12 May 2016

দখল-দূষণে কুমিল্লার ডাকাতিয়া নদী এখন মরা খাল


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ডাকাতিয়া নদী দখল ও দূষণে ধীরে ধীরে মরা খালে পরিণত হয়েছে। ফলে নদীনির্ভর সেচ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নদীটি দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষার দাবি জানিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় এমপি ও পরিকল্পনামন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদফতর, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দফতরে গত ২ মে আবেদন জানানো হয়েছে।কুমিল্লার সদর দক্ষিণের উত্তর বাগমারা ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর পাড় কৌশলে অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর পাড়ে স্থানীয় এক প্রভাবশালী অটো রাইস মিল ও ইটের ভাটা স্থাপন করে এলাকার পরিবেশ বিনষ্ট করছে। রাইস মিলের দূষিত বর্জ্য নদীতে ফেলে ক্রমে নদীর অংশবিশেষ ভরাট করে ফেলা হয়েছে।জানা যায়, ডাকাতিয়া নদী এক সময় জেলার সদর দক্ষিণ, লাকসাম ও পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর কৃষি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু নদীটি দিনে দিনে প্রভাবশালীদের কবলে পড়ে বিলীন হতে চলেছে।এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লার সভাপতি ডা. মো. মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘকাল খনন বা সংস্কার না হওয়ায় নদীটির গভীরতা কমে গিয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে, এ সুযোগে নদীপাড় অনেকের দখলেও চলে যাচ্ছে। এতে সেচ কার্যক্রমেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। নদীটি খনন-সংস্কার প্রয়োজন।’কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন, নদীটি রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভালের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে পানি উন্নয়ন বোর্ডকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।পাউবো-কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল্লাহ জানান, নদীতে বর্জ্য ফেলে দখল বা পানি দূষণ করা হলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুনঃ

Author:

কুমিল্লা অঞ্চলটি একসময় প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অধীনে ছিল। পরবর্তীকালে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে যোগ দেয়। খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে কুমিল্লা জেলা হরিকেল অঞ্চলের রাজাদের অধীনে আসে। অষ্টম শতাব্দীতে লালমাই ময়নামতি দেব বংশ এবং দশম থেকে একাদশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চন্দ্র বংশের শাসনাধীনে ছিল। ১৭৬৫ সালে এ অঞ্চলটি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে। ১৭৯০ সালে জেলাটি ত্রিপুরা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬০ সালে এর নাম পরিবর্তন করে কুমিল্লা রাখা হয়। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা পৃথক জেলায় পরিণত হয়।

0 facebook: