30 March 2016

কুমিল্লায় ১৪৬ ফুট উঁচুতে বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান!


কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ কুমিল্লার কোটবাড়িতে সমতল থেকে ১'শ ৪৬ ফুট উঁচুতে প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান পেয়েছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। ৪২ দিনের খনন শেষে মন্দিরটির সন্ধান পায় তারা।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বলছে, অষ্টম শতাব্দীর এ স্থাপনাটি শালবন বৌদ্ধবিহারের ১৩তম নিদর্শন। এ অবস্থায়, এ নিদর্শনটিকে ঘিরে পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
১৯৫৫ সালে, কুমিল্লার লালমাই-ময়নামতি রেঞ্জের কোটবাড়ি শালবন বৌদ্ধ বিহারকে ঘিরে ৫৫টি প্রাচীন স্থাপনার সন্ধান মেলে। এরপর ষাটের দশকে সেগুলো উদ্ধারে খননকাজ শুরু করে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি হাতিগাড়া মুড়া এলাকায় সমতল থেকে ১'শ ৪৬ ফুট উঁচুতে অনুসন্ধান চালায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৯ সদস্যের একটি দল। ২০ জন শ্রমিকের নিরলস প্রচেষ্টায় গত ১০ মার্চ একটি মন্দিরের অবকাঠামো ও তার প্রবেশদ্বারের সন্ধান পায় দলটি।
চট্টগ্রাম অঞ্চল প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, 'দক্ষিণ দিকে আমরা একটি দরজার চিহ্ন এবং একটি প্রদক্ষিণ পথ পেয়েছি। আমরা আশা করছি এটি একটি মন্দির।'
প্রাচীন এই নিদর্শনটি সংরক্ষণ করে দর্শনার্থী ও পর্যটক আকর্ষণে প্রচার বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও বৌদ্ধ নেতারা।
কুমিল্লা নিউ শালবন বিহারের প্রধান শীলভাদ্র মহাথের বলেন, 'যে সকল স্থাপনা এখনো উন্মোচিত হয়নি সেগুলো যদি উন্মোচন করে বহির্বিশ্বে প্রকাশ করা যায় তাহলে আমাদের কুমিল্লার শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে অনন্য হিসেবে থাকব।'
অবশ্য, এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে ময়নামতি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।
কুমিল্লা ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, 'সরকার এ বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট সহায়তা করছেন। প্রত্যেকটি প্রত্ন স্থাপনা আমরা যাতে প্রতি বছর উন্মোচন করতে পারি সেজন্য যথাযথ আর্থিক বরাদ্দ রয়েছে। এবং আমরা আমাদের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।'
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য মতে, কোটবাড়ি শালবন বৌদ্ধ বিহারের খননযোগ্য ২৩টি নিদর্শনের মধ্যে এ বৌদ্ধ মন্দিরটি ১৩তম। 

শেয়ার করুনঃ

Author:

কুমিল্লা অঞ্চলটি একসময় প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অধীনে ছিল। পরবর্তীকালে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে যোগ দেয়। খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে কুমিল্লা জেলা হরিকেল অঞ্চলের রাজাদের অধীনে আসে। অষ্টম শতাব্দীতে লালমাই ময়নামতি দেব বংশ এবং দশম থেকে একাদশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চন্দ্র বংশের শাসনাধীনে ছিল। ১৭৬৫ সালে এ অঞ্চলটি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে। ১৭৯০ সালে জেলাটি ত্রিপুরা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬০ সালে এর নাম পরিবর্তন করে কুমিল্লা রাখা হয়। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা পৃথক জেলায় পরিণত হয়।

0 facebook: