07 April 2016

"তনুকে পাবেন পাওয়ার হাউসের পাশের জঙ্গলে"


কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে যখন তার পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজিরও পাচ্ছিলেন না, ঠিক সেই মুহূর্তে তনুর মা আনোয়ারা বেগমকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, ‘আপনার মেয়ে তনুকে পাবেন পাওয়ার হাউসের পাশের জঙ্গলে।’
সেই ফোন পেয়েই তনুর পরিবারের সদস্যরা ছুটে যান পাওয়ার হাউসের কাছে। সেখানেই দেখেন তনুর ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ পড়ে আছে।
বুধবার তনু হত্যা রহস্যের অগ্রগতির বিষয়ে সিআইডির এক শীর্ষ কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে এসব তথ্য জানান।
গোয়েন্দারা ওই মোবাইল নম্বর ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এক ব্যক্তিকে। তবে সে যে হত্যায় জড়িত ছিলেন তেমন কোনো-তথ্য প্রমাণ পাননি গোয়েন্দারা।
ওই ব্যক্তির দেশত্যাগে অবশ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এরইমধ্যে সিআইডি তনুর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। থাকেন বসুন্ধরায়।
গোয়েন্দারা তার কাছ থেকে জানতে চেষ্টা করছেন, তনুকে উত্ত্যক্ত করতো কে? সেই ব্যক্তির কোনো মোবাইল ফোন নম্বর তার জানা আছে কি না? ইত্যাদি।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, হত্যাকাণ্ডের ১৮ ঘণ্টা আগে থেকে চারটি মোবাইল ফোন সেট ব্যবহার করে আটটি নম্বর থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে অনেকবার ফোন করা হয়েছিলো। তবে একটি কলও রিসিভ করেননি তনু।
গোয়েন্দারা পরীক্ষা করে বুঝতে পেরেছেন, ওই নম্বরগুলো থেকে শুধু তনুকেই ফোন করা হয়েছে, অন্য কাউকে না। 
গুরুত্বপূর্ণ এ সূত্র তনুর হত্যাকারীকে ধরতে তদন্ত সংস্থা সিআইডিকে আশাবাদী করে তুলেছে।
আলোচিত এ হত্যা মামলায় এরইমধ্যে তনুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলাসহ ২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরো ৭/৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিআইডি।
এই হত্যাকাণ্ডের ছায়া তদন্ত করছে এলিট ফোর্স র‌্যাব। আর তদন্তকাজে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সেনাবাহিনী।
গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী এবং সংস্কৃতিকর্মী সোহাগী জাহান তনুর (২০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর তনুর খুনিদের গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে বিচারের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছে গণজাগরণ মঞ্চ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বিভিন্ন নারী সংগঠন এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।
সুত্রঃ চ্যানেল আই অনলাইন

শেয়ার করুনঃ

Author:

কুমিল্লা অঞ্চলটি একসময় প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অধীনে ছিল। পরবর্তীকালে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে যোগ দেয়। খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে কুমিল্লা জেলা হরিকেল অঞ্চলের রাজাদের অধীনে আসে। অষ্টম শতাব্দীতে লালমাই ময়নামতি দেব বংশ এবং দশম থেকে একাদশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চন্দ্র বংশের শাসনাধীনে ছিল। ১৭৬৫ সালে এ অঞ্চলটি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে। ১৭৯০ সালে জেলাটি ত্রিপুরা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬০ সালে এর নাম পরিবর্তন করে কুমিল্লা রাখা হয়। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা পৃথক জেলায় পরিণত হয়।

0 facebook: