Showing posts with label শিক্ষাঙ্গন. Show all posts
Showing posts with label শিক্ষাঙ্গন. Show all posts

23 July 2017

কুমিল্লা বোর্ডে ফল বিপর্যয়ের কারণ

কুমিল্লা বোর্ডে ফল বিপর্যয়ের কারণ


২০১৭ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ভয়াবহ ফল বিপর্যয়ে পড়েছে কুমিল্লা বোর্ড। গেল বছরে যেখানে পাসের হার ছিল ৮৪ শতাংশ। হঠাৎ করেই এ বছর প্রায় অর্ধেকে নেমে ৪৯.৫২ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৬৭৮ জন।
দেশের সব শিক্ষা বোডের্র মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডের অবস্থান একেবারেই তলানিতে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। শিক্ষকরাও হতবাক হয়ে গেছেন।
সূত্রমতে, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে পাসের হার কোনোভাবেই ৯০ থেখে ৮৪ শতাংশের নিচে আসেনি। ২০১৩ সালে এ হার ছিল ৯০.৪১ শতাংশ। পরের বছর ২০১৪ সালে পাস করে ৮৯.৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী। এরপর ২০১৫ সালে এসে পাসের হার দেখা গেছে ৮৪.২২ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থীরা পাস করে। 
গেল তিন বছরে পাসের হার নিম্নগামী দেখা গেলেও তা যে অর্ধেকে নেমে আসবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। রোববার (২৩ জুলাই) ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু শিক্ষক বলছেন, এইচএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় যার ফেল করে তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আর এটা হচ্ছে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের তদবিরে। এ কারণে পাসের হারে এমন বিপর্যয় দেখা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, যারা নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করছে তাদের প্রভাবশালী আত্মীয় স্বজন প্রভাব খাটিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অনুমোদন দিতে শিক্ষকদের বাধ্য করছেন। যার ফলে এমন পরিণতি দেখা গেছে। 
তবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমদ বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি মনে করছেন গণিত ও ইংরেজিতে ফলাফল খারাপ করছে পরীক্ষার্থীরা। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলাফলে। তবে তার দাবি, শহর কেন্দ্রিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো ফলাফল হয়েছে।

29 May 2017

শুভ জন্মদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শুভ জন্মদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়


আজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) দিবস। কুমিল্লা শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কোটবাড়ী শালবন বিহার এবং ময়নামতি জাদুঘর সংলগ্ন কুমিল্লার বিখ্যাত লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে ২০০৬ সালের ২৮ মে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের ২৬তম এ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি। ঠিক এক বছর পরেই (২৮ মে ২০০৭) মাত্র সাতটি বিভাগ নিয়ে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম। এ বছর ২৮ মে রমজানের মধ্যে পড়ায় দিবসটি উদযাপনে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। মধ্য-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ এ বিদ্যাপীঠে বর্তমানে ১৯টি বিভাগে প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিভাগের পাঁচটি ব্যাচ বেরিয়েছে। তবে ১১ বছর পরও নানা সমস্যা আর অপূর্ণতার বেড়াজালে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। পর্যাপ্ত ভূমি না থাকা, আবাসিক ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা, চিকিৎসাসেবার দুর্বলতা, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়নের অভাব, অপ্রতুল গ্রন্থাগার, সেশন জট, বিভিন্ন সময় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠাসহ নানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বার বারই ব্যাহত হচ্ছে।


এদিকে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ১১তম বছরটি শেষ করল।
গত বছরের ১ আগস্ট প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রলীগ নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ২৬ দিন পরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও এখন পর্যন্ত দোষীদের কোনো প্রকার শাস্তির আওতায় আনেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মনে করেন, আপরাধের জন্য শাস্তি না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হচ্ছে। গেল ১৭ জানুয়ারি মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বাসায় হামলার ঘটনার পরপরই শিক্ষক সমিতির লাগাতার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিতে বেশ কয়েক দিন অচল থাকে বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি এক শিক্ষার্থীর হাতে লোক প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষক লাঞ্ছিত হলে প্রক্টরিয়াল বডির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই শিক্ষার্থীকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হলেও তদন্ত কার্যক্রম ছাড়াই ২০ মার্চ উপাচার্য ওই ছাত্রের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন।


এর আগে ১৬ ডিসেম্বর ইংরেজি বিভাগের ইভিনিং মাস্টার্স (ইএমএ) প্রোগ্রামের প্রশ্ন মডারেশনকে কেন্দ্র করে ইংরেজি বিভাগের সভাপতি এম এম শরীফুল করীম একই বিভাগের শিক্ষক অবুল হায়াতকে লাঞ্ছিত করেন ও মারতে উদ্ধত হন। ১৮ ডিসেম্বর লাঞ্ছনার উপযুক্ত বিচারের জন্য উপাচার্যের কাছে আবেদন করেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক। তবে সে ঘটনারও কোনো বিচার হয়নি। চলতি বছরের ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের হাতে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ লাঞ্ছিত হয়েছেন-এমন অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন শিক্ষক সমিতির দুই নেতা। সেই ঘটনারও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। সম্প্রতি ১৩ মে ছাত্রলীগের সম্মেলন শেষে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে কয়েকজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হন। বিষয়টির বিচারের জন্য সাংবাদিক সমিতি উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। সাংবাদিক সমিতির আবেদনের বিষয়েও প্রশাসন ছিল নিশ্চুপ।


এ ছাড়াও অবৈধ নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ এনে চলতি বছরের ৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত করে শিক্ষক সমিতি। পরে ২০ মার্চ ছাত্রলীগ পেশিশক্তি প্রয়োগ করে উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষক সমিতির দেওয়া তালা ভাঙলে উপাচার্য তখন বীরের বেশে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ছাত্রলীগের সহায়তায় উপাচার্য কার্যলয়ে প্রবেশের ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে তখন সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সর্বশেষ অপরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি ছাত্র হলের লাগোয়া একটি ছাত্রী হল নির্মাণ করছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রী হল নির্মাণ বন্ধ করেনি। এ ছাড়াও ভর্তি পরীক্ষার টাকা বণ্টনে অনিয়ম, নিয়োগ-বিজ্ঞপ্তি নিয়ে নানা অসংগতিসহ বেশ কিছু ইস্যুতে আলোচনায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির ১১তম বছরটি।
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফ বলেন, ‘সীমাবদ্ধতা থাকবেই। আমরা তো পিছিয়ে নেই। ছাত্র-শিক্ষক সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করে আমারা আরও এগিয়ে যাব।’
সূত্রঃ thereport24

05 May 2017

কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ

কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ

কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ

‘প্রধান পরীক্ষকের কঠোর নির্দেশে দুই বার শিক্ষার্থীদের খাতার নম্বর কমাতে গিয়ে হাত কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল আমি একজন অভিভাবক। চোখে ভাসছিল দশম শ্রেণিতে পড়া ছেলের মুখটি। আমি কি করছি, কিন্ত চাকরি রক্ষায় কিছুই করার ছিল না।’
এভাবে এসএসসি পরীক্ষায় একাধিকবার শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন ও নম্বর কমানোর ক্ষোভ জানান নগরীর একজন গণিত পরীক্ষক।
এ বছর দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা বোর্ডের স্থান একেবারেই তলানিতে। ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কঠিন সৃজনশীল প্রশ্নপত্র ও অদক্ষ শিক্ষক এবং খাতা মূল্যায়নে মডেল উত্তর সরবরাহ করে পরীক্ষকদের কঠোর হুঁশিয়ারিসহ একাধিকবার উত্তরপত্রে নম্বর কমিয়ে আনার কারণে কুমিল্লা বোর্ডে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে বলে একাধিক পরীক্ষক দাবি করেছেন।

এস এস সি পরীক্ষার ফলাফল পেতে এখানে ক্লিক করুন

পরীক্ষকদের দাবি- বোর্ড কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই এ ফল বিপর্যয়। ইংরেজি ও গণিত পরীক্ষায় ফেল করেছে ৬০ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্র্থী এবং ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাই অস্বাভাবিক এ ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানসহ পুনরায় খাতা মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তিনটি বিভাগে এক লাখ ৮২ হাজার ৯৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৮ হাজার ১১ জন। তিনটি বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে চার হাজার ৪৫০ জন। এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ বছর এক হাজার ৬৯৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ১৪টি এবং দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করতে পারেনি। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও এ বছর পিছিয়ে কুমিল্লা বোর্ড।
২০১৬ সালে এ বোর্ডে মোট ছয় হাজার ৯৫৪ জন, ২০১৫ সালে ১০ হাজার ১৯৫ জন, ২০১৪ সালে মোট ১০ হাজার ৯৪৫ জন এবং ২০১৩ সালে মোট সাত হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এ বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্তির মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে চার হাজার ৩৩৮ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় মাত্র ৮২ জন এবং মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩০ জন।
ফল বিপর্যয়ের কারণ
ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ বছর ইংরেজিতে ফেল করেছে ২৫ হাজার ৬০৬ জন এবং গণিতে ফেল করেছে ৩৪ হাজার ৬৮৯ জন। ইংরেজি ও গণিতে বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ফেল করার কারণেই সকল বোর্ডের চেয়ে কুমিল্লা বোর্ডের ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে বলে দাবি করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর একটি বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক জানান, ‘এ বছরের খাতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টিম দেখবে’ এই ভয় দেখিয়ে বোর্ড থেকে সরবরাহ করা উত্তরপত্রের সঙ্গে পুরোপুরি মিলিয়ে খাতা মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রধান পরীক্ষকের নির্দেশে একাধিকবার খাতার নম্বর কমিয়ে ফেলতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রধান পরীক্ষদের একটি প্যানেল বোর্ডের অদক্ষ কতিপয় কর্মকর্তার সহায়তায় খাতা দেখার নির্দেশিকা ও কথিত মডেল উত্তরপত্র প্রণয়ন করে খাতা মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকদের নিকট সরবরাহ করে। পরবর্তীতে দেয়া হয় কঠোর নির্দেশনা, তাই অনিবার্য কারণে কুমিল্লা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য বিপর্যয় নেমে আসে, ফেলের তালিকায় স্থান পায় প্রায় ৪০ শতাংশ হতভাগ্য পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর।
এ বিষয়ে নগরীর খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার জানান, কঠিন সৃজনশীল প্রশ্নপত্র, সৃজনশীল বিষয়ে দক্ষ শিক্ষকের অভাব এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিষয়ে মেধা কম থাকায় ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।
নগরীর পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তফাজ্জল হোসেন জানান, বোর্ড কর্তৃপক্ষ প্রশ্নপত্র তৈরি কিংবা মাঠ পর্যায়ে সৃজনশীল বিষয়ে সমস্যা নিয়ে শিক্ষকদের মতামত নেয় না, তাই বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিজের পছন্দের স্কুলের শিক্ষকদের নিকট থেকে প্রশ্ন নিয়ে ইচ্ছেমতো প্রশ্ন প্রণয়ন করে, এছাড়াও বোর্ড থেকে এ বছর মডেল উত্তরপত্র পরীক্ষকদের নিকট সরবরাহ করায় মাঠ পর্যায়ে খাতা মূল্যায়নে জটিলতা সৃষ্টি হয়ে এ বছর ফল বিপর্যয় হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরীক্ষক বলেন, খাতা মূল্যায়নে আমাদের নিকট যে ধরনের উত্তরপত্র নির্দেশিকা সরবরাহ করা হয় তাতে সমস্যায় পড়তে হয়। বোর্ড থেকে সরবরাহ করা উত্তরপত্র অনুসারে খাতা দেখতে কঠোর হুঁশিয়ারিসহ কোনো কোনো পরীক্ষকের নিকট খাতা প্রধান পরীক্ষকরা খাতা ফেরত এনে নম্বর কমিয়ে ফেলতে বাধ্য করায় ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটে।
এ ফল বিপর্যয়কে অস্বাভাবিক মন্তব্য করে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লা শাখার সভাপতি আলী আকবর মাসুম জানান, এ নিয়ে তদন্ত করে দেখা উচিত। খাতা মূল্যায়নের নির্দেশিকা, প্রধান পরীক্ষক ও বোর্ড কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং মাঠ পর্যায়ে খাতা মূল্যায়নকারী সৃজনশীল বিষয়ে অদক্ষ পরীক্ষকের কারণে শিক্ষার্থীরা কেন খেসারত দেবে, এটা এখনই অনুসন্ধান করে পুনরায় ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ করে ফলাফল প্রকাশ করা উচিত। কারণ উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের আরও বড় খেসারত দিতে হবে। এছাড়াও বোর্ড কর্তৃপক্ষের এ উদাসীনতার কারণে ফেল করা প্রায় ৪০ শতাংশ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মো. আবদুস সালাম জানান, বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করলেও মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফলাফল খারাপ হয়েছে। শুধুমাত্র গণিত ও ইংরেজি বিষয়েই ৬০ হাজরের বেশি পরীক্ষার্থী ফেল করায় গড় ফলাফলে কুমিল্লা বোর্ড পিছিয়ে পড়েছে। পরীক্ষকদের নিকট উত্তরপত্র সরবরাহ করায় খাতা মূল্যায়নে কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলেও তিনি জানান।
সুত্রঃ জাগোনিউজ

04 May 2017

কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়! পাশের হার ৫৯.০৩

কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়! পাশের হার ৫৯.০৩

কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়! পাশের হার ৫৯.০৩

কুমিল্লা বোর্ডে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪৫০ জন।
গতবার কুমিল্লা বোর্ডে পাশের হার ছিল ৮৪ দশমিক ০০ শতাংশ। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৯৫৪ জন। সব সমীকরণে গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে শিক্ষার্থীরা।

এস এস সি পরীক্ষার ফলাফল পেতে এখানে ক্লিক করুন

এ বোর্ডে সবথেকে কম পাস করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগ থেকে মোট পাসের হার ৪১.১৪ শতাংশ। ৮৪.১৬ শতাংশ পাস করে ভালো ফলাফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস করেছে ৫৬. ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ জানান, কুমিল্লা বোর্ডে এবারের সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে গণিত বিষয়ে। গণিতে অকৃতকার্য হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬৯ জন ও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছে ২৫ হাজার ৬০৬ জন পরীক্ষার্থী।  মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মাঝে পাশ করেছে ১ লাখ ৮ হাজার ১১১ জন।
শতভাগ পাশ করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৪টি আর কোন শিক্ষার্থী পাশ কারেনি এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২টি।

08 April 2017

কুবি ক্যাম্পাসসংলগ্ন খাবার-পরিবেশ নোংরা, তবু দাম চড়া

কুবি ক্যাম্পাসসংলগ্ন খাবার-পরিবেশ নোংরা, তবু দাম চড়া


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিভিন্ন দোকানে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এসব খাবার চড়া দামে কিনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।  

একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, ক্যাম্পাসসংলগ্ন খাবারের দোকানগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সকালের নাশতাসহ দুপুর ও রাতের খাবার। নোংরা পরিবেশে সরবরাহ করা এসব খাবারের দাম প্রতিনিয়তই বাড়ছে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও পার্শ্ববর্তী মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করা খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। 
কুবি ক্যাম্পাসের ভেতরে খাবারের কোনো দোকান নেই। শিক্ষার্থীরা বাইরে থাকা খাবারের দোকানেই নাশতাসহ অন্য খাবার খেয়ে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে আল-মদিনা, বিএফজি, মামা হোটেল ও দুলু মিয়ার হোটেল ঘুরে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে রান্না করা হচ্ছে ভাতসহ অন্য খাবার। তিনটি হোটেলের পাশ দিয়েই গেছে ময়লার নর্দমা। খাবারের ওপর বসছে মশা-মাছি।  
দোকানি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যাম্পাসের খাবারের দোকানগুলোতে সিন্ডিকেট করে সকালের নাশতার সঙ্গে ভাজি ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা, গরুর মাংস দুই টুকরা (সিঙ্গেল) ৩৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির মাংস প্রতি পিস ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ৪০ টাকা। এ ছাড়া মাংসবিহীন তেহারি রাখা হচ্ছে ৩০ টাকা। 
কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, অনেক সময় বাসি তেহারি গরম করে বিক্রি করেন দোকানিরা। আর মাসের শেষের কয়েকদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ডাইনিং বন্ধ থাকলে দোকানগুলোতে খাবারের দাম দ্বিগুণ রাখা হয়।
ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থিত হোটেলে নিয়মিত খাবার খান বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মুনিম হাসান ভূঁইয়া অনিক। তিনি বলেন, ‘খাবার হোটেলগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা হয়। দামও রাখা হয় অনেক বেশি। কিন্তু বাধ্য হয়ে আমাদের সেখানে খাবার খেতে হয়।’  
স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দোকানগুলোতে খাবারের দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসের ভেতর নতুন করে খাবারের দোকান স্থাপনেরও দাবি জানান তিনি।   
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুমিল্লার সহকারী পরিচালক আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সরবরাহ বা দাম বেশি রাখার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমরা শিগগিরই ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করব। প্রয়োজন হলে জরিমানা ও দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
  
এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপালী মণ্ডল বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর খাবার ন্যায্যমূল্যে পাওয়া ভোক্তাদের অধিকার। আমরা এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এর ব্যত্যয় হলে অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’