29 March 2016

তনু হত্যাকাণ্ড: লাশ উত্তোলনে পরিবারের অসন্তোষ


জাহিদ পাটোয়ারীঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী  সোহাগী জাহান তনুর লাশ উত্তোলন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার। তাদের দাবী প্রথম  থেকে গুরুত্ব দিয়ে লাশের সুরতহাল এবং ময়নাতদন্ত করলে ফের কবর থেকে লাশ উত্তোলনের প্রয়োজন হতো না।
তনু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মনজুর আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে হত্যাকান্ডের ৮ দিন পর সোমবার (২৮ মার্চ) কুমিল্লার একটি আদালত ফের ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন।আদালতের আদেশ জারির পর সোমবার রাত থেকে তনুর কবরের পাশে পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। লাশ উত্তোলনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কুমিল্লা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন নাহারকে।
মুরাদনগর উপজেলার নতুন থানার (বাঙ্গরা) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তনুর লাশ উত্তোলনের আগে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মির্জাপুর গ্রামে তনুর কবরস্থানের আশপাশে পুলিশ পাহারা রাখা হয়েছে।এ বিষয়ে তনুর চাচা আলাল হোসেন বলেন, মারা যাওয়ার পরও মেয়েটিকে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। লাশ নিয়ে টানাটানি করা হচ্ছে। প্রথমে গুরুত্ব দিয়ে লাশের সুরতহাল এবং ময়নাতদন্ত করলে ফের কবর  থেকে লাশ উত্তোলনের প্রয়োজন হতো না।
কবর থেকে লাশ উত্তোলন প্রসঙ্গে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার বলেন, ‘আমি প্রস্তুত রয়েছি। নির্দেশনা পেলে লাশ উত্তোলন করা হবে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আমার কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি।’এদিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ শহীদ মিনার এলাকায় তনু মে  অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সহপাঠি ও কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া, মঙ্গলবার বাদ যোহর ভিক্টোরিয়া কলেজ কর্তৃপক্ষ তনুর আত্মার মাগফেরাত কামনায় কলেজের  কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।কুমিল্লার বিভিন্নস্থানে তনুর হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ সন্ধ্যায় টিউশনি করে বাসায় ফেরার পথে কুমিল্লা পাশবিক নির্যাতনের পর তনুকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২১ মার্চ সন্ধ্যায় তনুকে তাদের গ্রামের বাড়ি জেলার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে দাফন করা হয়।এ বিষয়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন ২১ মার্চ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ৯ দিনেও হত্যাকাণ্ডের কোনোপ্রকার কুল-কিনারা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শেয়ার করুনঃ

Author:

কুমিল্লা অঞ্চলটি একসময় প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অধীনে ছিল। পরবর্তীকালে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে যোগ দেয়। খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে কুমিল্লা জেলা হরিকেল অঞ্চলের রাজাদের অধীনে আসে। অষ্টম শতাব্দীতে লালমাই ময়নামতি দেব বংশ এবং দশম থেকে একাদশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চন্দ্র বংশের শাসনাধীনে ছিল। ১৭৬৫ সালে এ অঞ্চলটি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে। ১৭৯০ সালে জেলাটি ত্রিপুরা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬০ সালে এর নাম পরিবর্তন করে কুমিল্লা রাখা হয়। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা পৃথক জেলায় পরিণত হয়।

0 facebook: