Showing posts with label সমস্যা ও সম্ভাবনা. Show all posts
Showing posts with label সমস্যা ও সম্ভাবনা. Show all posts

18 August 2017

 ১০ কারণে কুমিল্লা নগরে জলাবদ্ধতা

১০ কারণে কুমিল্লা নগরে জলাবদ্ধতা


কুমিল্লা নগরে ১০টি কারণে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে শহরের সড়ক ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। গত কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে নাকাল হয়ে পড়েছে শহরের বেশির ভাগ মানুষ। পানি নামার সব পথ রুদ্ধ হওয়ায় এককালের সাজানো-গোছানো-পরিপাটি কুমিল্লা শহর এখন শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। আবাসিক শহরের এমন বিপর্যয় ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলছেন নগরবিদেরা।
কুমিল্লা শহরের আদি বাসিন্দা ও নগর ভবনের প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নগরের পানি নামার অন্তত ১০টি পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে কুমিল্লা নগরের টমছমব্রিজ মসজিদের নিচে কান্দিখালের প্রস্থ কমে যাওয়া ও খালের মধ্যে পিলার থাকা, বিসিক শিল্পনগরী লাগোয়া রেললাইনের পানি নামার পথ বন্ধ, বদরপুর রেলওয়ের অপ্রশস্ত কালভার্ট, দক্ষিণচর্থা ইপিজেড এলাকার নাসা স্পিনিং মিলের কারণে পানিপ্রবাহের পথ রুদ্ধ হওয়া, চাঁনপুর পুরাতন গোমতী নদীর স্তর ওপরে থাকা, কান্দিরপাড় সিটি হার্ট বিপণিবিতান এলাকার খালের প্রস্থ কমে যাওয়া, রেইসকোর্স রেলসেতুর সামনে খাল ভরাট, কাঠেরপুল খালের মধ্যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি, কান্দিরপাড় সিটি মার্কেট লাগোয়া নালার মধ্যে পিলার ও অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ।
গত বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পানি নামার রুদ্ধ জায়গাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, রেললাইনের কালভার্টের পানি নামার জায়গা ভরাট রয়েছে। সেখানে প্লট করা হয়েছে। দক্ষিণচর্থার যে পথ দিয়ে পানি নামত, সেখানে কুমিল্লা ইপিজেডের নাসা কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। কান্দিরপাড়ের টাউন হল লাগোয়া সিটি মার্কেট তৈরির সময় নালার মধ্যে পিলার বসানো আছে। এতে করে পানিপ্রবাহ এক প্রকার বন্ধই রয়েছে। একই অবস্থা কান্দিরপাড় সিটি হার্ট বিপণিবিতানের খালের। আগে ওই খাল ছয় ফুট প্রস্থ ছিল, এখন সেটি সাড়ে তিন ফুটে নেমে এসেছে। কাঠেরপুল খালের মধ্যে যত্রতত্র পিলার বসিয়ে ব্যক্তিগত কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
কুমিল্লার ইতিহাসবিদ গোলাম ফারুক বলেন, ‘১৯২১ সালে কুমিল্লা টাউন সার্ভে (জরিপ) হয়েছিল। তখন শহরের কোথায় 
কী হবে, তা উল্লেখ করা ছিল। কিন্তু সে জরিপের তোয়াক্কা না করে বাসাবাড়ি বানানো হচ্ছে। কুমিল্লা শহরের পানি নামার অন্তত ১০টি পথ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা ক্রমেই দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। আমাদের ছেলেবেলায় কুমিল্লা শহর অত্যন্ত সুন্দর ছিল। এখন সেই রূপ আর নেই। শহরকে সুন্দর রাখার জন্য কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ করতে হবে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের কারণে বাসাবাড়ির পানি নামতে পারছে না। যে যার মতো করে ইমারত নির্মাণ করছে। কেউ বিধিমালা মানছে না।
কুমিল্লার প্রকৌশলী আবুল বাশার বলেন, কুমিল্লা নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য ১৯৯৬ সালে বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলীদের নিয়ে একটি সভা হয়েছিল। ওই সভায় নানা ধরনের কর্মকৌশল ঠিক করা হয়। এরপর সেটি আর এগোয়নি।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. নুরুল্লাহ বলেন, পানি নামার সব উৎসমুখ ভরাট করা হয়েছে। নগরবাসী সচেতন না হলে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। এগুলোর দৈন্যের কারণে পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ কুমিল্লাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শহর হিসেবে তৈরি করতে মহাপরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী নগরের জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।
সূত্রঃ প্রথম আলো

16 July 2017

কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের বেহাল দশা

কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের বেহাল দশা


কয়েক মাস ধরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন এই সড়কে চলাচল করা হাজারো গাড়ির যাত্রীরা। ভাঙা সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে সময় নষ্ট, যানজট আর গাড়ি বিকল হওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকরা। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ৭২ কিলোমিটারের অধিকাংশই ভাঙা।
যাত্রী ও পরিবহন চালকরা জানান, কুমিল্লা পদুয়ার বাজারের পর থেকে ভাঙা শুরু। সেখানে কিছু ইট ফেলায় তা বিষফোঁড়ার মতো ফুলে উঠেছে। সেখানে গাড়ি চলছে হেলেদুলে। ধীর গতিতে গাড়ি চলায় সেখানে প্রায় যানজট লাগছে। বেশি ভয়াবহ অবস্থা বাগমারা বাজার ও লাকসাম জংশনের উত্তর দিকে। সেখানে গর্তে গাড়ির চাকা আটকে যাচ্ছে। ভাঙার কারণে বাগমারা বাজারে প্রতিনিয়ত যানজট লাগছে। এছাড়া লালমাই, হরিশ্চর, লাকসাম বাইপাস,খিলা, নাথেরপেটুয়া, বিপুলাসার, সোনাইমুড়ি, বেগমগঞ্জ থানা এলাকাসহ মাইজদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙা রয়েছে।  
লাকসামের পোলাইয়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান নামের একজন বাসযাত্রী জানান, ২-৩ মাস ধরে এ সড়কে স্বাভাবিক ভাবে যাতায়াত করা যায় না। বাস চলাচলের পর শরীরের গিটে গিটে ব্যথা হয়। মনে হয় চিকুনগুনিয়ার ব্যথা।
উপকূল বাস সার্ভিসের চালক মামুনুর রশিদ জানান, সড়ক ভাঙা হওয়ায় ঘন ঘন গাড়ি বিকল হচ্ছে। ভাঙা অংশ এলে যাত্রীরা ঝাঁকুনির ভয়ে বাস থেকে নেমে যেতে চান। দ্রুত সড়কটি মেরামত করা না হলে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
কুমিল্লা জেলা পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি অধ্যক্ষ কবির আহমেদ বলেন, কয়েক মাস ধরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল অবস্থা। আমাদের গাড়ি গুলো গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যাচ্ছে। যানজট লাগছে, যাত্রীরা কষ্ট পাচ্ছেন। সড়কটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।
সড়ক ও জনপদ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহম্মদ সাইফ উদ্দিন বলেন, আমরা কিছু অংশে ইট দিয়ে সংস্কার করেছি। এসড়কে ৫-৬মাসের মধ্যে ফোরলেনের কাজ শুরুর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে আমরা পদক্ষেপ নেবো।

23 June 2017

কুমিল্লায় খাদির পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে

কুমিল্লায় খাদির পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে

কুমিল্লায় খাদির পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে

কুমিল্লার ঈদবাজারে ঐতিহ্যবাহী খাদি কাপড়ের পাঞ্জাবি চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। এ ছাড়া দৃষ্টিনন্দন, আরামদায়ক এবং কম দাম হওয়ায় খাদি কাপড়ের থ্রি-পিস কিনছেন মহিলারা। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা খাদি কাপড় কিনছেন ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে। সাদা এবং রঙিন পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ৬শ থেকে ১২শ টাকা। থ্রি-পিসের দাম ৫শ থেকে ১০০০ টাকা। শার্ট ৪শ থেকে ৫শ টাকা। ফতুয়া ৪শ থেকে ৬শ টাকা। এছাড়া রয়েছে বিছানার চাদর, গায়ের চাদর, ছোটদের প্যান্ট-শার্টসহ বিভিন্ন পোশাক। কুমিল্লা মহানগরীর মনোহরপুর ও লাকসাম রোডে খাদিপণ্য বিক্রির পুরান দোকানগুলোর পাশাপাশি অনেক নতুন দোকান গড়ে উঠেছে। খাদি ব্যবসায়ীদের সূত্র জানায়, খাদির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভারতবর্ষের স্বাধিকার আন্দোলন ও বাঙালি ঐতিহ্য। এ কাপড় খাদে (গর্তে) বসে তৈরি করা হয় বলে এর নাম দেওয়া হয় ‘খাদি’। শতবর্ষের ঐতিহ্যের খাদি আলোচনায় আসে ১৯২১ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময়। তখন  মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে ভারতবর্ষে অসহযোগ আন্দোলনের সময় কুমিল্লায় খাদি শিল্প প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সেই সময় বিদেশি পণ্য বর্জন করার ডাক আসে। সর্বত্র এক আওয়াজ ‘মোটা কাপড়-মোটা ভাত’। সেই মোটা কাপড় এখন মিহি হয়েছে। কাপড়ে লেগেছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। কুমিল্লার খাদি এখন শৈল্পিকতার ছোঁয়ায় দেশ-বিদেশে সমাদৃত হয়ে আসছে। খাদির কাপড় যাচ্ছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। এ সুনাম অর্জিত হয়েছে বহু বছর ধরে অনেক কারিগর আর ব্যবসায়ীর অক্লান্ত পরিশ্রমে। খাদি কাপড়ের সঙ্গে এখন কয়েকটি দিক জড়িত রয়েছে। তা হচ্ছে তাঁতি, সুতা কাটুনী, ব্লক কাটার ও রঙের কারিগর। সবাই মিলে তৈরি করেন নান্দনিক খাদি কাপড়। বর্তমানে কুমিল্লা জেলায় দেড় হাজার পরিবার এই পেশায় জড়িত। মহানগরে খাদি কাপড়ের দোকান রয়েছে শতাধিক। খাদি শিল্পের প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন কুমিল্লা মহানগরের খাদি ঘরের তরুণী মোহন রাহা, খাদি কুটির শিল্পের শংকর সাহা, খাদি ভবনের দীনেশ দাশ, বিশুদ্ধ খদ্দরের মনমোহন দত্ত ও রাম নারায়ণ স্টোরের কৃষ্ণ সাহা।  
আমেরিকা প্রবাসী আকিলা রাব্বী জানান, তিনি প্রায় প্রতি বছর দেশে আসেন। দেশে এলে খাদির শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি ও থ্রি-পিস কেনেন। তিনি আমেরিকায় স্বজনদের জন্য কুমিল্লার ঐতিহ্যের খাদি কাপড় নিয়ে যান। কুমিল্লা মহানগরীর খাদি কাপড়ের প্রবীণ ব্যবসায়ী খাদিঘরের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার রাহা বলেন, কুমিল্লা খাদি শিল্পের একটা শক্ত ভিত আছে। বর্তমানে খাদি শিল্পে অনেক নতুন নতুন ডিজাইন এসেছে, কারণ ১৯২১ সালের প্রেক্ষাপট ও আজকের চাহিদা এক নয়। শতবর্ষের খাদিপণ্য তার গুণগত মান বজায় রেখে আধুনিকতার সংমিশ্রণে প্রতিযোগিতার বাজারে চাহিদা ধরে রেখেছে। পৃথিবীর যেখানে বাঙালি আছে সেখানে খাদি কাপড়ের প্রসার ঘটেছে। বাংলাদেশের বিদেশি দূতাবাসে খাদিসহ দেশি পণ্যের প্রদর্শনী করলে তা এ পণ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটাবে।
সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

08 June 2017

ক্রেতাশূন্য কুমিল্লার ঈদ বাজার জমবে দু’তিন দিন পর

ক্রেতাশূন্য কুমিল্লার ঈদ বাজার জমবে দু’তিন দিন পর


রোজার প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো জমে ওঠেনি কুমিল্লার শপিংমলগুলো। এমনকি স্বাভাবিকের তুলনায়ও কম বিক্রি হওয়ায় হতাশ বিক্রেতারা। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে খন্দকার হক টাওয়ার, সাত্তার খান কমপ্লেক্স, ইষ্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজা, ময়নামতি গোল্ডেন টাওয়ার, সমবায় মার্কেট, নিউ মার্কেট, মনোহরপুরসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটগুলোতে কাটা কাপড় ও দেশি-বিদেশি প্রচুর পরিমাণ রেডিমেইড পোশাক সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা। কিন্তু এখনও ক্রেতার অপেক্ষায় দিন গুণছেন ব্যবসায়ীরা। 

গত বছরের তুলনায় এবছর এখনও ঈদের বাজার জমে না উঠায় ব্যবসায়ীরা কিছুটা টেনশনে রয়েছেন। তবে অনেকে ধারণা করছেন দু’একদিন পরই কুমিল্লায় ঈদের বাজার জমে উঠবে। বর্তমানে যে সকল ক্রেতা আসছেন তারা এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেট ছুটে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনও কেনাকাটা করছেন না। অপেক্ষায় রয়েছেন নতুন কি চমক আসে। অন্যদিকে থান কাপড় দোকানগুলো জমে উঠেছে। কুমিল্লার বিভিন্ন শপিংমলে ভারতীয় থ্রি-পিস, শাড়ি, শার্ট, প্যান্ট ও দেশীয় বিভিন্ন পোশাক ওঠেছে। বিভিন্ন শপিংমলে ১শ’ ভাগের মধ্যে ৭০ ভাগ থ্রি-পিসই ভারতীয় পোশাক। যার মধ্যে রয়েছে- বাহুবলি, সারারা, লং ড্রেস, অরপিন্ডে, ইসকে দিওয়ানা, মাস্তানি, ফ্লোর টাইসসহ আরো অনেক। 
সাত্তার খান কমপ্লেক্সের অর্কিড প্লাস ফ্যাশনের সত্বাধিকারী মো: রাজু জানান, এখনও ঈদের বাজার জমে উঠেনি। তবে আশা করছি দু’একদিনের মধ্যে জমে উঠবে। বৃষ্টির কারণে দূরের ক্রেতারা এখনো আসেনি। গত ঈদের তুলনায় এখনও ভালো বিক্রি হয়নি। 
খন্দকার হক টাওয়ারের মোহনা অভিজাত বস্ত্র বিতানের সত্বাধিকারী মো: হারুনুর রশিদ জানান, থান কাপড় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও  তাদের পছন্দের কাটা কাপড় কেনার জন্য আসতে শুরু করেছেন। তবে গতবারের তুলনায় এবার বিক্রি একটু কম। বেশি নেটের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। লেহেঙ্গা ও রাউন্ড থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে। 
সাত্তার খান কমপ্লেক্সের ফেয়ার লেডির সত্বাধিকারী মো: কামরুল ইসলাম লিটন জানান, নতুন থ্রি-পিসের মধ্যে নতুন নতুন কিছু কালেকশন এসেছে। তবে তা এখনো আমরা দোকানে শো-করিনি। ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখে তা আমরা শো করবো। আশা করি দু’একদিনের মধ্যে ঈদের বাজার জমে উঠবে।

সূত্রঃ কুমিল্লার কাগজ

04 June 2017

কুমিল্লার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে দালালের আখড়া

কুমিল্লার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে দালালের আখড়া


চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ শরীফ ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে এসেছিলেন কুমিল্লার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে। দালালদের খপ্পরে পড়ে তিন দিনেও কাজটি করতে পারেননি। অথচ কাজটি একদিনের। শরীফ বলেন, এখানে তো টাকা না দিলে ভেতরেই ঢুকতে দেয় না।
জানা গেছে, কুমিল্লার কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের কর্মকতা-কর্মচারীদের যোগসাজশেই এভাবে দালালদের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বিদেশে গমনেচ্ছুরা। আর প্রতিবাদ করলে মারধরসহ লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটছে।
এদিকে দালালদের দৌরাত্ম্যের কথা স্বীকার করলেও নিজেদের সীমাবদ্ধতা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের দায়ী করেছেন কুমিল্লার কর্মসংস্থান, জনশক্তি ও প্রশিক্ষণ কার্যালয়ের জেলা ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক ড্রাফট দেওয়া থেকে শুরু করে ফরম জমা দেওয়া পর্যন্ত দালালদের কাছে যেতে বাধ্য হচ্ছে লোকজন। আর বিদেশে গমনেচ্ছুদের ভিড়কে পুঁজি করে কর্মসংস্থান অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে সক্রিয় দালালরা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জানান, বাইরের ফরম গ্রহণযোগ্য না হওয়ার পরও জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের প্রবেশ গেইটে জোরপূর্বক ফরম পূরণের জন্য আদায় করা হচ্ছে টাকা। হারাতে হচ্ছে হাতের মোবাইল এবং সঙ্গে থাকা কাগজপত্র।
প্রসঙ্গত, বিদেশে যেতে ইচ্ছুকরা রেজিস্ট্রেশনের জন্য চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লহ্মীপুরসহ ১৭টি উপজেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য লোকজন এখানে আসে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, রায়হান নামে এক যুবকসহ ২০-২৫ জন জনশক্তি কার্যালয়ে এসে রেজিস্ট্রেশনের জন্য লম্বা লাইনে থাকা লোকজনের কাছ থেকে টোকেন ছিনিয়ে নিচ্ছে। এরপর তাদের মনোনীত কিছু লোককে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।আর সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কোনো সহযোগীতা করতে রাজি না হলে রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ সময় বাধা দিলে এক কর্মকর্তাকে মারধরের হুমকিও দেয় তারা।
কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের দায়িত্বে থাকা পুলিশের এএসআই কবির আহম্মেদ বলেন, প্রতিদিন কিছু স্থানীয় উচ্ছৃঙ্খল তরুণ এবং দালাল চক্র বিদেশ গমনেচ্ছুকদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। লাইনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এমন অভিযোগ শুনেছি। রায়হানসহ ২০-২৫ জন তরুণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি চেষ্টা করে। আমরা তাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে সে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নাম বলে হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লার জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ কার্যালয়ের জেলা ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে আসা লোকজন দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ছে। প্রতারণার শিকার লোকজন আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। আমরা প্রতিরোধ করতে চাইলে তারা হুমকি দেয়। রায়হান নামের ওই যুবক আমাদের এক কর্মকর্তাকে মারধরেরও হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় থানায় অভিযোগ করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারপরও তাদের দৌরাত্ম্য থামছে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাইরের কোনও ফরম গ্রহণ করি না। তারপরও অফিস গেইটে দাঁড়িয়ে থাকা দালালদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ছে লোকজন। তবে অফিস সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা ঠিক নয় বলেও জানান তিনি।