Showing posts with label কুমিল্লা বিভাগ চাই. Show all posts
Showing posts with label কুমিল্লা বিভাগ চাই. Show all posts

22 July 2017

কুমিল্লা বিভাগের নাম হবে ময়নামতি, কুমিল্লা অথবা লালমাই

কুমিল্লা বিভাগের নাম হবে ময়নামতি, কুমিল্লা অথবা লালমাই


বহুল আলোচিত কুমিল্লা বিভাগের নাম ময়নামতি, কুমিল্লা অথবা লালমাই – এ তিনটির যেকোন একটি হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে স্থানীয় সময় ১৯ জুলাই বুধবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘের হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরামে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ পরবর্তী এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ হয়ে গেছে। নামকরণের বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোন সময় এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
“দারিদ্র্য নির্মূল এবং পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক জাতিসংঘের ‘হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম (এইচএলপিএফ)’ এর কার্যক্রম শুরু হয় গত ১০ জুলাই থেকে। এটি শেষ হয় ১৯ জুলাই।
পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ সম্মেলনে যোগ দেয়। সম্মেলনে যোগদানের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতেই মূলত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহী মিনার সঞ্চালনায় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারি আবুল কালাম আজাদ, স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

26 April 2017

শিগগিরই বিভাগ হবে কুমিল্লা ও ফরিদপুর: প্রধানমন্ত্রী

শিগগিরই বিভাগ হবে কুমিল্লা ও ফরিদপুর: প্রধানমন্ত্রী


ধারাবাহিকভাবে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‍্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
দেশে আরও দুটি বিভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই বৃহত্তর কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগ করার পরিকল্পনা আছে সরকারের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সময় দেশে সাড়ে সাত কোটি মানুষ ছিল। যা এখন ১৬ কোটি। তাদের সঠিক সেবা দিতে প্রশাসনকেও ঢেলে সাজানো দরকার। আর সেটাই আমরা করছি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আটটি প্রধান প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত যাদের বাংলায় বিভাগ হিসাবে অভিহিত করা হয়। প্রত্যেকটি বিভাগের নাম ওই অঞ্চলের প্রধান শহরের নামে নামকরণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি বিভাগ কিছু সংখ্যক জেলা নিয়ে গঠিত। জেলাগুলো আবার কয়েকটি উপজেলায় বিভক্ত।
ব্রিটিশ শাসনামলে তৎকালীন বাংলা প্রদেশে সর্বপ্রথম বিভাগ গঠন করা হয়। সেসময় বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম এই তিনটি বিভাগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের একাংশ নিয়ে ১৯৬০ সালে খুলনা বিভাগ গঠিত হয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে এই চারটি বিভাগ ছিল।
খুলনা বিভাগের একাংশ নিয়ে ১৯৯৩ সালে গঠিত হয় বরিশাল বিভাগ এবং ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম বিভাগকে ভেঙ্গে সিলেট বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
আর ২০১০ সালে ২৫ শে জানুয়ারি বৃহত্তর রংপুর আর দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে রংপুর বিভাগ গঠন করা হয় যা আগে রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সর্বশেষ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তে অষ্টম বিভাগ হিসেবে ময়মনসিংহ বিভাগ এর নাম ঘোষণা করা হয়। পুর্বে এটি ঢাকা বিভাগের অংশ ছিল।

16 March 2017

প্রসঙ্গ কুমিল্লা বিভাগ, সিটি নির্বাচন

প্রসঙ্গ কুমিল্লা বিভাগ, সিটি নির্বাচন


আনিস আলমগীরঃ হঠাৎ করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় চলে এসেছে কুমিল্লা। প্রথমে কুমিল্লাকে ‘ময়নামতি’ নামে বিভাগ করাকে নিয়ে, দ্বিতীয় বার কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। কুমিল্লা বিভাগের নাম কুমিল্লা থাকবে না শুনে আমার কুমিল্লার বন্ধুদের খুবই ক্ষিপ্ত দেখলাম। পরিচিত একজনও পেলাম না কুমিল্লা না হলেও তারা খুশি। রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও দেখলাম ক্ষিপ্ত। মনে হচ্ছিল কুমিল্লা বোধহয় প্রাচীন কোনো নাম। কিন্তু ইতিহাসে দেখলাম মাত্র ১৯৬০ সালে জেলা হিসেবে কুমিল্লার নামকরণ। আইয়ুব খান নামকরণ করেছেন। এর আগে কুমিল্লার নাম ছিল ত্রিপুরা। এরশাদ আমলে কুমিল্লাকে ভেঙে আরো দুটি জেলা করা হয়েছে- চাঁদপুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সেই বৃহত্তর কুমিল্লা আর বৃহত্তর নোয়াখালীকে নিয়ে সরকার পরিকল্পনা করছে নতুন বিভাগ ময়নামতি করার।
ময়নামতি একটি ঐতিহ্যবাহী নাম। শুনেছি ফরিদপুরকেও বিভাগ করা হবে, নাম হবে মধুমতি। শুনতে ভালোই লাগে। আমার নিজের মতে এই দুই নামকরণ মন্দ না। কিন্তু এটাও তো সত্য এলাকার লোকজন যদি নামকরণে খুশি না হয় প্রশাসনের জোর জবরদস্তি করার কিছু নেই। কুমিল্লাবাসী যদি ময়নামতি বাদ দিয়ে কুমিল্লাতে খুশি থাকে- তাদের থাকতে দেয়া উচিত। রাজনৈতিক নেতারা সব কিছুতে ভিন্ন মত পোষণ করেন, কুমিল্লার নেতারা যেখানে নিজ দলেই কঠিনভাবে বিভক্ত, সেখানে নামকরণের পক্ষে তাদের একজোট হওয়া চোখে পড়ার মতো।
বলছিলাম কুমিল্লার নেতাদের নিজ দলে রেশারেশির কথা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে নেতাদের রেশারেশি সারা বাংলাদেশ জানে। কুমিল্লার প্রয়াত নেতা কর্নেল আকবর হোসেন ব্যক্তিগত আড্ডায় বলতেন আওয়ামী লীগের আফজাল আর বাহার যতদিন জীবিত আছেন ততদিন আমাকে নির্বাচনে জয়ী হওয়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ভুগতে হবে না। কর্নেল আকবরের জীবনকালে কথাটা কখনও মিথ্যা প্রতিপন্ন হয়নি। আফজাল খান এবং আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের খারাপ সম্পর্ক সব নির্বাচনে কর্নেল আকবরের বিজয় সুনিশ্চিত করেছে।
এবার আফজাল সাহেব অসুস্থ, কর্নেলও দেহত্যাগ করেছেন, সুতরাং বাহার সাহেব এমপি হয়েছেন। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন হওয়ার পর প্রথম মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন আফজাল খান আর বিএনপির অঘোষিত প্রার্থী ছিলেন মনিরুল হক সাক্কু। সম্পর্কে সাক্কু নাকি কর্নেল আকবরের নিকট আত্মীয়। আফজাল খান লেখাপড়া জানা লোক, অধ্যক্ষ ছিলেন। সাক্কু মেট্রিক পাস। কর্নেল দেহত্যাগ করলে কি হবে বাহার তো রাজনীতিতে আছেন। সুতরাং আফজাল খান হতে পারেননি।
অবশ্য কুমিল্লা শহরের লোক ভোট দানের সময় মুঘল-পাঠান, পণ্ডিত-সুশীল কিছু দেখেন না। একবার আবদুল জলিল নামে একলোক কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। লেখাপড়া তেমন কিছু ছিল না। প্রথম জীবনে উনার যে পেশা ছিল শুনলাম তা মুখে আনা যায় না। যেমন করে হোক মধ্যবয়সে টাকা-পয়সার মালিক হয়েছিলেন। তারপর পৌরসভার চেয়ারম্যান।
ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই ছোট সে তরী। আওয়ামী তরীতে এখন কোনো জায়গা নেই। মানুষের ভারে ডুবে যাওয়ার উপক্রম। এই প্রসঙ্গে লাইলী-মজনুর প্রেম কাহিনীর এক ঘটনা মনে পড়ল। শহরের এক যুবক লাইলীর জন্য পাগল হয়ে গেছে। যুবকটা উম্মাদ হয়ে পথে পথে ঘুরে। লায়লী যুবককে চেনে না। কখনো দেখেওনি। লায়লী একদিন শহরের পাগলদের দাওয়াত দিয়ে দুধ খাওয়ানো শুরু করে। প্রত্যেক দিন নির্ধারিত সময়ে পাগলরা লায়লীর বাড়ির আঙ্গীনায় আসে আর লাইলী তাদের দুধ খেতে দেয়। বহুদিন পর লাইলী ঠিক করল তার জন্য পাগল যে যুবক তাকে চিনে নেবে আজ। বুদ্ধি করে লাইলী সেদিন বলল, তোমরা তো এতদিন দুধ খেলে, আজকে দুধ খাওয়ার পর কেউ কি আমাকে ১ পোয়া ‘খুন’ (রক্ত) দেবে? সব পাগল দুধ খেয়ে ধীরে ধীরে চলে গেল শুধু একটা পাগল বসে রইল। লাইলী জিজ্ঞেস করল, সব পাগল চলে গেল তুমি বসে রইলে কেন? তখন পাগল যুবকটি বলল তুমি যে ‘খুন’ চাইলে তা দিতে বসে আছি। লাইলী তখন বুঝেছিল প্রকৃত মজনু কে?
আওয়ামী লীগের নৌকায় মানুষের যে ভিড় লেগেছে সেখানে এখন ‘খুন’ দেয়ার মজনু কতজন আছে কে জানে! অবশ্য লোকে বলছে দুধ খাওয়ার মজনুই নাকি বেশি। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে সে রকমই হয়। খুনের মজনুর চেয়ে দুধের মজনু বেড়ে যায়। অবশ্য চড়াই-উতরাইয়ের মাঝে গড়ে উঠা দল হিসেবে আওয়ামী লীগে ‘খুনের মজনু’ একেবারে কখনো শূন্যের কোঠায় পৌঁছে না। শেখ হাসিনার জনসভা হলে দেখা যায় ২/৩ হাজার বয়স্ক লোক বিভিন্নখানে বসে তার বক্তৃতা শোনার জন্য। তারা সবাই আওয়ামী লীগের পুরনো কর্মী এখন সক্রিয়ভাবে কাজ করেন না। অনেককে জিজ্ঞেস করেছি আওয়ামী লীগের দুর্দিন আসলে কি করবেন, সবাইতো মনে হচ্ছে ‘দুধের মজনু’। তারা অকপটে বলেন, প্রয়োজনে আবার মাঠে নামব। এদের চাওয়া-পাওয়া নেই। প্রায় সবাই তারা বঙ্গবন্ধুর কর্মী, যাকে তারা ডাকেন শেখ সাহেব।
আগামী ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন আঞ্জুমান সুলতানা (সীমা) আর বিএনপি প্রার্থী হচ্ছেন পুরনো মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। মনোনয়নপত্র গ্রহণ যাচাই-বাছাই সবই হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। বিএনপি প্রার্থী সাক্কু গত পাঁচ বছর মেয়র ছিলেন। টাকা-পয়সা হাতানোর অভ্যাস থাকলে তো দুর্নাম কিছু হয়েছে এরই মধ্যে। আর যদি দুর্নাম না থাকে তবে নারায়ণগঞ্জের আইভির মতো নিজেই একটা শক্তি তিনি।
অবশ্য বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস করা খুবই কঠিন। বনিকের মতো মায়ের কানের দুল তৈরিতেও হেরফের করার অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় কয়েকজন ‘আবাসিক নেতা’ কমিটি বাণিজ্যে কোটি টাকা রোজগার করেছেন শুনি। দল ক্ষমতায় নেইতো কি হয়েছে- নদীর ঢেউ গুণতে দিলেও তারা পয়সা রোজগার করতে জানেন। সিকি-আদুলি মন্ত্রী ছিলেন এমন কোনো বিএনপি নেতা যদি শুনি ঢাকা শহরে ২৭ লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া পান অবাক হই না। দল ক্ষমতায় থাকতে মন্ত্রী হতে পারেননি, যার কাছে তেমন কিছুই নেই বলে লোকে জানে, আমি যদি জানি তার শুধু একটা জাহাজ আছে মূল্য ৪০ কোটি টাকা- এতেও বিস্ময়ের কিছু নেই। যাক, সাক্কু ৫ বছর মেয়র ছিলেন, যদি এমন কোনো কারবার নাও করেন, হাজার সৎ হলেও তাকে প্রতিষ্ঠানিক বিরোধিতা তো কিছু মোকাবিলা করতেই হবে। লোকের যত ক্ষোভ-বিক্ষোভ মেটানোর সময়তো এটাই।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুমান সুলতানা সীমা আফজাল সাহেবের মেয়ে। আগে নাকি প্যানেল মেয়রও ছিলেন। তাই তাকে অনভিজ্ঞ বলা যাচ্ছে না, আবার শিক্ষিতও। আফজাল সাহেব জীবন সায়াহ্নে। তিনি এখন চেষ্টা করতে পারেন নারায়ণগঞ্জের আলী আহাম্মদ চুনকার মতো একটা সুনাম-সুখ্যাতি সম্পন্ন মেয়ে রেখে যেতে। আফজাল সাহেবের উচিত কুমিল্লা শহরের ঘরে ঘরে গিয়ে মেয়ের জন্য ভোট চাওয়া। অতীতে কোনো খারাপ কাজ করলে ক্ষমা প্রার্থনা করা। দলের প্রতিপক্ষকে আপন করে নেয়া। আওয়ামী লীগ বড় সংগঠন, কর্মী বাহিনীও বিরাট, ব্যাপক। তারা যদি ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের কাছে বিনীতভাবে ভোট চায়- মানুষ নিশ্চয়ই বিমুখ করার কথা নয়।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় গত ৬ মার্চ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে যে নির্বাচন হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে ৪৬ হাজার ভোট পেয়ে। এ উপজেলাও তো শহরের অংশ। সুতরাং চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের বিজয় তো অসম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন কুমিল্লার ২৭ ওয়ার্ডে ২৭ জন কেন্দ্রীয় নেতা দায়িত্বে থাকবেন। ১৫ তারিখ থেকে যদি একটি ওয়ার্ডে একজন কেন্দ্রীয় নেতা দায়িত্ব পালন করেন এবং কর্মিবাহিনী নিয়ে ২৮ তারিখ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যান, তবে নির্বাচন তো তুচ্ছ কথা- একটি বিপ্লবের জন্যও প্রস্তুতি নেয়া যায়। তবে আমরা দেখেছি গত ৮ বছর আওয়ামী লীগের বহু সাংগঠনিক কর্মসূচি খাতা-কলমে রয়ে গেছে, মাঠে কার্যকর হয়নি। সারা দেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রত্যাশা করছেন, এবারের কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যেন এমন কিছু না হয়। আগামী সাধারণ নির্বাচনের এটা প্রস্তুতি পর্বের প্রথম পরীক্ষা।
প্রস্তুতি পর্বের প্রথম পরীক্ষা বিএনপির জন্যও। বিএনপি দল হিসেবে যতই বর্তমান সময়ে অগোছালো থাক, সমর্থক সংখ্যা তাদের কমেছে বলা যায় না। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায়। প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধিতার যে হাওয়া তার সুফল কিছুটা যে বিএনপি প্রার্থী পাবেন সন্দেহ নেই, যতই হোক এটি একটি স্থানীয় নির্বাচন।
সর্বশেষ বলব, নতুন ইলেকশন কমিশনের জন্য এটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনকে যতটা সম্ভব নিরপেক্ষ হিসেবে প্রমাণ করা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এই নির্বাচনে যেই জিতুক, রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন আসবে না। সীমা যদি হয় সরকার দলীয়, সাক্কু ভিন দেশের লোক না। তাদেরকে তাদের যোগ্যতায় জিতে আসতে হবে। সে জন্য সরকারেরও উচিত সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে পুরোপুরি সহায়তা করা। নারায়ণগঞ্জের মতো কুমিল্লা সিটির জনগণেরও ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

লেখক:
সম্পাদক, দৈনিক মানবকণ্ঠ
anisalamgir@gmail.com

06 March 2017

কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা

কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা


গাজীউল হক: চট্টগ্রাম বিভাগকে ভেঙে কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে পৃথক বিভাগ করা যায় কি না, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গত ২৬ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই মনোভাবের কথা জানার পর কুমিল্লাজুড়ে আনন্দ মিছিল হয়। দীর্ঘদিনের দাবির কথা প্রধানমন্ত্রীর মুখে ফুটে ওঠায় সমতট অঞ্চলের (প্রাচীনকালে কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলকে সমতট নামে ডাকা হতো) বাসিন্দারা মহা খুশি। শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির পাদপীঠ ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের জেলা শহর কুমিল্লা। এটি ব্রিটিশ-ভারতের প্রাচীনতম শহর। আগে এর নাম ছিল ত্রিপুরা জেলা। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জনসভা হয়। ১৯৬০ সালে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের ফলে কুমিল্লা পৃথক জেলার মর্যাদা পায়। গোমতী নদীর তীরে এ শহরের অবস্থান। একে বলা হয় পথিকৃৎ কুমিল্লা। ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তৎকালীন কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও বর্তমানে কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন। ১৯৮৯ সালে বৃহত্তর কুমিল্লার কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং বৃহত্তর নোয়াখালীর নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরসহ ছয়টি জেলা নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবি শুরু হয়। কুমিল্লা গণফোরাম নামের একটি সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে ওই দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। পরে সংগঠনের নাম হয় কুমিল্লা গণদাবি পরিষদ।
বর্তমানে বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালীর ছয়টি জেলায় প্রায় দুই কোটি জনসংখ্যা রয়েছে। ওই ছয় জেলার আয়তন প্রায় ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটার। যা ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের চেয়ে জনসংখ্যা ও আয়তনের প্রায় দ্বিগুণ। কুমিল্লায় সরকারের প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে কুমিল্লায় বিভাগ হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ওপর জনগণের চাপ কমবে। ঢাকা শহরে বাড়তি লোকের চাপ হবে না। সেখানে যানজটও কমে আসবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে কুমিল্লার অবস্থান। একটি পরিপূর্ণ আবাসিক জেলা হিসেবে কুমিল্লার সুনাম রয়েছে। রাজধানী ও বন্দরনগরের ওপর চাপ কমাতে এ শহর বেশ ভূমিকা রাখবে। বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ছয় জেলার মধ্যবর্তী স্থানেও কুমিল্লার অবস্থান। ভৌগোলিক ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে কুমিল্লা খুবই সমৃদ্ধ জনপদ। এ ছয় জেলার মানুষের সঙ্গে সড়ক, রেল ও নদীপথে যোগাযোগ অত্যন্ত মসৃণ। দাপ্তরিক বেশির ভাগ কাজেই ছয় জেলার মানুষ কুমিল্লায় জড়ো হন। এখানে দিনে এসে দিনে কাজ করে বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভব। ছয় জেলার মানুষের আঞ্চলিক ভাষাও কাছাকাছি।
গত ১২ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ময়মনসিংহকে বিভাগ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ গত বুধবার মহান জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর নিয়ে তিনটি নতুন বিভাগ করার পক্ষে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বৃহত্তর এই তিনটি জেলার মধ্যে কুমিল্লা সবকিছুতেই অগ্রসরমাণ। কুমিল্লায় সিটি করপোরেশন ও শিক্ষা বোর্ডসহ সরকারের অনেকগুলো দপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় এখানে বিদ্যমান রয়েছে। কুমিল্লায় সরকার আইটি ভিলেজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে রয়েছে মনোলোভা নৈসর্গিক লালমাই ও ময়নামতি পাহাড়। ভারতীয় সীমান্তবর্তী কুমিল্লার রাজেশপুরে রয়েছে ইকোপার্ক। শহরের মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ধর্মসাগর। কুমিল্লাজুড়ে রয়েছে প্রাচীন সভ্যতার নানা নিদর্শন।
একদা ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর হিসেবে কুমিল্লার খ্যাতি ছিল। কুমিল্লার খাদি, তাঁতশিল্প, কুটিরশিল্প, বিজয়পুরের মৃৎশিল্প, মাতৃভান্ডারের রসমালাই ও ময়নামতির শীতলপাটি পৃথিবীজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। কুমিল্লা ইপিজেড, কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর, কৃষিক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন, দিদার সমবায় সমিতি, দাউদকান্দির প্লাবনভূমিতে মৎস্য চাষ এখানকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে আসছে।
কুমিল্লায় রয়েছে অষ্টম শতকে নির্মিত কোটবাড়ীর শালবন বৌদ্ধবিহারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক প্রত্নসম্পদ। রয়েছে ময়নামতি জাদুঘর। এখানকার কোটবাড়ীতে রয়েছে ড. আখতার হামিদ খানের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), ব্রিটিশ আমলের কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাস, কুমিল্লা বিমানবন্দর, সুদীর্ঘ রেললাইন। এ শহরের আলো-বাতাসে নিঃশ্বাস নিয়েছেন নারী জাগরণের অগ্রদূত নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ শচীন দেববর্মন, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা করার অন্যতম সহযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম। এখানে এসেছেন অহিংসার বাণী নিয়ে মহাত্মা গান্ধী। এসেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রয়েছে শতবর্ষের ঐতিহ্যে লালিত দেশের একমাত্র সার্ভে প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সার্ভে ইনস্টিটিউট।
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বর্তমান সরকার সামাজিক সম্প্রীতির এক অনুকরণীয় জনপদ এই কুমিল্লায় বিভাগ বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্য দিয়ে কুমিল্লাবাসীর সর্বশেষ স্বপ্ন পূরণ হবে।
গাজীউল হক: প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা।
gajiulhoqsohag@gmail.com

30 November 2015

কুমিল্লা বিভাগীয় অফিস জেলা পরিষদ ভবন ও রানীর কুঠিরে অস্থায়ীভাবে স্থাপন হবে

কুমিল্লা বিভাগীয় অফিস জেলা পরিষদ ভবন ও রানীর কুঠিরে অস্থায়ীভাবে স্থাপন হবে


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জেলা প্রশাসক মো: হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেছেন, কুমিল্লাকে বিভাগ করার কার্যক্রম সরকারিভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারি আদেশ পাওয়ামাত্র কুমিল্লা বিভাগীয় অফিস জেলা পরিষদ ভবন ও রানীর কুঠিরে অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা হবে। এজন্য আমাদের মানসিক প্রস্তুতিও রয়েছে। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় তিনি আরও বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন থেকে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সরকারের লোকসান মেনে নেয়া যায় না। তিনি প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তাদের দেশপ্রেমের দায়-দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার আহবান জানান। ইউনিয়ন তথ্য বাতায়ন হালনাগাদ করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের আহবান জানান। ফোর লেনের উপর নিমসারের অবৈধ বাজার স্থানান্তরের জন্য চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
সভার শুরুতে বিগত সভার সিদ্ধান্তসমূহ ও বাস্তবায়নের অগ্রগতির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: মনিরুজ্জামান তালুকদার। বক্তব্য রাখেন আদর্শ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো: আবদুর রউফ, সিভিল সার্জন ডা. মুজিব রাহমান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সঞ্জয় কুমার ভৌমিক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মামুনুর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূইয়া, হোমনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, চান্দিনা উপজেলা চেয়ারম্যান তপন বক্সী, মেঘনা উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম, নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যঅন সামছুদ্দিন কালু, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো: আসাদউল্লাহ, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব:) মোহাম্মদ আলী, জেলা শিক্ষা অফিসার মো: আবদুল মজিদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: নুরুল ইসলাম, সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মীর হোসেন আহাসনুল কবীর, বিটিভি জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম রতন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম মজুমদার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।