30 October 2015

কুমিল্লা বিভাগ তো আছেই, এখন দরকার স্বীকৃতি


বিশেষ প্রতিবেদনঃ কুমিল্লা বিভাগ না হয়েও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, নির্বাচন কমিশনারের বিভাগীয় কার্যালয়, সিটি কর্পোরেশান, বাংলাদেশ বেতার, বিবিসি, ভয়েস অফ আমেরিকা ও জার্মান বেতার এর সম্প্রচার কেন্দ্র, সকল সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয়, কর অফিস প্রভৃতি সহ বিভাগীয় ৩২ টি কার্য্যালয় কুমিল্লায় রয়েছে। আর এসব কিছুই করা হয় কুমিল্লা , ব্রাহ্মনবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলা নিয়ে। এই ছয়টি জেলার মানুষকে হাতে গুনা দুএকটি কাজ বাদে চট্টগ্রাম যেতে হয়না। চট্টগ্রাম যে আমাদের বিভাগ তা কেবল হাতে কলমেই, বাস্তবে সব কাজই কুমিল্লাই হয়। প্রকৃত পক্ষে বর্তমানে বিভাগ ধরে কোনো কাজই হয়না , সরকারী বা বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অঞ্চল ধরে তাদের সুবিধেমত কাজ করে। কুমিল্লা এই ৬টি জেলার মাঝখানে এবং কুমিল্লার সাথে ৬টি জেলার সরাসরি যোগাযোগ ভাল বলে সবাই কুমিল্লাকেই প্রধান কার্যালয় ধরে কাজ করে। এটা কুমিল্লার একটা ভৌগোলিক সুবিধা। আর এ সুবিধার কারনেই বাংলার প্রাচীন কাল ( কুমিল্লার বরকামতা সমতট তথা সমগ্র কুমিল্লা ও নোয়াখালির রাজধানী ছিল)। থেকে শুরু করে আজ অবধি সবাই কুমিল্লাকেই বেঁছে নিয়েছে। আর এই ধারাবাহিকতায় সরকার দেশের প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে কুমিল্লাকে বেঁছে নিয়েছে। এখন বিভাগ ঘোষণা দিয়ে শুধু আনুষ্ঠানিকতা করবে , এর বেশি কিছু না।
এবার আসি প্রিয় নোয়াখালী ও ফেনী বাসীদের কথায়। তারাও এখন বিভাগ দাবি করছে। নিজ নিজ জেলা হিসেবে তারা দাবি করতেই পারে। তবে আমাদের সবার দেখতে হবে এই দাবিটি কতটুকু যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত ?
আমিও ছোট বেলায় স্বপ্ন দেখতাম যে আমার থানাকে জেলা করা হবে। কিন্তু আস্তে আস্তে বড় হওয়ার পর বুঝলাম যে না, আমার থানা কখনই জেলা হতে পারেনা, আমার থানাকে জেলা করতে হলে দেশে আর ১০০ থানাকেও জেলা করতে হবে। তাই এখন আর এমন অযৌক্তিক দাবি করিনা। আমি বিশ্বাস করি নোয়াখালী ও ফেনীতে নিশ্চয় অনেক বাস্তববাদী মানুষ আছে যারা এটি বুঝে যে নোয়াখালী এই মুহূর্তে বিভাগ হওয়ার ভৌগোলিক অবস্থানে নেই, যদি শুধুমাত্র বৃহত্তর জেলা নিয়েই বিভাগ করা হয়, তবে দেশে আরো ১০-১২টি বৃহত্তর জেলাকে বিভাগ করতে হবে। নোয়াখালীর অনেকের সাথেই কথা বলে দেখেছি যারা শিক্ষিত ও বাস্তববাদী, তারাও বলছে যে এই মুহুর্তে নোয়াখালী বিভাগ দাবি অযৌক্তিক।
গতকাল ঢাকা প্রেসক্লাব এ যখন নোয়াখালী বাসিরা বিভাগ চাই বলে মানব বন্ধন করে তখন বাসের অনেক যাত্রীরাই নিজেরা বলাবলি করছিল যে, “বেজাইল্লা নোয়াখাইল্লারার এটা বিভাগ চাওয়ার দাবি না, এটা কুমিল্লারে বেজালে ফালানোর দাবী ’’।
তাই নোয়াখালী ও ফেনী জেলার ভাইদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আসুন আমরা বাস্তববাদী হই, অহেতুক নিজেরা কে কার বড় সেই তর্ক করে নিজেদের হাসির পাত্র না বানাই। কুমিল্লা বিভাগে থাকলে আপনাদের লাভই হবে। কুমিল্লার সাথে না থাকলেও সব কাজতো কুমিল্লাই করতে হবে, তখন শুধু শুধু চট্টগ্রামের সাথে থেকে কেন নিজেদের ছোট করে রাখবেন? দয়া করে কুমিল্লা ও নোয়াখালীর অবস্থানটা মানচিত্রে দেখেন আর নিজেকে প্রশ্ন করুন, কেন শুধু শুধু অযৌক্তিক কথা বলে নিজেদের সমগ্র দেশের কাছে হাসির পাত্র বানাচ্ছি?
তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে আবার এক হয়ে দেখিয়ে দেই, আমাদের এই সমতট অঞ্চল এক আছি, এক থাকব। আমাদের এই বিভাগ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড এর ন্যায় বাংলাদেশে আলো ছড়াবে।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

শেয়ার করুনঃ

Author:

কুমিল্লা অঞ্চলটি একসময় প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অধীনে ছিল। পরবর্তীকালে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে যোগ দেয়। খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে কুমিল্লা জেলা হরিকেল অঞ্চলের রাজাদের অধীনে আসে। অষ্টম শতাব্দীতে লালমাই ময়নামতি দেব বংশ এবং দশম থেকে একাদশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চন্দ্র বংশের শাসনাধীনে ছিল। ১৭৬৫ সালে এ অঞ্চলটি ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে। ১৭৯০ সালে জেলাটি ত্রিপুরা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬০ সালে এর নাম পরিবর্তন করে কুমিল্লা রাখা হয়। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা পৃথক জেলায় পরিণত হয়।

0 facebook: