Showing posts with label কুমিল্লা বিভাগ চাই. Show all posts
Showing posts with label কুমিল্লা বিভাগ চাই. Show all posts

22 July 2017

কুমিল্লা বিভাগের নাম হবে ময়নামতি, কুমিল্লা অথবা লালমাই

কুমিল্লা বিভাগের নাম হবে ময়নামতি, কুমিল্লা অথবা লালমাই


বহুল আলোচিত কুমিল্লা বিভাগের নাম ময়নামতি, কুমিল্লা অথবা লালমাই – এ তিনটির যেকোন একটি হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে স্থানীয় সময় ১৯ জুলাই বুধবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘের হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরামে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ পরবর্তী এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ হয়ে গেছে। নামকরণের বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোন সময় এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
“দারিদ্র্য নির্মূল এবং পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ক জাতিসংঘের ‘হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম (এইচএলপিএফ)’ এর কার্যক্রম শুরু হয় গত ১০ জুলাই থেকে। এটি শেষ হয় ১৯ জুলাই।
পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ সম্মেলনে যোগ দেয়। সম্মেলনে যোগদানের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতেই মূলত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরএলাহী মিনার সঞ্চালনায় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারি আবুল কালাম আজাদ, স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

26 April 2017

শিগগিরই বিভাগ হবে কুমিল্লা ও ফরিদপুর: প্রধানমন্ত্রী

শিগগিরই বিভাগ হবে কুমিল্লা ও ফরিদপুর: প্রধানমন্ত্রী


ধারাবাহিকভাবে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‍্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
দেশে আরও দুটি বিভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই বৃহত্তর কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগ করার পরিকল্পনা আছে সরকারের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সময় দেশে সাড়ে সাত কোটি মানুষ ছিল। যা এখন ১৬ কোটি। তাদের সঠিক সেবা দিতে প্রশাসনকেও ঢেলে সাজানো দরকার। আর সেটাই আমরা করছি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আটটি প্রধান প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত যাদের বাংলায় বিভাগ হিসাবে অভিহিত করা হয়। প্রত্যেকটি বিভাগের নাম ওই অঞ্চলের প্রধান শহরের নামে নামকরণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি বিভাগ কিছু সংখ্যক জেলা নিয়ে গঠিত। জেলাগুলো আবার কয়েকটি উপজেলায় বিভক্ত।
ব্রিটিশ শাসনামলে তৎকালীন বাংলা প্রদেশে সর্বপ্রথম বিভাগ গঠন করা হয়। সেসময় বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম এই তিনটি বিভাগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের একাংশ নিয়ে ১৯৬০ সালে খুলনা বিভাগ গঠিত হয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে এই চারটি বিভাগ ছিল।
খুলনা বিভাগের একাংশ নিয়ে ১৯৯৩ সালে গঠিত হয় বরিশাল বিভাগ এবং ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম বিভাগকে ভেঙ্গে সিলেট বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
আর ২০১০ সালে ২৫ শে জানুয়ারি বৃহত্তর রংপুর আর দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে রংপুর বিভাগ গঠন করা হয় যা আগে রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সর্বশেষ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তে অষ্টম বিভাগ হিসেবে ময়মনসিংহ বিভাগ এর নাম ঘোষণা করা হয়। পুর্বে এটি ঢাকা বিভাগের অংশ ছিল।

16 March 2017

প্রসঙ্গ কুমিল্লা বিভাগ, সিটি নির্বাচন

প্রসঙ্গ কুমিল্লা বিভাগ, সিটি নির্বাচন


আনিস আলমগীরঃ হঠাৎ করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় চলে এসেছে কুমিল্লা। প্রথমে কুমিল্লাকে ‘ময়নামতি’ নামে বিভাগ করাকে নিয়ে, দ্বিতীয় বার কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। কুমিল্লা বিভাগের নাম কুমিল্লা থাকবে না শুনে আমার কুমিল্লার বন্ধুদের খুবই ক্ষিপ্ত দেখলাম। পরিচিত একজনও পেলাম না কুমিল্লা না হলেও তারা খুশি। রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও দেখলাম ক্ষিপ্ত। মনে হচ্ছিল কুমিল্লা বোধহয় প্রাচীন কোনো নাম। কিন্তু ইতিহাসে দেখলাম মাত্র ১৯৬০ সালে জেলা হিসেবে কুমিল্লার নামকরণ। আইয়ুব খান নামকরণ করেছেন। এর আগে কুমিল্লার নাম ছিল ত্রিপুরা। এরশাদ আমলে কুমিল্লাকে ভেঙে আরো দুটি জেলা করা হয়েছে- চাঁদপুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সেই বৃহত্তর কুমিল্লা আর বৃহত্তর নোয়াখালীকে নিয়ে সরকার পরিকল্পনা করছে নতুন বিভাগ ময়নামতি করার।
ময়নামতি একটি ঐতিহ্যবাহী নাম। শুনেছি ফরিদপুরকেও বিভাগ করা হবে, নাম হবে মধুমতি। শুনতে ভালোই লাগে। আমার নিজের মতে এই দুই নামকরণ মন্দ না। কিন্তু এটাও তো সত্য এলাকার লোকজন যদি নামকরণে খুশি না হয় প্রশাসনের জোর জবরদস্তি করার কিছু নেই। কুমিল্লাবাসী যদি ময়নামতি বাদ দিয়ে কুমিল্লাতে খুশি থাকে- তাদের থাকতে দেয়া উচিত। রাজনৈতিক নেতারা সব কিছুতে ভিন্ন মত পোষণ করেন, কুমিল্লার নেতারা যেখানে নিজ দলেই কঠিনভাবে বিভক্ত, সেখানে নামকরণের পক্ষে তাদের একজোট হওয়া চোখে পড়ার মতো।
বলছিলাম কুমিল্লার নেতাদের নিজ দলে রেশারেশির কথা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে নেতাদের রেশারেশি সারা বাংলাদেশ জানে। কুমিল্লার প্রয়াত নেতা কর্নেল আকবর হোসেন ব্যক্তিগত আড্ডায় বলতেন আওয়ামী লীগের আফজাল আর বাহার যতদিন জীবিত আছেন ততদিন আমাকে নির্বাচনে জয়ী হওয়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ভুগতে হবে না। কর্নেল আকবরের জীবনকালে কথাটা কখনও মিথ্যা প্রতিপন্ন হয়নি। আফজাল খান এবং আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের খারাপ সম্পর্ক সব নির্বাচনে কর্নেল আকবরের বিজয় সুনিশ্চিত করেছে।
এবার আফজাল সাহেব অসুস্থ, কর্নেলও দেহত্যাগ করেছেন, সুতরাং বাহার সাহেব এমপি হয়েছেন। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন হওয়ার পর প্রথম মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন আফজাল খান আর বিএনপির অঘোষিত প্রার্থী ছিলেন মনিরুল হক সাক্কু। সম্পর্কে সাক্কু নাকি কর্নেল আকবরের নিকট আত্মীয়। আফজাল খান লেখাপড়া জানা লোক, অধ্যক্ষ ছিলেন। সাক্কু মেট্রিক পাস। কর্নেল দেহত্যাগ করলে কি হবে বাহার তো রাজনীতিতে আছেন। সুতরাং আফজাল খান হতে পারেননি।
অবশ্য কুমিল্লা শহরের লোক ভোট দানের সময় মুঘল-পাঠান, পণ্ডিত-সুশীল কিছু দেখেন না। একবার আবদুল জলিল নামে একলোক কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। লেখাপড়া তেমন কিছু ছিল না। প্রথম জীবনে উনার যে পেশা ছিল শুনলাম তা মুখে আনা যায় না। যেমন করে হোক মধ্যবয়সে টাকা-পয়সার মালিক হয়েছিলেন। তারপর পৌরসভার চেয়ারম্যান।
ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই ছোট সে তরী। আওয়ামী তরীতে এখন কোনো জায়গা নেই। মানুষের ভারে ডুবে যাওয়ার উপক্রম। এই প্রসঙ্গে লাইলী-মজনুর প্রেম কাহিনীর এক ঘটনা মনে পড়ল। শহরের এক যুবক লাইলীর জন্য পাগল হয়ে গেছে। যুবকটা উম্মাদ হয়ে পথে পথে ঘুরে। লায়লী যুবককে চেনে না। কখনো দেখেওনি। লায়লী একদিন শহরের পাগলদের দাওয়াত দিয়ে দুধ খাওয়ানো শুরু করে। প্রত্যেক দিন নির্ধারিত সময়ে পাগলরা লায়লীর বাড়ির আঙ্গীনায় আসে আর লাইলী তাদের দুধ খেতে দেয়। বহুদিন পর লাইলী ঠিক করল তার জন্য পাগল যে যুবক তাকে চিনে নেবে আজ। বুদ্ধি করে লাইলী সেদিন বলল, তোমরা তো এতদিন দুধ খেলে, আজকে দুধ খাওয়ার পর কেউ কি আমাকে ১ পোয়া ‘খুন’ (রক্ত) দেবে? সব পাগল দুধ খেয়ে ধীরে ধীরে চলে গেল শুধু একটা পাগল বসে রইল। লাইলী জিজ্ঞেস করল, সব পাগল চলে গেল তুমি বসে রইলে কেন? তখন পাগল যুবকটি বলল তুমি যে ‘খুন’ চাইলে তা দিতে বসে আছি। লাইলী তখন বুঝেছিল প্রকৃত মজনু কে?
আওয়ামী লীগের নৌকায় মানুষের যে ভিড় লেগেছে সেখানে এখন ‘খুন’ দেয়ার মজনু কতজন আছে কে জানে! অবশ্য লোকে বলছে দুধ খাওয়ার মজনুই নাকি বেশি। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে সে রকমই হয়। খুনের মজনুর চেয়ে দুধের মজনু বেড়ে যায়। অবশ্য চড়াই-উতরাইয়ের মাঝে গড়ে উঠা দল হিসেবে আওয়ামী লীগে ‘খুনের মজনু’ একেবারে কখনো শূন্যের কোঠায় পৌঁছে না। শেখ হাসিনার জনসভা হলে দেখা যায় ২/৩ হাজার বয়স্ক লোক বিভিন্নখানে বসে তার বক্তৃতা শোনার জন্য। তারা সবাই আওয়ামী লীগের পুরনো কর্মী এখন সক্রিয়ভাবে কাজ করেন না। অনেককে জিজ্ঞেস করেছি আওয়ামী লীগের দুর্দিন আসলে কি করবেন, সবাইতো মনে হচ্ছে ‘দুধের মজনু’। তারা অকপটে বলেন, প্রয়োজনে আবার মাঠে নামব। এদের চাওয়া-পাওয়া নেই। প্রায় সবাই তারা বঙ্গবন্ধুর কর্মী, যাকে তারা ডাকেন শেখ সাহেব।
আগামী ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন আঞ্জুমান সুলতানা (সীমা) আর বিএনপি প্রার্থী হচ্ছেন পুরনো মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। মনোনয়নপত্র গ্রহণ যাচাই-বাছাই সবই হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। বিএনপি প্রার্থী সাক্কু গত পাঁচ বছর মেয়র ছিলেন। টাকা-পয়সা হাতানোর অভ্যাস থাকলে তো দুর্নাম কিছু হয়েছে এরই মধ্যে। আর যদি দুর্নাম না থাকে তবে নারায়ণগঞ্জের আইভির মতো নিজেই একটা শক্তি তিনি।
অবশ্য বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস করা খুবই কঠিন। বনিকের মতো মায়ের কানের দুল তৈরিতেও হেরফের করার অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় কয়েকজন ‘আবাসিক নেতা’ কমিটি বাণিজ্যে কোটি টাকা রোজগার করেছেন শুনি। দল ক্ষমতায় নেইতো কি হয়েছে- নদীর ঢেউ গুণতে দিলেও তারা পয়সা রোজগার করতে জানেন। সিকি-আদুলি মন্ত্রী ছিলেন এমন কোনো বিএনপি নেতা যদি শুনি ঢাকা শহরে ২৭ লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া পান অবাক হই না। দল ক্ষমতায় থাকতে মন্ত্রী হতে পারেননি, যার কাছে তেমন কিছুই নেই বলে লোকে জানে, আমি যদি জানি তার শুধু একটা জাহাজ আছে মূল্য ৪০ কোটি টাকা- এতেও বিস্ময়ের কিছু নেই। যাক, সাক্কু ৫ বছর মেয়র ছিলেন, যদি এমন কোনো কারবার নাও করেন, হাজার সৎ হলেও তাকে প্রতিষ্ঠানিক বিরোধিতা তো কিছু মোকাবিলা করতেই হবে। লোকের যত ক্ষোভ-বিক্ষোভ মেটানোর সময়তো এটাই।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুমান সুলতানা সীমা আফজাল সাহেবের মেয়ে। আগে নাকি প্যানেল মেয়রও ছিলেন। তাই তাকে অনভিজ্ঞ বলা যাচ্ছে না, আবার শিক্ষিতও। আফজাল সাহেব জীবন সায়াহ্নে। তিনি এখন চেষ্টা করতে পারেন নারায়ণগঞ্জের আলী আহাম্মদ চুনকার মতো একটা সুনাম-সুখ্যাতি সম্পন্ন মেয়ে রেখে যেতে। আফজাল সাহেবের উচিত কুমিল্লা শহরের ঘরে ঘরে গিয়ে মেয়ের জন্য ভোট চাওয়া। অতীতে কোনো খারাপ কাজ করলে ক্ষমা প্রার্থনা করা। দলের প্রতিপক্ষকে আপন করে নেয়া। আওয়ামী লীগ বড় সংগঠন, কর্মী বাহিনীও বিরাট, ব্যাপক। তারা যদি ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের কাছে বিনীতভাবে ভোট চায়- মানুষ নিশ্চয়ই বিমুখ করার কথা নয়।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় গত ৬ মার্চ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে যে নির্বাচন হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে ৪৬ হাজার ভোট পেয়ে। এ উপজেলাও তো শহরের অংশ। সুতরাং চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের বিজয় তো অসম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন কুমিল্লার ২৭ ওয়ার্ডে ২৭ জন কেন্দ্রীয় নেতা দায়িত্বে থাকবেন। ১৫ তারিখ থেকে যদি একটি ওয়ার্ডে একজন কেন্দ্রীয় নেতা দায়িত্ব পালন করেন এবং কর্মিবাহিনী নিয়ে ২৮ তারিখ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যান, তবে নির্বাচন তো তুচ্ছ কথা- একটি বিপ্লবের জন্যও প্রস্তুতি নেয়া যায়। তবে আমরা দেখেছি গত ৮ বছর আওয়ামী লীগের বহু সাংগঠনিক কর্মসূচি খাতা-কলমে রয়ে গেছে, মাঠে কার্যকর হয়নি। সারা দেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রত্যাশা করছেন, এবারের কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যেন এমন কিছু না হয়। আগামী সাধারণ নির্বাচনের এটা প্রস্তুতি পর্বের প্রথম পরীক্ষা।
প্রস্তুতি পর্বের প্রথম পরীক্ষা বিএনপির জন্যও। বিএনপি দল হিসেবে যতই বর্তমান সময়ে অগোছালো থাক, সমর্থক সংখ্যা তাদের কমেছে বলা যায় না। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায়। প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধিতার যে হাওয়া তার সুফল কিছুটা যে বিএনপি প্রার্থী পাবেন সন্দেহ নেই, যতই হোক এটি একটি স্থানীয় নির্বাচন।
সর্বশেষ বলব, নতুন ইলেকশন কমিশনের জন্য এটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনকে যতটা সম্ভব নিরপেক্ষ হিসেবে প্রমাণ করা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এই নির্বাচনে যেই জিতুক, রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন আসবে না। সীমা যদি হয় সরকার দলীয়, সাক্কু ভিন দেশের লোক না। তাদেরকে তাদের যোগ্যতায় জিতে আসতে হবে। সে জন্য সরকারেরও উচিত সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে পুরোপুরি সহায়তা করা। নারায়ণগঞ্জের মতো কুমিল্লা সিটির জনগণেরও ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

লেখক:
সম্পাদক, দৈনিক মানবকণ্ঠ
anisalamgir@gmail.com

06 March 2017

কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা

কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা


গাজীউল হক: চট্টগ্রাম বিভাগকে ভেঙে কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে পৃথক বিভাগ করা যায় কি না, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গত ২৬ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই মনোভাবের কথা জানার পর কুমিল্লাজুড়ে আনন্দ মিছিল হয়। দীর্ঘদিনের দাবির কথা প্রধানমন্ত্রীর মুখে ফুটে ওঠায় সমতট অঞ্চলের (প্রাচীনকালে কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলকে সমতট নামে ডাকা হতো) বাসিন্দারা মহা খুশি। শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির পাদপীঠ ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের জেলা শহর কুমিল্লা। এটি ব্রিটিশ-ভারতের প্রাচীনতম শহর। আগে এর নাম ছিল ত্রিপুরা জেলা। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জনসভা হয়। ১৯৬০ সালে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের ফলে কুমিল্লা পৃথক জেলার মর্যাদা পায়। গোমতী নদীর তীরে এ শহরের অবস্থান। একে বলা হয় পথিকৃৎ কুমিল্লা। ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তৎকালীন কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও বর্তমানে কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন। ১৯৮৯ সালে বৃহত্তর কুমিল্লার কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং বৃহত্তর নোয়াখালীর নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরসহ ছয়টি জেলা নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবি শুরু হয়। কুমিল্লা গণফোরাম নামের একটি সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে ওই দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। পরে সংগঠনের নাম হয় কুমিল্লা গণদাবি পরিষদ।
বর্তমানে বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালীর ছয়টি জেলায় প্রায় দুই কোটি জনসংখ্যা রয়েছে। ওই ছয় জেলার আয়তন প্রায় ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটার। যা ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের চেয়ে জনসংখ্যা ও আয়তনের প্রায় দ্বিগুণ। কুমিল্লায় সরকারের প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে কুমিল্লায় বিভাগ হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ওপর জনগণের চাপ কমবে। ঢাকা শহরে বাড়তি লোকের চাপ হবে না। সেখানে যানজটও কমে আসবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে কুমিল্লার অবস্থান। একটি পরিপূর্ণ আবাসিক জেলা হিসেবে কুমিল্লার সুনাম রয়েছে। রাজধানী ও বন্দরনগরের ওপর চাপ কমাতে এ শহর বেশ ভূমিকা রাখবে। বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ছয় জেলার মধ্যবর্তী স্থানেও কুমিল্লার অবস্থান। ভৌগোলিক ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে কুমিল্লা খুবই সমৃদ্ধ জনপদ। এ ছয় জেলার মানুষের সঙ্গে সড়ক, রেল ও নদীপথে যোগাযোগ অত্যন্ত মসৃণ। দাপ্তরিক বেশির ভাগ কাজেই ছয় জেলার মানুষ কুমিল্লায় জড়ো হন। এখানে দিনে এসে দিনে কাজ করে বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভব। ছয় জেলার মানুষের আঞ্চলিক ভাষাও কাছাকাছি।
গত ১২ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ময়মনসিংহকে বিভাগ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ গত বুধবার মহান জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর নিয়ে তিনটি নতুন বিভাগ করার পক্ষে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বৃহত্তর এই তিনটি জেলার মধ্যে কুমিল্লা সবকিছুতেই অগ্রসরমাণ। কুমিল্লায় সিটি করপোরেশন ও শিক্ষা বোর্ডসহ সরকারের অনেকগুলো দপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় এখানে বিদ্যমান রয়েছে। কুমিল্লায় সরকার আইটি ভিলেজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে রয়েছে মনোলোভা নৈসর্গিক লালমাই ও ময়নামতি পাহাড়। ভারতীয় সীমান্তবর্তী কুমিল্লার রাজেশপুরে রয়েছে ইকোপার্ক। শহরের মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ধর্মসাগর। কুমিল্লাজুড়ে রয়েছে প্রাচীন সভ্যতার নানা নিদর্শন।
একদা ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর হিসেবে কুমিল্লার খ্যাতি ছিল। কুমিল্লার খাদি, তাঁতশিল্প, কুটিরশিল্প, বিজয়পুরের মৃৎশিল্প, মাতৃভান্ডারের রসমালাই ও ময়নামতির শীতলপাটি পৃথিবীজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। কুমিল্লা ইপিজেড, কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর, কৃষিক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন, দিদার সমবায় সমিতি, দাউদকান্দির প্লাবনভূমিতে মৎস্য চাষ এখানকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে আসছে।
কুমিল্লায় রয়েছে অষ্টম শতকে নির্মিত কোটবাড়ীর শালবন বৌদ্ধবিহারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক প্রত্নসম্পদ। রয়েছে ময়নামতি জাদুঘর। এখানকার কোটবাড়ীতে রয়েছে ড. আখতার হামিদ খানের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), ব্রিটিশ আমলের কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাস, কুমিল্লা বিমানবন্দর, সুদীর্ঘ রেললাইন। এ শহরের আলো-বাতাসে নিঃশ্বাস নিয়েছেন নারী জাগরণের অগ্রদূত নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ শচীন দেববর্মন, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা করার অন্যতম সহযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম। এখানে এসেছেন অহিংসার বাণী নিয়ে মহাত্মা গান্ধী। এসেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রয়েছে শতবর্ষের ঐতিহ্যে লালিত দেশের একমাত্র সার্ভে প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সার্ভে ইনস্টিটিউট।
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বর্তমান সরকার সামাজিক সম্প্রীতির এক অনুকরণীয় জনপদ এই কুমিল্লায় বিভাগ বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্য দিয়ে কুমিল্লাবাসীর সর্বশেষ স্বপ্ন পূরণ হবে।
গাজীউল হক: প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা।
gajiulhoqsohag@gmail.com

30 November 2015

কুমিল্লা বিভাগীয় অফিস জেলা পরিষদ ভবন ও রানীর কুঠিরে অস্থায়ীভাবে স্থাপন হবে

কুমিল্লা বিভাগীয় অফিস জেলা পরিষদ ভবন ও রানীর কুঠিরে অস্থায়ীভাবে স্থাপন হবে


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জেলা প্রশাসক মো: হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেছেন, কুমিল্লাকে বিভাগ করার কার্যক্রম সরকারিভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারি আদেশ পাওয়ামাত্র কুমিল্লা বিভাগীয় অফিস জেলা পরিষদ ভবন ও রানীর কুঠিরে অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা হবে। এজন্য আমাদের মানসিক প্রস্তুতিও রয়েছে। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় তিনি আরও বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন থেকে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সরকারের লোকসান মেনে নেয়া যায় না। তিনি প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তাদের দেশপ্রেমের দায়-দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার আহবান জানান। ইউনিয়ন তথ্য বাতায়ন হালনাগাদ করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের আহবান জানান। ফোর লেনের উপর নিমসারের অবৈধ বাজার স্থানান্তরের জন্য চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
সভার শুরুতে বিগত সভার সিদ্ধান্তসমূহ ও বাস্তবায়নের অগ্রগতির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: মনিরুজ্জামান তালুকদার। বক্তব্য রাখেন আদর্শ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো: আবদুর রউফ, সিভিল সার্জন ডা. মুজিব রাহমান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সঞ্জয় কুমার ভৌমিক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মামুনুর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূইয়া, হোমনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, চান্দিনা উপজেলা চেয়ারম্যান তপন বক্সী, মেঘনা উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম, নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যঅন সামছুদ্দিন কালু, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো: আসাদউল্লাহ, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর (অব:) মোহাম্মদ আলী, জেলা শিক্ষা অফিসার মো: আবদুল মজিদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: নুরুল ইসলাম, সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মীর হোসেন আহাসনুল কবীর, বিটিভি জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম রতন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম মজুমদার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

15 November 2015

তিন কারণে কুমিল্লা বিভাগ হওয়া যুক্তিযুক্ত

তিন কারণে কুমিল্লা বিভাগ হওয়া যুক্তিযুক্ত


আবুল কাশেম হৃদয়ঃ ভৌগলিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থানের কারনে কুমিল্লা বিভাগ হওয়া যুক্তিযুক্ত। চতুর্থ শতাব্দির স্তম্ভ লিপিতে উল্লেখ পাওয়া সমতট রাজ্যের কেন্দ্র ছিল ত্রিপুরা বা আজকের কুমিল্লা। পঞ্চম শতাব্দিতে গুপ্ত সম্রাটদের প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে আসা কুমিল্লা অঞ্চলের মহারাজা রুদ্র দত্ত ও মহারাজা বিজয় সেন নামে দুই সামন্ত অর্থরক্ষক ও শান্তি রক্ষক ছিলেন বলে প্রমান পাওয়ায় গুপ্ত সম্রাটদের যুগ থেকে কুমিল্লার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব অপরিশীম বলে প্রতীয়মান হয়। কুমিল্লা সে সময় সুনিদ্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখা দ্বারা চিহ্নিত না থাকলেও ১৭৮১ সালে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী যে প্রশাসনিক অঞ্চল কাঠামো প্রস্তুত করে তাতে কুমিল্লার ভৌগলিক সীমারেখা নির্ধারিত হয়। পার্বত্য ত্রিপুরার কুমিল্লা জেলা ও পার্শ্ববর্তী আরো কিছু এলাকাকে ত্রিপুরা রাজ্য বলে তারা অবহিত করে। বর্তমান কুমিল্লা জেলার ৪২৬ বর্গকিলোমিটার ও নোয়াখালী জেলার ১০২ বর্গকিলোমিটার এলাকা রওশনাবাদ চাকলার অন্তর্গত ছিল। কুমিল্লা জেলার উত্তর মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল নিয়ে রওশনাবাদ চাকলা গঠিত হয়। রাজস্ব আদায়ের জন্য ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৭৬৯ সালে মিডলটোন নামে একজনকে ঢাকা প্রদেশের তত্বাবধায়ক নিয়োগ করে। কুমিল্লার জালালপুর ছিল তার অধীনে। ১৭৭৬ সালে কুমিল্লাকে কালেক্টরের অধীন করা হয়। ১৭৯০ সালে ত্রিপুরা কালেক্টরেটের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ১৯৬০ সালে ত্রিপুরার নামকরন করা হয় কুমিল্লা। এর অধীনে দুটি মহাকুমা ছিল একটি চাঁদপুর আরেকটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ১৯৮৪ সালে চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে আলাদা জেলা করা হয়।
চতুর্থ শতাব্দি থেকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থানের গুরুত্ব পাওয়া কুমিল্লায় বিভাগ হওয়ার দাবি রাখে।

১. দেশের প্রচীন চারটি পৌরসভার মধ্যে একটি কুমিল্লা। বাকি তিনটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভাগ হয়েছে অনেক আগেই। ময়মনসিংহ বিভাগও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাচীন শহর কুমিল্লা বিভাগ হওয়ার দাবি রাখে এ কারনে।
২. ১৯৬২ সালেই কুমিল্লাকে বিভাগ করার কথা ছিল। সব আয়োজন চূড়ান্তও হয়েছিল। কিন্তু কুমিল্লার পরিবর্তে তখন করা হয় চট্টগ্রামকে। কুমিল্লাকে দেয়া হয় শিক্ষা বোর্ড। সেই বোর্ড ভেঙ্গে তিন টুকরো করা হয়। অর্ধ শতাব্দি ধরে বঞ্চিত কুমিল্লাবাসীর বঞ্চনার ইতিহাস ঘুছাতে কুমিল্লা বিভাগ হওয়ার যুক্তিযুক্ত।

৩. কুমিল্লা অঞ্চলে(কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, লক্ষিপুর, নোয়াখালী) জনসংখ্যা ১ কোটি ৭৬ লাখ ৩৮ হাজার ৯ শ ৭০ জন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৫৬ লাখ ২ হাজার ৬ শ ২৫ জন অধিবাসী। জনসংখ্যার ভিত্তিতে কুমিল্লাকে বিভাগ করা জরুরি।

৪. ‘কুমিল্লা পদ্ধতি’র দেখানো পথে কৃষিখাতে উন্নতি করায় বাংলাদেশ আজ খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশ। একারণে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি রাখে।
৫. প্রত্নর্কীতির ক্ষেত্রে কুমিল্লা গৌরবময় ঐতিহ্যের অধিকারী। লালমাই ময়নামতি অঞ্চলে আবিস্কৃত প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসের এক গৌরবময় ঐতিহ্যের সন্ধান দিয়েছে। এসব প্রাচীন র্কীতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে কুমিল্লা অঞ্চলের সমহান অবদানের কথা পৃথিবীর সামনে তুলে ধরে। ১৯৫৫-৫৬ সালে খনন করে প্রাচীন র্কীতির ৫৪টি নিদর্শন আবিস্কার করা হয় যা আমাদের জাতীয় জীবনে পরম সম্পদ ও পরম গৌরব বস্তু।
৬. শিক্ষা ক্ষেত্রে কুমিল্লা অবদান গর্ব করার মতো। চতুর্থ ও পঞ্চম শতাব্দিতে কুমিল্লার দেবীদ্বারের গুনাইঘরে আশ্রম বিহার ও রাজ বিহার নামে দুটি বিহার (বিশ্ববিদ্যালয়) ছিল। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এখানে শিক্ষা লাভ করতেন। কুমিল্লা তথা সমতট রাজ্যে সপ্তম শতাব্দিতে ত্রিশটির বেশি বৌদ্ধ বিহার ছিল। সমতটের ব্রাহ্মণ রাজবংশে জন্মগ্রহণকারী শীলভদ্র জগদ্বিখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান আচার্য ও সর্বাধ্যক্ষ ছিলেন। তার জন্য বাঙালি জাতির মুখ উজ্জল হয়। তারই অব্যাহত ধারাবাহিকতা কুমিল্লা শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখে আসছে। ১৮৩৭ সালে কুমিল্লা জেলা স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। বেগম রোকেয়ার জন্মের ৯ বছর আগে কুমিল্লার নওয়াব ফয়জুন্নেসা প্রতিষ্ঠা করে ইংরেজি স্কুল। ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের অক্সফোর্ড খ্যাত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ। কুমিল্লা জন্ম দিয়ে অনেক কৃতী শিক্ষক ও ছাত্র। এ কারণে কুমিল্লা বিভাগ হতে পারে।
৭. সুপ্রাচীনকাল থেকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে সমগ্র উপমহাদেশে কুমিল্লা অনন্য স্থান দখল করে আছে। এই কুমিল্লা কৃতীসন্তানরা উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রাচীন শহর কুমিল্লাকে সার্ক সংস্কৃতি রাজধানী করার বিষয়টি বিবেচনাধীন।
৮. অনেক র্কীতিমান জন্মেছেন এই কুমিল্লায়। প্রতি শতাব্দিতেই কুমিল্লায় জন্মেছেন বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিত্ব। জগদ্বিখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান আচার্য শীলভদ্র, বাংলা সাহিত্যের প্রথম ধারাবাহিক ইতিহাস লেখক দীনেশচন্দ্র সেন, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেব বর্মন, নওয়াব ফয়জুন্নোসা চৌধুরানী, দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য, শিক্ষানুরাগী রায়বাহাদুর আনন্দচন্দ্ররায়, গুনী শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ বসু, সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান, ওস্তাদ আয়েত আলী খান, ভাষা সংগামের রুপকার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, জেলা প্রথম গদ্য লেখক কৈলাশচন্দ্র সিংহ প্রমুখের জন্মস্থান এই কুমিল্লা। এই কুমিল্লা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য। কুমিল্লায় তার শশুরবাড়ি।
৯. রাজস্ব আদায়ে কুমিল্লা শীর্ষে। গত অর্থবছরে কুমিল্লা কাস্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট অফিস আদায় করেছে এক হাজার ৮ শত ৫৫ কোটি টাকা। কুমিল্লা কর অঞ্চল গত অর্থ বছরে সাড়ে ৪ শ কোটি টাকার লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি অন্তত ৫ শ কোটি টাকা কর আদায় করে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখছে। এ কারনে কুমিল্লা বিভাগ হওয়ার দাবি রাখে।
১০. মৎস উৎপাদন করে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের চাহিদা অন্তত এক লাখ মেট্রিক টন মাছ জোগান দিচ্ছে।

১১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভৌগলিক অবস্থান বিবেচনায় কুমিল্লায় বিমান বন্দর করা হয়। মিয়ানমারের সাথে যুদ্ধের জন্য। কুমিল্লা প্রতিষ্ঠা করা হয় সবচেয়ে বড় ময়নামতি সেনানিবাস। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীনের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কুমিল্লায় বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন।

১২. কুমিল্লার বাখরাবাদে আবিস্কৃত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার মাধ্যমে কুমিল্লা জাতীয় উন্নতিতে অবদান রাখছে।
১৩. কুমিল্লায় স্থল বন্দর রয়েছে।

১৪. স্টল বিমান বন্দর সুবিধাসহ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত করণ অঞ্চল ইপিজেড রয়েছে।

১৫. কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৩টি বিশ্ববিদ্যালয় , ৫ শ সয্যা হাসপাতাল। সরকারি মেডিকেল কলেজসহ ৩টি মেডিকেল কলেজ আছে। সেই সাথে আছে আছে ক্যাডেট কলেজ, ট্যাকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, বিএড কলেজ।
১৬. কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কুমিল্লাকে বিভাগ করা যুক্তিকতা সুদৃঢ় হয়েছে।

07 November 2015

কেউ থাকুক, আর নাই থাকুক কুমিল্লা বিভাগ হবেই - লোটাস কামাল

কেউ থাকুক, আর নাই থাকুক কুমিল্লা বিভাগ হবেই - লোটাস কামাল


কুমিল্লা রিপোর্ট২৪ ডেস্কঃ নোয়াখালী জেলাসহ তিন জেলা অন্তর্ভূক্ত না হলেও কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এমপি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লা বিভাগ হবে। বিভাগ বাস্তবায়নের সকল কার্যক্রমও হাতে নেয়া হয়েছে। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়িত হবে, এ নিয়ে আর কোনো শঙ্কা নেই। কুমিল্লা বিভাগের সাথে কেউ থাকুক, আর নাই থাকুক কুমিল্লা বিভাগ হবেই।
গতকাল কুমিল্লা টাউন হলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) এর দল ‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স’ আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স গঠনের মধ্যদিয়ে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বিভাগ ছাড়া বিপিএলে দল নেয়ার কোনো নিয়ম নেই। বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স বিভাগীয় দল হিসেবেই খেলবে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লা বিভাগের দল। কোন জেলা এ বিভাগের অন্তর্ভূক্ত হবে, আর কোন জেলা হবে না- তা ভাবার সুযোগ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লা বিভাগ হবে। বিভাগ বাস্তবায়নের সকল কার্যক্রমও হাতে নেয়া হয়েছে। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়িত হবে, এ নিয়ে আর কোনো শঙ্কা নেই। কুমিল্লা বিভাগের সাথে কেউ থাকুক, আর নাই থাকুক কুমিল্লা বিভাগ হবেই।
বিভাগ হওয়ার সকল যোগ্যতাই কুমিল্লার আছে উল্লেখ করে লোটাস কামাল বলেন, কুমিল্লার ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে একটি আর্ন্তজাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। এজন্য ৪২ একর জমির প্রয়োজন। আপনারা স্টেডিয়ামের জন্য পছন্দ মতো জায়গা খুঁজেন। কুমিল্লায় নির্মাণ করা হবে আন্তর্জান্তিক মানের স্টেডিয়াম। এগিয়ে যাবে কুমিল্লা, এগিয়ে যাবে কুমিল্লার ক্রিকেট।

30 October 2015

কুমিল্লা বিভাগ তো আছেই, এখন দরকার স্বীকৃতি

কুমিল্লা বিভাগ তো আছেই, এখন দরকার স্বীকৃতি


বিশেষ প্রতিবেদনঃ কুমিল্লা বিভাগ না হয়েও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, নির্বাচন কমিশনারের বিভাগীয় কার্যালয়, সিটি কর্পোরেশান, বাংলাদেশ বেতার, বিবিসি, ভয়েস অফ আমেরিকা ও জার্মান বেতার এর সম্প্রচার কেন্দ্র, সকল সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয়, কর অফিস প্রভৃতি সহ বিভাগীয় ৩২ টি কার্য্যালয় কুমিল্লায় রয়েছে। আর এসব কিছুই করা হয় কুমিল্লা , ব্রাহ্মনবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলা নিয়ে। এই ছয়টি জেলার মানুষকে হাতে গুনা দুএকটি কাজ বাদে চট্টগ্রাম যেতে হয়না। চট্টগ্রাম যে আমাদের বিভাগ তা কেবল হাতে কলমেই, বাস্তবে সব কাজই কুমিল্লাই হয়। প্রকৃত পক্ষে বর্তমানে বিভাগ ধরে কোনো কাজই হয়না , সরকারী বা বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অঞ্চল ধরে তাদের সুবিধেমত কাজ করে। কুমিল্লা এই ৬টি জেলার মাঝখানে এবং কুমিল্লার সাথে ৬টি জেলার সরাসরি যোগাযোগ ভাল বলে সবাই কুমিল্লাকেই প্রধান কার্যালয় ধরে কাজ করে। এটা কুমিল্লার একটা ভৌগোলিক সুবিধা। আর এ সুবিধার কারনেই বাংলার প্রাচীন কাল ( কুমিল্লার বরকামতা সমতট তথা সমগ্র কুমিল্লা ও নোয়াখালির রাজধানী ছিল)। থেকে শুরু করে আজ অবধি সবাই কুমিল্লাকেই বেঁছে নিয়েছে। আর এই ধারাবাহিকতায় সরকার দেশের প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে কুমিল্লাকে বেঁছে নিয়েছে। এখন বিভাগ ঘোষণা দিয়ে শুধু আনুষ্ঠানিকতা করবে , এর বেশি কিছু না।
এবার আসি প্রিয় নোয়াখালী ও ফেনী বাসীদের কথায়। তারাও এখন বিভাগ দাবি করছে। নিজ নিজ জেলা হিসেবে তারা দাবি করতেই পারে। তবে আমাদের সবার দেখতে হবে এই দাবিটি কতটুকু যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত ?
আমিও ছোট বেলায় স্বপ্ন দেখতাম যে আমার থানাকে জেলা করা হবে। কিন্তু আস্তে আস্তে বড় হওয়ার পর বুঝলাম যে না, আমার থানা কখনই জেলা হতে পারেনা, আমার থানাকে জেলা করতে হলে দেশে আর ১০০ থানাকেও জেলা করতে হবে। তাই এখন আর এমন অযৌক্তিক দাবি করিনা। আমি বিশ্বাস করি নোয়াখালী ও ফেনীতে নিশ্চয় অনেক বাস্তববাদী মানুষ আছে যারা এটি বুঝে যে নোয়াখালী এই মুহূর্তে বিভাগ হওয়ার ভৌগোলিক অবস্থানে নেই, যদি শুধুমাত্র বৃহত্তর জেলা নিয়েই বিভাগ করা হয়, তবে দেশে আরো ১০-১২টি বৃহত্তর জেলাকে বিভাগ করতে হবে। নোয়াখালীর অনেকের সাথেই কথা বলে দেখেছি যারা শিক্ষিত ও বাস্তববাদী, তারাও বলছে যে এই মুহুর্তে নোয়াখালী বিভাগ দাবি অযৌক্তিক।
গতকাল ঢাকা প্রেসক্লাব এ যখন নোয়াখালী বাসিরা বিভাগ চাই বলে মানব বন্ধন করে তখন বাসের অনেক যাত্রীরাই নিজেরা বলাবলি করছিল যে, “বেজাইল্লা নোয়াখাইল্লারার এটা বিভাগ চাওয়ার দাবি না, এটা কুমিল্লারে বেজালে ফালানোর দাবী ’’।
তাই নোয়াখালী ও ফেনী জেলার ভাইদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আসুন আমরা বাস্তববাদী হই, অহেতুক নিজেরা কে কার বড় সেই তর্ক করে নিজেদের হাসির পাত্র না বানাই। কুমিল্লা বিভাগে থাকলে আপনাদের লাভই হবে। কুমিল্লার সাথে না থাকলেও সব কাজতো কুমিল্লাই করতে হবে, তখন শুধু শুধু চট্টগ্রামের সাথে থেকে কেন নিজেদের ছোট করে রাখবেন? দয়া করে কুমিল্লা ও নোয়াখালীর অবস্থানটা মানচিত্রে দেখেন আর নিজেকে প্রশ্ন করুন, কেন শুধু শুধু অযৌক্তিক কথা বলে নিজেদের সমগ্র দেশের কাছে হাসির পাত্র বানাচ্ছি?
তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে আবার এক হয়ে দেখিয়ে দেই, আমাদের এই সমতট অঞ্চল এক আছি, এক থাকব। আমাদের এই বিভাগ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড এর ন্যায় বাংলাদেশে আলো ছড়াবে।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

28 October 2015

কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার

কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার



সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ: কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের কাছে প্রস্তাব পেশ করার  সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লার বিভাগ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত কমিটি। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় ঢাকায় উচ্চ ক্ষমতা সম্পর্ন্ন ওই কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সরকারের সমন্বয় ও সংস্কার কমিটির সচিব এবং কুমিল্লার বিভাগ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত কমিটির আহ্বায় মো. নজরুল ইসলাম। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করছে সরকার নিয়োজিত কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত কমিটি। আর এ প্রস্তাব পেশ হলেই কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
সূত্র জানান, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের বিষয়ে নানা যুক্তি উত্থাপন করে বৈঠকে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তাবায়নের বিষয়ে সরকারে কাছে প্রস্তাব পাঠাতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠকে উত্থাপিত যুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল কুমিল্লার ঐতিহ্য, লোকসংখ্যা, উপজেলা-ইউনিয়ন ,আয়তন, সংসদীয় এলাকা, রেমিটেন্স, আয়করসহ নানা বিষয়। এসবের বিবেচনায় শুধুমাত্র কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ও চাঁদপুর জেলা নিয়েই কুমিল্লা বিভাগ গঠন করা যায়। আর তাহলে এ বিভাগ হবে সিলেট ও বরিশালের চেয়েও সমৃদ্ধ বিভাগ। তবে কমিটি কুমিল্লা বিভাগের সাথে ফেনী , নোয়াখালী ,লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়া এ ৬ জেলা নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ গঠনের ব্যাপারে চুড়ান্ত মত পোষণ করা হয় বৈঠকে।
সূত্র জানায়, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বৈঠকে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের ব্যাপারে জোড়ালে ভূমিকা রাখেন। তিনি কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁর তুলে ধরা যুক্তিগুলো কমিটি আগ্রহের সাথে শুনেন এবং সর্বসম্মমভাবে সমর্থন করেন।
বৈঠকে আরো জানানো হয় কুমিল্লায় এখনই বিভিন্ন বিভাগের ৩০টিরও বেশি বিভাগীয় অফিস রয়েছে। ফলে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার জন্য বেশি বেগ পেতে হবেনা। প্রাচীনকাল থেকেই কুমিল্লা একটি সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী জনপথ। অতীতের সমতট রাজ্যের রাজধানী ছিল কুমিল্লা। যার আওতায় বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা ছিল। সমতট রাজ্য ভাঙ্গার পরও  কুমিল্লার অধীনে ছিল বৃহত্তম নোয়াখালী জেলা। বৃটিশ আমলে কুমিল্লা কোতয়ালী থানার অধীনে ছিল নোয়াখালীর প্রশাসনিক কার্যক্রম। এখান থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা। সেই সাথে বর্তমান অবস্থায় চট্টগ্রামের চাইতে কুমিল্লার সাথে বৃহত্তম নোয়াখালীর দূরত্ব অনেক কম। যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব ভাল। চট্টগ্রামের সাথে বৃহত্তম নোয়াখালীর ৩ জেলার দূরত্ব ১০২ থেকে ১১৬ কিলোমিটার। আর কুমিল্লার সাথে এ দূরত্ব ৬০ থেকে ৬৫ কিলোমিটারের মধ্যে। এসব বিচারে কুমিল্লাকে বিভাগ করা সময়ের যৌক্তিক দাবি বলে কমিটি মনে করেছে।
সূত্র আরো জানান, কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব প্রতিশ্রুতি। প্রতিশ্রুতি বাস্তায়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী খুবই সচেতন। তাই অন্য জেলা আসুক বা না আাসুক বৃহত্তর কুমিল্লার ৩ জেলা নিয়ে হলেও কুমিল্লা বিভাগ বাস্তায়ন হবে।
সূত্রমতে, গতকালের ওই বৈঠকের পর কুমিল্লা বিভাগ বাস্তায়নের বিষয়টি অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এখন সমেয় ব্যাপার মাত্র। 

08 October 2015

কুমিল্লা বিভাগে আসতে নোয়াখালীর আপত্তি, চায় নোয়াখালী বিভাগ

কুমিল্লা বিভাগে আসতে নোয়াখালীর আপত্তি, চায় নোয়াখালী বিভাগ


আবুল কাশেম হৃদয়ঃ কুমিল্লা বিভাগের সাথে থাকতে আপত্তি জানিয়েছে নোয়াখালী জেলা। নোয়াখালী না থাকলে কুমিল্লা বিভাগের সাথে থাকবে না লক্ষিপুরও। নোয়াখালীর দাবি আলাদা বিভাগ অথবা চট্টগ্রাম বিভাগের সাথে থাকতে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত সুপারিশ প্রণয়ন সংক্রান্ত কমিটির সভায় নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বদরে মুনির ফেরদৌস নোয়াখালীর জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের মতামত রেজুলেশন দিয়ে জানান। ঐ রেজুলেশনে স্থানীয় জনগণের মতামত তুলে ধরা হয়।
বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালীর জেলা সমূহকে নিয়ে প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের জন্য গঠিত হয় এ সুপারিশ প্রণয়ন সংক্রান্ত কমিটি। ১৯ সদস্যের এ কমিটির প্রথম সভা এটি।
বৈঠকে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো: নজরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। এতে কমিটির সদস্য সচিব একই বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসনের যুগ্মসচিব সাইদুর রহমানসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, নোয়াখালী জেলার আপত্তি থাকলেও কুমিল্লা বিভাগ যে হবে এবং এর হেডকোয়াটার যে কুমিল্লা তাতে কোন সন্দেহ নাই। নোয়াখালী না থাকলেও বিভাগ হবে।
সূত্র জানায়, যদি নোয়াখালী ও লক্ষিপুর জেলা কুমিল্লা বিভাগে আসে তাহলে হেডকোয়াটার কোথায় হবে তা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে হেডকোয়াটার হতে পারে চৌদ্দগ্রাম অথবা লাকসাম বলে মতামত আসে। কিন্তু হেডকোয়াটার যে কুমিল্লা এবং তা কুমিল্লার পদুয়ার বাজারের ট্রমা সেন্টারের জন্য নির্ধারিত জমি অথবা চশতিয়া টেক্সটাইলের কাছে গণপূর্তের ইটের ভাটার জমিতে করার সম্ভাব্য প্রস্তাব দেয়া হয়। সভায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বিভাগীয় কার্যালয় করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠক সূত্র জানায়, প্রথম সভায় এসব নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও কোন কিছুই এখনও চূড়ান্ত হয় নি। এটি একটি প্রাথমিক আলোচনা মাত্র।

07 October 2015

কুমিল্লা বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত হতে চায় চাঁদপুর

কুমিল্লা বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত হতে চায় চাঁদপুর


নিজস্ব প্রতিবেদক: কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হতে সম্মত হয়েছে চাঁদপুর।
মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় জেলার জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ি ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এসব শর্তের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সভায় বক্তারা জানান, কুমিল্লাকে বিভাগ করা হলে সব সরকারি দফতরের বিভাগীয় কার্যালয় কুমিল্লায় হতে পারবে না। এর মধ্যে চাঁদপুরের সাথে সম্পৃক্ত দফতরগুলোর বিভাগীয় কার্যালয় চাঁদপুরে করতে হবে। বিশেষ করে আমদানি-রফতানি অধিদফতর, নৌ-অধিদফতর ও বিআইডব্লিউটিএ, ডিআইজি’র কার্যালয়, মৎস্য অধিদফতর, বিভাগীয় স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালত চাঁদপুরে স্থাপন করতে হবে।
বক্তারা আরও জানান, পাশাপাশি জেলাতে একটি ইপিজেড, ১টি পাবলিক ও ১টি মেডিকেল কলেজ, ১টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগীয় পর্যটন জোন, হাইটেক পার্ক স্থাপন, একটি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটউট, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ককে পূর্ণাঙ্গ মহাসড়কে রুপান্তর, মেঘনা নদীর উপর চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতু, ১টি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ করতে হবে। চাঁদপুর রেলপথকে সম্প্রসারিত করে চাঁদপুর-ঢাকা রূট স্থাপন করে রেল যোগাযোগ উন্নীতকরণ, চাঁদপুর-ঢাকা নৌ-রূটে সি-ট্রাক সার্ভিস চলাচল, চাঁদপুরে বিমানবন্দর স্থাপন করতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আবু আলী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহম্মদ লুৎফুর রহমান, হাজীগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুর রশিদ মজুমদার, কচুয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান খান শিশির, কচুয়া পৌরসভার মেয়র হুমায়ুন কবির প্রধানিয়া, জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, গোলাম কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, দৈনিক যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি মির্জা জাকির, জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি আলহাজ জাহাঙ্গির আখন্দ সেলিম, পরিচালক তমাল কুমার ঘোষ প্রমুখ।

06 October 2015

কুমিল্লা বিভাগীয় কার্যালয়ের স্থান নির্ধারণ হবে শিগগিরই !

কুমিল্লা বিভাগীয় কার্যালয়ের স্থান নির্ধারণ হবে শিগগিরই !


নিজস্ব প্রতিবেদক: জনবল কাঠামো নিরুপণ করেছে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তায়নে গঠিত কমিটি। বিভাগীয় কার্যালয়ের স্থান শিগগিরই নির্ধারণ হবে বলেও জানিয়েছে কমিটি।
বিভাগ বাস্তবায়নের সব বিষয় ঠিক করে নির্দিষ্ট সময়ে এই কমিটি সুপারিশ দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করে বিভাগ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে সরকারিভাবে।
এক সপ্তাহ আগে সমন্বয় ও সংস্কার সচিব নজরুল ইসলামকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ। পরবর্তী এক মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে ফরিদপুর ও কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ তৈরি করে প্রতিবেদন দেওয়া কথা রয়েছে কমিটির।
গত ২৬ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা নিয়ে দুটি বিভাগ গঠন বিষয়ে দায়িত্ব দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে। ওইদিনই ময়মনসিংহ বিভাগ গঠনে সম্মতিও দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ। আর গত ৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা জাতীয় সংসদে বৃহত্তর ফরিদপুর এবং নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল মিলিয়ে কুমিল্লাকে বিভাগ করার কথা জানান।
পরে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় ৪ জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগ বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
কমিটির প্রধান সমন্বয় ও সংস্কার সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, ৮ দিন আগে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কয়টি কর্মদিবস কাজ করে প্রথম বৈঠকেই আমরা দুটি বিভাগের জনবল কত হবে তা নিরুপণ করেছি।
তিনি বলেন, কোন কোন জেলা নিয়ে নতুন বিভাগ দুটি হবে, জনসংখ্যা কত হবে, কত টাকা ব্যয় হবে, জনবল কত সংখ্যক হবে তা নিরুপণ করা হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে বিভাগীয় কার্যালয় কোথায় তা নির্ধারণ করা হবে। বিভাগীয় কমিশনার অফিস কোথায় হবে তাও নির্ধারণ করা হবে আগামী দুই বা তিনটি বৈঠকের মাধ্যমে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলেও জানান সমন্বয় ও সংস্কার সচিব।
এর আগে রোববার মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুইঞা জানিয়েছিলেন, প্রতিবেদন পাওয়ার পর ফরিদপুর ও কুমিল্লা বিভাগের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

05 October 2015

কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু

কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু


বিশেষ প্রতিবেদনঃ কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমন্বয় ও সংস্কার সচিব নজরুল ইসলামকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়।
সম্প্রতি গঠিত এই কমিটি বিভাগ বাস্তব‍ায়নে কাজ শুরু করেছে। কমিটি কাজের অগ্রগতি জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রতিবেদন জমা দেবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা  বলেন, আগের কমিটির আদলে (ময়মনসিংহ বিভাগ বাস্তবায়ন কমিটি) একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কাজের অগ্রগতি বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কতদূর কাজ এগিয়েছে আমি তা জানি না। তবে প্রতিবেদন পেলে জানতে পারবো।
কুমিল্লাকে বিভাগ করা হবে বলে গত ৪ মার্চ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ঐকান্তিক ইচ্ছাতেই কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

16 September 2015

অচিরেই কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণা - মতিন খসরু

অচিরেই কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণা - মতিন খসরু



নিজস্ব প্রতিবেদকঃ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কর পাওয়ায় কুমিল্লা কর অঞ্চলের কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি বলেছেন, জাতীয় উন্নয়নে কুমিল্লার অবদান অনেক বেশি। অচিরেই কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা হবে। আর সেই সাথে বাংলাদেশ যে প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নতি করছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় আয়কর দিবস উদযাপন উপলক্ষে কুমিল্লা কর অঞ্চলের আওতাধীন ৬টি জেলার ৩৫ জন সর্বোচ্চ ও দীর্ঘ মেয়াদী করদাতাকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘সুখী স্বদেশ গড়তে ভাই, আয়করের বিকল্প নাই’ এ স্লোগানে মঙ্গলবার কর অঞ্চল-কুমিল্লার উদ্যোগে কুমিল্লা কোটবাড়ি পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর (বার্ড) অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কর অঞ্চল-কুমিল্লার কমিশনার মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট-কুমিল্লার কমিশনার মো. আনোয়ার হোসাইন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ আফজল খান। অনুষ্ঠানে কর অঞ্চল-কুমিল্লার অধীন কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ ৬ জেলার সর্বোচ্চ ও দীর্ঘমেয়াদী ৩৫জন করদাতাকে (২০১৪-’১৫ অর্থবছর) ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

15 September 2015

"কুমিল্লা বিভাগ" জেলা প্রশাসক বললেন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

"কুমিল্লা বিভাগ" জেলা প্রশাসক বললেন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা বিভাগের চার জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হলেও কুমিল্লা বিভাগের বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয় নি। এমন খবরে মন্তব্য করতে গিয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেছেন, কুমিল্লাকে বিভাগ করার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর তা ভাল ভাবেই।সোমবার সন্ধ্যায় এ দিকে দৈনিক কুমিল্লার কাগজের সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়ের ফেইসবুক পেইজে এ মন্তব্য করেন তিনি।উল্লেখ, সোমবারের নিকারের বৈঠকে হোমনাকে পৌরসভা এবং মুরাদনগরকে ভেঙ্গে বাংগুরা বাজার নামে আরেকটি থানা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।সোমবার মন্ত্রী পরিষদের সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে থাকা কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে ।“এ পৌরসভার সীমানা নিয়ে একটি মামলা থাকায় সীমানা সম্প্রসারণ করা যাচ্ছিল না। ওই মামলা প্রত্যাহার হওয়ায় এখন সীমানা সম্প্রসারণ করা হবে।”মুরাদনগর থানাকে বিভক্ত করে ‘বাংগুরা বাজার’ নামে নতুন একটি থানা গঠনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে নিকার।মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন এই থানা হবে জানিয়ে মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, এই থানার আয়তন হবে ১৮৯ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা দুই লাখ ২০ হাজার ৭৪০ জন।

14 September 2015

ময়মনসিংহকে বিভাগ ঘোষণা কুমিল্লার খবর নেই!

ময়মনসিংহকে বিভাগ ঘোষণা কুমিল্লার খবর নেই!

ময়মনসিংহকে বিভাগ ঘোষণা করা হলেও কুমিল্লা বিভাগের বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয় নি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনা জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষণা করা হয়। এটি হবে দেশের ৮ম বিভাগ। তবে বৃহত্তর ময়মনসিংহের দুই জেলা টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ ঢাকা বিভাগেই থাকছে। সভা পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা একথা জানান। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন তিনটি বিভাগ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে বিভাগ ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করে নিকার। তবে বাকি দু’টি বিভাগ কুমিল্লা ও ফরিদপুরের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
‘কুমিল্লা বিভাগ’ ঘোষণা আসতে পারে আজই।

‘কুমিল্লা বিভাগ’ ঘোষণা আসতে পারে আজই।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে আজই। এ নিয়ে সোমবার সচিবালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠক চলছে। বৈঠক সূত্রে এ কথা জানা গেছে। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন ওই তিনটি বিভাগ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে বিভাগ ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করে নিকার।

14 June 2015

কুমিল্লা বিভাগের নাম কুমিল্লাই থাকবে - আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

কুমিল্লা বিভাগের নাম কুমিল্লাই থাকবে - আইনমন্ত্রী আনিসুল হক


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হলে কুমিল্লা বিভাগের নাম কুমিল্লাই থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘কুমিল্লাকে বিভাগ করার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বিভাগ বাস্তবায়ন হলে কুমিল্লার নাম কুমিল্লা রাখার জন্য কুমিল্লাবাসির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদ এই গোলটেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে।

গোলটেবিল বৈঠকে আনিসুল হক বলেন, কুমিল্লার নাম কুমিল্লাই থাকবে। এতে আমার কোন আপত্তি নাই। কুমিল্লা বিভাগের জন্য কুমিল্লা নামেই গর্ববোধ করি। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা না বুঝে কথা বলেন না। আর যে কথা বলেন তা রাখেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পরিকল্পনা বৃহত্তর পরিকল্পনা। তার এই উদ্দেশ্য হচ্ছে ঢাকা শহর থেকে চাপ কমানো। এজন্য কিছু বিভাগ বাড়ানো হচ্ছে।

কুমিল্লা বাসির উদ্দেশে তিনি বলেন, কুমিল্লায় যেন বিনিয়োগ করা হয় সেজন্য ভিবিন্ন গোলটেবিল বৈঠক করা উচিৎ। যারা কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করার জন্য নাম লিখিয়েছেন তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানানো হবে।

সাবেক মন্ত্রী এবিএম গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ডিপুটি স্পিকার মোঃ আলী আশরাফ, সাবেক মন্ত্রী আবুল কাশেম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ ম উবায়দুল মোকতাদির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ড. মোহাম্মদ শামসুল হক প্রমুখ।

10 December 2013

কুমিল্লা বিভাগ চাই

কুমিল্লা বিভাগ চাই


বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ১৭৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত, গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচীন ও ঐহিত্যবাহী জেলার নাম কুমিল্লাযা দেশের দ্বিতীয় আবাসিক রাজধানী হিসেবেও ব্যাপক পরিচিতকিন্তু বর্তমানে দেশের অন্য অনেক জেলার তুলনায় উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে এই জেলাটি বৃহত্তর জেলা সিলেট ও বরিশাল এবং রংপুর বিভাগ হলেও এ সুপ্রাচীন জেলাটি এখনও বিভাগ হয়নি

বৃহত্তর কুমিল্লার প্রায় এক কোটি মানুষের প্রাণের দাবি, কুমিল্লা জেলাকে বিভাগ ঘোষণা করা হোকপ্রাচীন সমতট অঞ্চল যা বর্তমানে বৃহত্তর নোয়াখালী ও বৃহত্তর কুমিল্লা নামে পরিচিত, এই বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা ও বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা অর্থাৎ নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এই ছয় জেলা নিয়ে চাই কুমিল্লা বিভাগ গঠন।।এই ছয় জেলা নিয়ে কুমিল্লাকে বিভাগ করা হলে এই বিভাগের আয়তন হবে ১৩,৩০২ বর্গ কি. মি. যাহা আয়তনে সিলেট ও বরিশাল বিভাগের চাইতেও বড় হবেএই ছয় জেলা নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ গঠিত হলে এ প্রস্তাবিত বিভাগের জনসংখ্যা হবে প্রায় পৌনে দুই কোটি যাহা সিলেট ও বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যার চেয়ে দুই গুনেরও বেশীআর তাছাড়া ১৮২৯ সালে যখন চট্টগ্রাম বিভাগ গঠিত হয় তখন বর্তমান বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২ কোটির কাছাকাছিআর এখন শুধু বৃহত্তর নোয়াখালী ও বৃহত্তর কুমিল্লার জনসংখ্যাই হচ্ছে প্রায় পৌনে দুই কোটিসুতরাং বর্তমানে বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের এ বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে বিভাগীয় সেবা দিতে বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালীকে নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ গঠন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছেসর্বশেষ আদমশুমারী ২০১১ অনুসারে বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যা মাত্র ৮৪ লক্ষ আর অথচ বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালীর জনসংখ্যা হচেছ ১ কোটি ৭০ লক্ষ, যাহা বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যার দ্বিগুনমাত্র চারটি জেলা নিয়ে সিলেটকে যেখানে বিভাগ করা হয়েছে, সেখানে ছয়টি জেলা নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ গঠন অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত এবং সময়োপযোগী দাবি বটেসুতরাং জনসংখ্যা ও আয়তন উভয় দিক বিচারে বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালীকে নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ গঠন অত্যন্ত যুক্তিসংগত দাবিআর তাতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষ খুব সহজে বিভাগীয় সেবা পেতে সক্ষম হবেনোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-এই ছয় জেলার মানুষকে বর্তমানে বিভাগীয় কাজকর্ম সারতে বহু কষ্ট এবং সময় ও অর্থ নষ্ট করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক ভোগান্তি সহ্য করে চট্টগ্রামে যেতে হয়, যা নিছক হয়রানি বটেউল্লিখিত ছয় জেলাকে নিয়ে কুমিল্লাকে বিভাগ করা হলে এ ছয় জেলার দুই কোটি মানুষকে চাকরির পরীক্ষাসহ বিভাগীয় অন্যান্য কাজে বহু কষ্ট করে সময় নষ্ট করে অর্থের অপচয় ঘটিয়ে চট্টগ্রামে যেতে হবে না
সুতরাং ভৌগলিক অবস্থান এবং উল্লিখিত ছয় জেলার মধ্যখানে বিবেচনায় কুমিল্লা বিভাগ গঠন এখন একান্তই যৌক্তিক দাবিবাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে দরকার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি, বেসরকারি তথ্য ও সেবা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া বা মাধ্যম সৃষ্টি করাএর মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সুষম উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় এবং তৃণমূলের জনগণের ক্ষমতায়ন ঘটেআর এই অঞ্চলের তৃণমূলের মানুষের ক্ষমতায়নের জন্যই বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের জনগণের বর্তমান সময়ের দাবি হচ্ছে, প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করাকুমিল্লাকে বিভাগ করা হলে অত্র উপকূলীয় অঞ্চল কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক জোন গড়ে উঠবে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্রুত হবে এবং এখানকার জনগনের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে বলে অত্র অঞ্চলের মানুষ মনে করেপরিশেষে জনসেবার জন্য প্রশাসন এবং জনমুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে ঢাকা থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুপ্রাচীন জেলা কুমিল্লাকে উল্লিখিত ছয় জেলা নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করার জন্য বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় যোগাযোগ ও রেলপথমন্ত্রী, এবং মাননীয় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সহ সংশিষ্ট সকল মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

19 July 2013

আমরা কেন কুমিল্লা বিভাগ চাই?

আমরা কেন কুমিল্লা বিভাগ চাই?


১৭৭৯সালে কুমিল্লা জেলার গোড়াপত্তন হয়েছিলদেশের প্রাচীনতম ৪টি পৌরসভারএকটি কুমিল্লাবাকী ৩টি হল ঢাকা,চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহঢাকা চট্টগ্রাম বিভাগ হয়ে গেছে বহু আগেই১৯৬২
সালে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষনার সব আয়োজন চূড়ান্ত হলেও তখন আর সেটা হয়নি
বিভাগ ঘোষিত হল চট্টগ্রাম আর কুমিল্লায় দেয়া হল শিক্ষাবোর্ড একটি বিমান বন্দর
ছিল কুমিল্লায়কিন্তু ধীরে ধীরে তাও বন্ধ হয়ে গেল। কুমিল্লা স্থল বন্দর ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ব্যবহার করে দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারতো কিন্তু সড়ক সংযোগ আর
প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনায় এখান দিয়ে শুধু ভারতে ইট.. পাথর আর সিমেন্ট রপ্তানি হয় নতুন
কিছু আসেনাকুমিল্লা ইপিজেড দেশের সর্ববৃহৎ ইপিজেডে পরিনত হবে সে আয়োজনও
সম্পন্নদীর্ঘদিনের রাজপথের আন্দোলনের ফসল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
মাথা গজিয়েছে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় ময়নামতি রাজবিহারের
সন্নিকটে শালবনঘেরা লালপাহাড়েরচূড়ায়। বন্ধ থাকা কুমিল্লা বেতার ষ্টেশনএখন আবার
সক্রিয়বেশ কবছর আগে রাজশাহী বেতারের এক উপিপরিচালকের সাথে দেখা হয়েছিল
যিনি এসেছিলেন কুমিল্লা বেতারের উচ্চমানের অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ স্থানান্তরের
জন্য। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৪ লেন হলে বানিজ্যিকভাবে সম্ভাবনার দ্বার
উন্মোচন করবে... কুমিল্লায় রেয়েছে ৫শ শয্যার সরকারি মেডিকেল কলেজ সহ প্রায়
৩টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। আছে ক্যাডেট কলেজ, ট্যাকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, বিএড কলেজ,
বিজিবি সেক্টর হেড কোয়ার্টার, কুমিল্লা সেনানিবাস, দেশের একমাত্র
সার্ভে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট, পশু সম্পদের একমাত্র ব্যাকটেরিয়াল ও ভাইরাল
টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট
পর্যটন আর প্রতিষ্ঠানের শহর কোটবাড়িকে ঘিরে দেশের বিশিষ্টজনদের
আগমন ঘটে এই এলাকায়ক্ষুদ্রঋনের উদ্ভাবক আন্তর্জাতিক সমাজবিজ্ঞানী ড. আখতার
হামিদ খানের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বার্ড পল্লীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও
দারিদ্রবিমোচনে আলোকবর্তিকা হিসেবে করে যাচ্ছেশুধু দেশেই সমার্ধিতনয়
প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সমাজকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ে ­র গবেষক
আর কুটনীতিকরা বার্ড ভিজিট করেন। পল্লী উন্নয়নের উপাদান খুজেন বার্ড
কর্মকর্তাদের সান্নিধ্য নিয়ে। ১৬টি উপজেলা জেলাটি অনেক সমৃদ্ধবলার
ইতিহাসে বহু কিছুই বলা হয়নিনজরুলের স্মৃতিধন্য, জ্বালানী উৎপাদনের শহর এই
কুমিল্লাকুমিল্লার মানুষ নানাভাবে বঞ্চিতযেমন.. কুমিল্লার
মুরাদনগরের বাখরাবাদের গ্যাসকুপ থেকে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহের ইতিহাস বহু পুরোনোএর সাথে সম্প্রতি যুক্ত
হয়েছে একই উপজেলার মকলিশপুর গ্যাস কুপ। এটি দেশের ২৫তম গ্যাস ক্ষেত্রকিন্তু
পরিতাপের বিষয় হল.. বাখরাবাদ গ্যাস করপোরেশন অফিসটি কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে কর্নফুলীর
সাথে যুক্ত করে স্থানান্তর করা হয়েছেএর ফলে গ্যাস সংক্রান্ত জটিলতায় বৃহত্তর
কুমিল্লাবাসীকে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। কুমিল্লার মেধাবীদের জন্য অভিশাপ
একটি আইন হল কোটা প্রথাকুমিল্লার মানুষ নাকি বেশি শিক্ষিত এর
ফলে মেধাতালিকায় অন্যরা স্থান পায় না। তাই সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে লিখা থাকে কুমিল্লা জেলা অধিবাসীদের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়এ কেমন প্রহসন আমাদের মেধাবীদের জন্য? যেখানে কোটা দিয়ে অযোগ্য নিয়োগ
চলে সেখানে মেধাস্থান দখল করলেও ভাইবায় জানিয়ে দেয়া হয় কোটা প্রথায়
আমি হেরে গেছিতাই অভিশপ্ত কোটা প্রথা বাতিল করা অত্যন্ত জরুরী
বহু মনিষী, কবি সাহিত্যিক আর গুনীজন গোমতীর তীরের এই জনপদে সময় কাটিয়ে এ
জেলাকে পথিকৃত উপাধি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি পথিকৃতের শহরটি সিটি করপোরেশনে রূপ নিয়েছে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষনা করা হবে এটাই আশা করছি