নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাঞ্চল্যকর তনু হত্যা মামলার সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে দিনব্যাপী কুমিল্লায় ছিলেন সিআইডির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। এ সময় তনুর লাশ ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তারা। এছাড়া যে স্থানে তনুর লাশ পাওয়া গেছে ওই স্থান পরিদর্শন ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। বিকালে মামলার বর্তমান অবস্থা ও করণীয় নিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একটি বৈঠক করে তদন্ত দল। সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির ডিআইজি (ক্রাইম-ইস্ট) মো. মাহবুব মোহসীনের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের ওই প্রতিনিধিদল গতকাল দুপুরে কুমিল্লা সেনানিবাসে যায়। এ সময় কুমিল্লা সেনানিবাসের ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া
কমান্ডার ও জিওসি মেজর জেনারেল মো. এনায়েত উল্লাহ ও স্টেশন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা। এছাড়া এই দলটি তনু যে দুটি পরিবারে প্রাইভেট পড়াতো তাদের বাসায় যান। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে সিআইডির দলটি তনুর সেনানিবাসের বাসায় গিয়ে তনুর বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা তনুর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানতে চান। সিআইডির দলটি তনুর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও বিচারের আশ্বাস দেন পরিবারের সদস্যদের। এ বিষয়ে তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন জানান, ‘সিআইডি দল তনুর বিষয়ে আমাদের নিকট থেকে কিছু তথ্য জানতে চেয়েছেন, আমরা তনু হত্যাকাণ্ডের ঘাতকদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছি। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল আজাদ, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান, এএসপি মোজাম্মেল হক, এএসপি জালালউদ্দিন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজী ইব্রাহীমসহ সিআইডি ঢাকা ও কুমিল্লার অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তনুর বাসায় ২০-২৫ মিনিট অবস্থানের পর সিআইডির দলটি বিকাল সোয়া ৩টার দিকে নগরীতে সিআইডি কার্যালয়ে ফিরে আসে। এ সময় সিআইডি অফিসে বিশেষ পুলিশ সুপার নাজমুল করিম খান জানান, ‘মামলার তদন্তে অগ্রগতি হচ্ছে, ঢাকা থেকে আসা উচ্চপর্যায়ের টিম মামলার তদন্তের বিষয়ে নানা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, ঢাকা থেকে আসা ডিআইজিসহ উচ্চপর্যায়ের দল সেনানিবাসের জিওসি, স্টেশন কমান্ডার, তনুর বাবা-মাসহ আরও অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন, অধিক গুরুত্ব দিয়ে এ মামলার রহস্য উদঘাটনে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, এ জন্য সবাইকে আরও অপেক্ষা করতে হবে।’ এদিকে বিকালে সিআইডি তনুর দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বোর্ডের প্রধান ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ডা. কামদা প্রসাদ সাহা ও প্রথম দফা ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. শারমিন সুলতানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সিআইডি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, সিআইডি দল তনুর মৃত্যুর কারণ, ধর্ষণের আলামত, লাশের কী অবস্থা ছিল, রিপোর্টে কী লেখা আছে এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছে। এছাড়াও ময়নাতদন্তের প্রথম রিপোর্ট নিয়ে আমাদের নানা প্রশ্ন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসতে আরও কিছু সময় লাগবে। প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. শারমিন সুলতানা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি কোনো চাপের মুখে থেকে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করিনি, যথাযথ নিয়ম অনুসারে রিপোর্ট দিয়েছি।
শনিবার রাতে সর্বশেষ করপোরাল ইমাম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি তনু হতাকাণ্ডের দিন সেনানিবাসে ডিউটিতে ছিলেন। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেনাসদস্য, চিকিৎসক, তনুর বাবা, মা, ছোট ভাই, চাচাতো বোন লাইজু, তনুর বান্ধবী মনিষা, তার মা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও কর্মচারী ইসমাইলসহ অন্তত ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
গত ২০শে মার্চ রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুর এলাকায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তনুর লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ ও ডিবির পর এখন মামলাটি তদন্ত করছেন সিআইডি কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মো. ইব্রাহিম। হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও হত্যার মোটিভ উদ্ধার হয়নি।

0 facebook: