24 April 2017

দুর্ভোগের অপর নাম কুমিল্লার শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাস


কুমিল্লায় যানজট নিরসনে শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা গত বছরের জুন মাসে। কিন্তু ধীরগতির কারণে এখনও কাজ শেষ হয়নি। আর এ নির্মাণ কাজের জন্য শুষ্ক মৌসুমেই এ সড়কে চলাচল  করতে কষ্ট হয়, আর বর্ষাকালে চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে এলাকাবাসী ও যানবাহন চালকরা। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কুমিল্লাবাসীর।
জানা গেছে,  ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৬৩১ মিটার দীর্ঘ শাসনগাছা রেলক্রসিং ফ্লাইওভার। নির্মাণ এলাকায় সড়কে বড়  বড়  গর্তের সৃষ্টি হয়ে সারাবছরই পানি জমে থাকে। ফরে বিভিন্ন সময় দুর্র্ঘটনায় পরছে বিভিন্ন যানবাহন।
কুমিল্লা থেকে রাজধানী ঢাকা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া এবং  জেলার চান্দিনা, দেবীদ্বার, মুরাদনগর, হোমনা, তিতাস, মেঘনা, দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন উপজেলা যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড। দীর্ঘদিন ধরে শহর থেকে বের হওয়ার পশ্চিম দিকের এই সড়কটিতে যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে রেসকোর্স থেকে শাসনগাছা পর্যন্ত রেলওয়ে ওভারপাস কাজ শুরু হয় প্রায় দুবছর আগে। তবে নির্মাণ কাজ সঠিক সময়ে শেষ না হওয়ায় ও সড়কে নির্মাণ সামগ্রী রাখায় সড়কটি এখন পরিণত হয়েছে নাগরিক সমস্যায়।


চান্দিনায় বসবাসরত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী ফাহমিদা (২০) জানান, ‘প্রতিদিন চান্দিনা থেকে শাসনগাছা আসতে সময় লাগে আধা ঘণ্টা। কিন্তু শাসনগাছার এই রেলওয়ে ওবারপাসটি পার হতে লেগে যায় আরও আধা ঘণ্টা। এখানে যানযটের কারণে প্রায়দিনই  সময় মতো কলেজে যেতে পারি না।’
মোটরসাইকেল আরোহী রাজিব (৩২) নামের এক ব্যক্তি জানান, ‘ব্যাবসার প্রয়োজনে আমাকে প্রায়ই এ এলাকায় আসতে হয়। তবে রাস্তায় বড় বড় গর্ত ও কাদাপানির কারণে প্রায়  দূর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়।’
কুমিল্লায় কর্মরত স্কুল শিক্ষক খালেদা পারভীন জানান, ‘প্রায় দুই বছর ধরে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এখন বাসা বদলানো ছাড়া অন্য কোনও উপায় দেখছি না।’


কুমিল্লা নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি জহিরুল হক দুলাল জানান, ‘ওভারপাসটির নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ না হওয়ায় কুমিল্লাবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই। তাই দ্রুত এ নির্মাণ কাজ শেষ করা উচিত।’
কুমিল্লা জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সাইফ উদ্দিন জনগণের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘জনবহুল এলাকা হওয়ায় কাজ করতে একটু সময় লাগছে। চলাচলে অসুবিধা হওয়ায়  আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে আগামী জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।’

সুত্রঃ বাংলাট্রিবিউন

শেয়ার করুনঃ

Author:

কুমিল্লা অঞ্চলটি একসময় প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অধীনে ছিল। পরবর্তীকালে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে যোগ দেয়। খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে কুমিল্লা জেলা হরিকেল অঞ্চলের রাজাদের অধীনে আসে। অষ্টম শতাব্দীতে লালমাই ময়নামতি দেব বংশ এবং দশম থেকে একাদশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চন্দ্র বংশের শাসনাধীনে ছিল। ১৭৬৫ সালে এ অঞ্চলটি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে। ১৭৯০ সালে জেলাটি ত্রিপুরা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬০ সালে এর নাম পরিবর্তন করে কুমিল্লা রাখা হয়। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা পৃথক জেলায় পরিণত হয়।

0 facebook: