Showing posts with label স্থানীয়. Show all posts
Showing posts with label স্থানীয়. Show all posts

29 June 2017

কুমিল্লার দর্শনীয় স্থানগুলোতে মানুষের ভীড়

কুমিল্লার দর্শনীয় স্থানগুলোতে মানুষের ভীড়


দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান কুমিল্লা ময়নামতি শালবন বিহার। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিতে দূর-দুরান্ত থেকে বেড়াতে আসা মানুষ ভীড় জমাচ্ছেন কুমিল্লার গর্বের এই দর্শনীয় স্থানে।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসবমুখর পরিবেশে গত সোমবার পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদ উল ফিতর। এই উৎসবকে ঘিরে বন্ধুবান্ধব আর পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে সাধারণ মানুষ ছুটে আসছেন কুমিল্লার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। কুমিল্লা ময়নামতি শালবন বিহার ও প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের সমাধিক্ষেত্র ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) শাহ সুজা মসজিদ, ধর্মসাগর, রূপসাগর, বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষ, রূপবানমুড়া কুটিলামুড়া, বার্ডসংলগ্ন জোড়কানন দীঘি, জগন্নাথ দীঘি, বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন, রামমালা পাঠাগার ও নাটমন্দির, লাকসাম রোড, নবাব ফয়জুন্নেছার বাড়ি, সঙ্গীতজ্ঞ শচীনদেব বর্মণের বাড়ি, রাজেশপুর বন বিভাগের পিকনিক স্পট, গোমতি নদী, কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী বেগম নার্গিসের বাড়ি, নবাব ফয়জুন্নেছার পৈতৃক বাড়ি ও কুমিল্লা চিড়িয়াখানাসহ অর্ধশতাধিক দর্শনীয় স্থান হাজার হাজার পর্যটকদের ভিড়ে হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
কুমিল্লার এইসব দর্শনীয় স্থনে শুধু দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নয় বিদেশি দর্শনার্থীদের দেখা মিলেছে অনেক বিদেশী দর্শনার্থীদেরও। তাইতো ঈদের ছুটিতে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে কুমিল্লা শালবন বিহারসহ জেলার বিভিন্ন বিনোদন স্থান গুলোতে। আবার কেউবা এসেছেন প্রিয়জনের সঙ্গে।
বাবা-মায়ের হাত ধরে ছেলে, ভাই বোন নিয়ে অনেকেই এসেছেন বিনোদনের জন্য।
ফেনী জেলা থেকে বেড়াতে আসা সুজন হোসেন বলেন, ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে সপরিবারে বেড়াতে এসেছি কুমিল্লা শালবন বিহারে। এসে দেখেছি শালবন বিহার শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি এখন বিশ্বের একটি ঐতিহাসিক স্থান। এই স্থানটিকে একনজর দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসে এখানে। সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি আলী আকবর মাসুম বলেন, ময়নামতি জাদুঘর, শালবন বিহারসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে মানুষের প্রচুর আগ্রহ রয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় অন্য জেলার মানুষও কুমিল্লায় সহজে আসতে পারেন। তবে কোটবাড়ি এলাকায় আবাসিক ব্যবস্থা থাকলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।

14 April 2017

বর্ণিল আয়োজনে কুমিল্লায় নববর্ষ উদযাপন

বর্ণিল আয়োজনে কুমিল্লায় নববর্ষ উদযাপন



বাঙালির জীবনে ঐতিহ্যের রঙ আর রূপ নিয়ে এলো পহেলা বৈশাখ। আবহমান বাংলার হাজার বছরের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বর্ণিল আয়োজনে বাঙালি বরণ করছে নতুন বছরকে। বাংলা নববর্ষকে ঘিরে পুরনো দুঃখ, গ্লানিকে ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাচ্ছে কুমিল্লার সবস্তরের মানুষ। প্রতিবছরের মতো এবারও সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগে চলে বর্ষবরণ উৎসব।

সকালে ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। মঙ্গল শোভাযাত্রায় কুমিল্লা সদর-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম, পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন অংগ্রহণ করেন। সেটি স্টেশন ক্লাবে এসে শেষ হয়। ওই শোভাযাত্রায় তরুণ-তরুণীরা হাতে ড্রাগন, মোরগ, মুখোশ, প্লেকার্ডসহ বাঙালির বিভিন্ন ঐতিহ্যকে ধারণ করে উল্লাসে মেতে উঠে।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ কারীরা বলেন, পহেলা বৈশাখ পুরনো জরাজীর্ণকে ঝেড়ে ফেলে আমাদের যাপিত জীবনে নতুন সম্ভাবনা ও নতুন প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলতেই শুধু নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে একাকার হওয়ার প্রেরণাও জোগায়। তাই পহেলা বৈশাখই হচ্ছে বাঙালির জীবনে সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক সার্বজনীন উৎসব।
পহেলা বৈশাখে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে সারা দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। স্টেশন ক্লাবে ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

কুমিল্লা নগর উদ্যানের জামতলা, স্টেশন কাব, কুমিল্লা মহিলা মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনসহ বিভিন্ন সরকারি স্কুল প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে নববর্ষ উদযাপন হয়েছে। 
সুত্রঃ কুমিল্লার কাগজ

12 April 2017

কুমিল্লায় পত্রিকার হকারকে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লায় পত্রিকার হকারকে কুপিয়ে হত্যা



কুমিল্লায় পত্রিকার হকার মো: ফারুক মিয়া (২৮) নামে এক যুবককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার ভোর ৫টায় ঘটনাটি ঘটে পালপাড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে ভুইয়ার বাড়ীর রাস্তার মাথায় । স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ১০টায় এসে ঘটনাস্থল থেকে মৃত দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করেছে। ঘটনাস্থল থেকে ১ জোড়া জুতা ও ব্যাংক রশিদ উদ্ধার । 
ঘটনাস্থলের আশে পাশের ব্যক্তি ও নিহতের বাড়ীর লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিহত ফারুক মিয়া আদর্শ সদর উপজেলার উত্তর জামবাড়ি এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে। প্রতিদিনের মতো ভোরে বাড়ি থেকে পত্রিকা বিলি করার জন্য সে ভোর ৪.৩০ টায় বের হয়। তার সাথে ২লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা ছিল। গত সোমবার দিবাগত রাতে সমিতির টাকা ব্যাংকে জমা করার জন্য টাকা গুলো নিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে সমিতি বা বাড়ীর আশে পাশের কেউ এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে। তবে কিছুদিন পূর্বে ও তার মোবাইল রেখে দিয়েছিল পালপাড়া ব্রিজ এলাকার কিছু বখাটে। পরবর্তীতে ব্যাপারটি বিভিন্নভাবে সমঝোতা হয় এবং মোবাইল ফেরত দেয়। ঐ ঘটনার পর থেকে গোমতী নদীর পাড় দিয়ে কিছুদিন হয় সে আসা যাওয়া না করে বাড়ীর ভেতর দিয়ে পালপাড়া ব্রিজের নিকট এসে গোমতির পাড় উঠতো। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে ধারণা করছেন অনেকে। ঐ পরিবারে ফারুক সহ আরো এক ভাই ও এক বোন রয়েছে। ভাইটি মানুষিক ভারসাম্যহীন, মা অনেক আগেই মারা গিয়েছে বাবা ও অসুস্থ্য দীর্ঘদিন ধরে। পরিবারটি একমাত্র ফারুকের উপর নির্ভরশীল ছিল। দেড় বছর হয় বিয়ে করেছিলেন বুড়িচং উপজেলার পাহারপুর এলাকার আব্দুল মালেকের মেয়ে তাসলিমা আক্তারকে। চার মাসের একটি ফুটফুটে কণ্যা সন্তান রয়েছে। 
ফারুকের চাচা আজাদ মিয়া জানান, ৬টার দিকে ফারুকের মোবাইল থেকে এক ড্রাইভার ফোন দিয়ে বলে ভাই আপনার ভাতিজাকে কে বা কাহারা মেরে ফেলেছে পালপাড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে রাস্তার পাশে মৃত দেহটি পড়ে রয়েছে। পরে স্বজনরা সেখানে ছুটে যায় এবং মৃত দেহ দেখতে পায়। 
ছত্রখিল ফাড়ির ইনচার্জ মো: শাহীন কাদির জানান, নিহত ফারুকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৭টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত।

05 August 2016

পাস করেছেন নিহত সোহাগী জাহান তনু

পাস করেছেন নিহত সোহাগী জাহান তনু


কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু অনার্স ১ম বর্ষের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ফলাফল দেখে শুক্রবার রাতে তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।
জানা গেছে, গত ২০ মার্চ রাতে কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ কুমিল্লা সেনানিবাসের কালা ট্যাংকি-সংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর আগে তনু ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ইতিহাস বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের তার রেজিস্ট্রেশন নং- ১৪২১৫১২৭৩৩৫।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স প্রথম বর্ষের ফলাফল প্রকাশ করে। শুক্রবার রাতে তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল জানান, আপা (তনু) অনার্স প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ৬টি বিষয়ের মধ্যে তিনি একটিতে বি+, একটিতে বি, তিনটিতে বি- এবং একটি বিষয়ে সি+ পেয়েছেন।
পরীক্ষার ফলাফলে তনু উত্তীর্ণ হলেও আনন্দ নেই তনুর পরিবারে। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন ও মা আনোয়ারা বেগম জানান, তনুর ফলাফল দিয়ে কী হবে। তাকে তো মারা হয়েছে। ঘটনার সাড়ে ৪ মাস অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত কোনো বিচার পেলাম না।

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার অদুরে একটি জঙ্গল থেকে কলেজ ছাত্রী তনুর লাশ পাওয়া যায়। পর দিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার রহস্য উদঘাটনে ও ডিএনএ আলামত সংগ্রহ করতে গত ৩০ মার্চ আদালতের নির্দেশে তনুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করা হয়। পুলিশ ও ডিবির পর বর্তমানে কুমিল্লা সিআইডি মামলাটি তদন্ত করছে।

31 July 2016

১৬ মে’তেই আটকে আছে তনু হত্যা মামলা

১৬ মে’তেই আটকে আছে তনু হত্যা মামলা


কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার চার মাস ১১ দিন গেছে শনিবার (৩০ জুলাই)। চার মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আশার আলো নেই তনু হত্যা মামলায়। মামলা এখনও আটকে আছে ১৬ মে প্রকাশিত ডিএনএ রিপোর্টে। তনুর কাপড়ে পাওয়া তিন পুরুষের শুক্রানুর সঙ্গে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মেলানোর কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। সিআইডি এক সময় সন্দেহভাজনদের ডিএনএ পরীক্ষার কথা বললেও এখন তারা মুখ খুলছেন না।
রবিবার এসব কথা বলেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম।
তনুর মা অভিযোগ করেন, সিআইডি বলেছিলো ঈদের পরে তনুর মামলার অগ্রগতি হবে। ঈদের পর গত প্রায় এক মাসেও তেমন খোঁজ-খবর পাইনি। তনুকে সেনানিবাসের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে। সিআইডি সন্দেহভাজনদের তালিকাও করেছে। তাদের আটক করে ডিএনএ টেস্ট করলেই হত্যাকারী শনাক্ত হয়ে যায়। অথচ তা করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমার মাঝে মাঝে মনে হয় হত্যাকারীরা সরকারের থেকেও বেশি শক্তিশালী। তবে দেশের মানুষের সমর্থন ও মিডিয়ার সহযোগিতা না থাকলে এতোদিনে হয়তো তনুর মতো মামলাটিরও কবর দেওয়া হয়ে যেতো।
তনুর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মো.ইব্রাহিম বলেন, মামলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে মামলার অগ্রগতি নিয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসে বাসার পাশের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২১ মার্চ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করেন ডা. শারমিন সুলতানা। ওই দিন অজ্ঞাতদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন। গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ জেলার মুরাদনগরের মির্জাপুর গ্রামের কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ৪ এপ্রিল দেওয়া হয় প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়ে ফরেনসিক বিভাগ। গত ১৬ মে তনুর কাপড়ে তিন পুরুষের শুক্রানু পাওয়া যাওয়ার খবর সিআইডির কুমিল্লা অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় উঠে আসে প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন। ১২ জুন দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনেও তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত না থাকার কথা বলা হয়।
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

28 July 2016

জঙ্গি সন্দেহে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ৩ ছাত্রী আটক

জঙ্গি সন্দেহে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ৩ ছাত্রী আটক


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের নবাব ফয়জুন্নেছা হলের জঙ্গি সন্দেহে তিন ছাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার সামছুজ্জামান রাত পোনে একটায় একথা নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের  ভিত্ত্বিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বুধবার দিবাগত রাত ১১ টার পর থেকে ভিক্টোরিয়া কলেজের ধর্মপুর ডিগ্রী কলেজ শাখায় আসতে থাকে। রাত ১২ টায় তারা কলেজের হলের ভিতর প্রবেশ করে। পরে বিভিন্ন রুম তল্লাশী করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা বিভিন্ন বর্ষের ৩জন ছাত্রীকে আটক করে।
এ ব্যাপারে বুধবার দিবাগত রাত পোনে ১টায় কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার সামছুজ্জামান জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদেও কাছে বিভিন্ন বর্ষের ৩জন ছাত্রীকে তুলে দিয়েছে। এখনো আমরা কলেজ ক্যাম্পাসে আছি। থানায় গিয়ে জিঞ্জাসাবদ করলে জানা যাবে তারা জঙ্গিদের সাথে জড়িত আছে কিনা।

17 July 2016

‘সরকারের চেয়ে তনুর খুনিরা বেশি শক্তিশালী’

‘সরকারের চেয়ে তনুর খুনিরা বেশি শক্তিশালী’


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী নিহত সোহাগী জাহান তনুর মামলার তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লা অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খানের বদলি নিয়ে তনুর মা আনোয়ারা বেগম শনিবার সন্ধ্যায় মত প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ড.নাজমুল করিম খান বলেছিলেন, ঈদের পরে মামলা একটা পর্যায়ে যাবে। কিন্তু তিনি বদলি হয়ে গেলেন। তার তদারকিতে মামলাটি এগিয়ে যাচ্ছিলো। বিশেষ করে ডিএনএ রিপোর্টের বিষয়টি মামলাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। তার বদলিতে মনে হচ্ছে, সরকারের চেয়ে তনুর খুনিরা বেশি শক্তিশালী।
গরিবের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই বলে আক্ষেপ প্রকাশ করে, তনুর মা আনোয়ারা বেগম দেশের মানুষ, সরকার ও মিডিয়ার সহযোগিতা চান বলে জানান।
নাজমুল করিম খানকে সোমবার রাজশাহী বদলি করা হয়। বুধবার তিনি কুমিল্লা থেকে বিদায় নিয়েছেন। সিআইডি কুমিল্লার একটি সূত্র তার বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিনি বদলি হয়ে গেলেও এখনও ঢাকায় তনুর মামলা নিয়েই কাজ করছেন।
ফোনে চেষ্টা করে ড. নাজমুল করিম খানকে পাওয়া যায়নি।
সিআইডি কুমিল্লার পরিদর্শক তনুর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজী মো. ইব্রাহিম মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার পাশের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২১মার্চ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করেন ডা. শারমিন সুলতানা। ওই দিন অজ্ঞাতদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন।
৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ জেলার মুরাদনগরের মির্জাপুর গ্রামের কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ৪ এপ্রিল দেয়া হয় প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়ে ফরেনসিক বিভাগ।
১৬ মে তনুর কাপড়ে ৩ পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া যাওয়ার খবর সিআইডির কুমিল্লা অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আবারো আলোচনায় উঠে আসে প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন।
১২ জুন ২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনেও তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত না থাকার কথা বলা হয়।

14 July 2016

তনু হত্যা মামলা থমকে আছে

তনু হত্যা মামলা থমকে আছে


কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ একটি নতুন ইস্যু। আরো একটি ঘটনা। এর পর চাপা পড়ে দেশের সব চেয়ে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এবারো তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গুলশান হামলার প্রেক্ষিতে আবারো হারিয়ে গেল চাঞ্চল্যকর মিতু ও তনু হত্যাকান্ডের মত গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়। গণমাধ্যমগুলোর নজর এখন ঐ দুই হত্যাকান্ড থেকে অনেক দূরে। সবাই ব্যস্ত গুলশান হামলা ও জঙ্গিবাদ ইস্যুতে। তাই আবারো আড়াল হলো মিতু ও তনু হত্যাকান্ড।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু হত্যা মামলাও থমকে আছে। হত্যার দুধরনের রিপোর্টের ফলে মামলার গতিও অনেকটা থমকে আছে।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন,‘তনু থাকলে ঈদটা অন্য রকম হতো। বড় ছেলে মনে হয় বাড়িতে আইব না। ডরে আইতে চায় না। এবার আমরার ঈদ অইব না।’ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে গত ২০ মার্চ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর লাশ পাওয়া যায়।
আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘গত রোজায়ও মেয়েটা ছিল। সন্ধ্যার আগেই ইফতারি বানাইত। আমার হাইপ্রেশার (উচ্চ রক্তচাপ), তাই কোনো কাজ করতে দিত না। কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে আবাসিক কোয়ার্টারেই সব সময় রোজার ঈদ করছি। কিন্তু এবার গ্রামের বাড়িতে ঈদ করব।’ কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুরে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে এবার হতভাগ্য পরিবারটি ঈদ করেন।
তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন বলেন, ‘গত ১৯ বছরে তারে (তনু) ছাড়া এই প্রথম ঈদ করতাছি। গ্রামের বাড়িতে এসে আসরের নামাজের পর তনুর কবর জিয়ারত করছি। দোয়া ছাড়া আমাদের এখন করার কিছু নেই। আল্লাহ সব দেখছেন, তিনি নিশ্চয়ই মেয়ে হত্যার বিচার করবেন।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যার সঙ্গে সন্দেহভাজন কত লোক ধরা হয়। অথচ তনু হত্যার সঙ্গে জড়িত একটা লোকও ধরা পড়ে না। সিআইডি বলছে, ঈদের পর নামবে। আমি চাই বাবুল আক্তারের স্ত্রী ও তনুসহ সব হত্যার সঙ্গে জড়িত খুনিদের গ্রেপ্তার করুক পুলিশ।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তনু হত্যা মামলার তদন্তসহায়ক দলের একজন বলেন, ‘ঈদের ছুটির কারণে জিজ্ঞাসাবাদ বন্ধ রয়েছে। ঢাকায় একাধিক বৈঠক হয়েছে। ঈদের ছুটির পর মামলার গতি আরও বাড়বে। ঢাকায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সিআইডি এ মামলার কিনারা করতে চায়।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘তনুর পরিবার একেক সময়ে একেক রকম তথ্য দিচ্ছে। মিডিয়ার সামনে কথা বলছে। আমরা তদন্ত করছি। আসামি শনাক্ত হয়নি, আমরা কিসের ওপর অভিযোগপত্র দেব? আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।’
কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরের কালভার্টের কাছের ঝোপ থেকে ২০ মার্চ উদ্ধার করা হয় তনুর লাশ। এ ঘটনায় ২১ মার্চ তাঁর বাবা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

11 July 2016

ঈদের আমেজ ছিল না তনুর পরিবারে

ঈদের আমেজ ছিল না তনুর পরিবারে


কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ ঈদ মানেই আনন্দ। সবাই আনন্দের সঙ্গেই পালন করে পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু ঈদে সেই আনন্দের আমেজ নেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রী নিহত সোহাগী জাহান তনুর পরিবারে। প্রতিবার তারা সেনানিবাসের বাসায় ঈদ পালন করলেও এবার করেছেন গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, বাবা- আমাদের কিসের  ঈদ-চাঁদ? এবার তনু নেই। সে না থাকায় তার বড়ভাই নাজমুল হোসেনও ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেনি। ভাই বাড়ি আসলে তনু তার গলা জড়িয়ে ধরতো। বোনের অনুপস্থিতিতে খারাপ লাগবে তাই সে বাড়িতে আসেনি।
ঈদের দিন তনুর বাবা আর ছোটভাই আনোয়ার হোসেন ঈদের নামাজ পড়েছেন গ্রামের বাড়ির মসজিদে। আছরের নামাজের পর বিকালে তনুর কবর জিয়ারত করেছেন।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ১০ বছর পর গ্রামের বাড়িতে ঈদ করছি। তনু নেই, তবু সবার মুখে তনুকে নিয়ে জিজ্ঞাসা। আত্মীয়-স্বজন যারাই ঈদ উপলক্ষে আমাদের বাড়িতে এসেছে সবাই তনুর বিচার নিয়ে জানতে চেয়েছে। বড় ছেলে নাজমুল বাড়ি না আসায় আর মেয়ে তনুর মৃত্যুতে আমার চারদিক খালি খালি লাগে।
ঈদের টুকটাক রান্না করেছে আমার ছোট বোন সাজেদা বেগম। আত্মীয়-স্বজন কারও বাড়ি যাইনি। তারাই এসেছেন তনুর বিষয়ে জানতে। তনুর চা বাগানে তোলা শেষ ছবিটি মানুষ দেখতে চেয়েছে। তনুর দাদার শরীর ভালো না। তিনিও মাঝে তনুর কথা জানতে চান। বড় ছেলে নাজমুলকে বলেছি দাদাকে দেখে যেতে। সে আসলে দুই তিনদিন পর আমরা সেনানিবাসের বাসায় চলে যাবো।
সেনানিবাসের বাসায় অন্য ঈদের দিন তনু নানা ধরনের খাবার তৈরি করতো। কেক, সমুচা, হালিম, নুডুলস, মাংসের কাবাব, ডিম পিঠা তার পছন্দের ছিল। তনুর বাবার পছন্দ কাচ্চি বিরিয়ানি, তনু সেটিও রান্না করতো বলে জানান তনুর মা।
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার পাশের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২১মার্চ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করেন ডা. শারমিন সুলতানা। ওই দিন অজ্ঞাতদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন। গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ জেলার মুরাদনগরের মির্জাপুর গ্রামের কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ৪ এপ্রিল দেওয়া হয় প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়ে ফরেনসিক বিভাগ। গত ১৬ মে তনুর কাপড়ে ৩ পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া যাওয়ার খবর সিআইডি থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় উঠে আসে প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন। প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ডিএনএ প্রতিবেদনের এমন গরমিল তথ্যে ঝুলে যায় ২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ডিএনএ প্রতিবেদন আদালতের নির্দেশে ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তরের পর ১২ জুন ২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেটি নিয়েও তৈরি হয় বিতর্ক।

06 July 2016

পরিবারের সবার জন্য তনুই ঈদের কেনা-কাটা করত

পরিবারের সবার জন্য তনুই ঈদের কেনা-কাটা করত


বিশেষ প্রতিনিধি: দুই দিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। সর্বত্র চলছে কেনা-কাটার ধুম। তবে ঈদের আমেজ নেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী নিহত সোহাগী জাহান তনুর পরিবারে। প্রত্যেকবার তনুর পরিবার সেনানিবাসের বাসায় ঈদ পালন করলেও এবার তারা চলে যাবেন গ্রামের বাড়িতে।
সোমবার সন্ধ্যায় তনুর মা আনোয়ারা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘রোজা কিভাবে থাকছি, কী রান্না করছি, কী খাচ্ছি বলতে পারব না। ওঠতে বসতে শুধু তনুর কথা মনে হয়।’
ঈদের কেনা-কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবারের কেউ কিছু কেনেনি। তনুর দুই ভাইয়ের মনও খারাপ। গত ঈদে পরিবারের সবার জন্য কেনা-কাটা তনুই করেছে। তার নিজের, দুই ভাই, বাবা এবং আমার সবার কাপড় তনুই পছন্দ করত। এবার আমার শ্বশুরের জন্য শুধু একটি পাঞ্জাবি কিনেছি।
ঈদ গ্রামের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে করব। সেনানিবাসের বাসায় কোনো প্রতিবেশী এখন ভয়ে আমাদের সঙ্গে মিশতে চায় না। বাইরে গেলে আমাদের সঙ্গে কথা বলে। এখানে আমাদের পাহারা দিয়ে রাখা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন তনু নানা ধরনের খাবার তৈরি করত। কেক, সমুচা, হালিম, নুডুলস, মাংসের কাবাব, ডিম পিঠা তার পছন্দের খাবার ছিল। এগুলো দিয়ে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের আপ্যায়ন করত। তনুর বাবার পছন্দ কাচ্চি বিরিয়ানি। তনু সেটিও রান্না করত।
এখন নামাজের বিছানায় বসে তনুর বাবায় কান্দে, আমিও কান্দি। সিআইডি বলেছে ঈদের পরে তনুর মামলার বিষয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করবে। মেয়েতো হারিয়েছি, দেখি বিচারটা পাই কিনা।’

30 June 2016

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ সকাল সাড়ে ৮টায়

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ সকাল সাড়ে ৮টায়


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদ উল ফিতরের নামাজ সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। আর কুমিল্লার প্রধান এই ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ঈদগাহ উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 
বৈঠকে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল সভাপতিত্ব করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ মো: ওমর ফারুক, কেন্দ্রীয় ঈদগাহর ইমাম মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, আলহাজ্ব শাহ মো: আলমগীর খান, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুল, দৈনিক কুমিল্লার কাগজ সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়, কাউন্সিলর জমির উদ্দিন খান জম্পি, বিশিষ্ট নাগরিক জিএম সিকান্দর, কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্মসম্পাদক নাজমুল আহসান রুমেল প্রমুখ। 
সভায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদ উল ফিতরের নামাজ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

28 June 2016

সৌদিতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লার দুই যুবক নিহত

সৌদিতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লার দুই যুবক নিহত


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সৌদি আরবে তায়েফ থেকে কাজ শেষে রিয়াদ আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো পাঁচ বাংলাদেশি। সোমবার রাতে তায়েফ থেকে রিয়াদে ফেরার পথে রিয়াদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার চিওড়া ইউনিয়েনের তেলিগ্রামের আলাউদ্দীন ওরফে সাব্বির (২৮) পিতা আমিরুল ইসলাম এবং একই জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের পরিকোট গ্রামে মো. রিপন (২৯)। দুজনই ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।
এই দুর্ঘটনায় আহত ৫ বাংলাদেশিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে হেলিকপ্টার যোগে রিয়াদের সমুচি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত সাব্বির ও রিপনের মরদেহ ওই হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন নিহত রিপনের এলাকার নাহীম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।


25 June 2016

কত দিন ঘোরাতে পারে দেখি - সি আই ডি

কত দিন ঘোরাতে পারে দেখি - সি আই ডি


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা তদন্তে আবারো মাঠে নেমেছে সিআইডি। বুধবার তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কুমিল্লা তিন শিল্পী সারওয়ার, খোকন ও বাপ্পীকে। এছাড়া ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
তনু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান মন্তব্য করেছেন, 'অপরাধীরা চালাক হলে কত দিন আমাদের ঘোরাতে পারে দেখি; কিন্তু একদিন তো সত্য বেরিয়ে আসবে।’
মূলত গত এক মাসে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা ছিল না মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডির। গত ২৬ মে কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি সংস্থার কার্যালয়ে তিন সেনা সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা ছাড়া তাদের আর কোনো তৎপরতা নেই।
এই পরিপ্রেক্ষিতে তনুর মা আনোয়ারা বেগম সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তিনি চান সিআইডি কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে দেখা করুন অথবা তারা বললে তিনি সিআইডি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করবেন।
আনোয়ারা বেগম বলেন, তনু হত্যা মামলা কত দূর এগোল তা আমি জানতে চাই।
এ ব্যাপারে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বুধবার কুমিল্লা সেনানিবাস পরিদর্শন করে পরদিন বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফিরে তদন্ত সহায়ক দলের প্রধান বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবেন তনুর কাপড়ে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মেলানোর কাজটি কিভাবে শুরু করা যায়।
'সত্যের জয় হবেই'—উল্লেখ করে নাজমুল বলেন, ‘সেনানিবাস এলাকায় ঘটা এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন কাজটি কঠিন। তদন্ত কাজটিও কঠিন। এর পরও আমাদের চেষ্টা অপরাধী শনাক্ত করা। যারা অপরাধী, তারা নিজেদের কতটা বাঁচাতে পারে এবং আমরা কতটা রহস্য উন্মোচন করতে পারি সেটাই এখন দেখার বিষয়। অপরাধীরা চালাক হলে কত দিন আমাদের ঘোরাতে পারে দেখি; কিন্তু একদিন তো সত্য বেরিয়ে আসবে।’
তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলারও বিচার হয়েছে। আরো অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার হয়েছে। তনু হত্যার বিচারও হবে।
অন্যদিকে নিজ কর্মস্থলে এক কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবারও তনুর বাবা এয়ার হোসেনের সঙ্গে রূঢ় ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাকরি হারানোর ভয়ে তিনি এই রূঢ় ব্যবহারের কথা কাউকে জানাতে রাজি হননি। অফিসের ডিউটি শেষে বাসায় ফিরে তা স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে জানানোর পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানিয়েছেন তনুর মা। 
এয়ার হোসেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে আগের দিন সোমবার কুমিল্লায় গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে বাসায় ফেরার সময় তনুর মা আনোয়ারা বেগম ও ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেলের সঙ্গেও রূঢ় আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আনোয়ারা বেগম।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা সেনানিবাসের অলিপুরের কাছে পাওয়ার হাউসের জঙ্গলে তনুর লাশ পাওয়া যায় গত ২০ মার্চ। পরদিন তনুর বাবা এয়ার হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামল করেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায়। 

23 June 2016

তনুর পরিবার ভিত্তিহীন ও অসংলগ্ন অভিযোগ করেছে - সেনাবাহিনী

তনুর পরিবার ভিত্তিহীন ও অসংলগ্ন অভিযোগ করেছে - সেনাবাহিনী


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুহত্যাকাণ্ড নিয়ে তার পরিবারের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।    
বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুঃখজনক তনু হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদন্ত কার্যক্রম চলমান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ তদন্তে আন্তরিক সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে।

সকল দেশবাসীর মতো দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীও চায় প্রকৃত হত্যাকারীরা দ্রুত সনাক্ত হোক এবং তাদের গ্রেফতারের মাধ্যমে যথাযথ বিচারের সম্মুখীন করা হোক। এতে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে তনুর পরিবারের ভিত্তিহীন ও অসংলগ্ন অভিযোগ করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবার অবকাশ রয়ে যাচ্ছে। সেনানিবাসের অভ্যন্তরে বসবাসরত অন্যান্য সকল পরিবারের মতই তনুর পরিবারকে সব রকম সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।

তাদের স্বাধীন চলাচলের কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের পর প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে তাদের বসবাস এলাকায় প্রহরী নিয়োগ করা হলেও পরবর্তীতে তা নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি সাপেক্ষে তুলে নেওয়া হয়েছে।

তাছাড়া, নিরাপত্তার স্বার্থে সেনানিবাসের অভ্যন্তরে গমনাগমনের জন্য সবাইকে পরিচয় নিশ্চিত করার জন্যজিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই সামরিক রীতি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা বা কারো ব্যক্তি স্বাধীনতাকে খর্ব করার জন্য নয়।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তনুর পিতা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের একজন কর্মরত সদস্য, যিনিঅন্যান্য সকলের মতোই সেনানিবাসের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা পাচ্ছেন।তাকে বাস বা মোটর সাইকেল চাপা দিয়ে হত্যা প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ একটি ধারণা প্রসূত ব্যাপার, যে ব্যাপারে তনুর পরিবার কাউকেই এ পর্যন্ত কোনো কিছুঅবগত করেনি।
এ ব্যাপারে ইয়ার হোসেনকে তার উপরস্থ কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) (যিনি বেসামরিক প্রশাসন হতে প্রেষণে নিয়োজিত একজন প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা) জিজ্ঞাসাবাদ করলে ইয়ার হোসেন নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হন। তাছাড়াতিনি এ ব্যাপারে এতদিনে সেনা কর্তৃপক্ষ বা তদন্তকারী কাউকেই অভিযোগ করেনি যা গুরুত্ব বিবেচনায় অসংলগ্ন প্রতিপন্ন হয়।গত ২০ জুনতনুর বাবাকে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টাকরা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেনতনুর মা আনোয়ারা বেগম। 
তাদের সেনাবাহিনীর নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ওইদিন দুপুরে কুমিল্লায় গণজাগরণ মঞ্চ আয়োজিত তনু হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ  ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তনুর পরিবার সেনাবাহিনীর অন্যান্য সকল পরিবারের মতো এখনওসেনানিবাসের ভেতরে বসবাস করছেন। সেনা কর্তৃপক্ষ তনু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তসহ তনুর শোকাহত পরিবারকে সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদানে বদ্ধ পরিকর।প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ রাতে তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় তনুর বাড়ির ২০ গজ দুরে জঙ্গলের মধ্যে থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাড়িতে তনুকে দাফন করা হয়।এ ঘটনায় ২১ মার্চ তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।২৯ মার্চ তনু হত্যা মামলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় সিআইডি ৫ সেনা সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। তনুর প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়ধর্ষণের আলামত নেই, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে ৩০ মার্চ বেলা পৌনে ১২টায় তনুর লাশ উত্তোলন করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করে ওই দিনই পুনরায় দাফন করা হয়। ১২ জুন সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেনময়নাতদন্তকারী বোর্ড কর্তৃপক্ষ। মৃত্যুর আগে ধর্ষণনয় তার সঙ্গে ‘সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স’ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এছাড়া মৃত্যুর কারণ জানতে পুলিশকে অধিকতর তদন্তের পরামর্শ দেন দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামদা প্রসাদ সাহা।এদিকে মৃত্যুর ২৫ বছরের মধ্যে ময়না তদন্ত করলেও মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করা সম্ভববলে জানান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাবেক পরামর্শক অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক। এদিকে, তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার।

22 June 2016

তনুকে গাড়িতে তুলে নেয় সেনাকর্মকর্তার স্ত্রী - তনুর মা

তনুকে গাড়িতে তুলে নেয় সেনাকর্মকর্তার স্ত্রী - তনুর মা


কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ৩ মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বহু হত্যাকাণ্ডের মতো এই আলোচিত হত্যার সাথে জড়িত কারো হদিস এখনো পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে তনুর পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি বেশ কিছু প্রকাশিত সংবাদ ও সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে ফোনে কথা হয় তনুর পরিবারের সাথে। কিন্তু কথা বলতে আপত্তি জানান তনুর বাবা ইয়ার হোসেন। তিনি জানান, তনুর বিষয়ে কোনো ধরণের বক্তব্য প্রদান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে! কিন্তু কারা দিলেন এ নির্দেশ?
তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘‘তনুর ব্যাপারে কথা বলতে আমার খুব কষ্ট হয়। আমি দুর্বল হয়ে পড়ি। তনুর বাবা কথা বলতে পারেন তাই তাকে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে”।
সেদিন ঠিক কি হয়েছিল? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “১৭ মার্চ ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সদস্যদের সঙ্গে শ্রীমঙ্গল যায় তনু। সেখান থেকে ফেরার পর ২০ মার্চ বিকেলে টিউশনির কথা বলে তনুকে সালমা আক্তার নামের এক মেয়ের মাধ্যমে ডেকে নেওয়া হয় সার্জেন্ট জাহিদের বাসায়। কুমিল্লা সেনানিবাসের অলিপুরের ১২ ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়নের কোয়ার্টারে সার্জেন্ট জাহিদের মেয়েকে পড়াতো তনু। এরপর সন্ধ্যা হওয়ার পর ফিরছে না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। তনুর ভাই সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় খোঁজ করতে গেলে, তার (সার্জেন্ট জাহিদ) স্ত্রী হ্যাপী তাড়াহুড়ো করেই দরজা বন্ধ করে দেয়”।
এ ব্যাপারে তনুর ভাই মোঃ আনোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, “তনুর ব্যাপারে খোঁজ করতেই সার্জেন্ট জাহিদের স্ত্রী হ্যাপী খুব ভয়ার্ত হয়ে পড়েন এবং ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৭টা বাজতেই তনু বেরিয়ে গেছে’ এই কথা বলেই তিনি দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে অলিপুরে পাহাড় হাউসের জঙ্গলে তনুর লাশ পাওয়া যায়”।
তনুর মা বলেন, “তদন্তে বলা হচ্ছে তনুর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সব মিথ্যা কথা। তনুর শরীরে অনেক আঘাত ছিল। নাকে আর মাথার পেছনে থেঁতলানো ছিল। ওর (তনু) চুল কেটে নেওয়া হয়েছে”।
তবে কেন তদন্তে রয়েছে ধোঁয়াশা? এমন কোন ক্ষমতাবানের কলকাঠির মাধ্যমে এ তদন্ত নিয়ে চলছে জঘন্য রাজনীতি? এ বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা অনেক কথা বলতে পারিনা তদন্ত সাপেক্ষে। তবে আমরা অনেকটাই অপরাধীর কাছাকাছি যেতে পেরেছি। আশা করছি খুব দ্রুত এর সুরাহা সম্ভব হবে”। 
তবে এ ব্যাপারে তনুর মা বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, “তদন্ত কি হচ্ছে তা আমরা জানিনা। আমাদের হেনস্তা করে কি পাচ্ছেন তারা? তনুর বাবাকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু যখন আমরা জিডি করতে গেলাম, বলা হল আমরা মিথ্যে বলছি। এটা বলে আর জিডি নেওয়া হয়নি”।
এই ব্যাপারে কথা হয় কুমিল্লার বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের সাথেও। বেরিয়ে আসে আরো অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। 
জানা গেছে, তনুকে সেদিন সার্জেন্ট জাহিদের বাসা থেকে একটি সেনাবহিনীর গাড়ি এসে তুলে নিয়ে যায়। তাছাড়া শুধু সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রী নয়, এ হত্যার পেছনে জড়িত রয়েছেন ১১ জন সেনা সদস্য, যারা এ মূহুর্তে ক্যান্টনমেন্টের নির্ধারিত সীমানার বাইরে এমনকি জনসমক্ষেও আসতে পারছেন না। তবে তারা কোথায় আছেন? এমন প্রশ্ন করতে সাংবাদিকরা বলেন, “আমাদের অনেকের মোবাইল রেকর্ড করা হয়েছে। আমরা অনেক কথা বলতে পারছি না”।
তাহলে কি সেনাবাহিনী তনুর পরিবারের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও চাপে রেখেছে? কাকে বাঁচাতে এতো প্রয়াস?
এ বিষয়ে সত্যতা জানতে চাওয়া হয় তনুর মায়ের কাছে। তিনি জানান, ঘটনার দিন প্রাইভেট পড়ানোর পর তনুকে সার্জেন্ট জাহিদের বাসা থেকে একজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী গাড়িতে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। ঐ সেনা কর্মকতার স্ত্রী তনুকে পরে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বললে তনু তার মাকে ফোন করে তা জানানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এসময় তার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। আর সেনা কর্মকতার স্ত্রীকে ফোন করে বাসায় ডেকে এনেছিলেন সার্জেন্ট জাহিদের স্ত্রী। পরে তনুকে বাংলাবাজারের দিকে কোন সেনা কর্মকর্তার বাসায় নিয়ে অত্যাচার করে হত্যা করার পর তার লাশ টহল গাড়ি দিয়ে এনে অলিপুরে পাহাড় হাউসের জঙ্গলে এনে ফেলা হয়েছে।
তনুকে গাড়িতে তোলার সময় ধস্তাধস্তি করার বিষয়ে অনেকে দেখেছেন এমন তথ্যের সত্যতার বিষয়ে তনুর মা বলেন, “ক্যান্টনমেন্টে হাজার হাজার কোয়ার্টার আছে। একটা এত বড় মেয়েকে যে ধস্তাধস্তি করা হয়েছে তা অদৃশ্য নাকি? মানুষ কি বোঝে না? অনেকেই কথা বলতে পারেন না হুমকির কারণে”।
তনুর মা বলেন, “আমরা তো কোনো খারাপ কিছু দাবি করছি না। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাইছি। এতে কেন এতো টালবাহানা? তনুর বাবাকেও চুপ করিয়ে দেওয়া হল। কাকে বাঁচানোর জন্য?"
তনুর ভাই রুবেল বলেন, "আমরা সবসময় আতঙ্কে আছি। আমার বোন হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে মনে হল প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার ক্ষমতা চাইলাম! আমার বাবাকে (ইয়ার হোসেন) হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মনে হচ্ছে তো আমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে!”
তনুর পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিনিয়ত তারা দিন কাটাচ্ছেন হুমকির মুখে। কারো সাথে কথা বলতে পারেন না তারা। ঘরের ডিশ লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। নিয়ে যাওয়া হয়েছে তনুর সব স্মৃতি। 
তনুর মা বলেন, “আমার মেয়েকে ওরা মেরে ফেললো। এখন ঘরে ওর একটা ছবি নেই। সব নিয়ে গেছে। তনুর ডায়েরী নিয়ে গেছে। আমাদের মন থেকে তনুকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য যা করতে হয় তা করা হচ্ছে। ঘরে টিভির লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। মোবাইলে আত্মীয়স্বজনরা ফোন করলে তাদেরও হয়রানি করা হচ্ছে। মেয়ের হত্যার বিচার চাওয়া কি আমাদের অপরাধ?”
তনুর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এই বিষয়ে সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রী হ্যাপীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা আর সম্ভব হয়নি। তবে বিশ্বস্ত এক সূত্রে জানা গেছে, সার্জেন্ট জাহিদ নাকি নিখোঁজ রয়েছেন ঘটনার দিন (২০ মার্চ) রাত থেকেই। তাকে সেনাবাহিনীর গাড়িতে করেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কে বা কারা নিয়ে গেছেন এবং কোথায় নিয়ে গেছেন এ বিষয়ে জানা যায়নি। 
এ বিষয়ে কোনো কথাও বলতে চাননি সেনা কর্মকর্তারা। এর ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে কোন ক্ষমতাবান ব্যক্তি বা ব্যক্তিদেরকে রক্ষার জন্য আড়াল করা হচ্ছে সব কিছু, দেখানো হচ্ছে ক্ষমতার শক্তি! 
এই ব্যাপারে কথা হয় সিআইডির তদন্ত সহায়ক দলের সদস্য বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান এর সাথে। তিনি বলেন, “পৃথিবীতে এমন কোনো অপরাধ নেই যার বিচার হয়নি। নাৎসি বাহিনীরও বিচার হয়েছে। ৪০ বছর পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। ৪৩ বছর পরেও বাংলাদেশে বিচার হচ্ছে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের দণ্ডও কার্যকর করা হয়েছে। তাই আমরা আশা ছাড়ছি না। আমরা যে অপরাধীর খুব কাছেই চলে গেছি তা অপরাধীরা টের পেয়েছেন। তাই অতিরিক্ত ক্ষমতাবলে তারা এর প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছেন। অতএব তারা যতোই ক্ষমতাবান হোক একদিন অবশ্যই বিচার সম্ভব হবে”।
তবে কি এই হত্যার জন্যেও ৪০-৫০ বছর অপেক্ষা করতে হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমুল করিম বলেন, "আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। সেনানিবাসে গিয়ে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এমনকি সেনা কল্যাণের যে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল ২০ মার্চ, যা আর হয়নি সে বিষয়ে তদন্ত করেছি। কুমিল্লার শিল্পী সারওয়ার, মিউজিশিয়ান খোকন ও বাপ্পীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে সিআইডি কার্যালয়ে। তাদের ঐ অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার কথা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারাও সেখানে যান নি। আশা করছি সবকিছু দ্রুত তদন্ত করে আমরা অপরাধীদের ধরতে পারবো"। 
অপরাধী হিসেবে তনুর মা সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহী জাহিদের নাম বারবার নিয়েছেন। তবে তারাই কি মূল অপরাধী? এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো কথা বলতে চাননি ড. নাজমুল করিম খান। এতে সন্দেহের দানা আরো প্রখর হয়ে উঠে। 
এ বিষয়ে তনুর ভাই ও মায়ের সাথে কথা বললে তারা বলেন, "সার্জেন্ট জাহিদ, তার স্ত্রী হ্যাপী এবং সিপাহী জাহিদসহ তার পরিবার সবকিছু জানে। এরাই আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। নইলে কেন ঘটনার দিন সার্জেন্ট জাহিদের স্ত্রীর কাছে তনুর খোঁজ জানতে চাইলে তিনি ওভাবে চমকে উঠেন এবং মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেন?"
সাংবাদিকসহ জনসমক্ষে কোনো কথা বলতে নিষেধাজ্ঞার পরেও অনেক চেষ্টার পর কিছু কথা বলার সুযোগ পাওয়া যায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন এর সাথে। 
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, "আমরা মেয়ে হারিয়েছি। তনু ছিল আমাদের প্রাণ। মা-বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায় যাদের সন্তান মারা যায় তাদের মনের অবস্থা কেমন হয় তা বুঝিয়ে বলা সম্ভব না। জীবিত মা-বাবার কাঁধে সন্তানের লাশের ভার কেউ বোঝে না। যার হারায় কেবল সেই বুঝতে পারে। আমি এখন চাইলেও কারো সাথে কথা বলতে পারি না। আমার পেছনে সবসময় গোয়েন্দা থাকে। আমার শুধু একটাই দাবি এই সরকারের কাছে, আমার মেয়ে হত্যার বিচার করা হোক"।
তিনি বলেন, "আমরা সরকারের বা কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিইনি। তনু আমাদের সবচেয়ে হাসিখুশি মেয়ে ছিল। দেশবাসী এবং বর্তমান সরকারের কাছে আমরা চাই তনুকে হত্যা করে আমাদের সুখের ঘরটা আজ যারা গোরস্থান বানিয়েছে তাদের যথাযথ বিচার করা হোক। এমনভাবে যেন আর কোনো মা-বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ নিতে না হয়"।
সুত্রঃ bangla.jagoroniya.com

20 June 2016

তিন মাসেও অধরা তনুর খুনিরা

তিন মাসেও অধরা তনুর খুনিরা


কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ ছিল তার। গান গাইতেন, অভিনয় করতেন,বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যেতেন,সব সময় অন্যদের মাতিয়ে রাখতেন হাসি আনন্দে। হায়েনাদের থাবায় সেই তরুণীটি হারিয়ে গেছে আজ তিন মাস হলো। তার অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে সারাদেশ কেঁদেছে, তার পিতা-মাতার বিচার চাওয়ার আকুতি ছুঁয়ে গেছে প্রতিটি বিবেকবান মানুষের হৃদয়। কিন্তু, কঠোর পরিবেশ আর স্পর্শকাতর এলাকার নিজস্ব নিয়মের বেড়িতে থমকে আছে সেই বিচার প্রক্রিয়া। আজ তিন মাসেও তার হত্যাকারীদের কেউ চিহ্নিত হয়নি। অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) চেষ্টা সত্ত্বেও এখনও হয়নি সন্দেহভাজনদের ডিএনএ পরীক্ষা। এই হতভাগী তরুণীর নাম সোহাগী জাহান তনু। গত ২০ মার্চ বিকালে কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের ভেতরে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে আর ফেরেননি তিনি। ওই রাতে সেনানিবাসের জঙ্গলে পাওয়া যায় তার ক্ষত-বিক্ষত লাশ।
একটা মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে জল কতোটা ঘোলা হতে পারে তার সবই যেন দেখা গেছে তনু হত্যা পরবর্তী পরিস্থিতিতে। তার মৃত্যুর পরে দেওয়া প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটিতে ধর্ষণের কোনও তথ্য না থাকায় সেটা মানেননি তার পরিবার সদস্যরা। এরপর পরিবার ও জনদাবির মুখে কবর থেকে লাশ উঠিয়ে করা হয় দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষা। মামলাটি হাত বদল হতে থাকে একের পর এক গোয়েন্দা সংস্থার। সর্বশেষ মামলাটির দায়িত্ব পায় অপরাধ তদন্ত বিভাগ। তারা ডিএনএ পরীক্ষায় তিন ধর্ষকের বীর্যের আলামত পাওয়ার কথা জানানোর পরে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে সময়ক্ষেপন করতে থাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত বোর্ড। অবশেষে ডিএনএ প্রতিবেদন হাতে নিয়ে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয় সেটিতেও তথ্যের গরমিল থাকার অভিযোগে তা প্রত্যাখ্যান করে তনুর পরিবার। এমনকি সিআইডি’র পক্ষ থেকেও এই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে গোঁজামিল থাকার কথা বলা হয়েছে। সিআইডি যাদের সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করছে স্পর্শকাতর এলাকার অনুমতি না পাওয়ায় তাদের কাউকে এখনও ডিএনএ পরীক্ষার মুখোমুখি করতে পারেনি।    
সিআইডির একটি সূত্রের দাবি, বিশেষ এলাকা না হলে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার কিংবা ডিএনএ টেস্ট করা যেতো। কিন্তু সেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ময়নাতদন্ত নিয়ে মানুষের ক্ষোভের অন্ত নেই। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী বোর্ডের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা ১২ জুন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে বলেন, মৃত্যুর ১০দিন পর মরদেহ ময়নাতদন্ত করায় তার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন আছে কিনা তা শনাক্ত করতে পারেনি বোর্ড। কারণ, ততদিনে তার শরীর পচে গেছে। এ কারণে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও তনুর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি। বরং মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করতে পুলিশকে অধিকতর তদন্তসহ পারিপার্শ্বিক ঘটনা প্রবাহ তদন্ত করতে পরামর্শ দিয়েছে মেডিক্যাল বোর্ড। এছাড়া ধর্ষণের কথা বলা না হলেও মৃত্যুর আগে যৌন সংসর্গের কথা বলা হয়েছে।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন মিথ্যা বলে দাবি করে বলেন, ‘এ রিপোর্ট মিথ্যা। রিপোর্ট যদি মিথ্যা না হয় তাহলে তদন্তকারীরা কীভাবে বলল যে আমার মেয়ের যৌন সম্পর্ক ছিলো। আমি বার বার বলেছি আমার মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিলো। আমার মেয়ের নাকে আঘাত, মাথায় আঘাত, শরীরে বুটের পায়ের দাগ, বুটের পারায় পায়ের রানের মাংস থেতলে ছিল, কিন্তু ডাক্তাররা কেন মৃত্যুর কারণ খুঁজে পায়নি। প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. শারমিন সুলতানা ভুল রিপোর্ট দিয়েছিলেন। তাকে বাঁচাতে দ্বিতীয় প্রতিবেদনও ভুল দেওয়া হয়। আমি মেয়ে হত্যার সঠিক বিচার চাই।’

গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার মুখপাত্র খায়রুল আনাম রায়হান এ বিষয়ে বলেন, ময়নাতদন্তের নামে ফরেনসিক বিভাগ নানা নাটক করেছে। তারা সময় ক্ষেপণ করেছে। তনুর হত্যার বিচারের দাবিতে আবারও আমরা আন্দোলনে নামবো।

কুমিল্লা টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ বলেন, প্রথম ময়নাতদন্তে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত মিলেনি। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও হত্যার কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়।

তবে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে সিআইডির ডিএনএ রিপোর্টকে দেখে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সের কথা বলা হয়েছে। তবে একটি পক্ষকে বাঁচাতে সেখানে ফোর্সফুল কথাটি বলা হয়নি। 

নারী নেত্রী রোকেয়া বেগম শেফালী বলেন, সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স বা যৌন সম্পর্কের কথা বলে তনুর চরিত্র নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সিআইডি সঠিক তদন্ত করে আসামি শনাক্ত করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি আলী আকবর মাসুম বলেন, তনুকে ধর্ষণ বা সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স’র তথ্য প্রকাশের চেয়ে আইনগতভাবে তার মৃত্যুর কারণটি খুঁজে বের করাই ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের উচিত ছিল। 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মো.ইব্রাহিম বলেন, দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছি। দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। 
উল্লেখ্য,গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার পাশের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পর দিন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করেন ডা. শারমিন সুলতানা। গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ জেলার মুরাদনগরের মির্জাপুর গ্রামের কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
গত ৪ এপ্রিল ২ সপ্তাহের মধ্যেই দেওয়া হয় প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত না থাকায় দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ফরেনসিক বিভাগ। গত ১৬ মে তনুর কাপড়ে ৩ পুরুষের শুক্রানু পাওয়া যাওয়ার খবর সিআইডি থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় উঠে আসে প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন। প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ডিএনএ প্রতিবেদনের এমন গরমিল তথ্যে ঝুলে যায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ডিএনএ প্রতিবেদন আদালতের নির্দেশে ফরেনসিক বিভাগে হস্তান্তরের পর ১২ জুন দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেটি নিয়েও বিতর্কের ঝড় উঠে।

তনুর বাবাকে গাড়ি চাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ মায়ের (ভিডিও)

তনুর বাবাকে গাড়ি চাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ মায়ের (ভিডিও)


কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর বাবা এয়ার হোসেনকে গাড়ি ও মোটর সাইকেল চাপা দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম। তিনি আরো অভিযোগ করেন, তার স্বামী এয়ার হোসেনকে তনু হত্যার বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। 

রবিবার দুপুরে কুমিল্লার কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ অভিযোগ করেন। তনু হত্যার তিন মাস পূর্তি উপলক্ষে কুমিল্লা গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে তনুর মা আনোয়ারা বেগম, ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল, কুমিল্লা গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র আবুল কাশেম হৃদয়, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র খায়রুল আনাম রায়হান, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক পরেশ কর, মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন বাবুল প্রমুখ। 
সমাবেশে তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, গত ২৬ মে সিআইডির কর্মকর্তারা যখন একটি সংস্থার কার্যালয়ে তনুর লাশ পাওয়ার সময় আলামত সংগ্রহকারী তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সে দিন রাত ৮টার দিকে কুমিল্লা ক্যান্টনম্যান্ট বোর্ডে ডিউটি শেষ করে তনুর বাবা এয়ার হোসেন ফিরছিল। তনুর বাবা এয়ার হোসেন তনুর লাশ পাওয়ার স্থান দিয়ে আসার সময় ‘কুমিল্লা সেনানিবাস’ লেখা একটি বাস প্রচন্ড গতিতে এসে তাকে ধাক্কা দেয়ার চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, তনুর বাসা রাস্তার পাশে দ্রুত চলে গেলে রক্ষা পান। এর কিছুক্ষণ পর দুই জন আরোহীর একটি মোটর সাইকেল তনুর বাবাকে ধাক্কা দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি রাস্তা পাশে খাদে পড়ে রক্ষা পান।
উল্লেখ্য কুমিল্লা সেনানিবাসের অলিপুরের কাছে পাহাড় হাউসের জঙ্গলে তনুর লাশ পাওয়া যায় গত ২০ মার্চ। আর গত ২৬ মে ছিল তনু হত্যা মামলার তদন্তের দৃশ্যত: শেষ তৎপরতা।  
তনুর মা আনোয়ারা বেগম যখন কান্না জর্জরিত কণ্ঠে বক্তব্য রাখছিলেন তখন কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর এলাকায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পথচারীরা রাস্তা দাড়িয়ে, যানবাহন থামিয়ে তার বক্তব্য শুনে। 
সমাবেশে কুমিল্লা গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র আবুল কাশেম হৃদয় বলেন, গত তিন মাসে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলনের পরও তনু হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা যায় নি। এতে দেশের মানুষ মনে করছে রাষ্ট্র বধির হয়ে গেছে। গণমানুষের কন্ঠস্বর রাষ্ট্রে কাছে পৌঁছাতে পারছে না। এটি বিশ্বয়কর। তনু হত্যাকারীদের ডিএনএ মেলাতে সন্ধিগ্ধদের ডিএনএ পরীক্ষার করা সুযোগ করে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। 

15 June 2016

তনু ক্ষমা করো, আমরা সাদাকে সাদা বলতে পারলাম না!

তনু ক্ষমা করো, আমরা সাদাকে সাদা বলতে পারলাম না!


সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের সন্মান বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। ময়নামতি সেনানিবাস এলাকার অভ্যন্তরে বসবাস করা ইয়ার হোসেন নামের সামান্য বেতনে চাকুরী করা এক সাধারন কর্মচারীর কন্যা। ছোট থেকেই সে বেড়ে উঠেছিল সেনানিবাসের অভ্যন্তরের এক বাসায়। আর এবাসা থেকেই তার কলেজসহ বিভিন্ন সংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ।
প্রতিদিনের মত এবছরের গত ২০ মার্চ বিকেলে বাসা থেকে বের হয়েছিল পাশ্ববর্তী এলাকায় প্রাইভেট পড়াতে। দীর্ঘ সময়েও না ফেরায় প্রথমে তার সাথে থাকা মোবাইলে যোগাযোগের ব্যর্থ চেষ্টা অতঃপর বাসার অদূরে একটি ঝোপের ভিতর থেকে ওই রাত সাড়ে ১০ টায় উদ্ধার হয় তনু’র রক্তাক্ত লাশ।
তারপর কুমিল্লা ছাড়িয়ে সারা দেশব্যাপী এই হত্যাকান্ডের বিচার সহ অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবীতে আন্দোলন, বিক্ষোভ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট, মহাসড়ক অবরোধ আরো কতোকি।
পরিবারের পাশাপাশি সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবি, মন্ত্রী কেউই বাদ যায়নি তনু হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের কাঠ গড়ায় দাড় করানোর দাবী থেকে।
অনেকে সময়ও বেঁধে দিয়েছিলেন হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে। কিন্তু প্রায় ৩ মাস সময় হতে চললো তনু নামের একজন কলেজ ছাত্রী ও নাট্যকর্মী যে নিহত হলো বা তার লাশ সেনানিবাসের অভ্যন্তরে কালো পানির ট্যাংক সংলগ্ন এলাকার একটি ঝোঁপের ভিতর থেকে উদ্ধার হলো তার একটির স্বীকৃতি পেলেও অরেকটির স্বীকৃতি এখনো পায়নি তনু’র পরিবার তথা দেশবাসী। না পাওয়া স্বীকৃতিটি হলো, সোহাগী জাহান তনু’র মৃত্যুর কারণ!
রাষ্ট্র বা সমাজের মানুষ আমরা। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে, কারণে অকারণে আমাদের কোন না কোন দায়িত্বশীল কারো কাছে যেতে হয়। ভবিষ্যতেও যেতে হবে। তেমনিভাবে একটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলে সেখানে প্রথমতঃ পুলিশের ভূমিকা, দ্বিতীয়তঃ চিকিৎসক এরপর সেই পুলিশই আবার বিষয়টির বিচার বিশ্লেষন করে হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করেন।
কিন্তু কি এক অজ্ঞাত কারনে শুরু থেকেই মনে হয় তনু’র হত্যাকান্ডটি নিয়ে একটা অতি সতর্কতা দেখানোর প্রক্রিয়া না একে অন্যের উপর দোষ চাপাতে ব্যস্ত হওয়ার চেষ্টায় কিনা কোন ধারাবাহিকতা ছাড়াই লক্ষ্যহীনভাবে চলছে এর তদন্ত কাজ।
একথাটি এজন্য বলা, সোহাগী জাহান তনু’র মৃত্যু হয়েছে। ২১ মার্চ খুব সকালে যখন এই হত্যাকান্ডের সংবাদটি দিতে ঘুম থেকে জেগে তুলে এক নিকটাআত্মীয়, তখন বিভিন্নভাবে ঘটনার আদ্যপান্ত জানতে চেষ্টা করি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে।
কিন্তু ময়নামতি সেনানিবাসের অভ্যন্তরে হওয়ায় এসময় কাউকেই মুখ খুলতে দেখিনি। তবে সৌভাগ্য আমার বলতে হবে, দুপুর ১টা তনু’র বড় ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ হয় মোবাইল ফোনে। পরিচয় দিয়ে কথা বলতে শুরু করলে তিনি বলেন, রাতেই খবর পেয়েছেন, ভোরে ঢাকা থেকে ফিরে সিএমএইচ’এ গিয়ে লাশ দেখেছেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, তিনি তার বাবা ইয়ার হোসেনের কাছে শুনেছেন, নিহত তনু’র নাকের পাশে থেতলানো, রক্ত, মাথার পিছনে আঘাতের চিহ্ন সহ চুল ছিল এলোমেলো, গায়ের জামার কিছু অংশও ছেড়া ছিল। একটা মানুষের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর সাধারনত প্রথমেই পুলিশের কাজ সূরতহাল রিপোর্ট।
যেখানে নিহতের ভাই সংবাদকর্মীদের কাছে বাবার রেফারেন্স দিয়ে নিহত তনু’র মুখে, মাথার পিছনে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা বলেছে, সেখানে পুলিশ কি দায়িত্ব পালন করলো! তারপর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ মুরাদনগরের মীর্জাপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন।
এর কয়েকদিন পর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ। সেখানে উল্লেখ করা হয় নিহতের মৃত্যুর কারন জানা যায়নি। এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশ থেকে জেলা ডিবি পুলিশ ও সর্বশেষ সিআইডি’র কাছে মামলা হস্তান্তর নিহতের পরিবারের পাশাপাশি সাধারন মানুষের মনেও আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ও সিআইডি’র ডিএনএ রিপোর্টে থাকা ধর্ষনের গদবাঁধা কাহিনী লিখে আবারো হত্যার প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব না হওয়ার রিপোর্টে পরিবারের পাশাপাশি সারা দেশে যে নিন্দার ঝড় সেটা বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের আলোচনায় ফূঁটে উঠেছে।
পচেঁ-গলে যাওয়ার পরও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ড ধর্ষনের আলামত পেলো আর সেই পচেঁ-গলে যাওয়া লাশ থেকে মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করতে পারলোনা বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। আমি যদি বলি তনু ধর্ষিত হয়েছিল, তনু অভ্যস্থ ছিল যৌন কার্যে সব কিছুই সঠিক।
কিন্তু আমি বা আমরা যে জিনিসটা গুরুত্ব দিচ্ছি সেটা হচ্ছে সোহাগী জাহান তনু নামের এক কলেজ ছাত্রী ও নাট্যকর্মী কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের অভ্যন্তরে নিহত বা খুন হয়েছে। সে কিভাবে খুন হয়েছে, সেই হত্যাকান্ডে জড়িত কারা এবং কেন সেটা করেছে সেই রহস্য বের করা।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি আজ ঘটনার ৮৫ দিন পড়ে এসেও তদন্ত, ডিএনএ, জিজ্ঞাসাবাদ ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে ব্যস্ত তদন্তকারী দল সিআইডি। আর প্রথম ময়না তদন্ত রিপোর্টেও পর বেশ কিছু দিন চাপে থাকা দ্বিতীয় ময়না তদন্তকারী দল রোববার আবারো প্রথম ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকের মত অনেকটা একই রকমের রিপোর্ট দিয়ে তনু’কে জানান দিলো তুমি অভ্যস্থ যৌন কাজে, শুধু মুখ ফূটে বলতে পারলাম না তুমি……….।
ক্ষমা করো তনু, আমরা সত্যিই সাদাঁকে সাঁদা বলতে পারলাম না। আমাদের ক্ষমা করে দিও। তোমার আত্মা শান্তিতে থাকুক।
লেখক : সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক কুমিল্লার ডাক

14 June 2016

তনু হত্যা: ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হতবাক-ক্ষুব্ধ মানুষ

তনু হত্যা: ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হতবাক-ক্ষুব্ধ মানুষ



কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক কামদা প্রসাদ সাহা বলেছেন, অপরাধী সনাক্তে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের প্রয়োজন হয় না। কিভাবে অপরাধ হয়েছে তার জন্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, জনগণের ধারণা দিয়ে তো আর বিজ্ঞান চলে না। বিজ্ঞানে বিচার বিবেচনা কার্যকর হয় না। দশ দিন পর পঁচা দেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় নি এটি বিজ্ঞান। এটা বিশ্বাস যোগ্যতার ব্যাপার না।
হত্যার দশ দিন পর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে যৌন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেলেও নিহত হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে করা প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণ বা যৌন সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেল না কেন এ প্রশ্ন করা হলে ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, প্রথম ময়নাতদন্তের বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে পারবো না।
ডা. কামদা প্রসাদ সাহা আবারো বলেন, পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে অপরাধি সনাক্ত করতে হবে। দশ দিনের পঁচা বডি থেকে তো কোন কু দিতে পারি নি।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মনে করেন ৬ মাস আগে কোন লোককে পেটে ছুরি ঢুকিয়ে হত্যা করা হলো। ৬ মাস পর নিহত ব্যক্তির হাড়গোড় তুলে ময়নাতদন্ত করা হলো। এখন হাড়গোড়ে তো ছুরির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেল না। কিন্তু যে ছুরি মেরেছে সে ধরা পড়েছে এবং সে স্বীকার করেছে সেই মেরেছে। এখন প্রশ্ন হলো তাহলে কি ঐ অপরাধীর বিচার হবে না?
অপর দিকে নিহত তনুর বাবা এয়ার হোসেন আবারো ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের প্রতিবেদন মিথ্যা বানোয়াট উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন অর্থের বিনিময়ে অথবা প্রভাবিত হয়ে এই প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। আমি এখন সিআইডিকে ধরবো। তারা কি প্রতিবেদন দিল ? কোনটা সত্য ? আমি কোন প্রতিবেদনকে সঠিক বলে ধরবো।
তনু মা আনোয়ারা বেগম জানান, সেনাবাহিনীর কোন কর্মকর্তার মেয়েকে যদি এভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হতো তাহলে অপরাধীদের ধরতে এতো সময় নিতো কিনা? আজ আমি সাধারণ মানুষ বলে মেয়ে হত্যার বিচার পাবো না? উল্টো আমাদেরকেই অপবাদ দেয়া হচ্ছে।
এ দিকে তনুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন কুমিল্লা বিভিন্নস্তরের মানুষ ও নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডভোকেট নাজমুল আলম চৌধুরী নোমান বলেন, একজন মৃত ব্যক্তির চরিত্রহননের দৃষ্টতা দেখিয়ে ঘৃণ্য কাজ করেছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ জানিয়ে তিনি বলেন তাদের চাকুরিচ্যুত করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।
তিনি বলেন, তনুর প্রথম ময়নাতদন্তকারী প্রথম চিকিৎসক শারমিন সুলতানা ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক। ঐ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে তিনি প্রথম প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় প্রতিবেদনও ঐ বিভাগীয় প্রধানের হাত দিয়ে হয়েছে। তারা একে অপরকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। তার মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছেন।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর মাসুম বলেন, তনুর মরদেহের বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন দিয়ে কুমিল্ল মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ আজ প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের যে কোন ময়নাতদন্তই এখন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে। তারা যে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকে এটি এখন আর মানুষ বিশ্বাস করবে না। এখানে সরকারের তদারকি যে নেই সেটি আরো স্পষ্ট।  তনু ধর্ষিত হোক বা না হোক হত্যার বিষয়ে এখনও কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা যায় নি এটি আরো দুর্ভাগ্যজনক।
সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব শাহ মো: আলমগীর খান বলেন, এখন সিআইডিকেই দায়িত্ব নিতে হবে। মনে করতে হবে তনু তাদের কন্যা। আমাদের বিশ্বাস তারা তদন্ত করে দায়িদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। এটাতো পরিস্কার যে তনুকে হত্যা করা হয়েছে এবং যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কুমিল্লা কোতয়ালী থানার সাবেক কমান্ডার মোতাহের হোসেন বাবুল বলেন, বাংলাদেশে দুই কলঙ্কিত সাহা আছে। একজন ভিকারুন্নেসা স্কুলের পরিমল সাহা আরেকজন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের কামদা প্রসাদ সাহা। এই দুই জনকে জাতি ঘৃণার সাথে মনে রাখবে। তারা যা করেছে তা বিবেকবান মানুষ কোন দিন গ্রহণ করবে না। এই দুই সাহা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
বাংলাদেশের কমিউন্ষ্টি পার্টির সাধারণ সম্পাদক পরেশ কর বলেন, কারো চাপ থাকলে ঐ চিকিৎসকদের উচিত ছিল বিব্রতবোধ করে সরে যাওয়া। তারা তা না করে কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। 

13 June 2016

এক যুগের ঐতিহ্যে বাঙলা রেস্তোরা

এক যুগের ঐতিহ্যে বাঙলা রেস্তোরা


কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ রমজানের প্রথম দিন থেকে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী বাঙলা রেস্তোরায় রোজদারীদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ইরানী জিলাপীর এখন ব্যাপক চাহিদা। প্রতিদিনই রোজদারীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ব্যতিক্রমী এই ইরানী জিলাপী সুস্বাদু হওয়ায় রোজদারীরা ইফতারির সাথে এ জিলাপীর আইটেম রাখেন। গতকালও বাঙলা রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখা যায়, ইরানী জিলাপীসহ বাঙলা রেস্তোরাঁর ইফতারী কিনতে রোজদারীদের ভিড়। গত বছরের মতো এবারও ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে প্রস্তুত রয়েছে বাঙলা রেস্তোরা কর্তৃপক্ষ। তবে ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদার কারণে ইরানী জিলাপী তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছে কারিগররা। ২০০৫সাল থেকে এখনো পর্যন্ত খাবারের ঐতিহ্য ধরে রাখছেন বাঙলা রেস্তোরা।
শুধু ইরানী জিলাপীই নয়, বাঙলা রেস্তোরার অন্যান্য ইফতার সামগ্রীও রোজাদারদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। বাঙলা রেস্তোরার অন্যান্য ইফতার আইটেমের মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজু প্রতি পিস ৫ টাকা, বেগুনি ৫টাকা, ডিম চপ ১৫ টাকা, সবজি পাকুরা ৫টাকা, ছোলা প্যাকে ২০ টাকা, জালি কাবাব প্রতিটি ৩০ টাকা, ভেজিটেবল সমুচা ১৫ টাকা, চিকেন সমুচা ২৫ টাকা, চিকেন মিক্সড পনির সমুচা ২৫টাকা, স্প্রিং রোল ২৫ টাকা, ভেজিটেবল রোল ২০ টাকা, চিকেন মিক্সড পনির রোল ৩৫ টাকা, ড্রাম স্ট্রিক ৩৫ টাকা, কাঠি কাবাব ৩০ টাকা, স্পেশাল জিলাপী ৩৫০ টাকা কেজি, বুন্দিয়া প্যাকেট ২৫ টাকা, খাসীর তেহরি ১২০ টাকা, গরুর তেহরী ১১০ টাকা, কাচ্চি বিরিয়ানি ২০০ টাকা, চিকেন বিরিয়ানি ১৬০ টাকা, শাহী হালিম (গরু) ২২০ টাকা, শাহী হালিম (খাসি) ২৪০ টাকা, বোরহানী ১২০ টাকা, স্পেশাল লাচ্ছি ৮০ থেকে ১২০ টাকা, ফালুদা ৯০ থেকে ২৫০ টাকা।