্তভোগী লোকজন জানান, চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়ায় ওইসব গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিসহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কেউ অসুস্থ হলে দ্রæত হাসপাতালে নিতে পারছেন না। বন্ধ গেইটের রাস্তার ওপর অ্যাম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে দেয়ালের উপর দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় রোগী গাড়ীতে তুলতে হয়। ওইসব গ্রামের ছেলেমেয়েরা সেনানিবাস এলাকায় ইস্পাহানী স্কুল এন্ড কলেজ, ক্যান্টবোর্ড স্কুল এন্ড কলেজ, ক্যান্ট বয়েজ এন্ড গালর্স স্কুল, ময়নামতি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, প্রয়াস প্রতিবন্ধী স্কুলে অধ্যয়ন করে। পর্যায়ক্রমে গেইটগুলো বন্ধ হওয়ায় দুই আড়াই কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুল কলেজে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। বাড়ির সরু অলি-গলি,ড্রেন, নর্দমা পেরিয়ে স্কুল, কলেজ, অফিস, হাট বাজারে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে গ্রামের লোকদের। কেবল তাই নয়, এসব গ্রামের কেউ মারা গেলে খাটিয়ায় বহন করে কবরস্থান নেয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। সন্তান ভূমিষ্ঠের সময় ঘনিয়ে এসেছে এমন প্রসূতি মহিলারা চিকিৎসা সুবিধার জন্য শহরে বা শহরের বাইরে স্বজনের বাড়িতে ঠাঁই নিয়ে থাকেন। সবমিলে সুষ্ঠু চলাচলের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়ায় ভোগান্তিই এখন চার গ্রামের মানুষের নিত্যসঙ্গি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে সুষ্ঠু চলাচল ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়ে গ্রামবাসীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, গুনানন্দী গ্রামের সাবেক মেম্বার ছেতু মিয়া, কাজী আবদুল মতিন, রাজেন্দ্রপুরের সফিকুল ইসলাম ভূইয়া, সাহেবনগরের ক্যাপ্টেন অব. নজরুল, হুমায়ুন কবীর, মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। 
সূত্রঃ ইনকিলাব

19 May 2017

কুমিল্লা মহানগরে এমপি বাহার সভাপতি ও রিফাত সাধারন সম্পাদক

কুমিল্লা মহানগরে এমপি বাহার সভাপতি ও রিফাত সাধারন সম্পাদক


জন্মদিনে উপহার পেতে যাচ্ছেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। আজ শুক্রবার ৬৩ তম জন্মদিনে এসে  তাঁর ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পদ কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি হতে যাচ্ছেন তিনি। সেই সাথে দীর্ঘ ১৭ বছর পর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক পদে ফিরছেন তিনি। অপর দিকে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত আওয়ামীলীগ নেতা আরফানুল হক রিফাত হতে যাচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক। 

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীমের বরাদ দিয়ে এমন একটি খবর চাউর হয়েছে কুমিল্লা জুড়ে। এ ব্যাপারে এনামুল হক শামীম ও অপর সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। 
জানা গেছে, আগামীকাল শনিবার আওয়ামীলীগের বিশেষ বর্ধিত সভার আগে কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে।


সম্ভাব্য মহানগর কমিটিতে আরো যাদের নাম থাকতে পারেঃ 
সহসভাপতি - আনজুম সুলতানা সীমা, আলহাজ্ব ওমর ফারুক
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক - আতিক উল্লাহ খোকন, শাহীনুল ইসলাম শাহীন
সাংগঠনিক সম্পাদক - চিত্ত রঞ্জন ভৌমিক, আবদুল হাই বাবলু
দপ্তর সম্পাদক - শিব প্রসাদ রায়
সহকারি দপ্তর সম্পাদক - দুলাল মাহমুদ
প্রচার সম্পাদক - জহিরুল কামাল
সহপ্রচার সম্পাদক - হাবীবুর সায়েরীন সায়ের  
নির্বাহী সদস্য - মোখলেছুর রহমান চৌধুরী
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক - জমীর উদ্দিন খান জম্পী

সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়ে থাকতে পারে। আজ শুক্রবার বা আগামীকাল শনিবার কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। কমিটি হয়েছে কি, হয়নি এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে সভাপতি পদে সদর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের নাম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আরফানুল হক রিফাতের নাম ছড়িয়ে পড়ার পর হাজী বাহার সমর্থিত আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফেসবুকে এমপি বাহারের জামাতা সাইফুল ইসলাম রনি (সাইফ রনি) ও এমপি বাহার সমর্থক সাবেক ছাত্রনেতা শাহ মাহবুব রাজিব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম উল্লেখ করে পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে এমপি বাহার সমর্থকরা অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
সূত্রঃ কুমিল্লার কাগজ