23 July 2013

দেবিদ্বার



ভৌগলিক পরিচিতি:

দেবিদ্বার উপজেলার অবস্থান উত্তর অক্ষাংশের ২৩°২৯' এবং ২৩°৪২' এর মধ্যে ৯০°৫৯' এবং ৯১°০৫' দ্রাঘিমাংশের মধ্যেএ উপজেলার উত্তরে ব্রাম্মনপাড়া ও মুরাদনগর উপজেলা, দক্ষিণাংশে চান্দিনা উপজেলা, পশ্চিমে মুরাদনগর উপজেলা, পূর্বে বুড়িচং ও ব্রাম্মনপাড়া উপজেলা


ইউনিয়নসমূহ:

সুবিল ইউনিয়ন

গুনাইঘর (উত্তর) ইউনিয়ন

গুনাইঘর (দক্ষিণ) ইউনিয়ন

বড়শালঘর ইউনিয়ন

রাজামেহার ইউনিয়ন

ইউছুফপুর ইউনিয়ন

ধামতী ইউনিয়ন

ফতেহাবাদ ইউনিয়ন

এলাহাবাদ ইউনিয়ন

জাফরগঞ্জ ইউনিয়ন

মোহনপুর ইউনিয়ন

ভানী ইউনিয়ন

বড়কামতা ইউনিয়ন

রসুলপুর ইউনিয়ন

দেবিদ্বার উপজেলার পটভূমি:

কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলা ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে ১৯১৭ সালের ১৫ জুলাই  প্রতিষ্ঠা হয়প্রতিষ্ঠিত বছরের ৩ মাস পর ২১ সেপ্টেম্বর গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর ১৯১৮ সালের ১ জানুয়ারী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেবিদ্বার থানার কার্যক্রম চালু হয়

এ উপজেলার নামকরণ নিয়ে তিনটি ভিন্ন মত প্রচলিত আছেসপ্তদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার ভাটটুরিয়ার দেবীকোটের রাজ পরিবারের ভ্রাতৃকলহে বানরাজা এ অঞ্চলে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেনবানরাজা দেবীকোটথেকে আসায় দেবীকোটের নামানুসারে কালক্রমে দেবীকোট থেকে আজকের দেবিদ্বারের নামকরণ করা হয়েছে

এক্ষেত্রে ভিন্ন কথাও রয়েছে অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে বৃটিশ শাসনামলে বৃটিশ ক্যাপ্টেন জন ডেভিড ত্রীপুরার চিতনা নামক স্থান থেকে একটি নৌবহর নিয়ে গোমতী নদী পথে ঢাকা যাওয়ার সময় বর্তমান দেবিদ্বারের ভিংলাবাড়ি নামক স্থানে বানরাজার সৈন্যদের সাথে ক্যাপ্টেন ডেভিড তার সৈন্যদের নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েনএ সময় এ যুদ্ধের নাম ডেভিড ওয়ার (ডেভিড যুদ্ধ) নামে পরিচিতি লাভ করেপরবর্তীতে ওই নামানুসারে ডেভিড ওয়ার থেকে আজকের দেবিদ্বার নামে পরিচিতি লাভ করে

৩য় মতাদর্শীদের মতে যতদূর জানা যায় এ উপজেলা সদরে বহু দেব-দেবীর পূজা অর্চনা হতোফলশ্রম্নতিতে এ উপজেলার নামকরণ হয় দেবিদ্বার

ভাষা ও সংষ্কৃতি:

দেবিদ্বার উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগলিক অবস্থান এই উপজেলার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছেবাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত এই উপজেলাকে ঘিরে রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, ঢাকা বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য উপজেলাসমূহএখানে ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মতই, তবুও কিছুটা বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়যেমন কথ্য ভাষায় মহাপ্রাণধ্বনি অনেকাংশে অনুপস্থিত, অর্থাৎ ভাষা সহজীকরণের প্রবণতা রয়েছেদেবিদ্বার উপজেলার আঞ্চলিক ভাষার সাথে সন্নিহিত ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, ঢাকার ভাষার অনেকটা সাযুজ্য রয়েছেমেঘনা-গোমতী নদীর গতিপ্রকৃতিএবং লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে দেবিদ্বারর মানুষের আচার-আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন

এই এলাকার ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে দেবিদ্বারর সভ্যতা বহুপ্রাচীনএই এলাকায় প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাচীন সভ্যতার বাহক হিসেবে দেদীপ্যমানসাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে দেবিদ্বারর অবদানও অনস্বীকার্যজাতীয় কবি নজরুল, সুরসম্রাট ওস্তাদআলাউদ্দিন খান, ওস্তাদ আয়েত আলী খান, ওস্তাদ আকবর আলী খান প্রমুখ ভুবনবিখ্যাত সংগীতজ্ঞদের স্মৃতি বিজড়িত দেবিদ্বার


যেসব সরকারী সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা দেবিদ্বারে কাজ করছে সেগুলো হলোঃ

* উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী, দেবিদ্বার

* সরকারী গণ গ্রন্থাগার, দেবিদ্বার

উপজেলার দর্শনীয় স্থান:

নূর মানিকচর জামে মসজিদ

বায়তুল আজগর জামে মসজিদ

উটখাড়া মাজার

খেলাধুলা ও বিনোদনঃ

প্রাচীনকাল থেকেই দেবিদ্বার উপজেলা জনেগাষ্ঠী ক্রীড়ামোদীএখানে প্রতিবছরই বিভিন্ন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়এখানকার জনপ্রিয় খেলার মধ্যে বর্তমানে ক্রিকেট ও ফুটবলের আধিপত্য দেখা গেলেও অন্যান্য খেলাও পিছিয়ে নেইদেবিদ্বারে বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ রয়েছেএর মধ্যে সুজাত আলী সরকারী কলেজ খেলার মাঠ এবং দেবিদ্বার এবিএম গোলাম মোস্তফা স্টেডিয়াম-শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত  প্রতি বছর এ স্টেডিয়ামে নিম্নলিখিত ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ঃ
(ক)গোল্ডকাপ ফুটবল

(খ) প্রিমিয়ার ফুটবল লীগ

(গ) ১ম বিভাগ ফুটবল লীগ

শেয়ার করুনঃ

Author:

কুমিল্লা অঞ্চলটি একসময় প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অধীনে ছিল। পরবর্তীকালে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে যোগ দেয়। খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে কুমিল্লা জেলা হরিকেল অঞ্চলের রাজাদের অধীনে আসে। অষ্টম শতাব্দীতে লালমাই ময়নামতি দেব বংশ এবং দশম থেকে একাদশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চন্দ্র বংশের শাসনাধীনে ছিল। ১৭৬৫ সালে এ অঞ্চলটি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে। ১৭৯০ সালে জেলাটি ত্রিপুরা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬০ সালে এর নাম পরিবর্তন করে কুমিল্লা রাখা হয়। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা পৃথক জেলায় পরিণত হয়।