26 March 2016

সোহাগীর পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ


বিবিসিঃ কুমিল্লায় সেনানিবাস এলাকায় নিহত ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর পরিবারের সদস্যদের শনিবার দুপুর থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে দায়ের করা মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, সেনানিবাস একটি সংরক্ষিত এলাকা হওয়ার কারণে এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, তদন্তের উপর সরকারের আস্থা আছে, যথা সময়েই রহস্য উদঘাটিত হবে।
ব্যাপক আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ছ’দিনের মাথায় আজও খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে।
শুক্রবার হত্যা মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মুরাদনগরের গ্রামের বাড়ি থেকে নিহত সোহাগীর পরিবারের সদস্যদের সেনানিবাসের বাসভবনে নিয়ে আসা হয়।
শনিবার দুপুরে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেনের সঙ্গে বিকেলে যখন বিবিসির সংবাদদাতা কথা বলছিলেন তখন তিনি অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে সোহাগীর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন।
মি. হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সেনানিবাসের মতো একটি সংরক্ষিত এলাকার ভেতরে হওয়ায় তদন্ত করতে গিয়ে কিছুটা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।
তিনি বলেন, “যেহেতু তারা মামলার বাদী এবং নিহতের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় তাই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর আগে তাদের মানসিক অবস্থায় খুব খারাপ থাকার কারণে তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।”
মি. হোসেন বলেন, “জায়গাটি সংরক্ষিত একটি এলাকা। সন্দেহভাজন খোঁজার জন্যে আমরা খুব সহজেই ওখানে যেতে পারছি না। ওখানে যারা আছেন তাদেরকেই এব্যাপারে তথ্য দিতে হবে।”
তিনি জানান, সোহাগীর মৃতদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও পুলিশের কাছে এসে পৌঁছায়নি।
পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজন হিসেবে এখনও কাউকে আটক করা হয়নি।
গতরাতেই আন্ত-বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর –আইএসপিআর থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ ও প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে সেনাবাহিনী। পুলিশ কি সহযোগিতা পাচ্ছে?
জবাবে পুলিশ সুপার মি. হোসেন বলেন, “ওটা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা। কিছু বিধিনিষেধ মেনে ওখানে যেতে হয়। আমাদের যেমন কিছু নিয়মকানুন আছে তেমনি সেনাবাহিনীরও কিছু নিয়ম কানুন আছে। ওসব মেনেই কাজ করতে হচ্ছে।”
এদিকে ঘটনার ষষ্ঠ দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, এই হত্যা-রহস্য উদঘাটনে যা যা প্রয়োজন তার সবই করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।
তিনি বলেন, “তদন্তের ওপর আমরা আস্থাশীল। অনেক কঠিন জিনিস আমাদের গোয়েন্দারা উদঘাটন করেছে। আমি মনে করি এটাও হবে ইনশাল্লাহ।”
ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শেয়ার করুনঃ

Author:

কুমিল্লা অঞ্চলটি একসময় প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অধীনে ছিল। পরবর্তীকালে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে যোগ দেয়। খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে কুমিল্লা জেলা হরিকেল অঞ্চলের রাজাদের অধীনে আসে। অষ্টম শতাব্দীতে লালমাই ময়নামতি দেব বংশ এবং দশম থেকে একাদশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চন্দ্র বংশের শাসনাধীনে ছিল। ১৭৬৫ সালে এ অঞ্চলটি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে। ১৭৯০ সালে জেলাটি ত্রিপুরা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬০ সালে এর নাম পরিবর্তন করে কুমিল্লা রাখা হয়। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা পৃথক জেলায় পরিণত হয়।

0 facebook: